রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু ও আধুনিক শাসনব্যবস্থা

প্রফেসর এম কামরুজ্জামানঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন স্বার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রথম রাষ্ট্রপতি। মুজিবনগর সরকার, জাতির পিতার বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক স্বাধীনতা ঘোষণার পর ১০ এপ্রিল ১৯৭১ মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলা গ্রামে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল আওয়া...

আদর্শ বজায় রাখলে সংগঠনের মৃত্যু হয় না: বঙ্গবন্ধু

১৯৭২ সালের ২১ জুলাই ছাত্রলীগের ৩ দিনব্যাপী সম্মেলন শুরুর দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বক্তৃতায় ছাত্রলীগের জন্ম ইতিহাস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে বাংলার সংগ্রামের ইতিহাস অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। ছাত্রলীগের মধ্যে ভাঙন ধরানোর চেষ্টা হয়েছিল। জনতার সঙ্গে একাত্মতা ও সংগ্রামী ঐতিহ্যের জন্য ছাত্রলীগের মৃত্যু ঘটেনি। অনুরূপভাবে আওয়ামী লীগ থেকে বহুবার বহু নেতা দলত্...

বঙ্গবন্ধুর সরকার পরিচালনা ১৯৭২-১৯৭৫

মুনতাসীর মামুনঃ একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের স্বপ্ন, বাংলাদেশে বসবাসকারী অনেকে দেখেছেন বহুদিন। অতীতে অনেকে সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছেন, যদিও তারা বাঙালি ছিলেন না। গত শতকের গত ৪০ বছরেও অনেকে সে-ভূখণ্ডের কথা বলেছেন, ভারত ভাগ হওয়ার সময় সে-পরিকল্পনাও একবার হয়েছিল। গত শতকের ষাটের দশকে মওলানা ভাসানীও বাঙালিদের জন্য স্বাধীন ভূখণ্ডের কথা বলেছেন। কিন্তু বাস্তবে সেই...

‘সারপ্রাইজ ভিজিটে’ বঙ্গবন্ধু, বিস্মিত গ্রামবাসী শোনালেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা

খুব হঠাৎ করে ঢাকার পাশের একটি গ্রামে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাওয়ার আগে কাউকে জানাননি বলেই তিনি সেখানকার সঠিক চিত্র দেখতে পেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল ডেইলি অবজারভারের প্রথম পাতায় এই খবরটি প্রকাশিত হয়। গ্রামবাসী নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তারা কী স্বপ্ন দেখছে! সবার চোখে মুখে বিস্ময়। অন্য কেউ না, তাদের সামনে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু।...

সমৃদ্ধির পথে কোনও শর্টকাট রাস্তা আমার জানা নেই: বঙ্গবন্ধু

শতাব্দী শোষণের সমস্যা আমাদের সামনে। এর সমাধানের জন্য কঠোর পরিশ্রম এবং আরও আত্মত্যাগের প্রস্তুতি থাকতে হবে। তাহলেই সোনার বাংলা গড়ার ভিত্তি রচিত হবে। ভবিষ্যৎ বংশধরদের শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ নিশ্চিত হবে। সমৃদ্ধির পথে কোনও শর্টকাট রাস্তা আমার জানা নেই। ১৯৭২ সালের মে দিবসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান লাল বাহিনীর এক জনসভায় এসব কথা বলেন। তিনি সমাজতন্ত্রের শত্রুদের রুখে দাঁড়...

১২ জানুয়ারি ১৯৭২: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু

১২ জানুয়ারি বঙ্গভবনে বিপুল করতালি, জয় বাংলা ও বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শপথ নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ১১ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ও অবিসংবাদিত নেতা, যার ওপর জনসাধারণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে...

চক্রান্তকারীরা ভস্মীভূত হয়ে যাবে, বঙ্গবন্ধুর হুঁশিয়ারি

১৯৭১ সালের ২ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি একবার আগুন জ্বলে ওঠে, তাহলে সে আগুনে চক্রান্তকারীরা ভস্মীভূত হয়ে যাবে।’ একাত্তরের মার্চের প্রথম দিন থেকেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এদিন বঙ্গবন্ধু বিবৃতি দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর ঠিক একবছর পর ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসে...

গোপনে অস্ত্র জমা দিলেও ক্ষমা করা হবে: বঙ্গবন্ধু

কেউ থানায় গোপনে অস্ত্র জমা দেয় তাদের ক্ষমা করে দেওয়া হবে। কিন্তু গুন্ডাদের বরদাশত  করা হবে না বলে হুঁশিয়ার করেন প্রধানমন্ত্রী  বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের ২২ ফেব্রয়ারি পত্রিকা বের না হওয়ায় ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত প্রতিবেদনে একথা বলা হয়।  ওই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারির  সভায় বঙ্গবন্ধু এ বক্তব্য  দেন। তবে সবচেয়ে...

প্রথমবার টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধু

স্বাধীন দেশে প্রত্যাবর্তনের প্রায় দেড় মাসের মাথায় নিজের গ্রাম টুঙ্গিপাড়ায় যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালের এই দিনটি সপরিবারে নিজের বাড়িতে কাটান তিনি। এর আগে এক বার্তায় পাকিস্তানে অবস্থানরত বাঙালদের দুর্দশা লাঘবে প্রভাব খাটাতে জাতিসংঘের সেক্রেটারি জেনারেলের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া এশীয় সমস্যা সমাধানের চেষ্টা না করার জন্য নিক্সনকে সতর্ক করেন বঙ্গবন্ধু। ...

মুক্ত দেশে স্বাধীন নেতা

- জেএন দীক্ষিত নিরাপত্তা পরিষদের মিটিং থেকে ২৪ ডিসেম্বর আমি ফিরে এলাম। ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি সকালবেলা আমাদের গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেলাম, শেখ মুজিবুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আপাতত জানা যাচ্ছে না এমন এক জায়গায় চলে গেছেন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার বন্দোবস্ত করছেন। পাকিস্তানি ইন্টারন্যাশনাল কলের ওপর নজরদারি করে এবং অন্যান্য সূত্রের বরাতে ওই দিনই বিকেল ...

১২ জানুয়ারি ১৯৭২ঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু

১২ জানুয়ারি বঙ্গভবনে বিপুল করতালি, জয় বাংলা ও বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শপথ নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ১১ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ও অবিসংবাদিত নেতা, যার ওপর জনসাধারণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে...

জনকের প্রত্যাবর্তন ও বিজয়ের পরিপূর্ণতা

এম নজরুল ইসলামঃ আজ ১০ জানুয়ারি। বাঙালী জাতির জীবনে এক ঐতিহাসিক দিন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে, প্রিয় মানুষের কাছে ফিরে আসেন জাতির জনক, বাংলাদেশের মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১০ জানুয়ারি তাই ইতিহাসের এক স্মরণীয় দিন। জনকের প্রত্যাবর্তনে ১৯৭২ সালের এই দিনটিতে সত্যিকার অর্থেই রোমাঞ্চ লেগেছিল বাংলাদেশের ‘দিকে দ...

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: অন্ধকার থেকে আলোর পথে

বইছিল স্বাধীনতার সুবাতাস। শ্লোগানে মুখরিত চারদিক, আকাশ-বাতাস, জোর গলায় উচ্চারিত হচ্ছে, “জয় বাংলা”, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর জুড়ে যেন অনুরণিত হয়ে চলেছে, প্রতিধ্বনিতে একাকার হালকা শীতের আমেজময় সেই ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারী, ১৯৭২ সাল। বেলা দ্বিপ্রহরের পরপরই হাজার দশেকেরও বেশি সদ্য মুক্তির স্বাদ পাওয়া আবেগে উদ্বেলিত বাঙালি সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, যদিও তার...

অস্ত্র সমর্পণের এক টুকরো স্মৃতিঃ মনোয়ার হোসেন

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশকে মুক্ত করার পর বিরাজমান পরিস্থিতি কোনভাবেই প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলাও স্বাভাবিক জীবনের জন্য সহায়ক ছিল না। সর্বত্র শঙ্কা ও উদ্বেগ লক্ষ্য করা যেত। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় ছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্রের ওপর নতুন সরকারের নিয়ন্ত্রণ না থাকা। যারা সরাসরি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন তাদের কাছে যেমন ছিল বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, আবার যারা সরাসরি যুদ্ধ ...

  • «
  • »