মহামানবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন

1666

Published on জানুয়ারি 11, 2021
  • Details Image

ড. মুনাজ আহমেদ নূর:

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালী জাতির প্রেরণার উৎস। ১৯৭১ সালে ২৫ মার্চের মধ্যরাতে ঢাকায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে যখন হাজার হাজার বাঙালীকে হত্যা করে, ঠিক তখনি বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা বাঙালী জাতিকে দিয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের নির্দেশনা। ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দেয়ার পরেই পাকবাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে। এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়।

দেশ স্বাধীন হলেও যার আহ্বানে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা, সেই অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন পাকিস্তানী কারাগারে বন্দী। বাংলাদেশের সাত কোটি মানুষ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপের মুখে ১৯৭২ সালের ৮ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে পাক সরকার মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। জাতির পিতা মুক্তি পেয়ে সরাসরি চলে যান লন্ডনে। লন্ডনে যাত্রাবিরতির পর দিল্লী হয়ে বঙ্গবন্ধু ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে দেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন।

দেশের মাটিতে পা ফেলার পর বাঙালী বিদ্যুত ঝলকানির গতির মতো উদ্যম পেল, ভরসা পেল, স্বাধীনতাকে মনে হলো তাদের বিপুল অর্জন, তাদের প্রাপ্তি ও সাফল্য। সেদিন বিমানবন্দরে জাতির পিতাকে সঙ্গে নিয়ে বিজয়ের উল্লাসে মেতে ওঠে বাঙালী জাতি। বিমানবন্দর থেকে বঙ্গবন্ধু সরাসরি চলে যান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে। সেখানে লাখো জনতার সমাবেশে ভাষণ দেন আবেগাপ্লুত জাতির পিতা। সেদিন রেসকোর্স ময়দানে প্রদত্ত জাতির পিতার ভাষণটি বাঙালীর জন্য ছিল প্রণিধানযোগ্য। কারণ ১৯৭১ সালের সাত মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে যেমন স্বাধীনতার সুস্পষ্ট রূপরেখা ছিল, ঠিক তেমনি বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের পর রেসকোর্সে প্রদত্ত ভাষণটি ছিল ভবিষ্যত বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা। ওই ভাষণে জাতির পিতা ভবিষ্যত বাংলাদেশ পুনর্গঠন কাজের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছিলেন।

বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই দ্রুত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন শুরু করেন এবং সফলভাবে অর্থনৈতিক ও অর্থনীতির বাইরের উভয় খাতের গভীরে প্রথিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। বঙ্গবন্ধু সদ্য স্বাধীন দেশের দায়িত্ব নিয়ে দেখলেন গুদামে খাদ্য নেই, মাঠে ফসল নেই, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ শূন্য। বস্তুত কোন ব্যাংকের কার্যকারিতাও নেই। সড়ক ও রেলপথ বিচ্ছিন্ন-বিধ্বস্ত, নৌ ও সমুদ্রবন্দরগুলো ছিল অকার্যকর। স্কুল-কলেজগুলো ছিল পরিত্যক্ত সেনা ছাউনি। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে সম্ভাব্য সবকিছু ধ্বংস করে দিয়েছিল।

বঙ্গবন্ধু সরকার শাসনভার গ্রহণের পরপরই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। যার মধ্যে শিল্প, ব্যাংক, বীমা প্রতিষ্ঠান এবং বৈদেশিক বাণিজ্যেরও প্রায় ৮০ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত করে। ভূমি মালিকানার সর্বোচ্চ সিলিং ১০০ বিঘা এবং ২৫ বিঘা পর্যন্ত জমির খাজনা মওকুফ করে। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে একটি পরিকল্পনা কমিশন গঠন করে। ১৯৭৩ সালের ১ জুলাই থেকে প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) কার্যকর করে। প্রথম পাঁচশালা পরিকল্পনায় যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে বঙ্গবন্ধু অধিকতর গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি তিনি যখন এই দেশের দায়িত্ব নিয়েছিলেন তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রিজার্ভ ছিল শূন্য। এতকিছুর পরেও এত অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ৭শ’ ৮৬ কোটি টাকার বাজেট থেকে ১০৮৪.৩৭ কোটি টাকার বাজেট প্রদান করেছেন।

১৯৭৪ সালের মূল্যাস্ফীতি ৬০ শতাংশকে ১৯৭৫ সালে ৩০-৩৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে পেরেছিলেন বঙ্গবন্ধু। মাত্র তিন বছরেই তিনি বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ৯৩ ডলার থেকে টেনে ২৭১ ডলারে উন্নীত করেছিলেন। বিদেশী সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতাও কমিয়ে এনেছিলেন কয়েকগুণ। বঙ্গবন্ধু দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিল্পঋণ সংস্থা ও বাংলাদেশ শিল্প ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ১০৫০টি শাখা স্থাপন করেন। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন এবং এর ৩৩৫টি শাখা স্থাপন করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে নতুন মুদ্রা চালু করেন।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর ধ্বংসলীলায় শিল্পক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ কোটি টাকার বেশি। কাঁচামাল, বস্তুগত অবকাঠামো এবং যন্ত্রপাতি এই ধ্বংসলীলার শিকার হয়। সরকারী খাতের অন্তর্গত পাটশিল্প, শিপইয়ার্ড এবং ডিজেল প্ল্যান্ট প্রভৃতির পুনর্গঠন ও পুনর্নির্মাণ অত্যন্ত জরুরী হয়ে পড়ে। এছাড়া বেসরকারী খাতের হাজার হাজার কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় যুদ্ধে। এই ক্ষতি পূরণের জন্য জাতির পিতা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাঁচামাল ও খুচরা যন্ত্রপাতি জোগানের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেন। তিনি ১৯৭২-৭৩ সালের লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেন ৫৭৩ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য তিনি ফ্যাক্টরি, মেশিনপত্র, গুদাম প্রভৃতি মেরামতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী ঋণদান, মূলধন বিনিয়োগে ‘ ইকুইটি’ সহযোগিতা, কাঁচামাল ক্রয়, কারখানা চালু রাখার জন্য ব্যয় সঙ্কুলানের জন্য চলতি মূলধন বাবদ স্বল্পমেয়াদী ঋণ, আমদানিকৃত ও স্থানীয় কাঁচামাল নিয়মিত সরবরাহ, সেক্টরভিত্তিক সংস্থাসমূহের অধীনস্থ কলকারখানা ও উৎপাদন যন্ত্রগুলো সক্রিয় করার ব্যবস্থা করেন।

১২ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের সময় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাইনাস ১৩.৯৭। দায়িত্ব নেয়ার পর মাত্র সাড়ে তিন বছরে তিনি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ১৯৭৪ সালের মধ্যেই ৯.৫৯-এ উন্নীত করেন, যা এ যাবতকালের শীর্ষে। ১৯৭২ থেকে ৭৫ পর্যন্ত এই স্বল্প সময়ে দেশকে একটি ধারাবাহিক উন্নয়নের দিকে নিয়ে গিয়েছিলেন বঙ্গবন্ধু। প্রায় প্রতিটি সেক্টরে অর্জন করেছিলেন উল্লেখযোগ্য সাফল্য, যা এই লেখায় এত স্বল্প পরিসরে বর্ণনা করা অসম্ভব। মাত্র সাড়ে তিন বছরে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তিশালী দেশ হিসেবে মানুষের সামনে চলে আসছিল। সেটাই অনেকের কাছে বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের প্রতি হিংসার কারণ হয়ে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ যেন সামনের দিকে এগিয়ে যেতে না পারে এবং বঙ্গবন্ধু কর্তৃক গৃহীত পদক্ষেপ যাতে বাস্তবায়িত না হতে পারে, সেজন্য স্বাধীনতাবিরোধী নরপিচাশরা ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে তাঁর পরিবার-পরিজনসহ হত্যা করে। বস্তুত স্বাধীনতাবিরোধী নরপিচাশরা চেয়েছিলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ যাতে বাস্তবায়িত না হয় এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের যাতে চিরতরে মৃত্যু ঘটে। ১৯৭৫-এ বঙ্গবন্ধুকে তাঁর পরিবার-পরিজনসহ হত্যার পর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আবার মাইনাসে নেমে যায়। তখন বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি দাঁড়ায় মাইনাস ৪.০৯-এ।

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে বলেছিলেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ তিনি সংগ্রাম করে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। কিন্তু অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম শুরু করে স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের জন্য তা বাস্তবায়ন করে যেতে পারেননি। বঙ্গবন্ধুর সেই অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম ছিল স্বাধীন দেশে মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অভাব থেকে মুক্তি। পিতার এই অসমাপ্ত কাজ বাস্তবায়ন করছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তিনি তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে বুঝতে পেরেছিলেন এই সবকিছুর সঙ্গে জড়িত হচ্ছে অর্থনীতি। যদি অর্থনৈতিক ধারাবাহিকতা এবং অর্থনৈতিক উন্নতি ঘটে তাহলে এই কাজগুলো সহজেই ঘটবে এবং বঙ্গবন্ধুর কাক্সিক্ষত অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম বাস্তবায়ন হবে।

২০০৯ থেকে বর্তমান পর্যন্ত টানা তিনবারসহ চতুর্থবারের মতো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০৯ থেকে ২০২০ এই ১১ বছরে শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রবেশ করেছে ইতিহাসের এক স্বর্ণযুগে। এক মনে ও ধ্যানে জাতির পিতার অঙ্গীকার পূরণে নির্ভীক চিত্তে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা। তার অনন্য রাজনৈতিক বিচক্ষণতার কারণে তিনি অনুধাবন করতে পেরেছিলেন বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়ে থাকার কারণ। তিনি ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর দেশের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে স্বচ্ছতা, স্থিতিশীলতা, ধারাবাহিকতা- এই তিনটি বিষয়ের ওপর গভীর গুরুত্ব দিয়েছেন। এর মাধ্যমে তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে উন্নীত করেছেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন দেশকে যদি সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে এই তিনটি বিষয়ের মাধ্যমেই এগিয়ে যেতে হবে। তিনি ডিজিটালাইজেশনের দিকে জোর দিচ্ছেন এবং সেদিকে যাচ্ছেন।

নতুন নতুন নীতি গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দুর্বার গতিতে। তার গৃহীত ভিশন ২০২১ বাস্তবায়নের ফলে ২০২১ সালের আগেই বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশে পরিণত হয়েছে। উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছানোর লক্ষ্যে তার প্রদত্ত ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। এই বাংলাদেশকে আগামী ১০০ বছর পরে আমরা কেমন দেখতে চাই তার পরিকল্পনাও করে রেখেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। সেই লক্ষ্যে তিনি ভিশন ২১০০ ঘোষণা করেছেন এবং ২১০০ সালের মধ্যে এর বদ্বীপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছেন।

১৯৭৫-এ বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় ছিল ১০০ ডলার, বর্তমানে বঙ্গবন্ধুকন্যা তা ২ হাজার ডলারের ওপরে নিয়ে গেছেন। দরিদ্র মানুষের অন্নের ব্যবস্থা করতে তিনি একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছেন। মৎস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান এখন তৃতীয়। খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ১১তম। তার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ এখন খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে দরিদ্র অসহায় মানুষের বাসস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। চিকিৎসা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতির দিকে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু যদি আজ বেঁচে থাকতেন তাহলে আমরা অনেক আগেই উন্নত, সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পৌঁছে যেতাম। কিছু দেরিতে হলেও তাঁর সুযোগ্য কন্যা বাংলাদেশকে উন্নত, সমৃদ্ধ দেশের কাতারে নিয়ে যাবেন- এই আমাদের প্রত্যাশা।

লেখক : উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ডিজিটাল ইউনিভার্সিটি, বাংলাদেশ

সৌজন্যেঃ দৈনিক জনকণ্ঠ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত