হত্যাকাণ্ডে জিয়ার মদদ

1706

Published on আগস্ট 20, 2020
  • Details Image

একাত্তরের মার্চে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করায় একজন অখ্যাত মেজর রাতারাতি বিখ্যাত হয়ে যান। কে জানত যে পরবর্তীকালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার পেছনে তার সমর্থন থাকবে! একদিন ইতিহাস নিশ্চয়ই ওই খলনায়ক জিয়াকে বঙ্গবন্ধু হত্যার মাস্টার মাইন্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে। পঁচাত্তরে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পেছনে বড় কারণ ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ডাক দিয়ে পুরো জাতির অংশগ্রহণে সংঘটিত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে হানাদার পাকিস্তানীদের পরাস্ত করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা। স্বাধীন বাংলাদেশকে তারা মন থেকে মেনে নিতে পারেনি। আরও স্পষ্ট করে বললে বলতে হয় তাদের পেয়ারা পাকিস্তানের মহাপরাজয় এবং একটি ভূখ-কে হারানোর বিষয়টি তাদের প্রচ- ধাক্কা দিয়েছিল। তাই তারা ইতিহাসের মহানায়ককে হত্যা করে। আর সেই কালো অধ্যায়ের পর তারা ততোধিক অন্ধকার যুগে দেশের মানুষকে নিক্ষেপ করে। মুক্তিযোদ্ধারাই ছিল ওই খুনীদের সবচেয়ে বড় মাথাব্যথা। তা না হলে জিয়াউর রহমানের অবৈধ শাসনামলে সেনাবাহিনীর যত মুক্তিযোদ্ধা অফিসার ছিল তাদেরকে একে একে হত্যা করা হলো কেন? পাকিস্তানের সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে এতদিন যে দেশটির জনসাধারণ প্রতিবাদ-সংগ্রাম করেছিল, সেই বাংলাদেশে প্রথম সামরিক শাসন জারি করে সেই একই ব্যক্তি, অর্থাৎ জিয়াউর রহমান।

বাঙালীর বিস্মৃতি প্রবণতা নিয়ে নানা সময়ে নানা গুণীজন তীর্যক মন্তব্য করে গেছেন। বাঙালীকে তাই মাঝেমধ্যে ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দেয়ার প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের অস্তিত্বের স্বার্থেই দেশের গৌরবময় ইতিহাসের পাশাপাশি খলনায়কদের দ্বারা রচিত ইতিহাসের কয়েকটি কালো পৃষ্ঠাও স্মরণ করার প্রয়োজন রয়েছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত স্মরণ সভায় (ভার্চুয়াল) গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে সভাপতির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিহাসের পাতা থেকে বেশ কিছু তাৎপর্যময় বিষয় তুলে ধরেন। তিনি রক্তাক্ত-শোকাবহ ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত থাকার কথা পুনরুল্লেখ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনীদের সব ধরনের মদদ দিয়েছিল এই জিয়াউর রহমান। খুনীরা নিজেরাই সাক্ষাতকার দিয়ে বলেছে, জিয়াউর রহমানের মদদেই তারা বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম হয়েছে। শুধু জিয়াই নয়, তার স্ত্রী খালেদা জিয়াও খুনীদের মদদ দেয়াসহ একই কাজ করেছে। তার স্বামী (জিয়াউর রহমান) দিয়ে গেছেন জাতির পিতার হত্যাকারীদের ইনডেমনিটি, আর তিনি (খালেদা জিয়া) এসে নির্বিচারে মানুষ হত্যা করে তাদের ইনডেমনিটি দিয়ে গেছেন।

প্রসঙ্গত জিয়ার সময়ে সংঘটিত ১৯টি ক্যুর কারণে অফিসার ও সৈনিক হত্যার প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সব থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল আমাদের সেনাবাহিনী এবং বিমানবাহিনী। বিমান বাহিনীর ৬৬৫ জনকে আর সেনা বাহিনীর দুই থেকে আড়াই হাজার জনকে হত্যা করা হয়েছিল।’ প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, অনেকে ভুলে গেছে যে, খালেদা জিয়া ২০০১ সালে প্রহসনের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় এসে অপারেশন ক্লিনহার্টের নামে বহু মানুষকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে।’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর এর সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগকারী হলেন জিয়াউর রহমান। তার পথ অনুসরণকারী খালেদা জিয়াও পরবর্তীকালে প্রভূত সুবিধা ভোগ করেছেন। দু’জনের একটি জায়গায় আশ্চর্য মিল- সেটি হলো খুনের আদেশ এবং খুনের মদদ দেয়া। খুনীদের পুরস্কৃত করার ব্যাপারেও উভয়ের তুলনা হয় না। বাংলাদেশের ইতিহাসে এই দুই ব্যক্তি নিশ্চয়ই স্মরণীয় হয়ে থাকবেন, তবে সেটি যে মানবতাবিরোধী ও প্রগতিবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্যে, সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই।

সৌজন্যেঃ দৈনিক জনকন্ঠ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত