আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস: বঙ্গবন্ধু থেকে শেখ হাসিনা

1127

Published on ফেব্রুয়ারি 21, 2023
  • Details Image

ড. মুহাম্মদ সামাদ:

আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি এখন সারাবিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালিত হচ্ছে। একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন আমাদের ভাষা শহিদ ও বাংলা ভাষার মানুষের জন্যে সত্যিই এক অহংকারের ইতিহাস।

এই অহংকারের ইতিহাস বিষয়ে আগ্রহী বাংলাদেশের মানুষ ও নতুন প্রজন্মের কাছে দীর্ঘ সময় ধরে খণ্ডিততভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাই, এই গর্বিত ইতিহাস রচনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গবন্ধু শেখ হাসিনার ভূমিকা নিয়ে সামান্য আলোকপাত করাই আমার লক্ষ্য।

আমরা জানি— ১৯৪৬ সালে লাহোর প্রস্তাবের সংশোধন ও ১৯৪৭ সালের ৩ জুন লর্ড মাউন্টব্যাটেনের ভারত-বিভাগের পরিকল্পনা ঘোষণার পরপরই ভাষা সমস্যা নিয়ে বাঙালি বুদ্ধিজীবী মহলে প্রতিক্রিয়া হয়। পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক রাষ্ট্রভাষা হিসেবে উর্দুকে প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের প্রেক্ষিতে পূর্ব বাংলার বুদ্ধিজীবীরা রাষ্ট্রভাষা বাংলার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত যুবলীগের সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবসমূহের মধ্যে একটি প্রস্তাব ছিল বাংলা ভাষা বিষয়ক। ভাষা সম্পর্কিত প্রস্তাব উত্থাপন করে শেখ মুজিবুর রহমান বলেন— ‘পূর্ব পাকিস্তান কর্মী সম্মেলন প্রস্তাব করিতেছে যে, বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের লিখার বাহন ও আইন আদালতের ভাষা করা হউক (গাজীউল হক, ভালোবাসি মাতৃভাষা, পৃ. ৩১) ’। এভাবেই ভাষার দাবি প্রথম রাজনৈতিকভাবে উত্থাপিত হয়েছিল।

১৯৪৭ সালের ১ ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি পূর্ব বাংলার প্রথম সরকার বিরোধী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন। আর রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে প্রথম প্রত্যক্ষ সংগ্রাম শুরু হয় ১৯৪৮ সালের ৪ মার্চ।

সেদিন বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা দাবি করে ছাত্রলীগের পক্ষে লিফলেট বিলি করা হয়। সেই লিফলেটের অন্যতম স্বাক্ষরদাতা ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অন্যদিকে বাংলা ভাষাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে ১১ মার্চ দেশব্যাপী ধর্মঘট আহ্বান করা হয়। ধর্মঘটের সমর্থনে জনমত গঠনের লক্ষ্যে শেখ মুজিব ফরিদপুর, যশোর, খুলনা ও বরিশালে ছাত্রসভা করেন। ঢাকায় ফিরে ১০ মার্চ রাতে ফজলুল হক হলে এক সভায় ১১ মার্চের কর্মসূচিতে কারা, কোথায় ও কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন তা ঠিক করে দেন।

১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ সকালে বঙ্গবন্ধু কর্মীদের নিয়ে হরতালের পিকেটিং শুরু করেন। পিকেটিং করার সময় পুলিশি হামলার শিকার হয়ে তিনিসহ অনেক নেতা-কর্মী গ্রেফতার হন। ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু মুক্তিলাভ করেন। ১৬ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমতলায় এক ছাত্রসভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন সদ্য কারামুক্ত নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহম্মদ আলী জিন্নাহ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এবং ২৪ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে বিশেষ সমাবর্তন অনুষ্ঠানে উর্দুকে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার ঘোষণা দেন। এই প্রসঙ্গে অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন: ‘জিন্নাহ পূর্ব পাকিস্তানে এসে ঘোড় দৌড় মাঠে বিরাট সভায় ঘোষণা করলেন, ‘উর্দুই পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হবে’। আমরা প্রায় চার পাঁচ শত ছাত্র এক জায়গায় ছিলাম সেই সভায়। অনেকে হাত তুলে দাঁড়িয়ে জানিয়ে দিল, ‘মানি না’ (পৃ. ৯৯)।

ভাষা আন্দোলন ও বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্রদের ওপর জুলুম-নির্যাতনের প্রতিবাদে শেখ মুজিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করে পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের উদ্যোগে গঠন করা হয় ‘জুলুম প্রতিরোধ কমিটি’। ১৯৪৯ সালের ৮ জানুয়ারি পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের ‘জুলুম প্রতিরোধ’ কমিটির উদ্যোগে হরতাল, মিছিল ও ছাত্র-সমাবেশের আয়োজন করা হয়। উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের আটচল্লিশ পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ছাত্র ও পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা ও তরুণ রাজনীতিক শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃস্থানীয় ভূমিকা ছিলো খুবই উজ্জ্বল। মূলত ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্বদানের মাধ্যমে তিনি ঢাকার ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হন এবং অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতায় নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের শক্ত ভিত নির্মাণ করেন।

এই বিষয়ে শেখ হাসিনা সম্পাদিত 'Secret Documents of Intelligence Branch (IB) on Father of the Nation Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman, 1948-1971: Declassified Documents Volume. I'-এ অর্থাৎ পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার গোপন প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর ভূমিকা বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয় :

'Secret information was received on 12.3.48 that the subject (Bangabandhu) along with others took part in the discussions held at Fazlul Haq Hall on 10.3.48 and gave opinion in favour of violating section 144 Cr.p.c. on 11.3.48. On this decision, small batches of Hindu and Muslim students were sent out on 11.3.48 to picket the G.P.O., the secretariat and other important Govt. offices. The subject [Sheikh Mujibur Rahman] was arrested on 11.3.48 for violating the orders. ...He took very active part in the agitation for adopting Bengali as the State language of Pakistan...( p. 36 and 319)।'

১৯৫০ সাল থেকে বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের নিরাপত্তা আইনে বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে বেশকিছু সময় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকতে হয়েছে। অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা, লেখক-ইতিহাসবিদদের রচনা, সে সময়ের পত্র-পত্রিকা এবং গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট থেকে দেখা যায়, কারাগারে বন্দি, এমন কি অসুস্থ অবস্থায়ও বঙ্গবন্ধু জেল থেকে রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদের সাথে যোগাযোগ রাখতেন এবং তাদের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে নির্দেশনা দিতেন। কারাগারের রোজনামচা’র ভাষ্যে বায়ান্নের একুশে ফেব্রæয়ারির ঐতিহাসিক কর্মসূচির সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর সম্পৃক্ততা বিশেষভাবে উল্লেখের দাবি রাখে।

তিনি লিখেছেন: ‘...জানুয়ারি মাসে আমাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। ...সেখানেই ছাত্র নেতৃবৃন্দের সাথে পরামর্শ করে ১৬ ফেব্রুয়ারি [আমি] অনশন করব আর ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলা দিবস পালন করা হবে বলে স্থির হয়’ (পৃ. ২০৫-২০৬)। তার পরের ইতিহাস সকলেরই জানা আছে। ইতিহাসের পথপরিক্রমায় বর্তমান প্রজন্মের কাছেও আজ স্পষ্ট হয়েছে যে, ১৯৪৭ সাল থেকে ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভাষা আন্দোলনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এভাবে ১৯৫২-এর ফেব্রুয়ারিতে শহীদের রক্তের বিনিময়ে ভাষা আন্দোলন যৌক্তিক পরিণতি লাভ করে।

পূর্ব বাংলার সর্বস্তরের মানুষের মনে এই ভাষা আন্দোলন গভীর ছাপ ফেলে। শেখ হাসিনার শিশুমনের উপরও এর প্রভাব পড়ে। ১৯৫২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু জেল থেকে মুক্তি পেয়ে টুঙ্গিপাড়ায় গেলে শিশুকন্যা শেখ হাসিনা পিতাকে জড়িয়ে ধরে কচিকণ্ঠে ভাষা আন্দোলনের স্লোগান দেন। অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন: [কারামুক্তির] ‘পাঁচ দিন পর বাড়ি পৌঁছলাম। ...হাচু আমার গলা ধরে প্রথমেই বলল, ‘আব্বা, রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই, রাজবন্দিদের মুক্তি চাই। ...২১ ফেব্রুয়ারি ওরা ঢাকায় ছিল, যা শুনেছে তাই বলে চলেছে (পৃ. ২০৭)।’ শিশুকাল থেকে লালিত মায়ের ভাষার প্রতি শেখ হাসিনার ভালোবাসার ঐতিহাসিক প্রমাণ মেলে ১৯৯৯ সালে আমাদের শহীদ দিবস রক্তে রাঙানো ২১শে ফেব্রæয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের জন্যে ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃতি লাভের মধ্যে দিয়ে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৮ সালে প্রথমে কানাডা প্রবাসী দুইজন বাঙালি রফিকুল ইসলাম ও আবদুস সালাম (যাঁদের নামের সঙ্গে কাকতালীয়ভাবে ভাষাশহিদ সালাম ও রফিকের নাম মিলে যায়) তৎকালীন জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনান-এর কাছে একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার জন্যে আবেদন জানান। তখন জাতিসংঘের পক্ষ থেকে রফিকুল ইসলামকে অন্য কোনো সদস্য রাষ্ট্রের কাছ থেকে একই ধরনের প্রস্তাব আনার অনুরোধ জানানো হয়। তিনি আবদুস সালামকে সাথে নিয়ে একজন করে ইংরেজি, জার্মান, ক্যান্টোনি ও কাচ্চিভাষী সদস্য নিয়ে ‘মাদার ল্যাংগুয়েজ লাভার্স অব দ্যা ওয়ার্ল্ড’ নামে একটি সংগঠন দাঁড় করান এবং আবারও কফি আনানকে চিঠি লিখেন। পরের বছর ইউনেস্কোর পরামর্শে কানাডা, ভারত, হাঙ্গেরি, ফিনল্যান্ড ও বাংলাদেশ— এই পাঁচটি দেশের উদ্যোগে প্রস্তাব আনেন এবং প্রস্তাবের পক্ষে ২৯টি দেশের সমর্থন আদায় করেন। ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত ইউনেস্কোর প্যারিস অধিবেশনে বিশ্বের ১৮৮টি দেশের সমর্থনে অমর একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২০০০ সাল থেকে দিবসটি জাতিসংঘের সদস্য দেশসমূহে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে।

এই স্বীকৃতি আদায়ের লক্ষ্যে তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মাধ্যমে ব্যাপক কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এখানে শেখ হাসিনা রচনাসমগ্র-১ থেকে উদ্ধৃতি দেয়া আবশ্যক। শেখ হাসিনার ভাষায়: ‘ ১৭ সেপ্টেম্বর [১৯৯৯] জাতিসংঘ সদস্যপদ প্রাপ্তির ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে নিউইর্য়ক যাই। জাতিসংঘ রজতজয়ন্তী উদযাপন করি। জাতিসংঘের মহাসচিব এবং অন্যান্য দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকার প্রধানদের সাথে সাক্ষাৎ হয়। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনও উপস্থিত ছিলেন। ...জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রধানদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ হয়।

বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার জন্য বাঙালি জাতির অবদানের কথা বিশেষভাবে তুলে ধরি। মাতৃভাষাকে আমরা কত ভালোবাসি তা গর্বভরে উল্লেখ করি। ...নিউইর্য়ক থেকে আমি প্যারিস যাই ইউনেস্কো কর্তৃক শান্তি পুরস্কার গ্রহণের জন্য। ২৪ সেপ্টেম্বর আমাকে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। ইউনেস্কোর প্রধানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বিষয়ে আলোচনা করি। ২১ ফেব্রুয়ারির কথাও উল্লেখ করি। ইউনেস্কোর ৩০তম সাধারণ সম্মেলনে সর্বসম্মতিভাবে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালনের প্রস্তাব গৃহীত হয় (পৃ. ২৭২)।’

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা আবশ্যক যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৫২ সালে প্রথমে চীনের পিকিংয়ে এশীয় ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক শান্তি সম্মেলনে এবং ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের ২৯তম সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে বাংলভাষাকে আন্তর্জাতিক মর্যাদা দান করেন। পিতার পদাঙ্ক অনুসরণ করে একই ধারায় বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালের ২৯তম সাধারণ অধিরেশন থেকে শুরু করে অদ্যাবধি বাংলায় ভাষণ দিয়ে চলেছেন। যতদূর জানা যায়, সারা পৃথিবীর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের মধ্যে এখন পর্যন্ত তিনিই জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সর্বোচ্চ সংখ্যক (১৯ বার) ভাষণপ্রদানকারী বিশ্বনেতা।

বাঙালির মহান ভাষা আন্দোলন থেকে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ সৃষ্টির সকল সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়ে বঙ্গবন্ধু জাতির পিতায় অভিষিক্ত হন। পিতা মুজিবের মতোই শেখ হাসিনাও সকল জটিল-কুটিল ষড়যন্ত্র, ভয়-ভীতি, প্রলোভন ও প্রতিনিয়ত মৃত্যুবাণ উপেক্ষা করে দেশের মানুষের অকুণ্ঠ সমর্থন ও ভালোবাসায় অভিষিক্ত হয়ে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের পথে এগিয়ে নিয়ে চলেছেন। তাঁর প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনসহ সকল ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ আজ পৃথিবীর বুুকে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত।

আজ একুশে ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে সারাবিশ্বে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে। তাই, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাসের পথপরিক্রমায় ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস অর্জনের ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসামান্য অবদান আমরা সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করি এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ভূমিকাকে বিপুল ভালোবাসায় অভিনন্দিত করি।

লেখক: কবি ও শিক্ষাবিদ; প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

 

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত