৭ নভেম্বর: একই দিনের বহু নাম

1454

Published on নভেম্বর 11, 2021
  • Details Image

বিভুরঞ্জন সরকারঃ

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশে এমন একটি ঘটনা ঘটেছিল, যা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে বিভক্তির ধারাকে পোক্ত করেছিল। ৭ নভেম্বরের ঘটনার পরিকল্পনাকারী ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে অবসরে যাওয়া কর্নেল আবু তাহের এবং তার রাজনৈতিক দল জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জাসদ এবং ঘটনার পুরো সুফল নিজের ঝুলিতে ভরতে সক্ষম হয়েছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। ওইদিন হত্যা করা হয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেদ মোশাররফ, কর্নেল খন্দকার নাজমুল হুদা এবং এটিএম হায়দারসহ আরও কয়েকজন সেনাসদস্য ও কর্মকর্তাকে। যেহেতু এক চরম বিভেদ এবং বিভ্রান্তির মধ্য দিয়ে ৭ নভেম্বরের ঘটনাবলী সংগঠিত হয়েছিল, সেজন্য ওইদিনটি পরে একেক পক্ষ একেক নামে ডেকে থাকে বা অভিহিত করে থাকে। কারো কাছে ৭ নভেম্বর ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’, কারো কাছে ‘সৈনিক জনতার অভ্যুত্থান দিবস’, আবার কারো কাছে বা ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। তবে আর যাই হোক ৭ নভেম্বর দেশে কোনও বিপ্লব হয়নি। ওইদিনের ঘটনাকে বিপ্লব বলে অভিহিত করা হলে ‘বিপ্লব’ শব্দটিরই অপব্যাখ্যা হয়। অন্যদিকে সেদিন যা ঘটেছিল তা কোনওভাবেই জাতীয় ঐক্যকে সংহত করেনি। তবে এটা ঠিক যে, ওইদিনের ঘটনায় জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনীতে তার অবস্থান সংহত করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করার পথটি সুগম করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

১৯৭৫ সালের অগাস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে সামরিক বাহিনীর কয়েকজনের একটি খুনিচক্র যে নজিরহীন বর্বরতা দেখিয়েছিল, তা শুধু তাদেরই হঠাৎ সিদ্ধান্তের ফল ছিল না। এটা যে একটি সুদূরপ্রসারী ও গভীর রাজনৈতিক চক্রান্তের ফল ছিল সেটা পরবর্তী ঘটনাক্রম থেকে স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষ শক্তি ছিল। সেটা যেমন দেশের ভেতরে ছিল, তেমনি দেশের বাইরেও ছিল। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি বিজয়ী হয়েছিল, বিপক্ষ শক্তি পরাজিত হয়েছিল। বিজয়ী শক্তি আনন্দে মাতোয়ারা ছিল, পরাজিত শক্তির সাময়িক পশ্চাৎপসরণ হলেও তারা ছিল প্রতিশোধপরায়ণ এবং উপযুক্ত সময়ের জন্য অপেক্ষমান। বিজয়ী শক্তি ধরে নিয়েছিল যে, বিপদ কেটে গেছে। স্বাধীনতা পেয়ে গেছি, এখন আর ভয় কী! পরাজিত পক্ষ যে নিজেদের শক্তি সংহত করে, দেশি-বিদেশি মিত্রদের সহযোগিতা নিয়ে স্বাধীনতার ঘরে সিঁদ কাটার পরিকল্পনা করছিল, তার নানা আলামত দেখা গেলেও প্রতিরোধের কোনও পরিকল্পনা ছিল না। স্বাধীনতার পক্ষের যারা তারা নিজেদের শক্তি সংহত না করে বরং বিভেদ-অনৈক্যের পথে হেঁটেছে। এসবের মিলিত ফল ১৯৭৫ সালের অগাস্ট-নভেম্বরের বিয়োগাত্মক ঘটনা।

পঁচাত্তরের অগাস্ট ও নভেম্বর ট্র্যাজেডি বাংলাদেশের রাজনীতিতে যে বিরাট শূন্যতার সৃষ্টি করেছিল, সাড়ে চার দশকের বেশি সময়েও তা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করা যাবে না। আজ দেশে যে হিংসার রাজনীতি দানবের মতো মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে তার বীজ রোপিত হয়েছে পঁচাত্তর-হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়েই। বঙ্গবন্ধু হত্যা ও জেলহত্যার বিচার সম্পন্ন করে জাতি কলঙ্কমুক্ত হয়েছে। তবে রাজনীতি এখনো ষড়যন্ত্র মুক্ত হয়নি।

১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশের রাজনীতির গতিমুখ পরিবর্তনের সূচনা হয়। একাত্তরের পরাজিত শক্তি বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে, দেশের রাজনীতিকে প্রগতিবিমুখ ও পাকিস্তানমুখী করে প্রতিশোধ গ্রহণ করেছিল। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড কয়েকজন সেনা সদস্য প্রত্যক্ষভাবে নেতৃত্ব দিলেও এর পেছনে ছিল দেশি-বিদেশি নানা শক্তি। আওয়ামী লীগের ভেতরেই ছিল ঘাতকদের সহযোগীরা। ‘কয়েকজন মাথা গরম জুনিয়র সেনা কর্মকর্তা আকস্মিক হঠকারিতাবশত ১৫ অগাস্ট হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছিল’, এমনটা মনে করার কোনও কারণ নেই। এটা পূর্ব পরিকল্পিত এবং সে কারণেই ছিল যেন অনিবার্য। ১৫ অগাস্ট না হয়ে অন্য যেকোনও দিন অমন নৃশংস ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা ও পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু সে অশুভ শক্তির অপতৎপরতা বন্ধ বা দূর করার মতো বিচক্ষণতা দেখানোর অবস্থা ছিল না। নানা কারণে বঙ্গবন্ধু হয়ে পড়েছিলেন রাজনৈতিকভাবে নিঃসঙ্গ। ধীমান পরামর্শদাতাদের সঙ্গে তৈরি করা হয়েছিল দূরত্ব। বাকশাল তিনি করেছিলেন জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে হওয়ার মতো অবস্থাও রাখা হয়নি। ফাঁকফোকড় ছিল বেশি। উপযুক্ততা বিচার করে পদপদবী দেওয়া হয়নি।

বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে, তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মাথা তুলে দাঁড়ালে যাদের গায়ে জ্বালা ধরতো তারা শুরু থেকেই সুযোগের সন্ধানে ছিল। আওয়ামী লীগের ভেতর থেকেই বিশ্বাসঘাতক বাছাই করা হয়েছিল। খন্দকার মোশতাক, কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম, তাহেরউদ্দিন ঠাকুররা একদিনে তৈরি হয়নি। তারা যে তলে তলে সর্বনাশের সুড়ঙ্গ তৈরি করছিলেন, সেটা বঙ্গবন্ধুরও অজানা ছিল না। তবে তিনি তাদের ষড়যন্ত্রকে খুব পাত্তা দিতেন না। বঙ্গবন্ধু ছিলেন অত্যন্ত উদার মনের অতি মানবিক গুণসম্পন্ন একজন মানুষ। তিনি নিজে ষড়যন্ত্রের রাজনীতিতে বিশ্বাস করতেন না। কোনও ষড়যন্ত্রকারী তার কোনও ক্ষতি করতে পারে- সেটাও তিনি বিশ্বাস করতেন না। কোনও বাঙালি তাকে হত্যা করবে, এটাও ছিল তার ধারণার বাইরে। তার এই মানবিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে ঘাতকরা। ১৫ অগাস্ট বাংলাদেশের রাজনীতির ধারাকে তছনছ করে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার ঘটনায় গোটাদেশ বিহ্বল হয়ে পড়েছিল। বঙ্গবন্ধুর অনুসারীরাও ছিল হতভম্ব এবং বিভ্রান্ত। খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট হওয়ায় এবং বঙ্গবন্ধুর মন্ত্রিসভার প্রায় সবাই মোশতাককে সমর্থন করায় সাধারণ মানুষ ছিল দিশাহীন। খুনিরা অতি সহজে সব কিছু নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়। তবে খুনি মেজরদের দৌরাত্ম্যে এবং বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে সেনাবাহিনীর মধ্যে তৈরি হচ্ছিল বিরূপতা। সেনাবাহিনীতে চেইন অব কমান্ড ফিরিয়ে আনার তাগিদ অনুভব করতে থাকেন কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা। তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন তৎকালীন ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফ, যিনি তখন চিফ অব জেনারেল স্টাফ বা সিজিএসের দায়িত্বে ছিলেন। তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং দক্ষ ও পেশাদার সেনা কর্মকর্তা। মুক্তিযুদ্ধে বড় অবদানের জন্য বীর উত্তম খেতাব পেয়েছিলেন। তার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের সময় গড়ে উঠেছিল এক দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী। খালেদ মোশাররফ হয়তো আশা করেছিলেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বাহিনীতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য ‘কিছু একটা’ করবেন।

কিন্তু অচিরেই তিনি বুঝতে পারেন নতুন সেনা প্রধান জিয়াউর রহমানকে তিনি সঙ্গে পাবেন না। জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন উচ্চাভিলাষী মানুষ। তার মধ্যে ছিলো একধরনের অহংবোধ। তিনি ছিলেন রূঢ় প্রকৃতির মানুষ। ঠাণ্ডা মাথায় যেকোনও কিছু করতে পারতেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের আগে থেকেই পরিকল্পনাকারীদের সঙ্গে জিয়ার যোগাযোগ ছিল এবং হত্যা-পরবর্তী সময়ে ওই খুনি মেজরদের সহযোগিতায় উপরে ওঠার স্বপ্নও তিনি দেখতে থাকেন। জিয়াকে সামনে রেখে খুনি মেজরদের নিবৃত্ত করা সম্ভব হবে না- এই উপলব্ধি থেকে খালেদ মোশাররফ নিজে সেনাপ্রধান হওয়ার কথা ভাবেন। তিনি জিয়াকে অন্তরীণ করেন। অবশ্য তিনি আসলে কী করার জন্য ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর নিজের সমর্থক সেনাবাহিনীর সদস্যদের দিয়ে একটা কিছু করতে গিয়েছিলেন, তা তিনি প্রথম প্রহরেই পরিষ্কার করে না বলায় কেউ কিছু বুঝতে পারেনি।

রাষ্ট্রক্ষমতার নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজের হাতে না নিয়ে তিনি খন্দকার মোশতাককে চাপ দিয়ে খুনি মেজরদের বাগে আনার পথ গ্রহণ করেন। তিনি বঙ্গভবনে মোশতাককে যখন ক্ষমতাহীন করতে ব্যস্ত, তখন খুনিরা জেলহত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে ফেলেছে। রাষ্ট্রক্ষমতা আওয়ামী লীগের হাতে যাতে আবার চলে না যায়, সাংবিধানিকভাবে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যাদের হাতে ক্ষমতা যাওয়ার কথা তাদের পৃথিবী থেকে বিদায় করার নিষ্ঠুর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন খন্দকার মোশতাক এবং তার খুনি সহযোগীরা। জেলে চার নেতাকে হত্যা করে খুনি মেজররা নিরাপদে দেশ ত্যাগ করতে পারে খালেদ মেশাররফের দুর্বলতা ও দোদুল্যমানতার জন্যই।

সামগ্রিকভাবে পরিস্থিতি অত্যন্ত ঘোলাটে হয়ে ওঠে। নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে। ১৫ অগাস্টের পর থেকে সেনাবাহিনীর ভেতর সক্রিয় ছিল জাসদের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। কর্নেল তাহের ছিলেন এই সংস্থার প্রধান। ১৫ অগাস্টের খুনিদের সঙ্গে কর্নেল তাহেরের যোগাযোগ ছিল বলে শোনা যায়। রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের জন্য সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করার পরিকল্পনা ছিল কর্নেল তাহের এবং জাসদের। খালেদ মোশাররফ সেনাপ্রধানের দায়িত্ব নেন, কিন্তু তার উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার কথা দেশবাসীর কাছে স্পষ্ট করে না বলায় একধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়। জাসদ, বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা খালেদ মোশাররফকে ‘রুশ-ভারতের এজেন্ট’ হিসেবে প্রচার করে বিভ্রান্তি তৈরি করে। তার ভাই রাশেদ মোশাররফ আওয়ামী লীগের নেতা হওয়ায় এবং ৪ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছাত্রসমাজের উদ্যোগে একটি মিছিল বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে গেলে সেই মিছিলে খালেদ মোশাররফের মা অংশ নেওয়ায় এটা প্রচার হয় যে ‘ভারতপন্থি আওয়ামী লীগ’ আবার ক্ষমতায় আসছে। সেনানিবাসগুলোর ভেতরে বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার পক্ষ থেকে সাধারণ সিপাহীদের উস্কানি দিয়ে হাজার হাজার প্রচারপত্র বিলি করা হয়। আতিকুল আলম এবং এনায়েতুল্লাহ খানের মতো সাংবাদিকরা চরম অসত্য খবর প্রচার করে মানুষের মনে ভারতবিরোধিতা তীব্র করে তোলার রসদ জোগান।

প্রতিক্রিয়াশীল, ধর্মান্ধ এবং মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব শক্তি ঐক্যবদ্ধ হয়ে পড়ে খালেদ মোশাররফের অবস্থানের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ এবং তার মিত্ররা তখন ছিল অসংগঠিত, বিচ্ছিন্ন এবং কিছুটা দিশাহারা। পরিস্থিতির সুযোগ নেয় জাসদ, গণবাহিনী, বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। সামরিক বাহিনীর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগেই খালেদ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ব্রিগেডিয়ার থেকে মেজর জেনারেল পদে উন্নীত হওয়া ছাড়া আর কিছু তিনি দেশের মানুষের কাছে স্পষ্ট করতে পারেননি। অথচ ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর থেকে ৬ নভেম্বর রাত পর্যন্ত কর্নেল তাহেরের উদ্যোগে সেনানিবাসসহ বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য সভা হয়েছে। কর্নেল তাহের একটি পাল্টা অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি সৈনিকদের অস্ত্র হাতে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাইরে অপেক্ষা করবে জাসদ সমর্থক শ্রমিক-ছাত্ররা আর সেনানিবাস থেকে বেরিয়ে আসবে সশস্ত্র সৈনিকরা। এভাবেই সৈনিক-জনতার অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করে তা বাস্তবায়ন করেছিলেন কর্নেল তাহের। কিন্তু খালেদ মোশাররফ আসলে কী করতে চেয়েছিলেন, তিনি কী বঙ্গবন্ধুর ঘাতকদের বিচারের আওতায় আনতে চেয়েছিলেন, নাকি সাংবিধানিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন, তা কারও পক্ষে জানা সম্ভব হয়নি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও খাঁটি দেশপ্রেমিক হয়েও তাকে ভারতীয় স্বার্থের ধারক-বাহকের মিথ্যা অপবাদ নিয়ে মৃত্যুবরণ করতে হয়।

কর্নেল তাহের জিয়াকে মুক্ত করেন এবং জিয়া হয়ে পড়েন কার্যত ‘হিরো’। তাহের বুঝতে পারেননি যে তার মতের অনুসারী হয়ে নয়, বরং তাকে ব্যবহার করছেন জিয়া নিজের অবস্থান পোক্ত করার জন্য। তাহের ছিলেন সরল এবং বিপ্লববিশ্বাসী। কিন্তু প্রকৃত বিপ্লবের জন্য যে সংগঠনগতভাবে শক্তি লাগে সেটা তিনি বুঝতে পারেননি। জাসদের তেমন রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিও ছিল না। জাসদের প্রতি অন্য কোনও বাম-প্রগতিশীল শক্তির রাজনৈতিক সমর্থনও ছিল না তাদের হঠকারী নীতির কারণে। অন্যদিকে জিয়া ছিলেন চতুর, সময় ও সুযোগের সদ্ব্যবহারে পারঙ্গম। তাছাড়া খালেদ মোশাররফ ভারতের সাহায্য নিয়ে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় বসাতে চায়– এই প্রচারণায় আওয়ামী লীগবিরোধী সব শক্তি জিয়ার পক্ষে দাঁড়ায়। জিয়া সফল হন এবং তাহেরের উপকারের প্রতিদান দেন তাকে বিচারের নামে প্রহসন করে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে হত্যা করে।

কিন্তু ইতিহাস কাউকে মার্জনা করে না। জিয়া ক্ষমতার শীর্ষে আরোহন করে, সেনাবাহিনীতে বহু হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেননি। চালাকি করে সাময়িক সাফল্য হয়তো পাওয়া যায়, ইতিহাস তৈরি করা যায় না।

লেখকঃ সাংবাদিক ও কলামিস্ট

সৌজন্যেঃ bdnews24.com

(মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত