শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা- এই যুগলবন্দি অটুট ও অমলিন থাকুক

127

Published on সেপ্টেম্বর 13, 2021
  • Details Image

সাদিকুর রহমান পরাগঃ

শেখ রেহানা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের চতুর্থ সন্তান। আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ছোট বোন, সবচেয়ে আপনজন। প্রচারবিমুখ এই মানুষটি নিভৃতে থেকেও হয়ে উঠেছেন সকলের প্রিয় ছোট আপা।

১৯৫৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর তার জন্ম। তবে অন্য ৮-১০ জন মেয়ের মতো ছিল না তার শৈশব ও কৈশোরকাল। থাকার কথাও নয়। কারণ যে পিতার হাত ধরে কোটি প্রাণে রোপিত হয়েছে স্বাধীনতার মূলমন্ত্র, যে পিতা নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায়- সেই পিতার কন্যার শৈশব-কৈশোর তো অন্যদের মতো হবার কথা নয়।

সমবয়সীরা যখন মেতে ছিল আনন্দ-উল্লাসে, বিভোর ছিল তাদের রঙিন স্বপ্নে, তখন তার শৈশব-কৈশোর ছিল ঝঞ্ঝা-সংকুল আর চরম অনিশ্চয়তায় ভরা। বৈরি স্বদেশ, কারাবন্দি পিতা, দমন-পীড়ন, শাসকের রক্তচক্ষু, মিছিলে প্রকম্পিত রাজপথ, পিতার স্বাধীনতার ডাক, মানুষের জাগরণ, স্বাধীন স্বদেশের অভ্যুদয়- এসব কিছুর মধ্যেই তার বেড়ে ওঠা।

পিতা ফিরে আসেন স্বাধীন স্বদেশে। নেমে আসে আপাত স্বস্তি। কিশোর বয়সে তিনিও স্বপ্ন দেখেন সুন্দর আগামীর। কিন্তু তার সেই স্বপ্নও দীর্ঘ হয় না। আবারও নেমে আসে কালোছায়া। কৈশোরের শেষলগ্নে যৌবনের প্রারম্ভে ১৮ বছর বয়সে তিনি হন পিতৃ-মাতৃহারা। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। জাতির পিতার দুই কন্যা শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা প্রবাসে থাকার কারণে বেঁচে যান। কিন্তু সেই বেঁচে থাকাও হয়ে ওঠে মৃত্যুর চেয়ে ভারী। শুরু হয় প্রবাসে ফেরারি জীবন। একদিকে অভাব-অনটন, অন্যদিকে জীবনহানির শঙ্কা। চেনা পৃথিবীটাও হয়ে ওঠে অচেনা। প্রত্যক্ষ করেন জীবনের আরেক নিষ্ঠুর রূপ।

কিন্তু যে রক্তে মিশে আছে জাতির পিতার রক্ত, যে রক্ত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালির উত্তরাধিকার, সেই রক্ত কখনও নিশ্চুপ বসে থাকতে পারে না, সেই রক্ত কখনও আপস করতে জানে না। শুরু হয় নতুন এক অধ্যায়- নতুন এক সংগ্রাম। সেই সংগ্রাম ঘুরে দাঁড়াবার। সেই সংগ্রাম আশাহীন জাতিকে পথ দেখাবার। সেই সংগ্রাম মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার।

সেই সংগ্রামে শোক চাপা দিয়ে এক বোন হয়ে ওঠেন আরেক বোনের শক্তি, এক বোন আরেক বোনের পরিপূরক। একজন ঘরে- একজন বাইরে। সামনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করেন জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। আর তার পাশে থেকে নিরন্তর সাহস জুগিয়ে যান কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। স্বজন হারানো দুই বোনের লড়াই-সংগ্রামের এক অনুপম যুগলবন্দি।

ছোট বোন শেখ রেহানার ওপর ভরসা করে বড় বোন শেখ হাসিনা নিজের সন্তানদের ভার তার হাতে ছেড়ে দিয়ে দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বড় বোন শেখ হাসিনার সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং তার নিজের সন্তান পুত্র রেদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক ও আজমিনা সিদ্দিককে তিনি মানুষ করেছেন পরম মমতায়।

শুধু ঘরের মধ্যেই নিজেকে সীমাবদ্ধ করে রাখেননি নিজেকে। ১৯৭৯ সালের ১০ মে স্টকহোমে বড় বোন শেখ হাসিনার প্রতিনিধি হয়ে সর্ব ইউরোপীয় বাকশাল সম্মেলনে যোগদান করে আন্তর্জাতিক পরিসরে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের দাবিকে উচ্চকিত করেন তিনি। পরবর্তীতে গঠিত হয় সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ, যার সভাপতি করা হয় ঐতিহাসিক আগরতলা মামলায় বঙ্গবন্ধুর আইনজীবী টমাস উইলিয়াম কিউসি এমপি’কে। এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা। ১৯৮০ সালে গঠিত হয় বঙ্গবন্ধু হত্যা তদন্তে আন্তর্জাতিক কমিশন। কমিশনের চেয়ারম্যান ছিলেন টমাস উইলিয়াম কিউসি এমপি, সদস্য সচিব অব্রে রোজ, সদস্য নোবেল বিজয়ী সন ম্যাকব্রাইট, লেবার পার্টির আইনবিষয়ক মুখপাত্র জেফরি টমাস কিউসি এমপি। সর্ব ইউরোপীয় বঙ্গবন্ধু পরিষদ এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশন গঠনে আড়ালে থেকেও অন্যতম ভূমিকা পালন করেন তিনি।

ওয়ান-ইলেভেন চক্রান্তের সময় যখন বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনাকে কারান্তরীণ করে রাখা হয়, তখন দলের ঐক্য ধরে রাখতে এবং শেখ হাসিনার মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করতে ছোট বোন শেখ রেহানা যুগান্তকারী ভূমিকা রাখেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউর জনসভায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। আল্লাহর অশেষ কৃপায় তিনি বেঁচে গেলেও আওয়ামী লীগের ২৪ নেতাকর্মী নিহত হন, আহত হয় শত শত নেতাকর্মী। সেই চরম দুঃসময়েও বড় বোন শেখ হাসিনার পাশে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের অভিযাত্রায় সেই যুগলবন্দি আজও অব্যাহত। আর তাই আমরা দেখতে পাই মিয়ানমার থেকে যখন লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে বিতাড়িত করা হয়, তখন ছোট বোন শেখ রেহানার মানবিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে বড় বোন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ান।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে মুজিববর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সকল আয়োজনেও আমরা সেই যুগলবন্দির প্রতিফলন দেখতে পাই।

বাংলাদেশের স্বার্থে, বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থে জাতির পিতার কনিষ্ঠ কন্যা, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভরসার স্থল ছোট বোন শেখ রেহানার জন্মদিনে আমাদের চাওয়া- এই যুগলবন্দি অটুট ও অমলিন থাকুক।

শুভ জন্মদিন বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা।

শুভ হোক আপনার জন্মদিন ছোট আপা।

লেখকঃ সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য, উত্তরণ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত