একজন অদম্য রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা

36

Published on মে 8, 2026
  • Details Image

 

ভালো বা খারাপ এর বস্তুনিষ্ঠ সঙ্গায়ন আদৌ উপস্থাপিত হয় কি…? ইতিহাস খ্যাত হবার মতো সহস্র অর্জন আমাদের আছে,বিপরিতে অজস্র লজ্জাকর উদাহরণও আছে যেগুলো আমাদেরকে নতজানু করে । আর এটা আমাদেরকেই যুক্তিযুক্ত ভাবে উপস্থাপন করতে হবে যে,কোনটির আধিক্য বেশি…. অর্জনের নাকি বিতর্কিত বিষয়ের?

মুক্তিযুদ্ধের মহানায়ক পিতা বঙ্গবন্ধু মুজিব থেকে শুরু করে সোনার বাংলা বিনির্মানের সারথিদের অব্যাহত প্রচেষ্টায় অন্তত স্বপ্নগুলো ফিকে হয়ে যায় নি….! আর দীর্ঘদিনতো পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পন্নের দায়িত্ব খোদ মুজিব তনয়া দেশরত্ন শেখ হাসিনার কাছেই ছিল এবং তিনি যে সেই সুযোগের উপর্যুক্ত ব্যবহার করেছেন, ভিন্ন এক বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে উপস্থাপন করেছেন সেই বাংলাদেশকে অবাক বিস্ময়ে সমগ্র পৃথিবী অবলোকন করলো।

রাষ্ট্রের আর্থ-সামাজিক অবস্থা পরিবর্তনে ভিশন-২০৪১ বাস্তবায়নে মাননীয় নেত্রী যে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছিলেন অত্যন্ত উৎসব মুখর পরিবেশে, দীর্ঘদিন ধরে সেই কর্মযজ্ঞ ধারাবাহিক রেখেছেন অনন্য নেতৃত্ব গুণে....। বাঙ্গালী জাতি তার পরিপূর্ণ কাঙখিত প্রত্যাশাগুলোর অবিস্মরণীয় বাস্তবায়ন দেখার প্রাক্কালেই ২০২৪ সালে ০৫ আগস্টের মতো দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশের সফল বাস্তবায়নে শেখ হাসিনা রেজিমের পরিবর্তন করা হয়েছে তা কিন্তু নয়, বরং দক্ষিণ এশীয়ার আঞ্চলিক অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে নতুন শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের অপেক্ষায় থাকা বাংলাদেশকেই উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রচন্ড ঈর্শনীয় অগ্রযাত্রার পথটিকেই দীর্ঘ সময়ের জন্য রুদ্ধ করে দেয়া হলো....!
ক্ষমতা থেকে সরে যাবার আগের কয়েকটি বছরে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে সুদৃঢ় করতে যে অসাধারণ দূরদর্শিতা মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনা দেখিয়েছেন, তার প্রশংসা করে শেষ করা যাবে না এবং প্রায় পুরোটাই তিনি করেছেন একক নেতৃত্বের দক্ষতা দিয়ে । চীন,ভারত,রাশিয়াসহ অনেক বন্ধু প্রতীম রাষ্ট্র আমাদের অবকাঠামোগত উন্নয়নে শিল্প-বানিজ্যসহ অত্যাবশ্যকীয় খাত পোশাক-বিদ্যুত-টেকনোলজি প্রভৃতি খাতে যেভাবে ব্যাপক পরিসরে অর্থায়ন করেছেন,সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এটা বিস্ময়কর । আর সন্দেহাতীত ভাবেই বলতে পারা যায়,এটা সম্ভব হয়েছে কেবল ও কেবলমাত্র মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার অসামান্য কূটনৈতিক প্রজ্ঞা আর বলিষ্ঠ নেতৃত্বের প্রতি বিদেশী বন্ধুদের অগাধ আস্থার কারনেই । আমরা আসলেই দুর্ভাগা কারন আমাদের কিছুদিন আগের রাষ্ট্রনায়ক দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন বাংলাদেশের নেতা থেকে ক্রমেই বিশ্বের প্রভাবশালী নেতাদের মধ্যে নিজের একটা স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেই অবস্থান করে নিয়েছিলেন বিশ্বনেতাদের বিভিন্ন ভাবে তাদের প্রকাশভঙ্গীতে উপস্থাপন করেছেন ।

বাংলাদেশের বিজয়োপাখ্যান উপস্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ব নেতৃত্বকে তাক লাগিয়ে যিনি আপন আলোতে প্রিয় বাংলাদেশকে উদ্ভাসিত করে যাচ্ছিলেন প্রতিনিয়ত, সেই রাষ্ট্রপ্রধান আমাদের দেশরত্ন শেখ হাসিনা আপাকে তুলনা করা যায় ফিনিক্স পাখির সাথে....!

২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের চাপের মুখেই কোনো দালিলিক তথ্য-প্রমাণ ছাড়া পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।সংস্থাটির বিদায়ী চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান বিদায় সংবর্ধনায় এমনটাই জানিয়েছেন।মো. বদিউজ্জামান বলেন, ‘পদ্মা সেতু দুর্নীতির অভিযোগে আমরা (দুদক) যে এজাহারটি করেছি তাতে মামলা করার মতো কোনো উপাদান ছিল না। আসলে এটা ঠিক হয়নি।’

শুরু থেকেই এই অভিযোগ মিথ্যা এবং ষড়যন্ত্রমূলক হিসেবেই এই মামলাটিকে উপস্থাপন করে আসছিল শেখ হাসিনার সরকার । দেশি বিদেশি একটি চক্রের ষড়যন্ত্রমূলক সক্রিয় অবস্থানের কথাও বারংবার উল্লেখ করবার চেষ্টায় সরকার সরব থাকলে কিছু মানুষের অতিরঞ্জিত উপস্থাপন আর নির্দিষ্ট একটি প্রিন্ট মিডিয়ার অতি উতসাহী ধারাবাহিক টার্গেটেড সংবাদ উপস্থাপনে কম-বেশি পুরো দেশবাসীই বিভ্রান্ত হয়েছিল বৈকি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তখন পদ্মা সেতু নিয়ে বক্তব্যে অনড় থাকলেও দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন তখনকার যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে। বিশ্বব্যাংকের এই মিথ্যা অপবাদের গ্লানিমুক্ত হতে আন্তর্জাতিক আদালতের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভরশীলতার অভিপ্রায় ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনন্য সাহসিকতা দেখিয়েছিলেন বৈকি। যেহেতু প্রথম থেকেই বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণার এক দিন আগেই নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার। নিজস্ব অর্থায়নেই নির্মিত হতে থাকে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত প্রমাণ পাননি কানাডার টরন্টোর এক আদালত। তাই কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নির্দোষ রায় দিয়ে খালাস দিয়েছেন ওই আদালত। গত ১২ ফেব্রুয়ার, ২০১৭- শুক্রবার স্থানীয় সময়ে এই রায় দেওয়া হয়।
এই রায়ের ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে যে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল বিশ্বব্যাংক, তা থেকে বাংলাদেশ দায়মুক্তি পেল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ এনে ২০১২ সালে এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। অভিযোগ ছিল, কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনকে কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির চেষ্টা হচ্ছে। এতে সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা ও এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তারা জড়িত। ওই সময় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে (আরসিএমপি) এই খবর জানিয়েছিল বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি) বিভাগ। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলা হয়। শুক্রবার মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া।

রায় পরবর্তীতে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কান্ট্রি ডিরেক্টরের একটি বিবৃতি দেন। বিবৃতি অনুযায়ী বলা হয়েছে - 'বিশ্বব্যাংক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকে। যখনই এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ করে বিশ্বব্যাংক, তখনই তদন্তের তথ্য-উপাত্ত ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়। ওই দেশের আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না—এই স্বার্থেই বিশ্বব্যাংক তদন্তের তথ্য-উপাত্ত দেয়। তবে বিবৃতিতে শুক্রবারের রায় নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।'

কানাডায় পদায়ের করা ওই মামলার প্রমাণ হিসেবে রয়্যাল কানাডীয় মাউন্টেড পুলিশ (আরসিএমপি) অভিযুক্ত ব্যক্তিদের টেলিফোনে আড়ি পাতার রেকর্ড আদালতে জমা দিয়েছিল। কানাডার টরন্টো স্টার পত্রিকার গত শুক্রবারের অনলাইন সংস্করণে বলা হয়েছে, শুক্রবার কানাডার আদালত আদেশ দেওয়ার সময় টেলিফোনে আড়ি পেতে পাওয়া যেসব প্রমাণ দাখিল করা হয়েছিল, সেগুলো নাকচ করে দেন আদালত। সেই সঙ্গে এভাবে প্রমাণ সংগ্রহ করে তদন্ত কার্যক্রমের সমালোচনা করা হয়। কানাডার সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক ইয়ান নর্দেইমার এ রায় দেন।
টরন্টো স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী রায়ের আদেশে বিচারক লেখেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যে তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা জল্পনা, গুজব আর জনশ্রুতি ছাড়া কিছুই না।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বব্যাংক অভ্যন্তরীণ চারজন গোপন সংবাদদাতার খবরের ভিত্তিতে এই অভিযোগ এনেছে বলে আদালতে জমা দেওয়া আবেদনে আরসিএমপি উল্লেখ করেছে। এই চারজনের মধ্যে মূলত আরসিএমপি একজনের বক্তব্যকেই আমলে নিয়েছে। বাকি তিনজনের সঙ্গে তারা কখনো কথাও বলেনি, এমনকি কোনো ধরনের তদন্তও করেনি। আর এই একজনের সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছে। আদালতের ভাষ্য, উপস্থাপিত নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা যায়, সব না হলেও অধিকাংশ তথ্যই ‘২ নম্বর তথ্যদাতা’র কাছ থেকে সংগৃহীত। কিন্তু পুলিশ কখনোই এই তথ্যদাতাদের সঙ্গে কথা বলেনি কিংবা তাঁদের ব্যাপারে খোঁজখবর করেনি। আবার ২ নম্বর তথ্যদাতা আসলে এই প্রকল্পের একজন ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ। তিনি নিজেও পদ্মা সেতু প্রকল্পের উল্লিখিত কাজের দরপত্রে অংশ নিয়েছিলেন এবং কাজ পাওয়ার জন্য দুর্নীতির আশ্রয় নিয়েছিলেন।

টরন্টো স্টার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানাডার ওই আদালতের রায়ে আরসিএমপির তদন্ত কার্যক্রমে এভাবে আড়ি পেতে ব্যক্তিগত আলাপন রেকর্ডটি প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করার সমালোচনা করা হয়েছে। এ ছাড়া আরসিএমপি কর্তৃপক্ষ আদালতে বলেছে, পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ পেতে কেভিন ওয়ালেসসহ তিনজন দুবাইয়ে বৈঠক করেছেন এবং তাঁরা কানাডার পিয়ারসন বিমানবন্দর দিয়ে দেশে ফিরেছেন। কিন্তু কানাডা বর্ডার সার্ভিসেস এজেন্সি (সিবিএসএ) বলেছে, ওই সময় কেভিন ওয়ালেস দুবাই যাননি।

পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের উপযুক্ত প্রমাণ পাননি কানাডার টরন্টোর এক আদালত। তাই কানাডার মন্ট্রিলভিত্তিক প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান এসএনসি-লাভালিনের সাবেক তিন কর্মকর্তাকে নির্দোষ রায় দিয়ে খালাস দিয়েছেন ওই আদালত। গত শুক্রবার স্থানীয় সময়ে এই রায় দেওয়া হয়।

এই রায়ের ফলে পদ্মা সেতু প্রকল্পে যে দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছিল বিশ্বব্যাংক, তা থেকে বাংলাদেশ দায়মুক্তি পেল। পদ্মা সেতু প্রকল্পে ১২০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। কিন্তু দুর্নীতির চেষ্টার অভিযোগ এনে ২০১২ সালে এ প্রকল্প থেকে সরে দাঁড়ায় বিশ্বব্যাংক। অভিযোগ ছিল, কানাডীয় কোম্পানি এসএনসি-লাভালিনকে কাজ পাইয়ে দিতে দুর্নীতির চেষ্টা হচ্ছে। এতে সরকারি, বেসরকারি কর্মকর্তা ও এসএনসি-লাভালিনের কর্মকর্তারা জড়িত। ওই সময় রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশকে (আরসিএমপি) এই খবর জানিয়েছিল বিশ্বব্যাংকের ইন্টিগ্রিটি ভাইস প্রেসিডেন্সি (আইএনটি) বিভাগ। এ নিয়ে কানাডার আদালতে মামলা হয়। শুক্রবার মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন এসএনসি-লাভালিনের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কেভিন ওয়ালেস, প্রতিষ্ঠানটির আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিভাগের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রমেশ শাহ ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডীয় ব্যবসায়ী জুলফিকার আলী ভূঁইয়া।

প্রথম থেকেই বাংলাদেশ সরকার দুর্নীতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছিল। ২০১২ সালে বিশ্বব্যাংকের সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণার এক দিন আগেই নিজস্ব অর্থায়নে এই পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ সরকার। নিজস্ব অর্থায়নেই পদ্মা সেতু হচ্ছে। ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পে এই পর্যন্ত ৪০ শতাংশের মতো বাস্তবায়িত হয়েছে।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান এ বিষয়ে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দেশ হিসেবে আমাদের জন্য সুসংবাদ; সরকারের জন্য স্বস্তিদায়ক। এত দিন ধরে পদ্মা সেতু নিয়ে যে আলোচনা, তোলপাড়, বিতর্ক হয়েছে, এর অবসান হলো।’

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংক তদন্ত করল। বাংলাদেশে তদন্ত দল পাঠাল। সেই দলের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে অভিযোগ অব্যাহত রাখল বিশ্বব্যাংক। কিন্তু অভিযোগ প্রমাণের আগেই পদ্মা সেতু প্রকল্পে অর্থায়ন বাতিল করে শাস্তি দিয়ে ফেলল বিশ্বব্যাংক। এখন আদালতে প্রমাণ হয়েছে, দুর্নীতি হয়নি। তাহলে সরকারের উচিত, এই বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের কাছে জবাব চাওয়া।’

এই বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে কান্ট্রি ডিরেক্টরের একটি বিবৃতি পাঠানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বব্যাংক সহায়তাপুষ্ট প্রকল্পে দুর্নীতি ও জালিয়াতির অভিযোগ খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে থাকে। যখনই এসব বিষয়ে তদন্ত শেষ করে বিশ্বব্যাংক, তখনই তদন্তের তথ্য-উপাত্ত ওই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দেওয়া হয়। ওই দেশের আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না—এই স্বার্থেই বিশ্বব্যাংক তদন্তের তথ্য-উপাত্ত দেয়। তবে বিবৃতিতে শুক্রবারের রায় নিয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি।

সুতরাং এটা নিঃসন্দেহে প্রমাণিত হয়েছে যে, ‘পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি’। একে একে মুখ খুলতে থাকেন প্রধানমন্ত্রী-সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্ব।
কয়েকজন নেতার প্রতিক্রিয়া রেফারেন্সসহ তুলে ধরছি---

★ একনেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন - "এক ব্যক্তির কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্পে মিথ্যা অভিযোগ" (বাসস,১৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৭)।
★ "পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্র আজ সত্য প্রমাণিত: দীপু মনি" (২০ ডিসেম্বর, ২০১৭- দৈনিক প্রথম আলো)।
★ "তাদের উচিত ক্ষমা চাওয়া: জয়" [প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা] (১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭- দৈনিক প্রথম আলো)।
★ "পদ্মা সেতু প্রকল্পে কোনো দুর্নীতি হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সততা বিভাগ অপদার্থ : অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত" (০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩- দৈনিক প্রথম আলো)।

প্রতিক্রিয়ার রেফারেন্সগুলো প্রথম আলো পত্রিকারই দিলাম কারন এই পত্রিকাটিই পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতির বিষয়টি নানানভাবেই বেশ ফলাও করে প্রচার করেছিল। যদিও রায় প্রকাশের পর বিভিন্নভাবেই নিজেদের আত্মপক্ষ সমর্থনে ইনিয়েবিনিয়ে তারা যে মানুষের কাছে সরকারের ভাবমূর্তি আরোও বেশি স্বচ্ছ হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছিল, সেটাই বলার চেষ্টা করেছে।

আর যে ক'জন ব্যক্তির কথা নিবন্ধের প্রারম্ভেই বলা হয়েছিল তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ডঃ মুহম্মদ ইউনুস,যিনি পদ্মা সেতু প্রকল্পে দুর্নীতি হয়েছেই এটা প্রমাণ করতে যারপরনাই সরব ছিলেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উনার ব্যক্তিগত অবস্থানের প্রভাব দিয়ে সরকার তথা রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেরই একটা ঋনাত্মক অবস্থান তৈরি করতে আপ্রাণ প্রয়াস চালিয়েছিলেন। কিন্তু তার এই মিথ্যাচার শেষপর্যন্ত সত্যের উদ্ভাসিত আলোকচ্ছটায় মিলিয়ে গিয়ে ব্যার্থতায় পর্যবসিত হয়েছে ।

আর এই সবই সম্ভব হয়েছে আমাদের দৃঢ়চেতা-স্বাধীনচেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যৌক্তিক একরোখা অবস্থান আর দক্ষ-সাহসী পদক্ষেপের কারনে ।

বেশ কয়েকবার পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ইতোমধ্যেই। কশা পরিবর্তন, অবকাঠামো উন্নয়ন, ভূমির পরিমাণ ও পরামর্শকের সংখ্যা বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণ দেখিয়ে পদ্মা সেতু প্রকল্পের ব্যয় আরও ৮ হাজার ২৮৬ কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে পদ্মা সেতুর নির্মাণ ব্যয় বেঁড়ে দাঁড়ালো ২৮ হাজার ৭৯৩ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এই বিরাট বাজেটের পদ্মা সেতু প্রকল্পের কাজ স্ব-অর্থায়নে করবার সাহস দেখাতে পারে সম্ভবত কেবল আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনাই।

পদ্মা সেতু নিজস্ব অর্থায়নে বানিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের এক ‘'অনন্য সক্ষমতা’'র নজির স্থাপন করেছিলেন । তাই পদ্মাসেতু নিয়ে তার উছ্বাস তিনি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন পুরো দেশজুড়ে এমনকি বলা উচিত সমগ্র বিশ্বেই….!

পদ্মাসেতুর নির্মান কাজ চলাকালীন সময়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার হেলিকপ্টার থেকে পদ্মা সেতুর ছবি তোলার মূহুর্তের এই ছবিটি পুরো বিশ্বেই আলোড়িত হয়েছিল ।

২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মাসেতু যেদিন উদ্ভোদন করেছিলেন শেখ হাসিনা, পুরো বিশ্ব থেকেই প্রভাবশালী বিশ্বনেতৃবৃন্দ শেখ হাসিনাকে বিশ্বের অন্যদিকে দক্ষ ও চৌকস রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মন্তব্য করেছেন এবং শেখ হাসিনাকেও অন্যতম বিশ্বনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে “শেখ হাসিনা”কে শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন । আর বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে এক অনন্য সক্ষমতার পরিচয় প্রকাশ করেছিল !

একদল অতি দেশপ্রেমিক ‘রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প’র বিরোধীতা করতে গিয়ে বিভ্রান্তকর সব তথ্য দিয়ে বেশ কিছুদিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমকে উত্তপ্ত করতে সমর্থ হয়ে ভেবেছিল এবার বুঝি তারা লঙ্কাকাণ্ড ঘটাতে সক্ষম হবে । তাদের ছড়ানো কিছু হাস্যকর উপস্থাপনার কথা উল্লেখ করতেই হয় । প্রথমে তারা ছড়িয়েছিল আইন লঙ্গন করে নির্ধারিত সীমা না মেনেই রামপাল হচ্ছে…! কিন্তু একালের স্মার্ট প্রজন্মের কাছে তারা ধরা খেয়ে যায়। এরপর তারা সামনে আনে চুক্তির ঋনের বিষয়টি, প্রচার করে পুরো ঋনের টাকাই নাকি বাংলাদেশকে পরিশোধ করতে হবে । সেখানে তারা হোচট খায়,যখন তরুন প্রজন্ম ঘাটাঘাটি করে বের করে যে, পুরো প্রজেক্টে ভারত ও বাংলাদেশ ১৫% করে অর্থায়ন করবে এবং ঋন নেয়া হবে বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ কোম্পানির নামে যা ঐ কোম্পানিই পরিশোধ করবে । সুন্দরবন নিয়ে তারা সর্বোচ্চ মিথ্যাচার করে কারন এই সুন্দরবন আমাদের এমন একটি অনন্য সম্পদ যা শুধু আমাদের বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ হতেই কেবল রক্ষা করছেনা, এটা বিশ্ব ঐতিহ্যের একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বহির্বিশ্বে প্রিয় বাংলাদেশকে উপস্থাপন করে । তাই এটাকে তারা সবথেকে বড় অস্র হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছে এবং সুন্দরবন ধ্বংস হয়ে যাবে এই জঘন্য মিথ্যাচারের মাধ্যমে কিছু হুজুগে নাগরিককে বিভ্রান্ত করতে সক্ষমও হয়েছে । কিন্তু বাস্তবতা আসলে কি? রামপাল সুন্দরবন থেকে ১৪ কি.মি. দূরে এবং বিশ্ব ঐতিহ্যের ঘোষনা করা স্থান থেকে ৬০ কি.মি. এর চেয়েও অধিক দূরে । আর এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে সবথেকে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকার যে বদ্ধপরিকর তা ইতোমধ্যেই গণপ্রতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্বিগ্ন জাতিকে শতভাগ আশ্বস্ত করে বলেছেন, “আমি শেখ মুজিবের কন্যা,বাংলাদেশের সামান্যতম ক্ষতি হয় এমন কাজ কখনোই আমার দ্বারা হবে না,সেখানে সুন্দরবনতো আমাদের সম্পদ । এই প্রকল্পের মাধ্যমে সুন্দরবনের কোনো ক্ষতিতো হবেই না বরং প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কাজের মাধ্যমে রামপাল অঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক অবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন হবে এবং সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যাবহারের কারনে পরিবেশের উপরও উল্লেখ করার মতো কোনো বিরুপ প্রভাব পড়বে না ।এমনকি এক্সিম ব্যাংকের ঋনপ্রদান বিষয়ক শর্তটি উত্থাপিত হলে তিনি বলিষ্ঠ ভাবে বলেন, ‘আমিতো এতে আশংকার কিছু দেখছি না,প্রকল্প হবে আমার দেশে তাহলে আমাদের গ্যারেন্টার হতে সমস্যা কোথায়? প্রকল্পতো লস করার জন্য করছি না ! এরপরেও যদি আপত্তির মাত্রা বেশি হয় তাহলে পদ্মা সেতুর মতো প্রয়োজনে রামপালও নিজস্ব অর্থায়নে করব । এই হচ্ছেন আমাদের জননেত্রী শেখ হাসিনা ।।

অথচ ঐ আনু মোহাম্মদ সাহেবদের মতো কিছু জ্ঞানপাপীরা উন্নয়নকে থমকে দিতে কত কিছুই না করার অপচেষ্টা করছে । আপনারা যারা বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান এই উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে অস্বাভাবিক তৎপরতা দেখাচ্ছেন আপনাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই,জাতি কিন্তু জানে আপনাদের এই হীন ষড়যন্ত্রে ইন্দন কারা দেয়,কারা আপনাদের আয়েশি জীবন যাপনে অর্থায়ন করে কিংবা আপনারা কোন কোন দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীদের ক্রীড়ানক হিসেবে কাজ করেন। শুধু এতটুকুই বলি,দেশরত্ন শেখ হাসিনা আর আট-দশটা সাধারণ রাষ্ট্রনায়কের মতো নয় । ১৯ বার প্রাণঘাতী হামলাও কিন্তু তাঁকে দমাতে পারে নি । বিশ্বব্যাংকের মতো ক্ষমতাধর প্রতিষ্ঠানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে পদ্মাসেতুর মতো প্রায় অসম্ভব বিশালাকার প্রকল্পও কিন্তু দেশীয় অর্থায়নে করার ঘোষনাই শুধু দেন নি,বাস্তবায়নের কাজও শুরু করে দিয়েছেন । এমডিজির লক্ষমাত্র অর্জনে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন ।

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’'র সুদক্ষ নেতৃত্বের কারনে বাংলাদেশ একদিকে যেমন অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে পাশাপাশি ….
☞ উন্নয়নশীল-অর্ধোন্নত কিংবা অনুন্নত রাষ্ট্রের কাছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল।
☞ মানুষের মৌলিক চাহিদা খাদ্য,বস্র,বাসস্থান,চিকিৎসা ও শিক্ষায় সর্বোচ্চ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করার পর নেত্রী নজর দিয়েছেন উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে কিভাবে প্রতিষ্ঠা করা যায় সেটার প্রতি।
☞ রাষ্ট্রের অবয়ব পরিবর্তন করে দেবার মতো কিছু প্রকল্প বাস্তবায়নে নেত্রী পূর্ণমনোযোগী হয়েছেন।এগুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রক্রিয়াধীন আর বাকী গুলো যথাসম্ভ দ্রুততার সাথে সম্পন্ন করতে দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ .... 👉👉

✪ স্বপ্নের পদ্মাসেতু প্রকল্প,
✪ দেশজুড়ে পর্যাপ্ত ফ্লাইওভার নির্মান,
✪ দেশের প্রতিটি মহাসড়ককে ফোর লেনে
উন্নীত করন,
✪ বিদ্যুৎ সমস্যা নিরসনে পর্যাপ্ত গ্যাস-কয়লা-
পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন,
✪ পায়রা বন্দর,
✪ চট্রগ্রামে নতুন বন্দর,
✪ নতুন স্থল বন্দরসমূহ,
✪ দেশজুড়ে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যাপক
অবকাঠামোগত উন্নয়ন,
✪ আইন শৃঙখলা রক্ষায় নিয়োজিত প্রতিটি
বাহিনীকে পর্যাপ্ত সহায়তা প্রদান,
✪ এসডিজি অর্জনে সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ,
✪ দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নতুন বাজার
সৃষ্টিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন,
✪ জাতীয় অর্থনীতিকে বিশ্বমানে উন্নীত করতে
সর্বাত্মক পদক্ষেপ গ্রহণ ।

আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি সমুন্নত রেখে এবং দেশের স্বাধীনতা - সার্বভৌমত্ব- সংবিধানের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে দেশরত্ন শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এই ব্যাপারে আমার অভিমত তিনি সকল প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে অদম্য সাহস আর প্রত্যয় নিয়ে অগ্রসর হতে সমর্থ হচ্ছেন কারণ তিনি মুজিব তনয়া । রাজধানী ঢাকার বর্তমান দৃষ্টিনন্দন প্রতিচ্ছবি জননেত্রীর হাত ধরেই হয়েছে ।

✪ ঢাকার যানজট নিরসনে ☞
◑ হানিফ ফ্লাইওভার,
◑ মহাখালি ফ্লাইওভার,
◑ কুড়িল ফ্লাইওভার,
◑ মগবাজার ফ্লাইওভার,
◑ বনানী-মিরপুর ফ্লাইওভার
✪ মেট্রোরেল,
✪ রুপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান প্রকল্প,
✪ বঙ্গবন্ধু টানেলে’র মতো দুঃসাহসী প্রকল্প,
✪ কমলাপুর থেকে আন্ডারপাস মেট্রোরেল,
✪ সুপরিকল্পিত নগরায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহন,
✪ সৌন্দর্য বর্ধনে হাতিরজিল-রাস্তার আইল্যান্ডে
✪ সবুজায়ন-ইট পাথরের শহরকে প্রাণবন্ত
করতে পর্যাপ্ত বিনোদন কেন্দ্র নির্মান

…….ইত্যাদি কিন্তু জননেত্রী শেখ হাসিনার
হাতেই হয়েছে।

বাংলাদেশের একজন মানুষও এই কথা অস্বীকার করতে পারবে না যে,স্বাধীনতার পর আমাদের যত উল্লেখ করার মতো অর্জন তার প্রায় সবই শেখ হাসিনা সরকার করেছে। শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী - ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করার কথা থাকলেও তার অনেক আগেই নেত্রীর এই অক্লান্ত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি স্বরুপ সম্প্রতি এডিবি বাংলাদেশকে অর্থনৈতিক বাজারের দৃষ্টিকোন থেকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ।

জাতির পিতা যেমন বিশ্বমানচিত্রে লাল-সবুজের পতাকা খচিত প্রায় একক যোগ্যতা ও নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ’ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছিলেন এবং ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত,অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে চেয়েছিলেন। কিন্তু নানা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এদেশেরই কিছু বিপথগামী নষ্ট সন্তানদের হাতে জাতির পিতা শেখ মুজিব নির্মমভাবে পরিবারের অধিকাংশ সদস্যসহ নিহত হয়েছিলেন পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট, কিন্তু মৃত্যুর পূর্বমূহুর্তে ঘাতকের হৃদপিন্ড কাপিয়ে দিয়েছিলেন অসীম সাহসিকতায় ।অথচ পরের দিন সকালেই দেশ স্বাধীনের পর তাঁর প্রথম আসার কথা ছিল,উচ্ছ্বাসভরা যৌবনের তেজদীপ্ত ঘটনাবহুল রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় আর কালের স্বাক্ষী,যেখান থেকে তিনি স্বাধীকার আন্দোলনের গোড়াপত্তন করেছিলেন, যেখানে তিনি তার ভেতরের সকল সঞ্জীবনী শক্তি দিয়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের জন্ম দিয়েছিলেন সেই প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যেটি ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামের তীর্থভূমি এবং ইতিহাস তৈরির সূতিকাগার । কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই সৌভাগ্য হয়নি জনককে বরণ করে নেবার । কারন আগের রাতেই ভয়াবহ রক্তপাতের মাধ্যমে জন্মনেয় বাংলাদেশের ইতিহাসের সবথেকে কলঙ্কিত অধ্যায়ের ।

দেশরত্ন শেখ হাসিনাও পিতার অসমাপ্ত কাজ পরিপূর্ণ করতে এসে প্রাণঘাতী হামলাকেও পাশকাটিয়ে দেশোন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন অসীম সাহসিকতা আর বলিষ্ঠ ভূমিকা সমেত । স্বপ্ন দেখিয়েছেন পুরো জাতিকে,২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে গড়ে তুলবেন ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ নামক এক নতুন রুপে । জাতির নিকট প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ‘ভিশন-২০৪১’ এর মাধ্যমে। বলেছিলেন ২০৪১ সালে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে আত্মপ্রকাশ করবে উন্নত-সমৃদ্ধ বঙ্গবন্ধুর সেই স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে ।

বিশ্বসমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হওয়া জঙ্গী মোকাবিলায় শেখ হাসিনার সরকার অসাধারন দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে। আমরা গুলশান হামলায় যৌথ বাহিনীর বিস্ময়কর সাফল্য,কল্যানপুর অভিযান,নারায়ণগঞ্জ অভিযান কিংবা সদ্য আজিমপুরে পুলিশের সাহসী ও সফল অভিযানের দিকে তাকালেই তার উপর্যুক্ত প্রমান পাই । সাধারনের জান-মালের নিরাপত্তায় দেশরত্ন শেখ হাসিনার সরকার যে কোনো সন্ত্রাসী তৎপরতায় জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহন করেছে । সন্ত্রাস ও জঙ্গী সমস্যা দমনে বিশ্বের পরাশক্তিগুলোর অসহায়ত্ব যেখানে সমগ্র বিশ্বজুড়ে আতঙ্কিত আলোচনার জন্ম দিচ্ছে,সেখানে শেখ হাসিনার সরকারের ঈর্ষনীয় সাফল্য সমগ্র বিশ্বেই প্রশংসিত হচ্ছে। বিশ্বাস করি জাতির পিতা যেমন বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের জন্ম দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন,জননেত্রী শেখ হাসিনাও তেমনি বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রের মর্যাদায় আসীন করে গৌরবান্বিত ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটাতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের পথে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত ।

শুরুতেই বলেছিলাম, 'তিনি ফিনিক্স পাখির মতো'। ষড়যন্ত্রকারী কুশীলবদের সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতাকে পায়ে ঠেলে তিনি এগিয়ে যান সম্মুখে প্রত্যাশিত লক্ষ্যের পানে অদম্য গতিতে । তিনি প্রচন্ডরকভাবে দৃঢ়চিত্তের মানুষ বলে,এসকল প্রতিবন্ধকতা উনাকে মোটেও বিচলিত করে না । রাজনৈতিক পথচলার শুরু থেকেই তিনি নানান দেশীয়-আভ্যন্তরীন ও বিদেশী ষড়যন্ত্রকে মোকাবিলা করে আপামর বাংলাদেশীদের বস্তুনিষ্ঠ সব প্রয়োজনীয়তাকে পূরণ করতে আজকের দিনেও নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন তিনি উন্নত-স্বাভলম্বী-আধুনিক তথা জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মানে। সহস্র প্রতিকূলতাকে পায়ে ঠেলে এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের দীপ্ত শপথে এক অকুতোভয় ভীরের মতো লড়ে গিয়েছিলেন তিনি নৈমত্তিক ।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার দক্ষতা-বিচক্ষনতা- দৃঢ়তা কিংবা অসাধারণ সব গুণাবলি নিয়ে কথা বলবার যোগ্যতা নিশ্চিত করেই আমার মতো অতীব ক্ষুদ্র ছাত্রকর্মীর নেই…..
“তিনি একাধারে একজন মানবিক প্রধানমন্ত্রী,দক্ষ-বিচক্ষ্ণ রাষ্ট্র নায়ক, কৃষি-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষা-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী,শ্রমিক-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী,ব্যবসা-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী,শিল্প-বান্ধব প্রধানমন্ত্রী,স্বাস্থ্যসেবায় সর্বাত্মক উদার,আবার রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সর্বোচ্চ কর্মী বান্ধব উদার নেতা ।”
এত সব অসাধারণ গুণে গুণান্বিত বর্তমান বিশ্বে অন্য আরেকজন রাষ্ট্র প্রধান সম্ভবত খুঁজে পেতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে !

প্রিয় নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার জন্য কেবল প্রার্থনায় বলতে চাই –---

“বেঁচে থাকুক প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা,বেঁচে থাকুক জাতির পিতার সোনার বাংলা বিনির্মানের স্বপ্ন,অর্থবহ হয়ে উঠুক ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্তার্জিত স্বাধীনতা”
…...অন্তত যতদিন না নেত্রী দৃঢ়সংকল্পিত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলা বিনির্মান করতে না পারেন,ততদিন প্রানের নেত্রী শেখ হাসিনাকে বাচিয়ে রাখতে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে কারন ষড়যন্ত্রকারীরা বসে নেই । দেশপ্রেমিক আদর্শ নাগরিক আর সচেষ্ট রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে প্রিয় বাংলাদেশের উন্নয়ন-অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখতে আমাদের শপথ নিতে হবে, প্রয়োজনে নিজ প্রানের বিনিময়ে হলেও আমাদেরকে নেত্রীর ভ্যানগার্ডের ভূমিকা পালন করতে হবে । ‘৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে বাচাতে না পারার ফলে সমগ্র বাঙ্গালী জাতিসত্তা কিংবা প্রিয় বাংলাদেশের যে অপূরণীয় ক্ষতিসাধিত হয়েছে,স্বাধীনতার ৪৫ বছর পর এসেও তা আমরা হাড়ে হাড়ে টের পাই । ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে দীর্ঘ সময় ধরে সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পুরো বাংলাদেশকে মিথ্যা-গুজব আর অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্ত করে,সাধারণ শিক্ষার্থী আর নাগরিকদের আবেককে ভিন্ন পথে নিয়ে পুরো আন্দোলনকে সহিংস করতে রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোতে জঙ্গি কায়দায় হামলা, ভাঙ্গচুর,অগ্নি-সংযোগ করে… এমনকি পুলিশ/র‍্যাব/বিজিবি’'সহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর উপর প্রাণঘাতী হামলা চালালে, জীবন বাঁচাতে কিংবা আত্মরক্ষার্তে প্রশাসন যখন গুলি চালিয়েছে…. সেই সময়গুলোতে মারা যাওয়া শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষগুলোর সিংহভাগের ক্ষেত্রেই গুপ্ত হত্যা করে পুরো বাংলাদেশকে একটি ভয়ংকর যুদ্ধ ক্ষেত্রে পরিনত করেছিল যারা, তারা কারা ছিল বিগত এক বছর অসংখ্যজনের আন্তর্জাতিক বা দেশীয় প্লাটফর্মে তাদের নিজেদের উল্লেখ সংখ্যক বক্তব্যে উঠে আসা মেটিকুলাস ডিজাইন, কন্সপিরেসির বেশিরভাগটাই প্রকাশিত হয়ে গেছে সমগ্র দেশবাসী এমনকি বিশ্ববাসীর কাছেও….!

মূলত চূড়ান্তে তাদের মূল লক্ষ্যবস্তু ছিল জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যা করা,যেটি করতে সেদিন সকালে (৫ আগস্ট,’'২৪) সংঘবদ্ধ একটা বিরাট ষড়যন্ত্রকারী গোষ্টি উত্তেজিত মানুষ জনের সাথে মিশে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞের সূচনা করে এবং সাধারণ অনেক মানুষকে প্রভোক করে….! কিন্তু মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ কৃপায় সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা ।

এই এক বছরের মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষ দেখছে দক্ষিন এশিয়ায় নতুন অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের দ্বারপ্রান্তে থাকা বাংলাদেশকে এরা নিয়ে এসেছে সম্ভাব্য দুর্ভিক্ষের দ্বার প্রান্তে…..!!

সুতরাং -একজন সচেতন রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মী হিসেবে দেশরত্ন শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাটাই আমার কাছে মূখ্য । মহান রাব্বুল আলামিনের কাছে প্রার্থনা, আল্লাহ যেন উনাকে শত বছর বাঁচিয়ে রাখেন।

২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট কেবল মাত্র রেজিম পরিবর্তনে দেশী-বিদেশী ব্যাপক অর্থায়নে মিথ্যা-গুজব নির্ভর ন্যারেটিভ ছড়িয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে দেশজুড়ে ভয়াবহসব জঙ্গি-সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে, গুপ্ত হত্যার মতো ঘৃন্য-জঘন্য ঘটনা ঘটিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি দাবী আদায়ের আন্দোলনকে হয়েছিল সরকার পতনের আন্দোলনে পরিনত করে ‘ধারাবাহিক অগ্রযাত্রায় ঈর্ষনীয় সাফল্যের সাথে দ্রুত ধাবমান বাংলাদেশ নামম রাষ্ট্র’টিকে মূলত থামিয়ে দেয়া হয়েছিল সেদিন…! সেই কথিত ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন’-কে আমি বলব ‘জুলাই সন্ত্রাস’ যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ইতিহাসের বর্ণনায় বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অগ্রযাত্রার পথে একটি অভিশাপ হিসেবেই বর্ণিত হবে নিশ্চিতকরেই....!

যে কোন রাজনৈতিক সরকারের গৃহীত পলিসি, কাজে অনিয়ম, অন্যায্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ইত্যাদি নিয়ে প্রতিবাদ, আলোচনা-সমালোচনা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাতে অবশ্যই থাকবে। কিন্তু সেটার সাথে রাষ্ট্রের মৌলিক বিশ্বাসের স্তম্ভ সমূহের সম্পর্ক কি..? এদেশে কেবল জামাতে ইসলাম ব্যতিত অন্যান্য প্রায় সব সব দলই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। (ভেতরে ভেতরে হয়তো আরও কিছু দল বা গোষ্ঠীও জামাতের মত মতাদর্শ ধারন করতে পারে!)। কিন্তু শেখ হাসিনার সরকার (পতনের পূর্বাপর নানা দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক যোগসাজশ ইতোমধ্যেই প্রকাশ পেয়েছে, প্রমানিতও হয়েছে) বিদায় নেবার পর নোবেল পদক জয়ী ডক্টর ইউনুস সাহেবের নেতৃত্বে যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছিল , সেই সরকার কি আদৌ মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ লালন করেছিল….? এরা দায়িত্ব গ্রহনের পরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং সেই সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান সম্পর্কিত সকল ভাস্কর্য, স্মারক,স্মৃতিচিহ্ন ধারাবাহিকভাবেই ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে নিশ্চিহ্ন করতে সর্বাত্মক প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে স্বাধীনতা বিরোধী হিসেবে প্রমানিত সেই চিহ্নিত গোষ্ঠীর মতাদর্শে দীক্ষিত ছিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংশ্লিষ্ট সময়ের অনুসারীরা !

পুরো জাতির জন্যেই এটি প্রচন্ড লজ্জার !!

একটা দাবী থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনকে কিভাবে একট ধ্বংসাত্মক মুভমেন্টে নিয়ে যাওয়া হয়েছে,সেটা আগে নিরপেক্ষ ভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে। অথচ যেটা নিয়ে আন্দোলন হচ্ছিল রাষ্ট্রীয় কাঠামো গত জায়গায় তার কোন অস্তিত্বই ছিল না, মানে যে কোটা নিয়ে আন্দোলন হচ্ছিল দেশের বিধিবিধানে সেটা অন্তর্ভুক্ত ছিল না। কারন ১৮ সালের পরে কোটা সিস্টেম পুরোটাই তুলে দেয়া হয়েছিল (আমার দৃষ্টিতে সেটা আরেকটু কৌশলগত ভাবেও করা যেত,কোটার সংখ্যা হ্রাস করা যেত।)।

একটি দাবী আদায়ের জন্য (যদিও যে দাবীর জন্য তারা নেমেছিল, যদিও সেটার অস্তিত্বই ছিল না...! কোর্টের একটি রায় হলেও রাষ্ট্র সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করেছিল..) তৈরি হওয়া ছাত্র আন্দোলনকে দখল করে এবং সেটা ভুল পথে নিয়ে গিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্য-গুজব-অলীক ন্যারেটিভ ছড়িয়ে পুরো জাতির সাথে প্রতারণা করে জঙ্গী-সন্ত্রাসী কায়দায় মানুষ হত্যা করে, রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করার মাস 'চব্বিশের জুলাই' যাকে আমি বলতে চাই, “জুলাই রায়ট - ’২৪” ! খারাপ লাগে কেবল কিছু শিক্ষার্থী আর সাধারণ মানুষ যারা তাদের এই প্রতারণায় আবেগাক্রান্ত হয়ে এই রায়টে মৃত্যুবরণ করেছেন, আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন… সেই কিছু সংখ্যক মানুষের জন্য….!

“সেদিন কেবলমাত্র শেখ হাসিনার পতন হয় নি, বরং বাংলাদেশের-ই যে পতন হয়েছিল”--- সেটা আজকের বর্তমানে বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের কাছে পুরোপুরি পরিষ্কার হয়ে গেছে….!!

শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দেশজুড়ে ভয়াবহ অরাজকতা, অপ-শাসন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অবমাননা, লুটপাট, হত্যা,ধ্বংসযজ্ঞ, ব্যবসা-শিল্প প্রতিষ্ঠান-কল কারখানা বন্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ বেকার হয়ে যাওয়া, দেশজুড়ে আর্থিক অবস্থার অবনতি, দেশী-বিদেশী ইনভেস্টমেন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়া-সহ দেশের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতির ফলে কয়েক মাসের মধ্যে একেবারে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বা খেটে খাওয়া মানুষ বলতে শুরু করেছিল….”আগেই তো (শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে) ভালো ছিলাম” ।।

আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতা ছাড়ার কয়েক ঘন্টা পূর্বে আমেরিকার সাথে সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী যে গোপন চুক্তি করে গিয়েছিল কিংবা দায়িত্বপালনের ১৭ মাসে দেশের অর্থনীতিকে যে ভয়ংকর ভঙ্গুর অবস্থায় এনে উপনীত করেছে চরম দুর্নীতি আর লুটপাটের মহোৎসব করে সেটা আজকের দিনে দেশের মানুষ হাড়েহাড়ে টের পাচ্ছে….!

এদিকে একতরফাভাবে পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপির নেতৃত্বে তারেক রহমানের নতুন যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই সরকারও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বেহাল অবস্থার ফলে মানুষের হাহাকার আর আর্তনাদে হাবুডুবু খাচ্ছে….! মাত্র দুই মাসেই সরকার রাষ্ট্রের আভ্যন্তরীণ আর্থিক খাত থেকে ঋন নিয়েছে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার মতো….! জ্বালানি সংকটে সারাদেশে সাধারণ মানুষের হাহাকার আর অবর্ণনীয় দুর্দশা সরকারের অদক্ষতা আর নাজুক পরিস্থিতিতেকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে…! এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য খাতে ভয়াবহ দুর্নীতি আর অদক্ষতায় দেশে হাম মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে টীকা কার্যক্রম সঠিক সময়ে পরিচালিত না করবার কারনে….ইতোমধ্যেই ৩০০-এর অধিক শিশু প্রাণ হারিয়েছে হামে আক্রান্ত হয়ে ! ওয়ার্ল্ডব্যাংকের তথ্য মতে দেশে দারিদ্রের হার জ্যামিতিক অনুপাতে ক্রমশ বাড়ছে, ভয়াবহ খাদ্য সংকটের ঠিক আগ মূহুর্তে এখন বাংলাদেশ এবং এই বছরই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ …! মানুষের কাজ নেই, উপার্জন নেই, আইন-শৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতিও পর্যাপ্ত নয়….তাই দেশজুড়ে সাধারণ মানুষের প্রয়োজন মেটাতে হাহাকার লেগে গেছে ইতোমধ্যেই….!

বাংলাদেশের মানুষ এখন চরম নিরাপত্তাহীনতা আর অস্থিরতায় দিনাতিপাত করছে ! শেখ হাসিনাতেই দেশের সিংহভাগ মানুষের আস্থা পুনরায় স্পষ্টত দৃশ্যমান হচ্ছে দেশজুড়ে নৈমিত্তিক চাহিদা পূরণের হাহাকারে…..!

যদিও ইতোমধ্যেই প্রিয় নেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তিনি খুব দ্রুতই ফিরবেন এবং বাংলাদেশের জনগণের জন্য অতীতের ধারাবাহিকতায় পুনরায় নিজেকে নিয়োজিত করবেন । সুতরাং শেখ হাসিনার পুনর্বার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় আজকের পুরো বাংলাদেশ…. এবং ইনশাল্লাহ এই বাংলাদেশের জন্য, বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের ভোট-ভাতের অধিকার নিশ্চিত করতে, দেশের ভাগ্যোন্নয়নের সংগ্রামে খুব শীঘ্রই বঙ্গবন্ধু কন্যা সফল রাষ্ট্রনায়ক জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ঐতিহাসিক পুনঃপ্রত্যাবর্তন করবেন এবং দেশের জন্য পুনরায় কাজে যুক্ত হবেন । এটা এখন কেবল ক্ষনিকের অপেক্ষা মাত্র….! দেশের সকল মানুষ নিরাপদ থাকুক, এটাই চাওয়া ।

পুনরায় আমাদের প্রিয় নেতা,বাংলাদেশের নেতা, আপামর বাঙালির কাছে বিকল্পহীন এবং একমাত্র আশার বাতিঘর জননেত্রী শেখ হাসিনা তথা আমাদের প্রিয় হাসু আপার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি ।

জানি, আপনি ফিরবেন অবশ্যই......✊

“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু” ।
‘জয়তু দেশরত্ন শেখ হাসিনা’ ।
‘শেখ হাসিনা আসবেই, বাংলাদেশ হাসবেই’

লেখকঃ ভুঁইয়া মোঃ ফয়েজউল্লাহ মানিক; সংগঠক, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত