ভোট ডাকাতির সময় জনতার হাতে ধরা, পুলিশের পোশাক পরে পালায় বিএনপির এমপি জোহা

628

Published on মে 25, 2023
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রতিটি সংসদীয় আসনেই এলাকাভিত্তিক বিশেষ সন্ত্রাসী বাহিনী গড়ে তুলেছিল বিএনপি-জামায়াত নেতারা। এই বাহিনীর নেতৃত্বে থাকতেন স্বয়ং বিএনপি-জামায়াতের সংসদ সদস্যরা। তাদের বাহিনী এলাকার সাধারণ মানুষের ভূমি দখল, দোকানে চাঁদাবাজি, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা, সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং আওয়ামী নেতাকর্মীদের ওপর ব্যাপক দমনপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালায়।

এমনকি বিদ্যুৎ, সার, পানির সঙ্কটে যখন ত্রাহি অবস্থা শুরু হয় সবার; তখনও খালেদা জিয়ার এমপিরা সাধারণ মানুষের ওপর ক্যাডার বাহিনী লেলিয়ে দেয়। ফলে দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া সর্বস্বান্ত মানুষরা জীবন বাজি রেখে তীব্র প্রতিবাদে রুখে দাঁড়ায়।  

খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের পৃষ্ঠপোষকতায় জনগণের ওপর ত্রাস চালানো নওগাঁ-২ (পত্নীতলা ও ধামুরইরহাট) আসনের সংসদ সদস্য শামসুজ্জোহা খানের ক্যাডার বাহিনীর বিরুদ্ধে গণআন্দোলন গড়ে ওঠে। পৌর নির্বাচনে কারচুপি করার সময় ধরা খেয়ে পাঁচ বছর ধরে নির্যাতনের শিকার গ্রামীণ জনতার রুদ্ররোষে পালিয়ে যায় বিএনপির সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী। পুলিশ ডেকে জনতাকে পিটিয়ে ছত্রভঙ্গ করার নির্দেশ দেন ব্যালট লুটের নির্দেশদাতা এমপি শামসুজ্জোহা, কিন্তু উত্তেজিত হাজার হাজার জনসাধারণের ভিড় দেখে ভিড়মি খায় পুলিশ।

এরপর নিজেকে বাঁচাতে অভিনব প্রতারণায় আশ্রয় নেন বিএনপির এই এমপি। ভোটের দায়িত্বে নিয়োজিত এক পুলিশ সদস্যের পোশাক খুলে নেন এবং আদিবাসী ও নারী নেত্রীদের সামনেই সেই পোশাক পরে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এমপি জোহা। 

জনতার রোষে বিএনপির প্রভাবশালী এমপির ক্যাডার বাহিনীর পলায়ন এবং পুলিশের পোশাক পরে ছদ্মবেশে এমপির ভেগে যাওয়ার ঘটনা মুহূত্বেই সারা জেলায় ছড়িয়ে পড়ে। এই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ এই সন্ত্রাসবাদী এমপির এমন লজ্জাজনক পরিণতির খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক হাস্যরসের সৃষ্টি হয়। ২০০৬ সালের ৩ ও ৪ জুনের জনকণ্ঠ পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশ হয়।

পরবর্তীতে তথ্য-প্রমাণসহ সেই খবর দেশের গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশ হওয়ায়, সাংবাদিকদের ওপর ক্ষুব্ধ হয় বিএনপির ক্যাডারা। তারা নওগাঁয় পত্রিকা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। তবে জনগণের কারণে তাদের সব হুমকিধামকি ব্যর্থ হয়।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত