খালেদা জিয়ার শাসনামল ২০০১-২০০৬: ১০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির ফলে বছরে ৮৬০০ কোটি টাকার ক্ষতি, জিডিপি কমে ৫ শতাংশ

702

Published on মে 16, 2023
  • Details Image

৪ মার্চ ২০০৫ সালের জনকণ্ঠ পত্রিকা জানায়, বিদ্যুৎ খাতে হাওয়া ভবনের তুমুল লুটপাটের কারণে অব্যাহত বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মধ্যে লোডশেডিং আরো বৃদ্ধি পায়। সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট থাকলেও উৎপাদন ছিল মাত্র ২ হাজার ৮০০ মেগাওয়াট। ফলে লোড শেডিংয়ের মাত্রা ৬০০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১২০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। পিডিবি সূত্র জানায়, গ্যাস সঙ্কটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আবার বন্ধ হয়ে যাওয়া ১৪টি ইউনিটের একটিও চালু করা সম্ভব হয়নি সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার কারণে। ফলে সারা দেশের মানুষের ভোগান্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছে।

১২ মার্চের খবরে জানা গেছে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যর্থ হয়ে খালেদা জিয়ার সরকার নতুন গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ফলে শত শত আবাসিক ভবন এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগে গড়ে ওঠা নতুন শিল্পকারখানাগুলোর উদ্যোক্তারা বিপাকে পড়েন। ফলে ব্যাংক ঋণে বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে। বিশেষ করে চট্টগ্রামে শতাধিক আবাসন প্রকল্পের কাজ শেষ হলেও বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ায় হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ করেও তা গ্রাহকদের কাছে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হন ডেভেলপররা।

৯ এপ্রিলের সংবাদে দেখা যায়, বিদ্যুতের অভাবে কলকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হয় ঈশ্বরদীতে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পানি সরবরাহ পর্যন্ত বিপর্যন্ত হয়ে পড়ে, ফলে গণমানুষের গৃহস্থালী কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিদ্যুতের ভেলকিবাজির কারণে হাসপাতালের রোগীদের চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সঙ্কট সৃষ্টি হয়।

৮ মে তারিখের খবরে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত সরকারের অব্যবস্থাপনা ও উদাসীনতার কারণে বিদ্যুৎখাতে যে বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে, তাতে প্রতি বছর গড়ে শুধু শিল্পখাতেই ৮৬০০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এরমধ্যে বিদ্যুৎবিভ্রাটের কারণে উৎপাদন ক্ষতির পরিমাণই ৪৭০০ কোটি টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ক্ষেত্রে ক্ষতি হয় বছরে ২৪০০ কোটি টাকা। দেশব্যাপী বিদ্যুৎহীনতার কারণে জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রতিবছর প্রায় ৫ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা জানান, গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিকভাবে করা গেলে অন্তত ১ কোটি মানুষের নতুন কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। সব গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে গেলে শুধু কেরোসিন তেল আমদানি বাবদ কমপক্ষে ৭৩৬ কোটি টাকা আমদানি সম্ভব, যা আমদানি ব্যয়ের প্রায় আড়াই শতাংশ।

১৩ মে ২০০৫ তারিখের জনকণ্ঠ পত্রিকার খবরে দেখা যায়, বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে চট্টগ্রামের মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। বিদ্যুতের লো-ভোল্টেজ এবং দিনভর লোডশেডিংয়ের কারণে ওয়াসার পানি শোধনাগারগুলো পর্যন্ত অচল হয়ে পড়ে। ফলে চাহিদার এক-চতুর্থাংশ পানিও মহানগরের বাসিন্দাদের সরবরাহ করতে পারেনি চট্টগ্রাম ওয়াসা।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত