খালেদা জিয়ার শাসনামল ২০০১-২০০৬: বিদ্যুৎহীনতার কারণে ধানের উৎপাদন হ্রাস, নিঃস্ব হয় ক্ষুদ্র খামারি ও শিল্প উদ্যোক্তারা

676

Published on মে 16, 2023
  • Details Image

২৩ মার্চ ২০০৪ সালের পত্রিকা থেকে জানা যায়, যশোরে প্রতিদিন ১৪ থেকে ১৬ ঘণ্টা করে লোডশেডিংয়ের কারণে বোরো চাষ হুমকির মুখে পড়ে। এছাড়াও ক্ষুদ্র মারাত্মভাবে ব্যাহত হয় ক্ষুদ্র শিল্প উৎপাদন। জেলায় প্রত্যহ ৯৮ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও মাত্র ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পেরেছে খালেদা জিয়ার সরকার। ফলে প্রতিদিন বিকাল ৫টার আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ আসে সকালে। ফলে পোল্ট্রি খামারে গরমে মারা গেছে অজস্র মুরগির বাচ্চা। পাউরুটি বানানোর কাচামাল পর্যন্ত নষ্ট হয়ে গেছে বিদ্যুতের অভাবে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায়।

৩১ মার্চের জনকণ্ঠ থেকে জানা গেছে, বিদ্যুত সঙ্কট সমাধানের কোনো চেষ্টা না করে গ্রামীণ কৃষকদের ওপর খড়গহস্ত হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। রাত ১২টার পর জমিতে সেচের জন্য পাম্প চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে অধিকাংশ সময়ই দেখা যায়, রাত থেকে ভোর পর্যন্ত বিদ্যুৎই থাকে না। ফলে বিপদে পড়েন কৃষকরা। মারাত্মক লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারণে রাজশাহী-চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ বরেন্দ্র অঞ্চলের প্রায় সাড়ে ছয় হাজার সেচপাম্প নষ্ট হয়ে যায়। পরে কৃষকদের তীব্র আন্দোলনের মুখে মাত্র ছয় ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘোষণা দেয় সরকার।

২৪ এপ্রিলের খবর জানায়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও লোডশেডিংয়ের কারণে সুনামগঞ্জের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এমনকি ১৫ এপ্রিল শহরে আঘাত হানা টর্নেডোতে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুতের লাইন ২৩ তারিখেও ঠিক না করে জনগণের সঙ্গে তামাশা করে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। এছাড়াও পুরো জেলাজুড়ে অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকা এবং ঘন ঘন লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সর্বোস্তরের মানুষ।

৮ মে ২০০৪ সালের জনকণ্ঠ পত্রিকার খবরে দেখা যায়, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও তীব্র লোডশেডিংয়ের কারণে রাঙামাটির জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। সন্ধ্যার পর থেকে সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় জেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থিত পোল্ট্রি ফার্ম এবং সেচ কাজ বিঘ্নিত হয়। বিদ্যুৎহীনতার কারণে শহরের উপজাতীয় বস্ত্রশিল্ড পল্লীর উৎপাদনও হ্রাস পায় উল্লেখযোগ্যভাবে। এমনকি রাঙামাটি টেক্সটাইল মিলের কার্যক্রমও থমকে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় বিকাশমান পর্যটন।

২০০৪ সালের ৪ জুনের সংবাদে জানা যায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে আশুগঞ্জ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৭ ইউনিট বন্ধ হওয়ায় ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, জামালপুর, টাঙ্গাইল, শেরপুর, বি-বাড়িয়া জেলা অন্ধকারে ডুবে যায়। বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ৭ জেলাকে বিদ্যুৎহীন হয়ে যেতে হয়।

২০০৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারির জনকণ্ঠ জানায়, অব্যাহত লোডশেডিং এবং লো-ভোল্টেজের কারণে উত্তরবঙ্গে শত শত গভীর নলকূপ পুড়ে গেছে। ফলে পানির অভাবে বোরো চাষের জমি ফেটে চৌচির হয়ে যায়। এছাড়াও মানুষের বাসার টিভি-ফ্রিজের মতো মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রীও বিদ্যুতৎ-বিভ্রাটের কারণে নষ্ট হয়ে গেছে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত