খালেদা জিয়ার শাসনামল ২০০১-২০০৬: হাওয়া ভবনের লুটপাট ও অর্থপাচারের কারণে ভয়বহ বিদ্যুৎ সঙ্কট, প্রাত্যহিক ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে দুর্বিষহ হয় জনজীবন

250

Published on মে 16, 2023
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও তার দুর্নীতিবাজ পুত্র বিএনপি নেতা তারেক রহমান গংদের কারণে বিদ্যুৎখাতে চরম বিপর্যয় নামে। দেশে বিদ্যুতায়নের নামে কমপক্ষে ২০ হাজার কোটি টাকা লুট করে বিদেশে পাচার করে হাওয়া-ভবন চক্র। ফলে কৃষি-শিল্প-শিক্ষা সর্বক্ষেত্রেই ভয়াবহ বিপর্যয় হয়। ফলন কমে যাওয়ায় তীব্রহয় মঙ্গা, দুর্ভিক্ষে মারা যায় মানুষ। পথে বসে যান অনেক শিল্প-উদ্যোক্তা। কিন্তু মানুষের লাশ ও চোখের পানির ওপর দিয়ে নির্মমভাবে লুটপাট অব্যাহত রাখে খালেদা জিয়ার সরকার।

২০০৬ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারির সচিত্র প্রতিবেদনে গণমাধ্যমগুলো জানায়, টানা কয়েক বছর ধরে বিদ্যুৎহীনতার কষ্ট সইতে না পেরে অবশেষে রাজপথে নেমে পড়েন সাধারণ জনতা। বিদ্যুৎ-গ্যাস ও পানির দাবিতে রাজধানীতে হারিকেন হাতে বিক্ষোভ করেন ঢাকাবাসী। তারা জানান, রাতে তো বিদ্যুৎ থাকেই না, এমনকি দিনের বেলাতেও বিদ্যুতের অভাবে পানির সরবাহ পর্যন্ত বন্ধ থাকে, ফলে পানি-গ্যাস-বিদ্যুতের অভাবে বাসার রান্না ও গোসল পর্যন্ত করতে পারেন না শহরবাসী। জীবন যেন নরকে পরিণত হয়েছে।

২৭ জানুয়ারির পত্রিকার ছবিতে দেখা যায়, বিদ্যুতের অভাবে দিনের বেলায় ব্যাংকে মোমবাতি জ্বালিয়ে কাজ করছেন কর্মকর্তারা। এমনকি স্বল্প সময়ের জন্য কখন বিদ্যুৎ আসবে সেই আশায় পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন দিয়ে অপেক্ষা করছে অনেক যানবাহন। বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা যায়, দেশে ৪০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও তখন বিদ্যুৎ ঘাটতি ছিল ২৩০০ মেগাওয়াট। ফলে রাজধানীসহ দেশের প্রতিটি গ্রাম পর্যন্ত অন্ধকারে ডুবে যায়। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিল্ডখাতে ভয়াবহ বিপর্যয়ের পাশাপাশি অব্যাহতভাবে উত্তরাঞ্চলের জমির ফলন কমতে কমতে ক্ষুদ্র কৃষকরা চাষাবাদ বাদ দিয়ে কর্মের খোঁজে শহরে ভিড় জমায়।

৩১ জানুয়ারির সংবাদে জানা যায়, বিএনপি-জামায়াত সরকারের অপশাসনের সোয়া চার বছরে টানা বিদ্যুৎহীনতায় সাড়ে চার হাজার কলকারখানা ও উদ্যোগ বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পক্ষেত্রেই শুধু কর্মহীন হয়েছে পাঁচ লক্ষাধিক শ্রমিক। কৃষি ও শিল্পখাত একসঙ্গে স্থবির হয়ে থাকায় বেকারের সংখ্যা পাঁচ কোটিতে উত্তীর্ণ হয়।

এভাবেই ২০০৪ ও ২০০৫ সালের গণমাধ্যমের প্রতিবেদনেও বিদ্যুৎ সঙ্কট চরম থেকে চরমে ওঠার দৃশ্য দেখা গেছে। এমনকি বিদ্যুতের অভাবে পানির সরবরাহ পর্যন্ত বন্ধ হয়ে ছিল মহানগরগুলোতে। সুপেয় পানি তো দূরের কথা, গোসল করা ও রান্না করার পানিও দুষ্প্রাপ্য হয়ে উঠেছিল ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, সিলেট, রাজশাহীর শহরাঞ্চলে। এমনকি প্রচণ্ড গরম ও প্রাত্যহিত ১৮ ঘণ্টার লোডশেডিংয়ে অফিস-আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, জনজীবন সবকিছুতেই স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত