বিএনপি-জামায়াতের প্রাক-নির্বাচনি বর্বরতা: প্রকাশ্যে বোমা মেরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা, নৌকায় ভোট দিলে জনগণকে খুনের হুমকি

857

Published on ফেব্রুয়ারি 8, 2023
  • Details Image

নির্বাচনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের টার্গেট করে বোমা হামলা শুরু করে বিএনপি-জামায়াত জোট। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের সরাসরি তত্ত্বাবধানে তালেবান, আল কায়দার মতো জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর সন্ত্রাসীদের ভাড়া করে নির্বাচনি সহিংসতা চালানো হয়। এমনকি মুফতি আমিনী ও মুফতি শহিদুলের মতো  নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গিবাদী সংগঠনের নেতাদেরও মনোনয়ন দেন খালেদা জিয়া। এর ফলে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে জোট বেঁধে সিনিয়র আওয়ামী লীগ নেতাদের হত্যার মিশনে নামে এই মৌলবাদীরা।

২৪ সেপ্টেম্বরের জনকণ্ঠ পত্রিকা থেকে জানা যায়, বাগেরহাট-১ আসনের নির্বাচনি প্রচারণা চালানোর সময় আওয়ামী লীগ নেতা এবং বঙ্গবন্ধুর প্রয়াত ছোট ভাইয়ের ছেলে শেখ হেলালের জনাকীর্ন জনসভায় ভয়াবহ বোমা হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। মঞ্চে ওঠার সময় বোমা বিস্ফোরণ হলে শেখ হেলালকে তৎক্ষণাত ধাক্কা দিয়ে পাশে ফেলে প্রাণ রক্ষা করেন পুলিশ সদস্যরা। এসময় হাত ভেঙে আহত হন তিনি। কিন্তু ঘটনাস্থলে বোমার আঘাতে মারা যান আট জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী। গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করেন শতাধিক ব্যক্তি।

নির্বাচনের আগের একমাসে ভোলায় বিএনপি-জামায়াতের হামলায় আহত হন শতাধিক ও নিহত হন ৬ জন। এর মধ্যে ২৩ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়িবহরকে তিনদিক থেকে ঘিরে ধরে বোমা হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীরা। এসময় তোফায়েল আহমেদকে প্রাণে বাঁচাতে সন্ত্রাসীদের সঙ্গে মুখোমুখি বন্দুকযুদ্ধ হয় পুলিশের। বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাসীদের গুলিতে প্রাণ হারান এক আওয়ামী লীগ কর্মী। এরপর দুর্বত্তরা আওয়ামী লীগের আটটি নির্বাচনি অফিস ভেঙে আগুন ধরিয়ে দেয়।

ভোলা ও ফেনীতে সংখ্যালঘুদের ওপর বিএনপি-জামায়াতের বর্বর হামলায় গৃহহীন হয়ে পড়ে হাজার হাজার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ। ভোলার দৌলতখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষদের বিএনপি-জামায়াতের হামরা থেকে প্রাণে বাঁচতে সহযোগিতা করায়, বশির নামের এক যুবককে জবাই করে হত্যা করে খালেদা জিয়ার নরপিশাচরা।

এদিকে, ২০০১ সালের ১ অক্টোবর নির্বাচনের পর ২ অক্টোবর থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস দখলের হুমকি দেয় শিবির। এর আগে ক্যাম্পাসে মৌলবাদবিরোধী কার্টুন প্রদর্শনীতে হামলা চালিয়ে জাতীয় পতাকা পুড়িয়ে দেয় ছাত্রদল। এরপরেই স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে শিবির ক্যাডারা দাঁড়িয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দখলের ঘোষণা দেয়। খালেদা জিয়ার নির্দেশে ঢাকার কিছু আসনের নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সরাসরি শিবিরের হাতে তুলে দেয় বিএনপির হাইকমান্ড। এরপর থেকে নাশকতা শুরু করে এই দুর্বৃত্তরা। তারা প্রকাশ্যে বলে যে, কাটাবনমসজিদকে কেন্দ্র করে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে। পুলিশ-প্রশাসনেও তাদের লোক আছে, সবাই একত্রে নির্বাচনের পর কাজ করলে কয়েকদিনের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। প্রয়োজনে শিক্ষক ও প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মীদের যুদ্ধ করে হত্যা করার ঘোষণাও দেয় তারা।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত