খালেদা জিয়ার দুঃশাসন: ৫০০ টাকায় ১০০ একর সরকারি জমি নিয়েছিল অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের ছেলে কায়সার!

602

Published on নভেম্বর 30, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ক্ষমতায় থাকাকালে মৌলভীবাজার ও সিলেটজুড়ে নিজস্ব সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করেছিল বিএনপি নেতা সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমান। রিমান্ডের নামে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালাতো তার ক্যাডার বাহিনী। নাসেরের রিমান্ডের কথা মনে করলে বিরোধী দল তো বটেই, তার নিজ দলের অনেক মানুষও শিউরে ওঠেন এখনো। অন্যদিকে তারেক রহমানের সরাসরি আশীর্বাদে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমানের অন্য দুই পুত্র কায়সার রহমান এবং শফিউর রহমানও সরকারি ভূমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমেছিল। তাদের দখল ও দুর্নীতির কারণে হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে ক্ষতির শিকার হয়েছে তখন।

 তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষশতায় আসার পর ২০০৭ সালের ১৯ জুলাই প্রথম আলো সাইফুর রহমানের দুই পুত্রের ২০০ একর সরকারি জমি এবং বনাঞ্চল দখলের বিষয়ে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। জানা যায়, হাওয়া ভবন সিন্ডিকেটের আরেক বিএনপি নেতা এবং তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ ভূমি উপমন্ত্রী রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুর সহায়তায় কয়েকশ শত কোটি টাকা মূল্যের ভূমি ও বনাঞ্চল কৌশলে দখল করেছিল শফিউর রহমান ও কায়সার রহমান। বিএনপি-জামায়াতের শাসনামলে এই রুহুল কুদ্দুস তালূকদার দুলুর তত্ত্বাবধানেই উত্তরাঞ্চলে চাঁদাবাজি ও খুনখারাপি শুরু করেছিল বাংলাভাই সহ উগ্রবাদী জঙ্গিরা।

ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, সরকারি বনাঞ্চলের কোনো জমি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে বরাদ্দ দেওয়া নিষিদ্ধ। সেখানে বনাঞ্চলের ১০০ বিঘা জমি মাত্র ৫০০ টাকায় বরাদ্দ নেন কায়সার রহমান। কিন্তু ভূমি উপমন্ত্রী দুলুর কারণে সরকারি কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো কথা বলার সাহস পাননি। এছাড়াও শফিউর রহমানও আরো ১০০ বিঘা জমি বরাদ্দ নেয়।

জানা যায়, ২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পরপরই ২০০২ সালের ৯ মার্চ ৫৭৪ এর জায়গা বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করেন সাইফুর রহমানের দুই পুত্র শফিউর ও কায়সার। এর প্রেক্ষিতেই ২০০২ সালের ডিসেম্বরে শফিউর রহমানকে ১০০ একর এবং ২০০৩ সালের এপ্রিলে কায়সার রহমানকে আরো ১০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। ১০০ একর জমির দান নির্ধারণ করা হয় ৫০০ টাকা। মাইজদিহিটি ও নারায়ণছড়া মৌজার এসব সরকারি বনাঞ্চলের ভূমির একটা ছোট্ট অংশে ৫০ বছর ধরে কিছু পরিবার বাস করছিল। জমি দখল নেওয়ার জন্য পুলিশ দিয়ে তাদের উচ্ছেদ করার চেষ্টা করেন কায়সার। কিন্তু স্থানীয় নারী-পুরুষদের ঝাড়ু-দা-বটি প্রতিরোধে ব্যর্থ হন তিনি।

বরাদ্দ নেওয়া এসব জমিতে কয়েকটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, তিনটি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান, ১০টির অধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এসব জায়গায় সহস্রাধিক মানুষের বসতবাড়ি, এতোগুলো প্রতিষ্ঠান এবং বনাঞ্চল থাকার পরেও কীভাবে তা একজন মানুষকে বরাদ্দ দেওয়া হরো- তা বোধগম্য নয়। তবে সরকারি কর্মকর্তারা জানান, আবেদনপত্রে এসব তথ্য গোপন রেখে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন সাইফুর রহমানের দুই পুত্র। এমনকি ভূমি উপমন্ত্রী দুলুর কারণে তা যাচাই করার সাহস হয়নি কারো। তারেক রহমানের সাথে সাইফুর রহমানের আরেক পুত্র নাসের রহমানের কমিশন বাণিজ্য পার্টনারশিপ এবং অতি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায়, তাদের বিষয়ে কথা বলার মতো সাহস তখন কারোরই ছিল না।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত