খালেদা জিয়ার নির্দেশে আওয়ামী লীগের ওপর দেশজুড়ে বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায় ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির শীর্ষ নেতারা

532

Published on নভেম্বর 28, 2022
  • Details Image

২০০৬ সালে জনরোষের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর দেশজুড়ে আওয়ামী নেতাকর্মীদের ওপর নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞ চালাতে শুরু বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। এমনকি দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া পুলিশ সদস্যদের দিয়ে গণহারে মামলা দিয়ে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয় তৃণমূল পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতাদের। এমনকি ছাত্রলীগের মিছিল সমাবেশে বিএনপির সাবেক এমপি-মন্ত্রীরা নিজে উপস্থিত থেকে হামলা করেন। তাদের নির্মম হামলায় পঙ্গু হয়ে যায় শতাধিক আওয়ামী লীগ সমর্থক ও নেতাকর্মী, নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারায় অনেকে। আসন্ন নির্বাচনে মাঠ ফাকা করে ব্যালট লুট করার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশজুড়ে এসব নাশকতা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট।

২০০৭ সালের ৯ জানুয়ারি সমকালের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। ৪ জানুয়ারি চাঁদপুর পৌর আওয়ামী লীগ এবং ছাত্রলীগ নেতাদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে বিএনপির ক্যাডার সেলিম, জিকু ও কামরুলের বাহিনী। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত নেতাদের দেখতে যায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। তখন হাসপাতাল প্রঙ্গণ ঘিরে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর আবারো হামলা চালায় বিএনপি-জামায়াত জোট। এসময় বিএনপির সাবেক প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের নেতৃত্বে গুলি চালানো হয়। পায়ে গুলিবিদ্ধ হয় কচুয়া ছাত্রলীগের সভাপতি কামাল হোসেন টিটু।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও রাজাকার সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর ক্যাডারদের হামলায় আওয়ামী লীগ ও মহাঐক্যজোটের কমপক্ষে ২৩ জন নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে প্রাণ বাঁচানো হয়। এমনকি বাশঁখালীতে বিএনপি নেতাদের নির্মম প্রহারে ছাত্রলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন মারা যায়।

বরিশারের বানারীপাড়ার বাংলাবাজার এলাকায় একা পেয়ে পাঁচ জন আওয়ামী লীগ কর্মীকে মারধর করে বিএনপির ক্যাডাররা। সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে আওয়ামী লীগের দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের ওপর এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। এমনকি বরিশালের বাকেরগঞ্জে নিজ বাড়ির সামনে ছাত্রলীগ নেতার হাত কেটে নেয়। বিএনপি কর্মী মাসুমের নেতৃত্বে ফরিদপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি মামুনের হাত চায়নিজ কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে কেটে নেয় এবং নির্মম প্রহার করে ৮-১০ জন সন্ত্রাসী।

এদিকে শুধু দলীয় ক্যাডারদের দিয়ে হত্যা ও নির্যাতন করেই থেমে ছিল না বিএনপি-জামায়াত জোট। তারা তাদের নিয়োগ করা দলীয় পুলিশদের দিয়ে খুলনার শতাধিক আওয়ামী নেতাকর্মীর নামে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করে। রাতেই ছয়জনকে গ্রেফতার করে তাদের ওপর নির্যাতন চালায়। রাজনৈতিক কর্মসূচি থেকে দূরে রাখার জন্য আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর এভাবেই হামলা এবং মামলা চলতে থাকে বিএনপি-জামায়াতের পরিকল্পনায়।

সাতক্ষীরায় কেন্দ্রীয় যুবদল নেতা এবং ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মোদাচ্ছেরুল হক হুদার নেতৃত্বে একজন আওয়ামী লীগ কর্মীকে বর্বরভাবে হত্যা এবং তিনজনকে গুরুতর আহত করা হয়। নিহত আজিবরের স্ত্রী জানান, ইউপি নির্বাচনে হুদার পক্ষে কাজ না করায় ও আওয়ামী লীগের সমাবেশে নিয়মিত যাওয়ার কারণে তারা এই হামলা করে এবং চারজনকে নির্মমভাবে মারার পর ডাকাত অভিযোগ দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। থানার ওসি জানান, তারা কেউ ডাকাত নয়। চারজনই স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মী।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত