২০০১ থেকে ২০০৬: নাসের রহমানের কুখ্যাত বাহিনীর ভয়ে ঘরছাড়া হয় মৌলভীবাজারের সহস্রাধিক পরিবার

633

Published on নভেম্বর 28, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত সরকারের সময় সিলেট ও মৌলভীবাজারে সন্ত্রাস ছড়ায় বর্ষীয়ান বিএনপি নেতা সাইফুর রহমানের পুত্র নাসের রহমান। ছাত্রদলের বিশাল ক্যাডার বাহিনী দিয়ে পুরো এলাকার গড ফাদার হয়ে ওঠে নাসের। বিরেধী দল তো বটেই, নিজ দলের সিনিয়র নেতারাও ভয় পেতো নাসেরের বাহিনীকে। এ ব্যাপারে নাসের রহমান নিজেই বলেন, এলাকার লোকজন তাকে যুবরাজ বা সাদ্দাম হোসেন বলে ডাকে। মৌলভীবাজার বিএনপির সাবেক সভাপতি এবাদুর রহমান চৌধুরী আফসোস করে বলেন, হঠাৎ একদিন শুনি আমি আর সভাপতি নেই, নাসের সভাপতির পদে বসে গেছে। হাইকমান্ডে যোগাযোগ করলাম, তারাও এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারলো না।

মূলত, তারেক রহমান এবং হাওয়া ভবনের প্রভাবে দলীয় কাউন্সিল ছাড়াই দলের জেলা সভাপতির পদ দখল করে নাসের। তারেক রহমানের সাথে বনভূমি দখল এবং কোকোর সাথে কমিশন বাণিজ্যের কারণে হাওয়া ভবনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে উঠেছিল নাসের রহমান। এই প্রভাব ব্যবহার করে ছাত্রদলের ক্যাডারদের দিয়ে এলাকায় বিশেষ বাহিনী গঠন করে টর্চার চালাতো সে। সংখ্যালঘু থেকে শুরু করে বিরোধীদল, এমনকি নিজ দলের অন্য গ্রুপের লোকদেরও রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন করতো নাসেরের বাহিনী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ২৫ ও ২৬ জানুয়ারি সমকালের প্রতিবেদন আরো জানায়, মৌলভীবাজার-৩ (সদর ও রাজনগর) আসনে নাসের রহমানকে কমিশন না দিয়ে কোনো উন্নয়ন কাজই হতো না। সাইফুর রহমানের ছেড়ে দেওয়া আসনে উপনির্বাচন জয়ী হয়ে শুরুতেই সরকারি দফতরগুলোকে কৌশলে লুটপাট শুরু করে নাসের। সব প্রতিষ্ঠান থেকে টেন্ডারের আগেই কমিশন চলে যেতো নাসেরের কাছে। এমনকি নাসেরের অত্যাচারে হাজারের বেশি আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী নিজ এলাকায় থাকতে পারেনি বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়।

সাংবাদিক, ঠিকাদার, ব্যবসায়ী কেউই রেহাই পায়নি নাসের রহমানের নির্যাতনের হাত থেকে। ছিনতাইয়ের মামলায় পুলিশ দিয়ে সাংবাদিকদের গ্রেফতার করায়। নির্বাচনে রাজনগর উপজেলায় কম ভোট পেয়েছিল নাসের। একারণে এমপি হওয়ার পর রাজনগরের সংখ্যালঘুদের ওপর নির্মম নিপীড়ন শুরু করে নাসের বাহিনী। ৩০ টি মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে জেলে ঢোকায় এবং সহস্রাধিক সংখ্যালঘু ব্যক্তিকে ঘরছাড়া করে নাসের গং।

২০০৩ সালে ইউপি নির্বাচনে মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চাচা রফিকুল ইসলাম মানি মিয়াকে ভোট কারচুপি করে জেতানোর চেষ্টা করে নাসের। এর প্রতিবাদে নাসেরের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল হয় এলাকায়। প্রতিহিংসা করে নাসের বিজয়ী চেয়ারম্যা শাহেদসহ ৮০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করায়। প্রাণ বাঁচাতে শাহেদ লণ্ডনে চলে যায়। এভাবেই পুলিশকে ব্যবহার করে পুরো এলাকাকে জিম্মি করে রেখেছিল নাসের। এমনকি ভূমি দখল থেকে শুরু করে টেন্ডারবাজি, ঠিকাদারি, বনাঞ্চল দখল করে শিল্প কারখানা গড়ে তুলে অবৈধভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হওয়া, বিদেশি কোম্পানিকে কাজ পেতে সহযোগিতা করে কমিশন খাওয়া-এমন কোনো অপকর্শ নেই যা খালেদা জিয়ার এই এমপি ও তারেক রহমানের ঘনিষ্ট বিএনপি নেতা নাসের রহমান করেনি।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত