খালেদা জিয়ার শাসনামল: এমপি শহীদুলের সীমাহীন লুটপাট, হত্যাযজ্ঞ ও সন্ত্রাসে ঘরবন্দি হয়ে পড়ে কুষ্টিয়ার মানুষ

504

Published on নভেম্বর 28, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া-২ আসনের (ভেড়ামারা-মিরপুর) বিএনপি-জামায়াতের এমপি ছিল শহীদুল ইসলাম। খালেদা জিয়ার শাসনামলজুড়ে কুষ্টিয়ার ত্রাস হয়ে ওঠে সে। ঠিকাদারি ও টেন্ডারবাজিতে একচ্ছত্র আধিপাত্য কায়েম করতে তার ক্যাডার বাহিনীর হাতে অন্তত ২০ জন ঠিকাদারকে প্রাণ হারাতে হয়। এমনকি বালুমহাল দখল, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজে থেকে কয়েকশ' কোটি টাকা লুটপাট,  বাঁধ এবং পৌরসভার নির্মাণ কাজ, সড়ক উন্নয়ন ও প্রাথমিক স্কুল নির্মাণের বরাদ্দ লুট করেও শত কোটির অধিক টাকা লুটপাট করে শহীদুলের পরিবার। এমনকি তার বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জন্য দেশের প্রথম শ্রেণির গণমাধ্যমের সাংবাদিকদেরও মারধর ও মামলা দিয়ে এলাকা ছাড়া করেন এই বিএনপি নেতা।   

২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার কয়েকদিন পর, আওয়ামী লীগের সমাবেশে গুলি চালিয়ে কৃষকলীগ নেতা বশিরকে হত্যা করে শহীদুলের বাহিনী। এরপর আত্মগোপনে চলে যায় সে। ২০০৭ সালের ৩০ জুন দৈনিক সমকালের সংবাদে এসব তথ্য উঠে আসে।

জানা যায়, ১৯৯৬ সালে চরমপন্থী নেতা কসাই সিরাজের সাহায্যে মিরপুর উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্র দখল করে এবং ২০০১ সালে আরেক চরমপন্থী দল জনযুদ্ধের নেতা আবির হাসানের সাহায্যে ৯টি মিরপুর ও ভেড়ামারার ইউনিয়নের কেন্দ্র দখল নেয় বিএনপি নেতা শহীদুল। চরমপন্থীদের মাঠে নামিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোটদান থেকে বিরত রাখে তারা। এরপর ব্যালটবাক্স দখল করে এমপি হয় শহীদুল ইসলাম। দশ বছরে কমপক্ষে ২০ জন ঠিকাদারকে হত্যা করে এলাকার বালুমহাল, স্থাপনা-সড়ক সংস্কার ও নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণ প্রভৃতির সব টেন্ডার একাই দখল করে শহীদুল ও তার পরিবার। টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ করে উন্নয়ন কাজের ৮শ থেকে ৯শ কোটি টাকার বরাদ্দ পকেটে ভরায় তারা।

লালন সেতুর নির্মাণ কাজ চরাকালে সেখান থেকেও চাঁদা চায় খালেদা জিয়ার এই এমপি। কিন্তু চায়নিজ প্রকৌশলী এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানায়। এরপর বিএনপির উচ্চ পর্যায়ের হস্তক্ষেপে থেমে যায় শহীদুল। তবে তার ঘনিষ্ঠ লোক রব্বানী রেলের স্লিপার চুরির ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে রব্বানীর পুকুর থেকে বিপুল পরিমাণ স্লিপার উদ্ধার করা হয়।

এছাড়াও বড়বিলা সেঁচ প্রকল্পের বাঁধ থেকে ৮৫ কোটির অর্ধেক এবং মিরপুর পৌরসভার ৯৬ কোটির কাজ মেয়ের প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে অর্ধেক টাকা আত্মসাৎ করে শহীদুল এমপি। তার মেয়ে, স্ত্রী ও ভাইয়ের নামসহ ৮টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার টেন্ডারবাজির একক নিয়ন্ত্রণ করতো সে। সড়ক নির্মাণের নামে ১৯ কোটি ও স্কুল নির্মাণের নামে ২০ কোটি টাকা লুটপাট করে শহীদুলের পরিবার। পাঁচটি বালুমহালের দখল নিয়ে প্রতিটি থেকে প্রত্যেকদিন ২৫০ ট্রাক করে বালু তোলা শুরু করে তার লোকজন। ট্রাকপ্রতি পাঁচশ টাকা করে নজরানা পৌঁছে যেতো শহীদুরের কাছে।

এছাড়াও এমপি হওয়ার পর এমপি শহীদুল ইসলাম ভেড়ামারার পৌর চেয়ারম্যান বানায় তার ভাই আলম মালিথাকে। দুই ভাই মিলে এলাকায় সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। তারা এতোটাই বোপরোয়া হয়ে উঠেছিল যে, বিএনপির প্রভাবশালী মন্ত্রী তরিকুল ইসলামের সামনেই কুষ্টিয়ায় মানবজমিন ও আরটিভির সাংবাদিক জাহিদ হাসানকে নির্মমভাবে পেটায় শহীদুল গং। এরপর থানায় অভিযোগ দিলেও শহীদুলের ভয়ে মামলা নেয়নি ওসি। এই ঘটনার বিচার চাওয়ার দায়ে চ্যানেল আই, এটিএন বাংলা, চ্যানেল ওয়ান, ইত্তেফাকসহ দেশের শীর্ষ গণমাধ্যমের ছয় সাংবাদিককে হত্যার ঘোষণা দেয় শহীদুল বাহিনী। ফলে প্রাণ বাঁচাতে এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয় সাংবাদিকরা।

২০০৬ সালের ২৯ মে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গহেলে ঢাকার সিনিয়র সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহানসহ ২৫ জন সাংবাদিককে পেটায় শহীদুলের ক্যাডার বাহিনী। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মধ্যস্থতায় কোনো বিচার ছাড়াই শুধু প্রাণে বাঁচার শর্তে সাংবাদিকরা মীমাংসা করতে বাধ্য হয় শহীদুরের সঙ্গে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত