খালেদা জিয়ার দুঃশাসন: অবৈধভাবে শত শত জামায়াত নিয়োগ এবং বিকৃত ইতিহাসের চর্চার কেন্দ্রে পরিণত হয় উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়

595

Published on নভেম্বর 28, 2022
  • Details Image

উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যপুস্তকে মুক্তি সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ইতিহাস বিকৃত করে খালেদা জিয়ার সরকারকে খুশি করেছিল উপাচার্য এরশাদুল বারী। এরপর বিএনপি-জামায়াত সরকারের পুরো শাসনামলজুড়ে নিয়োগবাণিজ্য করে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা আয় করেন। এমনকি দক্ষ শিক্ষক-প্রশাসক এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কারণে-অকারণে বরখাস্ত করে দমিয়ে রাখতেন তিনি। নিয়মবহির্ভূতভাবে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্য থেকে পাঁচ শতাধিক নিয়োগ দিয়ে জামায়াত নেতাদেরও খুশি করে দেন তিনি। সেই সুবাদে নিজের স্বজনদেরও ঢালাওভাবে নিয়োগ দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে পঙ্গু করে দেন এই ভিসি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ১৯ জানুয়ারি দৈনিক সমকাল পত্রিকার সংবাদ থেকে জানা যায়, ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় যাওয়ার পর ভিসি হওয়ার পর থেকে ৭ শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং ৫০ হাজারের বেশি টিউটর নিয়োগ দেন তিনি। তার নিয়োগের অধিকাংশই জামায়াত নেতাদের আত্মীয়-স্বজন এবং শিবিরের নেতাকর্মী। তাদের আগে অ্যাডহকে নিয়োগ দেওয়া হতো, এরপর পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে শথ শত প্রার্থীর ভাইভা নিলেও নিয়োগ পেতো তালিকাভুক্ত দলীয় ব্যক্তিরাই।

সেই সুযোগে নিজের স্বজনদেরও চাকরিতে ঢুকিয়ে দিতেন এই ভিসি। এসব নিয়োগ দুর্নীতির এক পর্যায়ে বাউবির শিক্ষকরা ভিসির ২৩ স্বজনের নাম-পরিচয় এবং ভিসির সাথে সম্পর্ক কী, সেটার বিস্তারিত তথ্যসহ রাষ্ট্রপতি বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছিল। তবে কোনো লাভ হয়নি।

এদিকে ভিসির অন্যায় আবদার না রাখার কারণে শতাধিক শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীকে হয়রানিমূলকভাবে বরখাস্ত ও বদলি করা হতো। এমনকি এরশাদুল বারীর অত্যাচারে চাকরি পর্যন্ত ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন অনেকে। 

এদিকে এতো কিছু করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্তা না নেওয়ার অন্য আরো একটি কারণ হলো খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের সঙ্গে একটি লিঁয়াজো রাখা। খুবই ঘৃণ্য এক কাজের মাধ্যমে সরকারের এতা পছন্দের ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন তিনি। সেই কাজটি হলো- পাঠ্যপুস্তকে ইতিহাস বিকৃতি। মূলত পাঠ্যপুস্তকে প্রকাশিত স্বনামধন্য লেখকদের লেখা বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত করেছিলেন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এরশাদুল বারী। ভিসি হয়েই ২০০২ সালে পাঠ্যপুস্তকের তথ্য বিকৃতি করেন তিনি।  তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের পর সেই সংস্করণের বই বাতিল করা হয় এবং পরবর্তীতে ইতিহাস বিকৃতির দায়ে আদালতে তলব করা হয় এরশাদুল বারীকে।

এই দুর্নীতিবাজ এবং জামায়াতপন্থী শিক্ষক দেশের নতুন প্রজন্মকে ভুল ইতিহাস শেখানোর মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং দুই লাখ নারীর ত্যাগের ইতিহাসকে হেয়প্রতিপন্ন করেছেন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের পৌরনীতি বইয়ের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক অধ্যায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামের আগ থেকে ‘জাতির জনক’ শব্দটি উঠিয়ে দেন তিনি। এরপর স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে বঙ্গবন্ধু নাম বদলে দিয়ে জিয়াউর রহমানের নাম সংযুক্ত করেন। এছাড়া অসহযোগ আন্দোলন, মুজিব নগর সরকার এবং ৭ মার্চের ভাষণকেও  বিকৃতভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কাছ থেকে লাগামহীন দুর্নীতি করার লাইসেন্স পান তিনি।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত