খালেদা জিয়ার দুর্নীতিবাজ সরকার: ভূমি দস্যুতা ও চাঁদাবাজি করে শুন্য থেকে শত কোটির মালিক আমানউল্লাহ আমান

1401

Published on নভেম্বর 19, 2022
  • Details Image

বিএনপি-জামায়াত শাসনামলের হাওয়া ভবন চক্র এবং খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমানের অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি আমানউল্লাহ আমান। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত খালেদা জিয়ার প্রতিমন্ত্রী থাকা অবস্থায় প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি কাজের কমিশন, চাঁদাবাজি এবং ভূমি দখল করে অবৈধভাবে শত কোটি টাকার মালিক হয় সে। ২০০৭ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিরপেক্ষ তদন্তের পর দুর্নীতিবাজের নাম প্রকাশ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, এরপর ২৩ বিএনপি নেতার ২২৬ কোটি অবৈধ টাকা উদ্ধার করে সরকার। এদের মধ্যে অন্যতম শীর্ষ দুর্নীতিবাজ হলো এই আমান। ২০০৭ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর দৈনিক সংবাদ পত্রিকায় এই খবর প্রকাশ হয়।

জানা যায়, ২০০৭ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে আসে সাবেক এই ছাত্রদল নেতার সীমাহীন দুর্নীতির চিত্র। স্থানীয়রা জানান, কেরানীগঞ্জের এক কৃষক পরিবারে জন্ম আমানের। পারিবারিক সূত্রে কোনো সম্পদ ছিল না তার। কিন্তু বিএনপির দুই মেয়াদে মন্ত্রী থাকার পর ঢাকা ও ঢাকার বাইরে কয়েক হাজার শতক জমি দখল করে সে। এসব জমি আমান ও তার স্ত্রী সাবেরা আমানের নামে দলিল করা হয়। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন তার ৩২টি ফ্লাটের হদিস পায় ঢাকার অভিজাত এলাকায়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতি দমন কমিশন তার ৩২টি ফ্লাটের হদিস পায় ঢাকার অভিজাত এলাকায়।

দুদক জানায়, এছাড়াও গুলশানে ৬ কাঠা জমির ওপর ৬ তরা বাসা, কেরানীগঞ্জে ৪ একর ৭৬ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি, মানিকগঞ্জসহ মোট ৫০১ শতক জমির মালিকানা সম্পদ হিসেবে দেখিয়েছে সে। কিন্তু এর বাইরে আরও প্রায় দেড় হাজার শতক জমির তথ্যও উদ্ধার করে দুদক। কোনো আয় না থাকলেও মিরপুরে ১০ শতক জমির ওপর ৬ তলা আলিশান বাড়ি, বনানীতে ৪ কাঠা জমির ওপর ৩ তলা বাড়ি, কেরানীগঞ্জে ৫০২ শতক জমির ওপর বহুতল ভবন, এবং কেরানীগঞ্জে আরেও ৬৬০ শতক জমির পাওয়া যায় আমানের স্ত্রীর নামে।

এমনকি সাভারের জমি, ঢাকার পেট্টোল পাম্প, গার্মেন্টসসহ অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও গড়ে তোলে আমান ও তার স্ত্রী। শুধু তাই নয়, আমানের মতো তার স্ত্রীও স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করতো। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ধলেশ্বরী সেতুর টোল আদায়ের ইজারা পাইয়ে দিতে ব্যাংক চেকের মাধ্যমে ঠিকাদার খোরশেদ আলমের কাছ থেকে ৭০ লাখ টাকা আগাম নেয় সে। ২০০৭ সালের ১৯ জুন প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক খোরশেদ আলম এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।

এভাবেই সীমাহীন অপকর্মের মাধ্যমে দেশকে দুর্নীতিতে পাঁচ বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন করে বিএনপি-জামায়াত সরকার। তাদের নিরলস লুটপাটে ভেঙে পড়ে দেশের অর্থনীতি।

পরবর্তীতে গত এক দশক ধরে- বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি, মানুষ হত্যা, সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে দাঙ্গা সৃষ্টি এবং নাশকতার মদতদাতা হিসেবে বারবার ফিরে এসেছে এই দুর্নীতিবাজ বিএনপি নেতার নাম। সাধারণ মানুষের কাছে এরা এখন ভীতিকর ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছে। এরা কোনো রাজনীতিবিদ নয়, রাজনীতির ছদ্মবেশে এরা জনগণের সম্পদের লুটপাটকারী, দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসের হোতা। এদের উগ্রতা থেকে মুক্তি চায় সাধারণ জনগণ।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত