বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও-পোড়াও: প্রতিদিন রাষ্ট্রের ক্ষতি আড়াই হাজার কোটি টাকা, ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেমিটেন্স

545

Published on নভেম্বর 16, 2022
  • Details Image

২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত কয়েক ধাপে দেশজুড়ে জ্বালাও-পোড়াও, চলন্ত যানবাহনে পেট্রোল বোমা হামলা, সড়কে ককটেল ও হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ করে তোলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা। যানবাহন চালক, দিনমজুর, কর্মীজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ সহস্রাধিক মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করে তারা। পুড়িয়ে দেয় কয়েক হাজার বাস-ট্রাক। ফলে স্থবির হয়ে পড়ে দেশের শিক্ষাঙ্গণ, কৃষিক্ষেত্র, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগযোগ ব্যবস্থা। আমদানি-রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর প্রভাব হয়।

২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, হরতাল-অবরোধের নামে বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাসের কারণে গড়ে প্রতিদিন ২ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে রাষ্ট্রের। এমনকি এই ক্ষতির পরিমাণ পরবর্তীতে বেড়ে গড়ে প্রতিনিদ আড়াই হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।

নাশকতার প্রথম ১৬ দিনে ক্ষতির পরিমাণ ৩৬ হাজার ৪৪৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, যা বছরের দেশজ উৎপাদনের প্রায় ৩ শতাংশ।

সন্ত্রাসের কারণে অভ্যন্তরীণ হিসেবেও প্রতিদিন গড়ে কৃষিখাতে ২৮৮ কোটি, পোল্ট্রি শিল্পে ১৮ কোটি ২৮ লাখ, হিমায়িত খাদ্যে ৮ কোটি, পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে ৩০০ কোটি, পর্যটন শিল্পে ২০০ কোটি, আবাসন খাতে ২৫০ কোটি, শপিং কমপ্লেক্সসসহ দোকানপাট খাতে ১৫০ কোটি, প্লাস্টিক পণ্য খাতে ১৭ কোটি ৮৫ লাখ এবং বীমা খাতে ১৫ কোটি টাকা করে ক্ষতি হয়েছে।

অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৬ হাজার কনটেইনার আটকা পড়ে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হয়। বিভিন্ন স্থলবন্দর থেকে ব্যবসায়ীরা পণ্য খালাস করতে না পারায় প্রতিদিন তাদের অন্তত ১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়। একদিনের অবেরাধের কারণে ৬৯৫ কোটি টাকার পোশাক রফতানি বাধাগ্রস্ত হয়। প্রাত্যহিক ক্ষতির পরিমাণ ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। শিল্প কারখানাগুলোতেও সক্ষমতার চেয়ে ২৫ শতাংশ কম উৎপাদন হয়। ফলে প্রতিদিন উৎপাদন কম হয়েছে প্রায় ২১৯ কোটি টাকার।

জ্বালাও-পোড়াও পরিস্থিতির কারণে কৃষিনির্ভর গ্রামীণ অর্থনীতি চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষেতের শাক-সবজি তোলার পরেও তা ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পারেনি কৃষকরা। আবার পচনশীল দ্রব্য হওয়ায় সেগুলো সংরক্ষণ করাও সম্ভব হয়নি। ফলে যেসব স্থানে কৃষিজ পণ্য উৎপাদন হয়, সেখানে পানির দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন কৃষকরা। আবার যানবাহনে পরিবহন করা ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায়, যেসব স্থানে ফসল ও সবজি কম উৎপাদন হয়, সেসসব স্থানেও কৃষকরা তাদের পণ্য পৌঁছে দিতে পারেননি। ফলে বাজার ব্যবস্থার ওপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত