বিএনপি-জামায়াতের অগ্নিসন্ত্রাস: কয়েকজন নেতার তত্ত্বাবধানে ঢাকাজুড়ে চালানো হয় হত্যাযজ্ঞ ও নাশকতা

690

Published on নভেম্বর 16, 2022
  • Details Image

২০১৩ থেকে ২০১৫ পর্যন্ত কয়েকধাপে যে নাশকতা চালানো হয়েছে দেশব্যাপী, তা কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনা করেছে বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ নেতারা। এরপর এলাকাভিত্তিক নিদিষ্ট নেতাদের অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় চলন্ত যানবাহনে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, মানুষের ঘর-বাড়িতে আগ্নিসংযোগের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালায় তারা। ঢাকাতে কয়েকজন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর, ছাত্রদল ও শিবির নেতা, এবং সাবেক এমপির পরিবারের মাধ্যমে নাশকতার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে বিএনপি-জামায়াত চক্র।

২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম আলো পত্রিকার অনুসন্ধানী সংবাদে এসব তথ্য উঠে আসে। জানা যায়, রাজধানীজুড়ে নাশকতার জন্য ৪৫ থেকে ৫০ জনের একটি দলকে শনাক্ত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এই নাশকতাকারীদের সমন্বয় করে ১২ জন সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর। বিএনপি নেতা কফিলউদ্দীন ও সাবেক এমপি এস এ খালেকের ছেলে সাজুসহ কয়েকজন নাশকতার জন্য অর্থ দিয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের সাবেক কাউন্সিলরদের মধ্যে বাড্ডার কাইয়ুম, মিরপুরের হাসান, রাজাবাজারের আনোয়ার, শেখেরটেকের মনির, মগবাজারের মজিদ, ওয়ারীর আবুল, লালবাগের কালা খোকনরা নাশকতাকারীদের আশ্রয়প্রশ্রয় দেয়।

২০ জানুয়ারি সন্ধ্যায় ঢাকার টেকনিক্যাল মোড়ে বাসে আগুন দেওয়ার সময় আঙুর নামে একজনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশে দেয় জনগণ। এরপর আঙুর জানায়, তারা তিনজন টাকার বিনিময়ে বাসে আগুন দিতে হেমায়েতপুর থেকে ঢাকায় এসেছে। নাশকতাকারীদের একটি বড় অংশকে নিয়ন্ত্রণ করতো ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ইসাহাক সরকার। ২০১৩ থেকে ২০১৫ এর শুরু পর্যন্ত নাশকতার সময় আটক ১২ জন ব্যক্তি তাদের প্রশ্রয়দাতা হিসেবে ইসাহাক সরকারের নাম বলেছে ডিবিকে। ২০১৩ সালের ২৮ নভেম্বর শাহবাগে বিহঙ্গ পরিবহনের বাসে অগ্নি সংযোগ করে ৮ জনকে হত্যার ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই তিনজনই ইসহাক সরকারের নাম বলেছে পুলিশকে।

জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরাও কেন্দ্রীয় পরিকল্পনা অনুসারে নাশকতা করেছে। ২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি মতিঝিলে ককটেল বিস্ফোরণ ও আগুন দেওয়ার সময় দুজনকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে দেয় জনগণ। আটক দুজন ওমর ফারুক ও মো. মামুন শিবিরের সদস্য। মামুন এর আগেও নাশকতার দায়ে গ্রেফতার হয়েছিল। আর ওমর ফারুকের ভাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতাদের আইনজীবী।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত