২০০১ থেকে ২০০৬: পুলিশকে মারধর, ভূমি দখল ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব গড়ে তোলে এমপি শহিদুল

445

Published on নভেম্বর 9, 2022
  • Details Image

পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ২০০১ সালে এমপি হওয়ার আগেও উপজেলা পরিষদের সামনে একটি টিনশেড বাড়িতে ভাড়া থাকতে শহিদুল আলম তালুকদার। কিন্তু বিএনপি থেকে এমপি হওয়ার পর রাতারাতি বদলে যায় তার ভাগ্য। দুর্নীতি, সরকারি জমি দখল, টিআর-কাবিখা লুটপাট এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর মাধ্যমে চাঁদাবাজি করে কোটি কোটি টাকার মালিক হয় সে। স্বল্প সময়ের মধ্যে পৌরশহরের বাংলাবাজারে ৪৬ শতক জমির ওপর গড়ে তোলে সুরম্য দ্বিতল বাড়ি। বনানীতে কেনেন আধুনিক ফ্লাট। চলতে শুরু করে পাজেরো নিয়ে। কালিসুরি বন্দরে খাস জমি দখল করে গড়ে তোলে মার্কেট ও বাড়ি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর, ২০০৭ সালের ১৫ মার্চের প্রথম আলো পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশ হয়। জানা যায়- শহিদুল আলম তালুকদারের অত্যাচার এতোটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছিল যে, শেষ পর্যন্ত ২০০৫ সালে নিজ দলের লোকরাও তার বিরুদ্ধে 'শহীদুল আলমমুক্ত বাউফল বিএনপি চাই' শীর্ষক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছিল। বিরোধী দলের ওপর নির্যাতন তো চলতোই, তার বিরুদ্ধে কিছু বললে পুলিশ ও সাংবাদিক পেটানোটাও ছিল তার জন্য খুব সাধারণ ঘটনা।

জানা যায়, সংসদ সদস্য হওয়ার পর এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের নিয়ে যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন কমিটি গঠন করে শহিদুল। তাদের মাধ্যমেই টিআর, কাবিখা, কাবিটা, টেন্ডার, ইজারা, চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারা করতো সে। এলাকার লোকজন সেই সন্ত্রাসীদের নাম দিয়েছিল 'এমপির কামাইর পুর'। তার বাহিনীর কোনো সন্ত্রাসী পুলিশের হাতে আটক হলে নিজে তাদের ছিনিয়ে আনতেন এমপি শহিদুল। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় এই সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করে র্যাব।

২০০২ সালে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায়, ৮ মে স্থানীয় প্রভাষক ও সাংবাদিক মঞ্জুর মোর্শেদকে পিটিয়ে আহত করে এবং এলাকাছাড়া করে একাধিক সাংবাদিককে। এরপর প্রেসক্লাবে তালা দেয়। ২০০৪ সালে বাউফল থানায় ঢুকে ওসি কাজী হানিফকে মারধর করে শহিদুল। এমনকি আওয়ামী লীগ করার কারণে এক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ব্যক্তিকে পিটিয়ে দিগম্বর করে ঘোরায় তার ক্যাডার বাহিনী।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে তাকে আর এলাকায় দেখা যায়নি। তবে সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে এমপি শহিদুলের সন্ত্রাসের কাহিনী। তারা বলছেন, কিছুদিন আগ পর্যন্ত খুব শান্ত নগর হিসেবে পরিচিতি ছিল বাউফলের। কিন্তু এমপি শহীদুল একে ভয় ও সন্ত্রাসের নগরীতে পরিণত করেছে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত