খালেদা জিয়ার শাসনামল: বনের কাঠ চোরাচালানের কোটি টাকার বাট্টা পৌঁছে যেত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং হাওয়া ভবনে

778

Published on নভেম্বর 7, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি জাাময়াত শাসনামলে দেশজুড়ে নীরবে বৃক্ষনিধন এবং সরকারি বন উজাড় করা হয়েছে। হাজার হাজার হেক্টর ভূমির গাছ কেটে ভূমি দখল করেছে হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা। দুই মেয়াদের প্রধান বন সংরক্ষকদের, তথা মুন্সী আনোয়ারুল (২০০৪-২০০৫) এবং ওসমান গণি (২০০৫-২০০৬)-এর সাথে যোগসাজশ করে কাঠ চোরাচালান ও ভূমি দখল করে হাজার কোটি টাকা লোপাট করে বিএনপি-জামায়াত চক্র। এই লুটপাটের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল বিএনপির একাধিক এমপি-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং হাওয়া ভবন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ২০০৭ সালের ৯ জুলাই দৈনিক সংবাদ, ১ জুনের ইত্তেফাক, ২২ জুলাই যুগান্তর এবং ১২ মার্চ যুগান্তর পত্রিকায় এসব তথ্য প্রকাশ হয়।

২০০৬ সালের শুরুর দিকে লক্ষীপুরের সাবেক বিভাগীয় বন রক্ষক শামছুল হক এবং তৎকালীন প্রধান বন রক্ষক ওসমান গণির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি গাছ কেটে ভাগ করে নেয় বিএনপি নেতারা। দরপত্র দাখিলের আগেই খুব নিম্ন দামে এই ভাগবাটোয়ারা করে তারা। এমনকি পরবর্তীতে দলীয় লোক ছাড়া অন্য কাউকে দরপত্র পর্যন্ত ফেলতে দিতো না তারা।

বন অফিস সূত্রে জানা যায়- সদর, রামগঞ্জ, রায়গতি, রায়পুর উপজেলায় ২০৪ লটে ২৫ হাজারের বেশি পুরনো গাছ বিক্রি করা হয়েছে। রামগঞ্জে বিএনপি নেতা ও প্রতিমন্ত্রী জিয়অউল হক জিয়ার সেভেন স্টার বাহিনীর সহায়তায় প্রায় ৫ কোটি টাকার সাড়ে তিন হাজার পুরনো গাছ মাত্র ২৬ লাখ ৩২ হাজার টাকায় বিক্রি দেখানো হয়েছে। রায়পুরের বিএনপি নেতা এবং সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুইয়ার নেতৃত্বে বিএনপির দুর্বৃত্তরা এক কোটি টাকার ৬২৩টি পুরনো গাছ মাত্র ৭২ হাজার টাকায় কিনে নিয়ে যায়।

লক্ষীপুরে ৪৭ লটে আড়াই হাজার গাছ এবং সোনাপুর সড়ক এলাকায় ১৬ লটে দেড় হাজারের বেশি গাছ, যার বাজার মূল্য ৫ কোটি টাকার ওপরে। কিন্তু বিএনপি নেতা শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানির লোকজন প্রভাব খাটিয়ে মাত্র ২৮ লাখ টাকায় এই গাছ কিনে নেয়। এভাবেই কোটি কোটি টাকার সরকারি সম্পদ লুট করে নিয়ে যায় বিএনপি নেতারা। এদের অনেকে হাওয়া ভবনের ঘনিষ্ঠ আবার অনেকের হাই-কানেকশান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পর্যন্ত। এই লুটপাটের কারণে সরকার কোটি কোটি টাকা রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

২০০৭ সালে, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় যৌথ বাহিনীর অভিযানে আটক হয় বন প্রধান ওসমান গণি। জানা যায়, প্রধান বন রক্ষক হওয়ার জন্য বিএনপি-জাাময়াত সরকারের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ২০ কোটি টাকা উৎকোচ দিয়েছিলেন তিনি। এবং বিএনপি নেতাদের কাছে শত কোটি টাকার সরকারি কাঠ সুলভমূল্যে সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে বিএনপির শীর্ষ মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা অবৈধ পথে গণির মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার সরকারি বন উজাড় করে।

বনের রাজা ওসমান গণির আগের মেয়াদে বন প্রধান ছিলেন মুন্সী আনোয়ার। তিনিও নিয়মিত মাসোহারা দিতেন বিএনপি নেতাদের। যৌথ বাহিনীর কাছে দেওয়া তার স্বীকারোক্তি থেকে জানা যায়- দুই বনমন্ত্রী তরিকুল ইসলাম এবং শাজাহান সিরাজের বাসায় গিয়ে প্রতিমাসে ক্যাশ ৬ লাখ টাকা করে ঘুষ দিতে হতো। এছাড়াও বন বিভাগ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির চেয়ারম্যান নাজিমুদ্দিন আলমকে ১ লাখ করে টাকা দেওয়া হতো।

২০০৪ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়ের প্রধান বন সংরক্ষক মুন্সী আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানায়, বিএনপি-জামায়াত সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরীকেও প্রতি মাসে ৬ লাখ টাকা করে ঘুষ দিতো সে। মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বনানীতে একটি গাড়িতে টাকার ব্যাগ তুলে দেওয়া হতো, পরে হারিস চৌধুরী ফোন দিয়ে টাকা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করত।

মুন্সী আনোয়ারুল আরো জানায়, বন বিভাগের প্রধান হওয়ার পর বনমন্ত্রী শাজাহান সিরাজের ছেলে তার কাছে ৫০ রাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এই টাকা গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের নির্দেশে তারেক রহমানের কাছে পাঠাতে হবে। এরপর সেই টাকা সংগ্রহ করে হাওয়া ভবনে পাঠিয়েছিলেন বলেও জানান এই সাবেক বন প্রধান।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত