ডিজিটাল বাংলাদেশ: উত্তাল মার্চের অগ্নিগর্ভ থেকে আজ বিশ্বের বিস্ময়

2093

Published on মার্চ 2, 2022
  • Details Image
    ডিজিটাল বাংলাদেশ: উত্তাল মার্চের অগ্নিগর্ভ থেকে আজ বিশ্বের বিস্ময়

তলাবিহীন ঝুড়ির বাংলাদেশ যে মহাকাশের রাজত্বেও ভাগ বসাবে, তা হয়তো কেউ স্বপ্নেও ভাবেনি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে এখন পৃথিবীর কক্ষপথজুড়ে ঘুরছে আমাদের বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১। এর মাধ্যমে দুর্গম অঞ্চলেও পৌঁছানো হচ্ছে ইন্টারনেট ও স্যাটেলাইট সেবা, টেলি-মেডিসিন, ই-লার্নিং, ই-ব্যাংকিং থেকে শুরু করে যাবতীয় ভার্চুয়াল সুযোগ-সুবিধা। এর মাধ্যমে, সাইবার ক্যাবলের ওপর নির্ভর না থেকে প্রাকৃতিক দুর্যোগেও সক্রিয় থাকবে ডিজিটাল বাংলাদেশের যাবতীয় কার্যক্রম। এমনকি দেশের চাহিদা মিটিয়ে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট থেকে অন্যান্য দেশের কাছে ব্যান্ডউইথ বিক্রি করে, রেমিট্যান্স উপার্জনের দিকেও এগিয়ে যাচ্ছে দেশ।

তবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে, বাংলাদেশ সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে পদ্মাসেতু দিয়ে। আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে, শতভাগ নিজেদের অর্থে তৈরি এই দ্বি-তল ও বহুমুখী সেতু বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ সক্ষমতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। সম্পূর্ণ নিজেদের প্রচেষ্টায়, এই অসম্ভবকে সম্ভব করা জন্য, জাতিসংঘ থেকে শুরু করে, আন্তর্জাতিক সব সংস্থাই উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করছে বাংলাদেশের।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী পরিকল্পনায় বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আমাদের দেশের নাম এখন উচ্চারিত হচ্ছে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের কাতারে। জিডিটাল বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বিস্ময়, উন্নয়নের রোল মডেল।

আজকের বাংলাদেশ ও দুঃসাহসী বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শিতা

স্বাধীনতার ৫০ বছরের মাইলফলক অতিক্রম করে- আমরা এখন সারা বিশ্বে যে মর্যাদা পাচ্ছি- এই পথ সহজ ছিল না। নতুন প্রজন্ম যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশকে দেখছি, এই অবস্থা আমাদের গত একযুগ আগেও ছিল না। এমনকি একসময় ছিল না এই স্বাধীন বাংলাদেশও। পাকিস্তানি বর্বরদের প্রায় দুই যুগের নির্যাতন ও শোষণের কারণে শ্মশানে পরিণত হয়েছিল এই সোনার বাংলা। কিন্তু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অদম্য নেতৃত্বে বিশ্বের বুকে একটি বিজয়ী জাতি ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হই আমরা। মুক্তিসংগ্রামের সেই দীর্ঘযাত্রার চূড়ান্ত সন্ধিক্ষণ হয়ে ওঠে ১৯৭১ সালের মার্চ মাস।

মূলত, বাঙালির মুক্তির দাবি তথা ছয়-দফার পক্ষে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে একচেটিয়া ম্যান্ডেট দেয় আপামর বাঙালি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকে নিরঙ্কুশভাবে জয় লাভ করে সরকার গঠনের অধিকার লাভ করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু বাঙালি জাতির এই বিজয়কে বানচালের ফন্দি করতে থাকে পাকিস্তানিরা। ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করে ১ মার্চ দুপুরে বেতারে বক্তব্য দেয় পাকিস্তানি স্বৈরাচার ইয়াহিয়া খান। সেই সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো বাংলাদেশ। ফলে পল্টন থেকে ২ ও ৩ মার্চ হরতালের ঘোষণা দেন নির্বাচনে বিজয়ী নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। ৩ মার্চ পল্টনের এক জনসভায় বঙ্গবন্ধুকে 'জাতির পিতা' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ৭ মার্চ সোহওয়ার্দী উদ্যানে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন তিনি। দেশের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে তার হাতে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রতিটি এলাকায় গঠিত হয় সংগ্রাম কমিটি। বাংলার প্রতিটি ঘর পরিণত হয় একেকটি দুর্গে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে পুরো মার্চ মাস জুড়ে সরকারি ও বেসরকারিভাবে পাকিস্তানিদের প্রতি অসহযোগিতা চলতে থাকে। একই সঙ্গে প্রস্তুতি শুরু হয় চূড়ান্ত যুদ্ধের।

অবশেষে ২৫ মার্চ মধ্যরাতে ঘুমন্ত বাঙালি জাতির ওপর হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে পাকিস্তানি হায়েনার দল। সঙ্গে সঙ্গে ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে অয়্যারলেসের মাধ্যমে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বঙ্গবন্ধু। বিশেষ ফ্রিকোয়েন্সিতে তা শুনে চমকে যায় পাকিস্তানি সেনারা। এরপরেই তাকে গ্রেফতার করা হয়। তবে ঢাকা ও চট্টগ্রামের নেতারা বঙ্গবন্ধুর সেই স্বাধীনতার ঘোষণার প্রতিলিপি তৈরি করে ছড়িয়ে দেন সবখানে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমজুড়ে প্রচারিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কথা।

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে দেশজুড়ে মুক্তিযুদ্ধে নামে আপামর বাঙালি। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল- বঙ্গবন্ধুকে স্বাধীনতার ঘোষক, স্বাধীন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক করে- জাতীয় চার নেতার নেতৃত্বে গঠিত হয় বাংলাদেশের প্রথম সরকার। ১৭ এপ্রিল সেই সরকার শপথ নেওয়ার সময় 'জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু' স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে চারপাশ। এরপর দীর্ঘ ৯ মাসজুড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, জামায়াত, আলবদর, আল শামস, বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ যুদ্ধ করে মুক্তিযোদ্ধারা। অবশেষে ৩০ লাখ শহীদ ও চার লাখ নারীর ত্যাগের বিনিময়ে, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান স্বাধীনতা অর্জন করে বাঙালি জাতি।

কিন্তু স্বাধীনতার পর, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে গড়ে তোলার জন্য, মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পান বঙ্গবন্ধু। এই সময়ের মধ্যেও স্বাধীনতাবিরোধী, উগ্র ডান ও উগ্র বামপন্থীদের প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও পররাষ্ট্র নীতির কারণেই এতো কম সময়ে বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এরমধ্যেই এককোটি শরণার্থীকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনেন তিনি। যুদ্ধকালে স্থানচ্যুত মানুষদের জন্য নির্মাণ ও সংস্কার করেন প্রায় দুই কোটি গৃহ। সঠিক ধর্মশিক্ষার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন ইসলামি ফাউন্ডেশন, চালু করেন রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় হজের ব্যবস্থা। শুরু করেন দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী তথা পিছিয়ে থাকা নারীদের ক্ষমতায়ন। প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষিব্যবস্থার পাশাপাশি উদ্যোগ নেন শিল্পায়নের। প্রণয়ন করেন দীর্ঘমেয়াদি শিক্ষানীতি।

আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তিও বঙ্গবন্ধুর হাতেই স্থাপিত। কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্তের কারণে স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারের প্রাণ হারাতে হয় তাকে। ফলে আবারো সদ্যস্বাধীন একটা রাষ্ট্র এতিম হয়ে অন্ধকারে ডুবে যায়। চিরতরে বাংলার মাটিকে মৌলবাদের ঘাঁটি বানানোর সব প্রক্রিয়াই চূড়ান্ত করে স্বৈরাচার ও তাদের কট্টরপন্থী দোসররা। ফলে ওষ্ঠাগত হয়ে পড়ে মানুষের জীবন। এরকম একটি পরিস্থিতে, গণমানুষের আহ্বানে সাড়া দিয়ে, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে নেমে আসেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। বুলেট-বোমা অতিক্রম করে, স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়ে, গণতন্ত্র উদ্ধার করেন তিনি।

গণ-আকাঙ্ক্ষা পরিপূর্ণ করার পথে শেখ হাসিনার অদম্য যাত্রা

১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর দেশকে নতুন করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেন গণতন্ত্রের মানসকন্যা শেখ হাসিনা। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশকে জলবায়ুজনিত ক্ষতির হাত থেকে রক্ষার উদ্যোগ নেন। এমনকি ১৯৯৮ সালের বন্যায় যখন দেশের ৭০ ভাগ এলাকা প্লাবিত হয়, তখনও শক্তহাতে এই দুর্যোগ মোকাবিলা করেন। টানা ২১ বছরের শোষণে, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামো ছিল তখন ভঙ্গুর। তাই সেবারের প্রবল বন্যায় প্রায় এককোটি লোক প্রাণ হারাবে বলে বিশ্ব মিডিয়া আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের ত্রাণ পরিচালনা ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মসূচির কারণে একটি মানুষকেও অনাহারে বা মহামারিতে প্রাণ হারাতে হয়নি। দুর্যোগ মোকাবিলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের এই সক্ষমতা দেখে চমকে যায় বিশ্ব। ঠিক এর পরের বছরেই (১৯৯৯) খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। শেখ হাসিনার জনবান্ধব রাষ্ট্রনীতি ও দূরদর্শিতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই বিশ্বের বুকে সমীহ আদায় করে নেয় বাঙালি জাতি।

বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথ ধরে, দুঃখী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করেন তার কন্যা। ভূমিহীন, গৃহহীন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জন্য চালু হয় আশ্রয়ন প্রকল্প। সেই প্রকল্পের আওতায় এখণ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষকে ভূমি ও ঘর দিয়েছে সরকার।

২০০৮ সালের নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠের পরপরই দেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার যাত্রা শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার দূরদর্শী নেতৃত্বে গত এক যুগে ডিজিটাল রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। গ্রাম পর্যন্ত পৌঁছে গেছে ইন্টারনেট ও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা। করোনার প্রাদুর্ভাবে ২০২০ সালের শুরুতে বিশ্ব যখন থমকে গিয়েছিল, সেই সেই সময়টাতেও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেছে বাংলাদেশ সরকার। ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা এবং ডিজিটাইজড সিস্টেমের মাধ্যমেই সচল রাখা হয়েছে দেশের অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা সেবা।

মহামারিকালেও থেমে থাকেনি মানবিক উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নিয়মিতভাবে সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে সারা দেশে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত এক কোটিরও বেশি মানুষের ঘরে। ডিজিটাল সুবিধা ব্যবহার করে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ৫০ লাখ কৃষক-শ্রমিক-মজুরের হাতে।

সামাজিক সুরক্ষার আওতায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে সবশ্রেণির সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের। বিধবা, স্বামী পরিত্যক্তা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীসহ মোট ৯১ লাখ ব্যক্তিকে দেওয়া হচ্ছে সুরক্ষা ভাতা। নারীদের জন্য গর্ভকালীন ছুটি চার মাস থেকে বৃদ্ধি করে ছয় মাস করা হয়েছে, চালু হয়েছে পিতৃকালীন ছুটিও। মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের জন্য সম্মানি কয়েকধাপে বৃদ্ধি করে ২০ হাজার টাকা উত্তীর্ণ করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। এমনকি, সমাজের পিছিয়ে পড়া নারীদের মূলধারায় নিয়ে আসার জন্য দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাবৃত্তি। প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থীকে আনা হয়েছে নিয়মিত বৃত্তির আওতায়।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যেমন দেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তেমনি ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রেখে চলেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা। তার নির্দেশেই দেশজুড়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৬০টি মডেল মসজিদ। এমনকি এই করোনাকালে সারা দেশের মসজিদ, মন্দির, মাদ্রাসা ও এতিমখানার উন্নয়ন এবং এসবের সঙ্গে যুক্ত প্রায় অর্ধকোটি মানুষের জন্য নগদ অর্থ প্রদান করেছেন তিনি। এছাড়াও ব্যক্তিগতভাবে অর্থ সংগ্রহ করে এসব খাতে আড়াই শ' কোটি টাকা অনুদান দিয়েছেন দেশরত্ন শেখ হাসিনা।

জঙ্গিবাদ-উগ্রবাদ ও রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করেও দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে উন্নীয় হয়েছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে ৬১টি জেলা। পাহাড় কিংবা দুর্গম চরেও পৌঁছে যাচ্ছে বিদ্যুতের সুবিধা। মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে তিনগুণের বেশি।

স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নের ফলে বেড়েছে গড় আয়ু। ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়নের ফলে সহজ হচ্ছে যোগাযোগব্যবস্থা। চার-লেনের সড়ক ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হচ্ছে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া। নিজস্ব অর্থায়নে দ্বিতল বিশিষ্ট পদ্মাসেতুর কাজ সম্পন্ন করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের কর্ণফুলি নদীর নিচে বঙ্গবন্ধু টানেল ও রাজধানীর মেট্রোরেলের কাজও প্রায় শেষ।

গত এক যুগে বাংলাদেশের মানুষের জীবনযাত্রার মানের যে উন্নয়ন, তা আজ বিশ্বনেতাদের কাছে এক বিস্ময়। একারণে ২০১৯ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে তৎকালীন মহাসচিব বান কি মুন বাংলাদেশকে ‘উন্নয়নের মডেল’হিসেবে অভিহিত করেন।

জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘে উত্থাপন করা শেখ হাসিনার প্রস্তাবনাগুলোর উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন বিশ্বনেতারা। ধরিত্রী রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা ও দর্শনের কারণে বিশ্বনেতারাও আজ সমীহের দৃষ্টিতে দেখে বাংলাদেশকে। বঙ্গবন্ধুকন্যার মানবিক ও সুদূরপ্রসারী নেতৃত্বে যেভাবে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ, তাতে উন্নত বিশ্বের কাতারে নাম লেখানোটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত