ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন বাস্তবতা

289

Published on ডিসেম্বর 12, 2021
  • Details Image

বিকাশ দেওয়ানঃ

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপনের এ মাহেন্দ্রক্ষণে বিশ্বের কাছে আজ বাংলাদেশের পরিচয় এশিয়ার নতুন অর্থনৈতিক তারকা হিসেবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচক্ষণ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বেরিয়ে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ঘটেছে বাংলাদেশের। পৃথিবীর বুকে মর্যাদাবান জাতি হিসেবে গড়ে উঠে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী প্রতিনিয়ত বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন করছেন। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করার জন্য তরুণ বয়সে থেকেই অসামান্য অবদান রেখে চলেছেন ‘আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ’ সজীব ওয়াজেদ জয়।

প্রধানমন্ত্রীর বয়ান থেকেই জানা গেছে, ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের রূপরেখা প্রণয়নে ডিজিটাল বাংলাদেশের ধারণাটি তিনি পেয়েছেন তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের কাছ থেকেই। দেশের গণমানুষের জীবনযাত্রার মান বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল জগতে প্রবেশ ও এর সঠিক ব্যবহারের বিকল্প নেই। এ বিষয়টি উপলব্ধি করে ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশকে ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ গ্রহণ করানোর মাধ্যমে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ স্বপ্নের বীজ রোপণ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ওই ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর কেবল স্বপ্ন নয়, বাস্তবতা। তথ্যপ্রযুক্তির বাহনে চড়ে দুরন্তগতিতে দেশজুড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে ডিজিটালসেবা।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কৃষিনির্ভর অর্থনীতির খোলস থেকে বেরিয়ে এসে শিল্পায়নের ছোঁয়ায় অর্থনীতির মজবুত ভিত গড়তে দেশে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। শিল্পনির্ভর ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিদ্যুৎ খাতকে দেওয়া হচ্ছে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তাই বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠনে পালন করতে হবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ২০০৯ সালে যখন সারাদেশে সীমাহীন বিদ্যুৎ সংকট চলছিল, তখন বিদ্যুৎ ঘাটতি পূরণের অসম্ভব চ্যালেঞ্জকে মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদূরপ্রসারী চিন্তা, স্বপ্ন ও ঘুরে দাঁড়ানোর ঘোষণায় অনেকে হয়তো খুব বেশি আশান্বিত হতে পারেনি। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও বলিষ্ঠ নেতৃত্বের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ঘাটতির দেশ থেকে বাংলাদেশ এখন বিদ্যুৎ উদ্বৃত্তের দেশ। সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন বিদ্যুতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার পূরণে ডিপিডিসি কাজ করে চলেছে নিরলসভাবে। নতুন নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে আরও দক্ষভাবে গ্রাহকসেবার মান উন্নয়নে ডিপিডিসি সর্বদাই অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। ফাইভ-জি প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হলো বাংলাদেশে। এ প্রযুক্তির হাতে ধরেই বিদ্যুৎব্যবস্থার পরিচালন ও সংরক্ষণকাজে প্রয়োজন হবে আর্টিফিশিয়াল ইনটেলিজেন্স, ব্লকচেইন, ডিপ লার্নিং, রোবটিক্স, বিগ ডেটা অ্যানালাইসিস, অগমেন্টেড রিয়ালিটি (এআর) ও ভার্চুয়াল রিয়ালিটি (ভিআর) অ্যাপ্লিকেশনের মতো নানাবিধ কাজ। ভবিষ্যতে ক্লাউডের ব্যবহার, নেটওয়ার্ক পরিদর্শন এবং সংরক্ষণকাজে রোবট ও ড্রোনের ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নে ডিপিডিসি নতুন মাত্রা যোগ করবে। অনাগত আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়নে ডিপিডিসি এখন থেকেই জোর দিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে ডিপিডিসির ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেমকে সম্পূর্ণভাবে কমিউনিকেশনের আওতায় এনে ডিপিডিসিকে একটি মডার্ন ও ডিজিটাল ইউটিলিটিতে পরিণত করার জন্য এএমআই বা অ্যাডভান্স মিটারিং ইনফ্রাস্ট্রাকচার নেটওয়ার্ক স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এএমআই স্মার্ট গ্রিডের অংশ হিসেবে কাজ করবে এবং পরে এএমআইয়ের মাধ্যমে সব ভোল্টেজ লেভেলের মিটারিংব্যবস্থা পরিচালিত হবে। স্মার্ট প্রিপেমেন্ট মিটারিং প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে এই কাজ বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এএমআই টেকনোলজি বাস্তবায়ন হলে গ্রাহকের মিটারের সঙ্গে সিস্টেমের উভয়মুখী যোগাযোগ স্থাপন হবে। ফলে গ্রাহকরা ওয়েবপোর্টাল ও মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে বিদ্যুতের মিটার রিচার্জ, ব্যালান্স দেখা, বর্তমান মাস এবং পূর্ববর্তী মাসের বিদ্যুতের কনজাম্পশন দেখা, লোড প্রোফাইলের তথ্যসহ অনেক তথ্য দেখতে পারবেন। ডিপিডিসি তার বিতরণব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও উন্নয়নের জন্য যেসব পরিকল্পনা গ্রহণ করে থাকে, এর পেছনে রয়েছে গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জন। সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের মাধ্যমে গ্রাহকের সন্তুষ্টি অর্জন করাই হচ্ছে ডিপিডিসির মূলমন্ত্র। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডিপিডিসির এসব ডিজিটাল কার্যক্রম সুফল বয়ে আনবে বিদ্যুৎ বিতরণব্যবস্থায়। আর গ্রাহকসেবার মান হবে আরও উন্নত।

লেখক : প্রকৌশলী, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ডিপিডিসি)

সৌজন্যেঃ আমাদের সময়

(মতামত লেখকের নিজস্ব। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত