প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে এতিমদের মাঝে নতুন পোশাক ও খাদ্য বিতরণ ত্রাণ উপকমিটির

488

Published on সেপ্টেম্বর 30, 2021
  • Details Image

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে এতিম শিশু ও শিক্ষার্থীদের মাঝে উন্নতমানের পোশাক ও খাদ্য বিতরণ করেছে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটি। বুধবার পুরান ঢাকার জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে বেসরকারি সেবা সংস্থা আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামের ‌‘আঞ্জুমান শেঠ ইব্রাহিম মোহাম্মদ ডুপ্লে বালক হোম’ ও ‘এ.বি.এম.জি. কিবরিয়া বালিকা হোম’-এর শিক্ষার্থীদের মাঝে এ সমগ্রী তুলে দেয়া হয়।

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক।

এতে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম, শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, শ্রম ও জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান সিরাজ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফি, সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির প্রমুখ। এসময় উপকমিটির সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আওয়ামী লীগ করবেন, ক্ষমতাসীন দল করবেন, ক্ষমতায় দাপট দেখাবেন, শেখ হাসিনার অর্জনকে বিসর্জ্জন দিবেন, তাদেরকে এ দল করতে দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নানক ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ একটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই সুত্রাপুর থেকে পাশ করেছিলেন। সেই সুত্রাপুরে দাঁড়িয়ে আমি আপনাদেরকে বলবো। দল করতে গিয়ে যারা নিজের বিবেক-ইমান অর্থের কাছে বিকিয়ে দেয়, বিক্রি করে দেয় তারা মানুষ হতে পারে না, তারা অমানুষ।

দুঃসময়ের নেতাকর্মী ডুকরে কাঁদে, যখন দেখে নতুন একজন আসছে সবদিক দিয়ে স্বাস্থ্য ভালো, তাদের নিয়ে নেতা চলে আমাদেরকে চিনে না, তাদের উপরে আল্লাহ গজব পড়বে। নানাক আরও বলেন, টানা তৃতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। একটি কথা আল্লাহকে হাজির নাজির জেনে নিজের বিবেককে জিজ্ঞেস করে বলেন তো, রাস্তা দিয়ে হাঁটেন বিয়ে-শাদিতে যান, সুন্নতে খাৎনায় যান, মসজিদে যান, জুম্মা পড়তে যান, কোথাও কি শেখ হাসিনার সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হয়? উত্থাপিত হয় আমাদেরকে নিয়ে, আমাদের কথাবার্তা, চালচলনে মানুষ ব্যথিত হয়, ব্যথিত হয়ে জনগণ শেখ হাসিনা থেকে দূরে সরে যায়। শেখ হাসিনাকে দূরে সরানো যাবে না। শেখ হাসিনা জনগণের নেত্রী, বিশ্ব নেত্রী।

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম বলেন, শেখ হাসিনা শতভাগ সৎ। আমাদের রাজনীতি, আমাদের ধ্যান-ধারণা সবকিছু শেখ হাসিনাকে ঘিরে। ১৯৭৫ সালের পর আমরা রাজনীতিতে এসেছি। সে কারণে আমাদের সমস্ত আদর্শ হচ্ছে শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার আদর্শ ধারণ করে তার লক্ষ বাস্তবায়নে যেন নিজেকে উৎসর্গ করতে পারি, তাঁর জন্মদিনে সেটাই হোক আমাদের শপথ।

তিনি বলেন, আমরা শেখ হাসিনার একজন সৈনিক দাবি করে কারো বাড়ি দখল করলাম। শেখ হাসিনার সৈনিক দাবি করে বিভিন্ন দুর্নীতির মধ্যে আমরা জড়িয়ে পড়বো, শেখ হাসিনার কর্ম দাবি করে আমরা মানুষকে ফাঁকি দিবো। এ ধরনের কোনো কাজ যাতে আমরা না করি। শেখ হাসিনা এই দেশের মানুষের জন কিনা করেছেন। তিনি তার বাবাকে হারিয়েছেন, মাকে হারিয়েছেন, ভাইদের হারিয়েছেন, ভাবিদের হারিয়েছেন ও ছোটো ভাই শেখ রাসেলকে হারিয়েছেন। এই বেদনা নিয়ে তিনি আমাদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির সদস্য সচিব সুজিত রায় নন্দী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা হচ্ছেন বিশ্ব মানবতার মা। আজ থেকে ২০ বছর আগে নেদারল্যান্ডে জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব শান্তির সম্মেলনে সেদিন বলেছিলেন ‘জননেত্রী শেখ হাসিনা শুধু বাংলার নেত্রী নন, সারাবিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার যোগত্যা রাখেন। জাতিসংঘের ৭৬তম অধিবেশনে মুকুট মণি খেতাবে ভূষিত হওয়ার আমরা তাকে অভিবাদন জানাচ্ছি। 

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত