মডেল মসজিদ - প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি পূরণ

2299

Published on জুন 21, 2021
  • Details Image

হামজা রহমান অন্তর:

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশে ইসলামের খেদমতে সর্বপ্রথম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য তিনি ইসলামিক ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করে যান। টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমার জন্য সুবিশাল প্রান্তর বরাদ্দ করেন বঙ্গবন্ধুই। আজকের বাংলাদেশের মুসলমানদের তবলীগ জামাতের যে মূল কেন্দ্র যে কাকরাইল মসজিদ, সেটিও জাতির পিতার অবদান। পচাত্তরে বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে প্রকৃত ইসলামি মূল্যবোধ থেকে সরে গিয়ে এদেশের মাথার উপর উগ্রবাদ জেঁকে বসেছিলো। ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। এরপর নানামুখী ষড়যন্ত্রে তাকে কিছু সময়ের জন্য দেশ সেবা থেকে দূরে রাখতে পারলেও ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তিনি পুনরায় সরকার গঠন করেন।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ১৩ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব অগ্রগতি হয়েছে। পৃথিবীর অনেক শক্তিশালী দেশের চেয়েও এখন বাংলাদেশের জিডিপি ও এসডিজি অগ্রগতি ভালো। এসকল অবকাঠামো ও রাষ্ট্রীয় উন্নয়নের পাশাপাশি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ধর্মীয় ও নৈতিক উন্নয়নের দিকেও নজর দিয়েছেন। পিতার দেখানো পথ ধরে তিনি জাতিগত সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছেন। আর এই জন্যই দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠীর ইবাদতের জায়গার নির্মাণ শুধু নয়, সেটিকে মডেল হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশের জেলা, উপজেলা, উপকূল, মহানগর ও বিভাগীয় শহরে সরকারিভাবে ৫৬০টি মডেল মসজিদের অনুমোদন দিয়েছেন। এসব মসজিদ নির্মাণে ৮৭২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্মিত ৫০টি মডেল মসজিদ একযোগে উদ্বোধন করে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন তিনি। বলার অপেক্ষা রাখে না, পরবর্তী মডেল মসজিদগুলো উদ্বোধনের সময়ে তিনি একযোগে এতো মসজিদ উদ্বোধনের নিজের রেকর্ড নিজেই আবার ভেঙ্গে দেবেন।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সুবিশাল এসব মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কমপেক্সে নারী ও পুরুষদের পৃথক ওজু ও নামাজ আদায়ের সুবিধা, লাইব্রেরী, গবেষণা কেন্দ্র, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র, পবিত্র কুরআন হেফজ বিভাগ, শিশু শিক্ষা, অতিথিশালা, বিদেশি পর্যটকদের আবাসন, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন ও অটিজম সেন্টার, প্রতিবন্ধি মুসল্লিদের টয়লেটসহ নামাজের পৃথক ব্যবস্থা, গণশিক্ষা কেন্দ্র, ইসলামী সংস্কৃতি কেন্দ্র থাকবে। এছাড়াও ইমাম-মুয়াজ্জিনের ট্রেনিং-আবাসন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা এবং গাড়ি পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। মডেল মসজিদগুলোতে দ্বীনি দাওয়া কার্যক্রম ও ইসলামী সংস্কৃতি চর্চার পাশাপাশি মাদক, সন্ত্রাস, যৌতুক, নারীর প্রতি সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক ব্যাধি রোধে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

সারা দেশে এসব মসজিদে প্রতিদিন চার লাখ ৯৪ হাজার ২০০ জন পুরুষ এবং ৩১ হাজার ৪০০ জন নারী একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন। একসঙ্গে প্রায় ৩৪ হাজার মানুষ কোরআন তেলাওয়াত করতে পারবেন, ৬ হাজার ৮০০ জন ইসলামিক বিষয়ে গবেষণা করতে পারবেন, ৫৬ হাজার মানুষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নিতে পারবেন এবং প্রতি বছর এখান থেকে ১৪ হাজার কোরআনে হাফেজ হবেন।

মডেল মসজিদগুলোর এসকল সুযোগ সুবিধা দেখলে সহজে বোঝা যায়, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি বিশুদ্ধ ও মানবিক জাতি গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন। নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করেছেন, অটিজমের শিকার মানুষদের জন্য এসকল মডেল মসজিদে বিশেষ সুবিধা থাকছে। অতিথিশালা থাকছে, বিদেশী পর্যটকদের জন্য আবাসনও থাকছে। এর চেয়ে মানবিকতার উদাহরণ হয়না।

মুজিববর্ষ উপলক্ষে প্রথম পর্যায়ে ৫০টি মডেল মসজিদের উদ্বোধন করা হয়েছে গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন)। এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইসলামের প্রচার ও প্রসারে ভূমিকা রাখার সঙ্গে সঙ্গে সন্ত্রাস ও নারীর প্রতি সহিংসতা রোধ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে এসব মসজিদ ভূমিকা রাখবে।”

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের গুরুত্ব খুবই অর্থবহ ও সুদূরপ্রসারী। তিনি ইসলাম ধর্মের প্রকৃত মর্মবাণী প্রতিটি মুসল্লির কাছে পৌঁছে দিতে চাচ্ছেন। আর একজন প্রকৃত মুসলমান কখনো নারীর প্রতি সহিংস হবেন না, জঙ্গিবাদে জড়াবেন না। আর এই লক্ষেই তিনি প্রকৃত ইসলাম নিয়ে গবেষণার সুযোগ রেখেছেন এসকল মসজিদে, ইমাম-মুয়াজ্জিনরা যাতে প্রকৃত ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে মুসল্লিদের কাছে ইসলামের আসল বার্তা নিয়ে যেতে পারে সেই ব্যবস্থাও রেখেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিন প্রশিক্ষণ হবে এসকল মসজিদে। হজযাত্রীদের নিবন্ধন সেন্টার থাকবে, মৃতদেহ গোসল-জানাজার ব্যবস্থা থাকবে, শিশু শিক্ষা থাকবে, গণশিক্ষা থাকবে, এর চেয়ে সুন্দর আর কি হতে পারে!

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দর্শন ও দূরদর্শিতা ফুটে উঠেছে এসব মডেল মসজিদে। আল্লাহ শেখ হাসিনাকে দীর্ঘজীবী করুক। তিনি যতদিন আছেন, ততদিন বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ দাবায়ে রাখতে পারবে না। বাংলাদেশ একদিন বিশ্বের বুকে মডেল রাষ্ট্র হবে ইনশাল্লাহ।


লেখক: কলামিস্ট ও ছাত্রনেতা।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত