বঙ্গবন্ধু হত্যার মুল ষড়যন্ত্রকারীদের মুখোশ উন্মোচনে কমিশন গঠন করা হবেঃ ওয়েবিনারে বক্তারা

1859

Published on সেপ্টেম্বর 1, 2020
  • Details Image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালের ১২ নভেম্বর ইনডেমনিটি আইন বাতিল করে আওয়ামী লীগ সরকার এবং ধানমন্ডি থানায় বঙ্গবন্ধুর তৎকালীন ব্যক্তিগত সহকারী আ ফ ম মহিতুল ইসলাম বাদী হয়ে মুজিব হত্যাকাণ্ডের মামলা করেন। ১৯৯৮ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ২৪ আগস্ট পর্যন্ত আপিলের প্রেক্ষিতে চার দফায় রায়ের মাধ্যমে ১৩ বছর ধরে চলা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের আইনি ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার বিচারিক কার্যক্রম নিয়ে গত ৩১ আগস্ট একটি বিশেষ ওয়েবিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা উপকমিটি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক সেলিম মাহমুদ এর সঞ্চালনায় 'জাতির পিতার হত্যার বিচারঃ জাতির প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্রের করণীয়' বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে ZOOM এর মাধ্যমে যুক্ত হয়েছিলেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এমপি, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট- এর আপিল বিভাগের সাবেক বিচারক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নজিবুল্লাহ হিরু এবং বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল। সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা উপ কমিটির সভাপতি ড. সাইদুর রহমান খান।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে যারা জড়িত তাদের মুখোশ উন্মোচনের জন্য একটি কমিশন গঠনের উদ্যোগ অনেকটাই এগিয়ে গেছে। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি সামলে নিয়ে এই কমিশনের রূপরেখা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। পঁচাত্তরের পনের অগাস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পেছনে যারা ছিলেন, সেই সব কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনে একটি জাতীয় কমিশন গঠন করা হবে বলে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জানিয়েছেন।

আবদুল মতিন খসরু বলেন, “বঙ্গবন্ধুর খুনিদের ‘মাস্টার মাইন্ডদের’ চিহ্নিত করতে হবে। পনের অগাস্টের চক্রান্ত তো একদিনে হয়নি। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। মাস্টারমাইন্ড হিসেবে শাহ মোয়াজ্জেম, ওবায়দুর রহমানসহ আরও নাম আসবে…জাতির অধিকার আছে তাদের ব্যাপারে জানার। হাই পাওয়ারের একটা জাতীয় কমিশন গঠন করে শ্বেতপত্রও প্রকাশ করতে হবে।”

আওয়ামী লীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক নজিবুল্লাহ হিরু বলেন, “বাহাত্তর থেকে পঁচাত্তর ও পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ের ঘটনাবলী লিপিবদ্ধ করার জন্য একটি কমিশন হওয়া দরকার। যাতে করে তরুণ প্রজন্ম জানতে পারে, বঙ্গবন্ধু কী সোনার বাংলা চেয়েছিলেন।”

আবদুল মতিন খসরুর কথায় সায় দেন বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সাবেক প্রধান কৌঁসুলি সিরাজুল হকের ছেলে বর্তমান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

তিনি বলেন, “এখানে একটা দাবি উঠেছে কমিশনের। আমি অনেক জায়গায় বলেছি, একটা কমিশন অত্যন্ত উচ্চ পর্যায়ের এবং জাতীয় পর্যায়ের অত্যন্ত দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের দিয়ে একটা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।”

কমিশন গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমরা যদি আজকে তাদেরকে চিহ্নিত করতে না পারি, আমরা যদি তাদের মুখোশ উন্মোচিত করে দিতে না পারি এবং তাদের বংশধর তাদের যদি চিহ্নিত করে দিতে না পারি তাহলে পরে আমাদের এখনকার নতুন প্রজন্ম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আবারও হুমকির সম্মুখীন হবে। হুমকির মধ্যে রেখে যাওয়া আমাদের জন্য দায়িত্বশীল কাজ হবে না। সে কারণে আমাদের কমিশন করা প্রয়োজন।”

এটার যে কর্মপরিধি, এটা কী করবে, এটা কতটা সময় এটাকে দেওয়া হবে- এটাকে ফিক্স করে আমরা অনেক আগেই করতে পারতাম। জননেত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দেওয়ার পরে আমরা জানতাম না যে, করোনাভাইরাস প্যান্ডেমিক আমাদের আক্রমণ করবে। এটা সামলিয়ে নিয়ে উঠে কাজটা শুরু হবে।

“কমিশন কী করবে, তা নিয়ে আমি আলাপ-আলোচনা শুরু করেছি। একটা রূপরেখা তৈরি করা… তাহলে ভবিষ্যতে যখন হবে তখন কাজটা অনেকটা এগিয়ে যেতে পারে।” বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানই বঙ্গবন্থু হত্যাকাণ্ডের ‘সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী’ ছিলেন বলে মনে করেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে খুব যে অনেক লোক ছিল তা নয়, গুটিকয়েক লোক করেছে। তাদের মুখোশ উন্মোচিত হওয়া স্বাভাবিক, কারণ তারা হত্যাকাণ্ড করেছে। জিয়াউর রহমান কিন্তু সেই মুখোশ উন্মোচিতদের মধ্যে একজন।

“জিয়াউর রহমানের মুখোশ কিন্তু আর উন্মোচনের কোনো প্রয়োজন নাই। সেই হচ্ছে সবচেয়ে বড় বেনিফিসিয়ারি এবং আপনি দেখবেন তার যদি একটা পরিকল্পনা না থাকত তাহলে ধাপে ধাপে তার এভাবে উন্নতিটা হত না।”

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, “জিয়া ছিলেন সেদিনের ব্লু প্রিন্টের খলনায়ক।”

বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ৭৫ এর ১৫ আগস্ট এর পর জাতির পিতার হত্যা কান্ডের বিচার দাবি ছিলো আমাদের সবার। এর পরে আমরা ৬১ টি স্বাক্ষ গ্রহন করে এই হত্যা মামলার বিচার কার্য শুরু করেছিলাম।

অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ ও ইউটিউব চ্যানেল ছাড়াও বিজয় টিভির পর্দায় এবং সময় টিভি, বিডি নিউজ২৪, বাংলা নিউজ২৪, বার্তা২৪, সমকাল, যুগান্তর, ইত্তেফাক, সারাবাংলা, ভোরের কাগজ, জাগো নিউজ২৪, বাংলাদেশ জার্নাল, ঢাকাটাইমস ও অপরাজেয় বাংলার ফেসবুক পাতায় সরাসরি প্রচারিত হয়।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত