16
Published on জুন 24, 2026
গত ২৩ জুন ছিলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। একটি দল তার জন্মদিন পালন করতে চাইছে। ফুল দেবে, মিছিল করবে, হয়তো কোথাও কোথাও কাঙালিভোজ করাবে। এর তো বেশি কিছু না।
কিন্তু এতে বিএনপি সরকারের প্রতিক্রিয়া ছিলো দেখার মতো! ঢাকায় আঠারো হাজার পুলিশ। দুইশোর বেশি চেকপোস্ট। ঢাকা, চট্টগ্রাম, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, গোপালগঞ্জ ও ফরিদপুরে সরাসরি সেনাবাহিনী। বর্ডার গার্ডও মাঠে। সেনা কর্মকর্তাদের হাতে বিশেষ নির্বাহী ক্ষমতা। ধানমন্ডি ৩২-এ ভারী ব্যারিকেড। এই মোতায়েন ২২ জুন থেকে চলবে ৩০ জুন পর্যন্ত।
একটি রাজনৈতিক দলের বার্ষিকী ঠেকাতে এই আয়োজন।
বেলুন ওড়াতে গিয়ে গ্রেপ্তার। ছোট মিছিল বের করতে গিয়ে গ্রেপ্তার। শুধু ২৩ জুনের আগে ও সেই দিনটিতে ডজন ডজন গ্রেপ্তার। এর বাইরে হাজার হাজার নেতাকর্মী আগে থেকেই হয় কারাগারে, নয়তো মামলার ভয়ে ঘর ছেড়ে আত্নগোপনে।
রাষ্ট্র একটি রাজনৈতিক দলের জন্মদিন ভয় পাচ্ছে। ভাবা যায়?
ভয়টা আসলে কীসের?
আওয়ামী লীগ ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। ভাষা আন্দোলনে এই দলের মানুষেরা রাজপথে ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছে এই দলই। স্বাধীনতার পর থেকে এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের কোনো অধ্যায় নেই যেখানে আওয়ামী লীগ অনুপস্থিত। সাম্প্রতিক সময়ে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, দারিদ্র্য কমানোর পরিসংখ্যান, এগুলোর সাথেও এই দলের নাম জড়ানো।
তাহলে এই দলটিকে নিয়ে বিএনপি সরকারের এত শঙ্কা কেন?
উত্তরটা অস্বস্তিকর হলেও একদমই সহজ। যে সরকার নিজের জনসমর্থনে সত্যিকার অর্থে আস্থাশীল, সে সরকার প্রতিপক্ষের বার্ষিকী ঠেকাতে সেনাবাহিনী নামায় না। নামায় তখনই, যখন ভেতরে কোথাও ভয় থাকে যে মাঠে নামলে জনগণের একটা বড় অংশকে এখনো ঐ দলের পাশে দেখা যাবে। যে ভিড় দেখা যাবে, তা নিজেদের অস্তিত্বকেই প্রশ্নের মুখে ফেলবে।
এই শক্তিমত্তা প্রকাশের কঠোরতা নয়। এটা বিএনপির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তারই স্বীকারোক্তি।
খেসারত দিচ্ছে সাধারণ জনগণ
এই রাজনৈতিক হিসাবনিকাশের মাঝখানে পড়ে গেছেন সাধারণ মানুষ। রাতের বেলা বাড়িতে তল্লাশি, পরিবারে উদ্বেগ, সাংবাদিকদের হেনস্তা। নাগরিকের রাজনৈতিক মতপ্রকাশের অধিকার কবে থেকে নিরাপত্তার হুমকি হয়ে উঠল, সেটা কেউ বলছে না।
২০২৪ সালের পটপরিবর্তনের পর যে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের তথাকথিত দাবি তোলা হয়েছিল, ২৩ জুনের ছবিগুলো তার সাথে কিছুতেই মেলে না।
গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষাটা এখানেই
সত্যিকারের গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রতিপক্ষ দল তার ঐতিহাসিক দিনটি পালন করতে পারে। প্রতিযোগিতা হয় ভোটের মাঠে, চেকপোস্টে নয়। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হয় না সামরিক মোতায়েন।
আন্তর্জাতিক মহল যদি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা নিয়ে সত্যিই আগ্রহী হন, তাহলে ২৩ জুনের ঘটনাগুলোয় তাদের চোখ বুজে থাকার অবকাশ নেই।
আওয়ামী লীগ এত বাঁধার পরেও টিকে থাকার চেষ্টা করছে, এটা দলটির সম্পর্কে অনেক কিছু বলে দেয়। কিন্তু বিএনপি সরকারের এই প্রতিক্রিয়া তার নিজের সম্পর্কে আরো বেশি কিছু বলে দিচ্ছে।
বাংলাদেশ এগোবে তখনই, যখন রাজনীতি হবে কথার মাঠে, ব্যারিকেডের মাঠে নয়। ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে সেই অতি সাধারণ কথাটি বলার সুযোগ পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হলো। এটাই এই মুহূর্তে বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার সবচেয়ে বড় নগ্ন প্রদর্শন ।