106
Published on জুন 23, 2026প্রিয় দেশবাসী,
প্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ী,
দেশে ও প্রবাসে বসবাসরত প্রিয় বাংলাদেশি ভাই ও বোনেরা,
আজ ২৩ জুন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই দিনটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নয়, দিনটি বাঙালি জাতির অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। ১৯৪৯ সালের এই দিনে জনগণের দাবি, মানবিক মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এবং শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
৭৭ বছরের পথচলায় এই সংগঠন কখনও জনগণের হাত ছেড়ে যায়নি, কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কোনো শাসকের অনুকম্পা, বিদেশি শক্তির প্রশ্রয় কিংবা ক্ষমতার মোহে জন্ম নেওয়া কোনো দল নয়। আওয়ামী লীগ বাংলার মাটি, বাংলার মানুষ, বাংলার ইতিহাস ও বাঙালির আত্মপরিচয়ের সঙ্গে একাকার হয়ে মিশে থাকা একটি অনুভূতির নাম।
৫২-এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৬৬-এর ছয় দফা, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর নির্বাচন, ৭১-এর ৭ মার্চ জাতির পিতার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার প্রতিটি ধাপে আওয়ামী লীগের ত্যাগ, নেতৃত্ব ও সংগ্রাম জড়িয়ে আছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখিয়েছেন, সেই স্বপ্নের জন্য জাতিকে সংগঠিত করেছেন এবং তাঁর নেতৃত্বেই বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ নামটাও তাঁরই দেয়া। অতএব বাংলাদেশের ইতিহাস মানেই আওয়ামি লীগের ইতিহাস।
স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও মর্যাদাবান সোনার বাংলা গড়ে তুলতে। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যা করে শুধু একটি পরিবারকে ধ্বংস করা হয়নি বরং আঘাত করা হয়েছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতার চেতনায়, গণতন্ত্রে, সংবিধানে এবং বাঙালির আত্মপরিচয়ে।
এরপর সামরিক শাসন, ষড়যন্ত্র, হত্যা-ক্যু, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, মৌলবাদী শক্তির পুনর্বাসন এবং গণতন্ত্রবিরোধী রাজনীতির মাধ্যমে বাংলাদেশকে বারবার পিছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ কখনও থেমে থাকেনি। কারাগার, গুম, হত্যা, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা, নিষেধাজ্ঞা এসব কিছুই আওয়ামী লীগকে জনগণের পথ থেকে সরাতে পারেনি।
আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আওয়ামী লীগের শাসনামলে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়েছি। দারিদ্র্য কমিয়েছি। শতভাগ বিদ্যুতায়ন করেছি। বাংলাদেশকে সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত করে জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছি। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল, এক্সপ্রেসওয়ে, ডিজিটাল বাংলাদেশ, কমিউনিটি ক্লিনিক, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের অগ্রগতি- এসব কোনো স্লোগান বা প্রতিশ্রুতি নয়; এগুলো বাংলাদেশের উন্নয়নের উজ্জ্বল উদাহরণ। আওয়ামী লীগের ইতিহাস মানেই উন্নয়নের ইতিহাস, জনগণের ভাগ্যোন্নয়নের ইতিহাস। আমরা বাংলাদেশকে বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলাম। আমরা প্রমাণ করেছিলাম, বাঙালি জাতি সুযোগ পেলে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ পেলে, সৎ নেতৃত্ব পেলে নিজের শক্তিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
আজ সেই বাংলাদেশ আবার গভীর সংকটে। ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অনির্বাচিত ও অসাংবিধানিক অন্তর্বর্তী সরকারের শাসনামলে ঘৃণা, বিভেদ, প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, বিচার বিভাগকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার, মিথ্যা মামলা এবং রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের যে পথ তৈরি করা হয়েছিল, তার ধারাবাহিকতা সাজানো নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও চলছে।
দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল, স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী সংগঠন আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখে, কোটি কোটি মানুষের পছন্দের দলকে ব্যালটের বাইরে রেখে নির্বাচনের নামে যে প্রহসন ১২ ফেব্রুয়ারি করা হয়েছে, তাতে জনরায়ের প্রতিফলন হয়নি। আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে হারানো হয়নি, বরং নিশ্চিত পরাজয় জেনে দেশবিরোধী শক্তি আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকেই সরিয়ে দিয়েছে। এটি শুধু আওয়ামী লীগের ওপর আঘাত নয়, এটি বাংলাদেশের মানুষের ভোটাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং সাংবিধানিক অধিকারের ওপর আঘাত।
আওয়ামী লীগের কার্যক্রমের ওপর অবৈধ নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রাখা হয়েছে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হচ্ছে। ঘরে ঘরে তল্লাশি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন, পরিবারকে হয়রানি, সহায়-সম্পত্তি দখল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নীরব করার চেষ্টা চলছে। এমনকি প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন, পতাকা উত্তোলন কিংবা রাজনৈতিক মত প্রকাশকেও অপরাধ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো অপরাধ নয়। জয় বাংলা বলা অপরাধ নয়। আওয়ামী লীগকে ভালোবাসা অপরাধ নয়। জনগণের অধিকার, ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের কথা বলা অপরাধ নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন এবং রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আপনারা কোনো দলীয় বাহিনী নন। আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী। রাজনৈতিক নির্দেশে নিরপরাধ মানুষকে গ্রেপ্তার করা, মিথ্যা মামলায় জড়ানো, শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি দমন করা এবং কোনো নাগরিককে তার রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে অপরাধী বানানো আইনসম্মত দায়িত্ব নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার।
অন্যায় নির্দেশ পালন করে কেউ ইতিহাসের দায় থেকে মুক্ত থাকতে পারে না। যারা মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছেন, যারা মায়ের কোল খালি করছেন, যারা সন্তানকে পিতার কাছ থেকে, পিতাকে সন্তানের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করছেন, যারা নিরপরাধ মানুষকে কাঁদাচ্ছেন, তাদের সবাইকে একদিন আইন, ইতিহাস এবং জনগণের আদালতে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
আমি প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিবেকবান সদস্যদের বলছি, জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন না। সংবিধানের পক্ষে দাঁড়ান। আইনের পক্ষে দাঁড়ান। মানবতার পক্ষে দাঁড়ান। কোনো সরকার স্থায়ী নয়, কোনো ক্ষমতাই স্থায়ী নয়, কেবলমাত্র জনগণই চিরস্থায়ী। তাই জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিবেন না।
প্রিয় নেতা-কর্মী ভাই ও বোনেরা,
আমি জানি, আপনারা কঠিন সময় পার করছেন। কেউ কারাগারে, কেউ মিথ্যা মামলার বোঝা নিয়ে ঘরছাড়া, কেউ আহত, কেউ পঙ্গু, কেউ প্রিয়জন হারিয়েছেন। অনেকের ঘরবাড়ি ভাঙা হয়েছে, ব্যবসা বন্ধ করা হয়েছে, চাকরি কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সন্তানদের ভয় দেখানো হয়েছে। তবুও আপনারা মাথা নত করেননি।
আপনাদের এই ত্যাগ আমি জানি। আপনাদের কষ্ট আমি অনুভব করি। আমার অনুপস্থিতি নীরবতা নয়। আমি দূরে থাকলেও আপনাদের সঙ্গে আছি। বাংলাদেশের মানুষের পাশে আছি। আওয়ামী লীগের প্রতিটি কর্মীর ত্যাগ, সাহস ও বেদনার সঙ্গে আছি। কূটনৈতিকভাবে, রাজনৈতিকভাবে, আইনি পথে এবং আন্তর্জাতিক জনমত গঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম অব্যাহত আছে। আপনারা মনে রাখবেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে রাখা যায়, কিন্তু জনগণের হৃদয় থেকে আওয়ামী লীগকে মুছে ফেলা যায় না। আওয়ামী লীগ বাংলার ইতিহাস, বাংলার সংগ্রাম, বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। মামলা দিয়ে, নিষেধাজ্ঞা দিয়ে, ভয় দেখিয়ে, অপপ্রচার চালিয়ে এই দলকে শেষ করা যাবে না।
বাংলাদেশ আজ দুটি পথের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, গণতন্ত্র, অসাম্প্রদায়িকতা, আইনের শাসন, মানুষের ভোটাধিকার ও উন্নয়নের পথ। অন্যদিকে প্রতিহিংসা, মব-সন্ত্রাস, মৌলবাদ, মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি, রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং অন্ধকারের পথ। আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ অন্ধকারের পথ বেছে নেবে না। এই জাতি ১৯৫২ দেখেছে, ১৯৬৬ দেখেছে, ১৯৬৯ দেখেছে, ১৯৭১ দেখেছে। বাঙালি জাতিকে ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যায় না। ইতিহাসে বারবার প্রমাণ হয়েছে, জনগণের শক্তির কাছে অন্যায় ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়।
আওয়ামী লীগ ৭৭ বছরের পথচলায় বহুবার আঘাত পেয়েছে, বহুবার রক্ত দিয়েছে, বহুবার ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হয়েছে। কিন্তু প্রতিবারই আওয়ামী লীগ জনগণের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এবারও দাঁড়াবে, ইনশাআল্লাহ। জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনা হবে। আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধিকার পুনরুদ্ধার হবে। গণতন্ত্র ফিরে আসবে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগিয়ে যাবে।
আমি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বলছি, আপনারা ঐক্যবদ্ধ হোন, জনগণের পাশে থাকুন। প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি মহল্লা, প্রতিটি ওয়ার্ড, প্রতিটি ইউনিয়নে মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করুন। নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ান। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, নারী, শিশু, শ্রমজীবী মানুষ, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে থাকুন। আমাদের রাজনীতি প্রতিশোধের নয়; আমাদের রাজনীতি মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার রাজনীতি।
প্রিয় দেশবাসী,
আমি ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করি না। আমি রাজনীতি করি বাংলাদেশের মানুষের জন্য, আমার পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার জন্য, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, গরিব-দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য। আমি জানি, এই পথ কঠিন। কিন্তু আওয়ামী লীগের ইতিহাস কঠিন পথ অতিক্রম করার ইতিহাস। আমরা পরাজিত হওয়ার জন্য জন্মাইনি। আমরা অন্যায়ের কাছে মাথা নত করার জন্য সংগ্রাম করিনি। আমরা জনগণের অধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য লড়েছি, লড়ছি এবং লড়ব।
১৯৮১ সালে আমি দেশে ফিরে এসেছিলাম গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি আমার বাবা-মা, ভাইসহ পরিবারের প্রায় সবাইকে হারিয়েছি, কিন্তু বাংলাদেশের মানুষকে কখনও ছেড়ে যাইনি। এই দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম থেকে কখনও পিছু হটিনি।
আমি আবারও ফিরব বাংলার মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। আমি ফিরব গণতন্ত্র, আইনের শাসন, জনগণের ভোটাধিকার এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার নিয়ে। আমি ফিরব জনগণের শক্তিতে। বাংলাদেশের মানুষ ফিরিয়ে আনবে তাদের গণতন্ত্র, তাদের অধিকার, তাদের মর্যাদা।
আমি দেশের সকল গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক শক্তিকে আহ্বান জানাই, ভয়কে জয় করুন। বিভাজনের রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করুন। প্রতিহিংসার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করুন। মিথ্যা প্রচারণা, সাম্প্রদায়িকতা, উগ্রবাদ ও দেশবিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হন। আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা মানে শুধু একটি দলের ওপর নিষেধাজ্ঞা নয়; এটি জনগণের রাজনৈতিক পছন্দের ওপর নিষেধাজ্ঞা। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।
এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিনে আমি শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, জাতীয় চার নেতাকে, মহান মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদ ও দুই লক্ষ নির্যাতিত মা-বোনকে, ১৫ আগস্টের শহীদদের, গণতন্ত্রের সংগ্রামে শহীদ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের, এবং সাম্প্রতিক দমন-পীড়নে নিহত, আহত, পঙ্গু, কারাবন্দী ও ঘরছাড়া সকল সহযোদ্ধাকে। আপনাদের এই ত্যাগ বৃথা যাবে না। আওয়ামী লীগের সংগ্রাম থামবে না। বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবেই।
আসুন, ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে আমরা নতুন করে শপথ করি, ভয় নয়, সাহস; বিভেদ নয়, ঐক্য; প্রতিহিংসা নয়, ন্যায়বিচার; অন্ধকার নয়, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আলোকিত পথেই বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে হবে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ জনগণের সঙ্গে ছিল, জনগণের সঙ্গে আছে, জনগণের সঙ্গে থাকবে। জনগণের শক্তিতেই আওয়ামী লীগ আবার ঘুরে দাঁড়াবে, গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনবে, দেশবিরোধী অপশক্তির সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে বাংলাদেশকে আবার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পথে এগিয়ে নেবে, জাতির পিতার স্বপ্নের সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা বিনির্মাণ করবে।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
শেখ হাসিনা
সভাপতি
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ