493
Published on মে 18, 2026ইউনুস এবং বিএনপি শাসনকালে অর্থাৎ গত দুই বছরে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হামলা, মামলা, হুমকি এবং অনুষ্ঠান বাধাগ্রস্ত হওয়ার অসংখ্য তথ্য ফুটে উঠেছে । বাউল, নাট্যকর্মী, চলচ্চিত্রশিল্পী থেকে শুরু করে কবি-সাহিত্যিক পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ এই পরিস্থিতির শিকার হয়েছেন। এই গুলো একটিও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং একটি ধারাবাহিক নিরাপত্তা ও মতপ্রকাশ সংকট এবং উগ্রবাদীদের আস্ফলন।
ইউনুস ধর্মীয় উগ্রতা ছড়িয়ে এবং উগ্রবাদিদের প্রশ্রয় দিয়ে মব সহিংসতা চালিয়েছে। সূত্রভিত্তিক সংগঠনগুলোর হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ২,০০০-এর বেশি লোকশিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
লোকশিল্পীদের ওপর হামলা-
ময়মনসিংহের তারাকান্দায় এক ৭০ বছর বয়সী বাউলশিল্পীর চুল ও দাড়ি কেটে দেওয়ার ঘটনা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাউল ও ফকির সম্প্রদায়ের ওপর হামলা, অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও উঠে আসে।
বাউল সংগঠনগুলোর দাবি অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি শিল্পী কোনো না কোনোভাবে হয়রানি, হামলা বা বাধার মুখে পড়েছেন।
সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে বাধা-
মানিকগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে বাউলদের সমাবেশে হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ঘটনায় শিল্পীরা আহত হন এবং অনুষ্ঠান বন্ধ হয়ে যায়।
লোকসংস্কৃতি সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, মাঠপর্যায়ে ভয়ভীতি ও চাপের কারণে অনেক শিল্পী এখন প্রকাশ্যে অনুষ্ঠান করতে পারছেন না।
নাট্য ও মঞ্চশিল্পে সংকট-
নাট্যকার ও সংগঠকরা অভিযোগ করেছেন, মঞ্চনাটক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে বাধা তৈরি হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে হামলা, ডিম নিক্ষেপ এবং অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
গ্রাম থিয়েটার ও বিভিন্ন আঞ্চলিক নাট্য সংগঠনের কয়েকজন নেতা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন এবং কেউ কেউ কারাভোগও করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চলচ্চিত্র ও মিডিয়া অঙ্গনে মামলা ও হয়রানির অভিযোগ-
চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অঙ্গনের একাধিক শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের দাবি, এসব মামলার অনেকগুলো রাজনৈতিক বা প্রতিহিংসামূলক প্রেক্ষাপটে হয়েছে।
ভিন্নমত ও রাজনৈতিক বিতর্ক-
কিছু সাংস্কৃতিক সংগঠক অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথেষ্ট কঠোরতা না থাকায় মব সহিংসতা ও ভয়ভীতি বৃদ্ধি পেয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দাবি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সীমাবদ্ধতা থাকলেও সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করা হয়েছে এবং অনেক ঘটনার তদন্ত চলছে।
২,০০০-এর বেশি শিল্পী ও সাংস্কৃতিক কর্মী কোনো না কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
|
ক্যাটাগরি |
অভিযোগ/ঘটনারধরন |
আনুমানিকসংখ্যা (সূত্রভিত্তিকদাবি) |
|
বাউলওলোকশিল্পী |
হামলা, অনুষ্ঠান বন্ধ, মাজার ভাঙচুর |
~২০০০ জন ক্ষতিগ্রস্ত |
|
নাট্যকর্মী |
হামলা, মামলা, বাধা |
বহু আঞ্চলিক ঘটনায় ছড়িয়ে |
|
চলচ্চিত্রওমিডিয়া |
মামলা, গ্রেপ্তার, হয়রানি |
শতাধিক ব্যক্তি জড়িত অভিযোগ |
|
লেখক-কবি |
মামলা, হুমকি |
একাধিক নাম উল্লেখিত |
|
সাংস্কৃতিকপ্রতিষ্ঠান |
ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ |
শতাধিক স্থাপনা দাবি |
এই ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখা কঠিন। কোথাও ধর্মীয় উগ্রতা, কোথাও রাজনৈতিক উত্তেজনা, আবার কোথাও সামাজিক দ্বন্দ্ব এই পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। বাউলের চুল কাটা থেকে নাট্যকর্মীর ওপর হামলা, শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা থেকে সাংস্কৃতিক আয়োজন বন্ধ হওয়া পর্যন্ত একের পর এক ঘটনায় বড় প্রশ্ন উঠছে: তবে কি ভয়, মব সহিংসতা আর উগ্রতার ছায়ায় কি সংকুচিত হচ্ছে বাংলাদেশের সংস্কৃতির পরিসর?
ধর্মীয় উগ্রতা ছড়িয়ে যদি শিল্প, সংস্কৃতি ও মতপ্রকাশের জায়গা যদি ভয় ও অনিশ্চয়তায় ঢেকে দেওয়া হয়, তাহলে ক্ষতি শুধু শিল্পীর নয়, পুরো সমাজের।