শোকের মাস আগস্ট : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মাসব্যাপী কর্মসূচি

556

Published on আগস্ট 1, 2023
  • Details Image

শোকের মাস আগস্ট মাস। এই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত হয়েছে ইতিহাসের ভয়াবহতম হত্যাকাণ্ড ও নারকীয় গ্রেনেড হামলা। ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। মানব সভ্যতার ইতিহাসে ঘৃণ্য ও নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের কালিমালিপ্ত বেদনাবিধূর শোকের দিন। ১৯৭৫ সালের এই দিনে মানবতার শত্রু প্রতিক্রিয়াশীল ঘাতকচক্রের হাতে বাঙালি জাতির মুক্তি আন্দোলনের মহানায়ক, বিশ্বের লাঞ্ছিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত মানুষের মহান নেতা, বাংলা ও বাঙালির হাজার বছরের আরাধ্য পুরুষ, বাঙালির নিরন্তন প্রেরণার চিরন্তন উৎস, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। 

সেদিন ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম এই হত্যাকাণ্ডে বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী, মহিয়সী নারী শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব, বঙ্গবন্ধুর একমাত্র ভ্রাতা শেখ আবু নাসের, জাতির পিতার জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, দ্বিতীয় পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট  শেখ জামাল, কনিষ্ঠ পুত্র নিষ্পাপ শিশু শেখ রাসেল, নবপরিণীতা পুত্রবধূ সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বেগম আরজু মণি, স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম সংগঠক ও জাতির পিতার ভগ্নিপতি আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, তাঁর ছোট মেয়ে বেবী সেরনিয়াবাত, কনিষ্ঠ পুত্র আরিফ সেরনিয়াবাত, দৌহিত্র সুকান্ত আব্দুল্লাহ বাবু, ভাইয়ের ছেলে শহীদ সেরনিয়াবাত, আব্দুল নঈম খান রিন্টু, বঙ্গবন্ধুর প্রধান সামরিক সচিব কর্নেল জামিল উদ্দিন আহমেদ ও কর্তব্যরত অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী নৃশংসভাবে নিহত হন।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর সকল অনুভূতি, ত্যাগ, সংগ্রাম, বীরত্বপূর্ণ নেতৃত্ব, অদম্য স্পৃহা, দৃঢ় প্রত্যয়, বাঙালি জাতির প্রতি গভীর ভালোবাসা, মমত্ববোধ, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও আদর্শের দ্বারা সমগ্র বাঙালি জাতিকে উজ্জীবিত করে স্বাধীনতা অর্জনের চূড়ান্ত আত্মত্যাগে দীক্ষিত করে তুলেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ’৪৮-এর ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগের জন্মলাভ, ’৪৮-এর মার্চে উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা ঘোষণার প্রতিবাদে আন্দোলন, ’৪৯-এর ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম, ’৫২-এর রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ’৫৪-এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, ’৬৮-এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১১-দফা, ’৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭০-এর নির্বাচনে ‘আওয়ামী লীগ’-এর নিরঙ্কুশ বিজয়সহ ইতিহাস সৃষ্টিকারী নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের আকাক্সক্ষা চূড়ান্ত লক্ষ্যে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতা সংগ্রামের অগ্নিশপথে ঐক্যবদ্ধ হয় বাঙালি জাতি। ২৬শে মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করলে শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ। বঙ্গবন্ধুর কালজয়ী নেতৃত্বে পাকিস্তানি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতা ও মুক্তির প্রতীক। তিনি বাংলার মাটি ও মানুষের পরম আত্মীয়, শত বছরের ঘোর নিশীথিনীর তিমির বিদারী অরুণ, ইতিহাসের বিস্ময়কর নেতৃত্বের কালজয়ী স্রষ্টা, বাংলার ইতিহাসের মহানায়ক, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা। বাঙালি জাতির পিতা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি। উন্নত সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’র স্বপ্নসারথি।

’৭৫-এর ১৫ই আগস্ট নরপিশাচ রূপি খুনিরা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া বন্ধ করতে ঘৃণ্য ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট থেকে দীর্ঘ ২১ বছর বাঙালি জাতি বিচারহীনতার কলঙ্ককের বোঝা বহন করতে বাধ্য হয়। জাতির পিতার সুযোগ্যকন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত সরকার বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে নিয়মতান্ত্রিক বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ২০১০ সালে ঘাতকদের ফাঁসির রায় কার্যকর করার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করে। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, বাংলার মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবেই। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সকল ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েও ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের প্রক্রিয়া শুরু করেন।

বাঙালির মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান চিরঞ্জীবÑ তাঁর চেতনা অবিনশ্বর। বাঙালি জাতির অস্থিমজ্জায় মিশে আছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। মুজিবাদর্শে শাণিত বাংলার আকাশ-বাতাস জল-সমতল। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মের কাছে শেখ মুজিবুর রহমানের অবিনাশী চেতনা ও আদর্শ চির প্রবাহমান থাকবে।

জাতির পিতা চেয়েছিলেন ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের জনগণের মুক্তির যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তাঁর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার বলিষ্ঠ নেতৃত্বে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে জয় করে বিশ্বসভায় একটি উন্নয়নশীল, মর্যাদাবান জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ। সারা বিশ্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের রোল মডেল।

শোকাবহ আগস্টে সমগ্র জাতির সঙ্গে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী, ভ্রাতৃপ্রতিম ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক- রাজনৈতিক সংগঠনসমূহ যথাযোগ্য মর্যাদা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও ভাবগম্ভীর আর বেদনাবিধূঁর পরিবেশে মাসব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় শোক দিবস পালন করবে 

আগামী ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৮তম শাহাদাতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস যথাযথ মর্যাদার সাথে পালন করবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। প্রতিবারের ন্যায় এবারও শোকার্ত বাঙালি জাতির সাথে একাত্ম হয়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয়ভাবে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। যথাযথ স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে মাসব্যাপী শোক দিবসের বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক এবং সকল সহযোগী, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনসমূহের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। একইসাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সকল জেলা, মহানগর, উপজেলা, থানা, পৌর, ইউনিয়ন, ওয়ার্ডসহ সমস্ত শাখার নেতৃবৃন্দকে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গৃহীত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে সঙ্গতি রেখে কর্মসূচি পালনের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী ও ভাতৃপ্রতিম সংগঠনসমূহের মাসব্যাপী কর্মসূচি নিম্নরূপ :

জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি

১ আগস্ট সকাল ১০টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে কৃষক লীগের আয়োজনে রক্ত ও প্লাজমা দান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বেলা ১১টায় যুব মহিলা লীগ জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাবে।

৩ আগস্ট বৃহস্পতিবার ছাত্রলীগ দেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ‘মিনতি আজ করি পিতা, একবার এসে দেখে যান’ শীর্ষক তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে প্রতীকী ‘পত্র প্রেরণ’ কর্মসূচি পালন করবে।

৫ আগস্ট শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৮টায় আবাহনী ক্লাব প্রাঙ্গণে তার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন। বেলা ১১টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয় শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। এছাড়া শহীদ শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং দুস্থ, এতিম ও অসহায়দের মাঝে খাবার বিতরণ করতে যুবলীগ। একই দিন বেলা ১১ টায় শেখ কামালের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। বিকাল ৩টায় আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শ্রমিক লীগ।

৮ আগস্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন, কোরান খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল করবে আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনসমূহ। এছাড়া বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে ‘প্রেরণা দিয়েছে, শক্তি দিয়াছে বিজয়-লক্ষ্মী নারী’ শীর্ষক আলোচনা সভা করবে আওয়ামী যুবলীগ।

দুপুর ২টা বাদ যোহর স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানায় এতিমদের মাঝে খাদ্য বিতরণ ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগ। বিকেল তিনটায় আলোচনা সভা ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শ্রমিক লীগ। একইদিনে গোপালগঞ্জ টুঙ্গিপাড়ায় দিনব্যাপী ফ্রি হেলথ ক্যাম্প আয়োজন করবে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ। বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী উদযাপন ও ‘বাংলাদেশের মাতা, বাংলাদেশের নেতা’ শীর্ষক ছাত্রী সমাবেশ করবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। আলোচনা সভা করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

৯ আগস্ট সকাল ১০টায় বঙ্গমাতা শহীদ শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্মদিন উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

১১ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ।

১২ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি পালন করবে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। একইদিন বিকাল ৩টায় বিএসএমএমইউ’র বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিব কনভেনশন সেন্টারে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ।

১৩ আগস্ট, ১৫ আগস্টের শহীদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ, দেশব্যাপী শিশুদের ‘বঙ্গবন্ধু চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা’ আয়োজন করবে ছাত্রলীগ। ধানমন্ডি ৩২ ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী (১৩ আগস্ট-১৫ আগস্ট) আলোকচিত্র প্রদর্শনী করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। ১৫ আগস্টের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে এনে শাস্তি কার্যকর করার দাবিতে মানববন্ধন করবে যুব মহিলা লীগ।

১৪ আগস্ট মিলাদ, দোয়া মাহফিল, আলোচনা ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগ।

১৫ আগস্টের জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারাদেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন। সকাল সাড়ে ৬টায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্মৃতি-বিজড়িত ধানমন্ডির বঙ্গবন্ধু ভবন প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ। সকাল ৮টায় বনানী কবরস্থানে ১৫ আগস্টের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন, মাজার জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ, মোনাজাত ও মিলাদ মাহফিল। বেলা ১২টায় টুঙ্গীপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন, ফাতেহা পাঠ, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

উক্ত কর্মসূচিতে আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল, গোপালগঞ্জ জেলা ও টুঙ্গীপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা উপস্থিত থাকবেন। 

এছাড়াও বাদ জোহর কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমসহ দেশের সব মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল। মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, উপাসনালয়ে দেশব্যাপী বিশেষ প্রার্থনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে ওইদিন প্রথম প্রহরে (রাত ১২:০১ মিনিট) মিরপুর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে (৩/৭-এ সেনপাড়া, পর্বতা, মিরপুর-১০) মোমবাতি প্রজ্বলন ও বিশেষ প্রার্থনা, সকাল ৯টায় তেজগাঁও হলি রোজারি চার্চে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করবে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়, সকাল ১০টায় রাজধানীর মেরুল বাড্ডার আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ সম্প্রদায় এবং বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায় প্রার্থনা সভার আয়োজন করবে। দুপুর সারাদেশে অসচ্ছল, এতিম ও দুস্থ মানুষদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ ও গণ ভোজের আয়োজন করা হয়েছে।

১৬ আগস্ট বিকেল ৪টায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করবেন।

১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে বেলা ১১টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা। মানববন্ধন করবে স্বেচ্ছাসেবক লীগ। দেশ বিরোধী, মানবতা বিরোধী, সন্ত্রাসী সংগঠন বিএনপি-জামাতের দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার প্রতিবাদে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মহানগর, জেলা, উপজেলায় ‘সন্ত্রাস ও মৌলবাদ’ বিরোধী পদযাত্রা করবে ছাত্রলীগ।

১৯ আগস্ট সকাল ১০টায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে মহিলা শ্রমিক লীগ। বিকেল তিনটায় একই স্থানে আলোচনা সভা করবে জাতীয় শ্রমিক লীগ।

২০ আগস্ট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি) অডিটোরিয়ামে কৃষক সন্তানদের মাঝে বঙ্গবন্ধুর উপর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে বাংলাদেশ কৃষক লীগ।

২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে সকাল ১০টায় ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোচনা সভার আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ। বিকেল ৫টা ২১ মিনিটে গ্রেনেড হামলায় নিহত শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন ও আলোক শিখা প্রজ্বলন করবে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ। এছাড়া আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল করবে কৃষকলীগ।

২২ আগস্ট কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ঢাকা মহানগর উত্তর কৃষক লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে কৃষক লীগ।

২৩ আগস্ট, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে ও আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে মহিলা আওয়ামী লীগ।

২৪ আগস্ট সকাল ৯টায় বনানী কবরস্থান ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় শহীদ নারী নেত্রী বেগম আইভী রহমানের স্মরণে শ্রদ্ধা নিবেদন, দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে আয়োজন করবে আওয়ামী লীগ, ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনসমূহ। বিকেল ৩টায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকা বেগম আইভী রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভা করবে জাতীয় শ্রমিক লীগ।

২৫ আগস্ট, ১৫ ও ২১ আগস্ট নিহত শহীদদের স্মরণে মিলাদ, দোয়া মাহফিল ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করবে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগ। বঙ্গবন্ধু স্মারক বক্তৃতা আয়োজন করবে ছাত্রলীগ।

২৬ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ। ২১ আগস্ট নারকীয় গ্রেনেড হামলায় জড়িত নীল-নকশাকারীদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন করবে মহিলা শ্রমিক লীগ।বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শোকাবহ আগস্ট স্মরণানুষ্ঠান করবে আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক উপ-কমিটি। এছাড়া ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা করবে যুব মহিলা লীগ ও জাতীয় শ্রমিক লীগ।

২৭ আগস্ট জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদ প্রাঙ্গণে কবির সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠন।

৩০ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ।

৩১ আগস্ট, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা বাংলাদেশ কৃষক লীগ। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা করবে ছাত্রলীগ। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

এছাড়া আওয়ামী যুবলীগ ‘শোক থেকে শক্তি; শক্তি থেকে জাগরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভার মাধ্যমে মাসব্যাপী কর্মসূচি শেষ হবে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত