জিয়া পরিবারের কমিশন বাণিজ্য: পাঁচ বছরে বিমানের আড়াই হাজার কোটি টাকা লুটপাট

462

Published on নভেম্বর 10, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সরকারে থাকার সময় দেশজুড়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রকল্প এবং সরকারি বরাদ্দে হরিলুট চালিয়েছে বিএনপি-জামায়াত নেতারা। বিশেষ করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা কমিশন বাণিজ্যের মাধ্যমে অবৈধভাবে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয়। বাংলাদেশ বিমানের মতো একটি প্রতিষ্ঠানকে দুর্নীতির মাধ্যমে চুষে খেয়ে নিঃস্ব করে দিয়েছিল খালেদা জিয়ার ছোট ভাই ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার শামীম ইস্কান্দার ও জিয়া পরিবারের আত্মীয় তৎকালীন বিমান প্রতিমন্ত্রী মীর নাসির। ক্ষমতা ছাড়ার চার মাস আগেও বিমানের ১০০ কোটি টাকার কাজ বাগিয়ে নেয় তারা।

২০০৭ সালের ৯ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তে জানা যায়, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) জ্বালানি বাবদ বিমানের কাছে দেড় হাজার কোটি টাকা পাবে। এছাড়াও দেশে-বিদেশে বিমানের দেনা আরো প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। জোট সরকারের পাঁচ বছরে বিমান যখন এই আড়াই হাজার কোটি টাকার লোকসানে পড়ে, ঠিক সেই সময়েই বেসরকারি বিমান সংস্থা জিএমজি নিজেদের ব্যবসার বিপুল লাভ ও প্রসার অর্জন করেছে।

বিমানের কর্মকর্তারা বলেন, খালেদা জিয়ার ভাই ফ্লাইট ইঞ্জিনিয়ার শামীম ইস্কান্দার এবং প্রতিমন্ত্রী মীর নাসির পাঁচ বছরে বিমানকে ধ্বংস করে দিয়েছে। মীর নাসির কয়েকশ কোটি এবং শামীম এস্কান্দার ও তার শ্যালক কমপক্ষে আড়াইশ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্য করেছে। দুর্নীতির দায় থেকে বাঁচার জন্য সরকারের শেষের দিকে চাকরি ছেড়ে দেয় শামীম।
মূলত- বিমানের লিজ, বিমানের যন্ত্রাংশ রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত, প্রভৃতি কাজের জন্য নিজের শ্যালক শাহেদুল হককে দিয়ে কাগুজে প্রতিষ্ঠান খোলায় শামীম। এরপর বিদেশি কোম্পানির দেশীয় এজেন্ট হিসেবে সেগুলোর মাধ্যমে কাজ পাইয়ে দেয় বিদেশি কোম্পানিগুলোকে। এরমাধ্যমে মোটা অংকের কমিশন আদায় করতো তারা। এছাড়াও শামীম ইস্কান্দার প্রভাব খাটিয়ে বিদেশ থেকে চারটি বিমান ভাড়া করে যাত্রী সেবার জন্য। পাঁচ বছরে বিমানগুলোর পেছনে খরচ হয় ২৫০ কোটি টাকা। অথচ ওই টাকা দিয়ে ছয়টি বিমান কেনাই যেতো। এমনকি দ্বিগুণ দামে দুটি ডিসি-১০ ভাড়া নিয়ে পাঁচ বছরে ১০০ কোটি টাকা শুধু মেরামত বাবদই খরচ করা হয়েছে। ৪০ লাখ ডলারে এই বিমান দুটি কিনতেই পাওয়া যেতো, অথচ পাঁচ বছরে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার ভাড়া পরিশোধ করা হয় এগুলোর জন্য। ঠিক এভাবেই আমেরিকার একটি এয়ারবাসের ক্ষেত্রেও এরূপ দুর্নীতি করে শামীম।
চট্টগ্রামের মেয়র নির্বাচনের সময় মীর নাসিরকে জিয়া পরিবারের একজন বলে অভিহিত করেছিল তারেক রহমান। বিমানের কেনাকাটা, নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি থেকে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করে এই নাসির। এছাড়াও ক্রয়, লিজ ও পুরনো বিমান বিক্রির নামেও টাকার পাহাড় গড়ে তোলে সে।

বিমানকে বাঁচাতে জোট সরকার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় একপর্যায়ে বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেরাই সম্মিলিত সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে এবং দুর্নীতিবাজদের বিচার দাবি করে। কিন্তু সরকার সেদিকে কর্ণপাত করেনি। পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়খ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এসব অনিময়, দুর্নীতি এবং কমিশন বাণিজ্যে হরিলুটের তথ্য জনসম্মুখে আসে।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত