২০০১ থেকে ২০০৬: স্পিরিট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দখল, প্রতি মাসে ২ লাখ করে চাঁদা নিতো তারেক

507

Published on নভেম্বর 10, 2022
  • Details Image

২০০১ সালের অক্টোবরে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠনের পরপরই রাজধানীর মার্শাল ডিস্টিলারিজ নামের একটি রেকটিফায়েড স্পিরিট কোম্পানি দখলে নেয় তারেক রহমান। এরপর ২০০২ সালের মার্চ মাস থেকে প্রতিমাসে দুই লাখ টাকা হারে চাঁদা নিতো। এমনকি তারেকের ড্রাইভার মিজানের বেতনের টাকাও পরিশোধ করতে হতো মার্শাল ডিস্টিলারির প্রকৃত মালিক হারুন ফেরদৌসীকে। এছাড়াও ২০০৫ সালে রেজা কন্সট্রাকশানের কাছে সড়ক উন্নয়ন কাজের বরাদ্দ থেকে ১০ শতাংশ টাকা আদায় করে তারেক। হাওয়া ভবনের নির্দেশে ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে প্রাণ হারানোর ভয়ে কেউ প্রতিবাদ করেনি তখন।

কিন্তু জোট সরকারের পতনের পর, ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় খালেদা জিয়ার ছেলে তারেক রহমান, তার বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুন এবং বিএনপি সরকারের এমপি খায়রুল কবির খোকনের নামে চাঁদাবাজির মামলা করে ভুক্তভোগীরা। ২০০৭ সালের ২৯ মার্চ প্রথম আলো পত্রিকায় এই সংবাদ প্রকাশ হয়।

মার্শাল ডিস্টিলারিজের মালিক হারুন ফেরদৌসী জানান, ২০০১ সালের শেষের দিকে তারেক রহমান ও তার বন্ধু তাকে বনানীর রহমান নেভিগেশনের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে যায়। তার অফিসকে কাকরাইল থেকে শিফট করে সেখানে স্থাপন করতে বলে। ২০০২ সালের ২ মার্চ তারেকের উপস্থিতিতে মামুন তাকে ডেকে নিয়ে তাদের দুজনের প্রত্যেককে প্রতিমাসে এক লাখ টাকা করে দিতে বলে। নাহলে প্রতিষ্ঠান বন্ধের হুমকি দেয়। এরপর বাবুলের মাধ্যমে ২০০৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিমাসে টাকা দেওয়া হয়। এভাবে তারেককে ৪৬ লাখ ও মামুনকে ৩৫ লাখ টাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগপত্রে জানান তিনি।

এদিকে গুলশানের ব্যবসায়ী ও রেজা কন্সট্রাকশানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফতাবউদ্দিন তার অভিযোগে জানান, তার প্রতিষ্ঠানটি এমবিইএল নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথভাবে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সড়ক উন্নয়নের জন্য ১৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কাজ পায়। কার্যাদেশ পাওয়ার পরের দিন, ২০০৫ সালের ২৪ জুন গিয়াসউদ্দিন আল মামুন তাকে ফোন করে ১০ শতাংশ টাকা দাবি করে। ২৫ জুন এমপি খায়রুল কবির খোকন তাকে চেকবইসহ গুলশানে সিলভার টাওয়ারে মামুনের অফিসে যেতে বলে। সেখানে গিয়ে এক কোটি ৩২ লাখ টাকার চেক দেন তিনি। পরের দিন সেই টাকা তোলা হয়। এরপর খায়রুল কবির খোকন ও তারেকের সহযোগী (এপিএস) নুরুদ্দিন অপু আবারো ২০ লাখ টাকা চেয়ে প্রাণের হুমকি দেয়, বাধ্য হয়ে আবারো ১৬ লাখ টাকা দেন তিনি।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত