খালেদা জিয়ার শাসনামল: পাচার করা দুই হাজার কোটি টাকা ইউরোপ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে বিনিয়োগ করে তারেক রহমান

3724

Published on নভেম্বর 4, 2022
  • Details Image

২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পাঁচ বছরে কমিশন বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, দুর্নীতির মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক হয় তারেক রহমান। এসব অর্থ তার ব্যবসায়িক বন্ধু গিয়াসউদ্দিন আল মামুনের মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হয়। এমনকি বিদেশে থাকা পাঁচটি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ইউরোপের কয়েকটি দেশ, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে এই পাচার করা অর্থের একটা অংশ বিনিয়োগ করে তারা। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক তারেক রহমান জানায়- বিদেশে টাকা পাঠানো এবং বিনিয়োগের ব্যাপারগুলো মামুন ও সিলভার সেলিম দেখাশোনা করতো। দেশের ব্যবসাগুলো দেখতো তার ভাই আরাফাত রহমান কোকো, বন্ধু মামুন এবং মামা সাঈদ ইস্কান্দার।

২০০৭ সালের ১২ মার্চ যুগান্তর, ১৩ মার্চ দৈনিক দিনকাল, ১৪ মার্চ ও ২২ মার্চ ভোরের কাগজ এবং ১৫ মার্চ ইত্তেফাক পত্রিকায় এসব সংবাদ প্রকাশ হয়।

জানা যায়, যৌথ বাহিনীর কাছে প্রথমে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছিল তারেক রহমান। কিন্তু তার বন্ধু তাদের মামুন অর্থ উপার্জনের সোর্স এবং বিদেশের পাঠানো অর্থের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়। এরপর সেই ভিডিও দেখানো হয় তারেক রহমানকে। এরপর ভেঙে পড়ে সে এবং নিজেও এসব বিষয়ে কথা বলে। এমনকি পাঁচটি বিদেশি ব্যাংকে তার নিজের নামে থাকা অ্যাকাউন্টগুলো সম্পর্কেও তথ্য দেয় তারেক। ইউরোপ, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি কয়েকটি দেশে তার বিনিয়োগ আছে বলেও স্বীকার করে।

বিজ্ঞাপনী ব্যবসার মাধ্যমে প্রচুর টাকা উপার্জনের কথা জানায় তারেক। সে আরও জানায় যে, বিজ্ঞাপনী ব্যবসা থেকে সে টাকা পেরেও এটি মূলত কোকো দেখতো। প্রভাব খাটিয়ে বড় বড় বিজ্ঞাপনের কাজগুলো হাতিয়ে নিতো। এমনকি কোনো বিদেশি বিজ্ঞাপনী কোম্পানি কাজ পেরেও তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতো তারেকের হাওয়া ভবন চক্র। কমিশন না দিয়ে কেউ ব্যবসা করতে পারেনি জোট সরকারের পাঁচ বছর। অ্যাড ফার্মের নামে সরকারি ও বেসরকারি বিজ্ঞাপনী ব্যবসা থেকে কয়েকগুণ বেশি দরে টাকা আদায় করতো কোকো। বিটিভির পিক আওয়ারের চাঙ্ক ও বিলবোর্ড ব্যবসার নামেও কোটি কোটি টাকা হরিলুট করে খালেদা জিয়ার পরিবারের সদস্যরা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিদেশে তারেক রহমানের পাচার করা দুই হাজার কোটি টাকার সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তকারী দল। এরপর সেই অর্থ ফেরানোর জন্য জাতিসংঘের সহযোগিতা চায় তারা। একটি চাঁদাবাজির মামলায় তারেক রহমান ও তার বন্ধু মামুনকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদও করে গোয়েন্দারা। এরপর মামুনকে সঙ্গে নিয়ে সুইজারল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও ইউরোপের একটি দেশে গিয়ে সেখানকার ব্যাংক থেকে তারেকের কোটি কোটি টাকার খোঁজ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরপর তারেক ও মামুনের দেওয়া বক্তব্য অনুসারে, তারেক রহমানের দুই হাজার কোটি টাকার সম্পদের সন্ধান পায় তদন্ত দল।

তদন্ত দল জানায়- দক্ষিণ আফ্রিকার ১৫ মিলিয়ন প্রজেক্টেও বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে তারেক। মালয়েশিয়াতে তার জব্দ হওয়া ২৩০ মিলিয়ন ডলারের ব্যাপারেও কথা হয়েছে তার সাথে। এমনকি বিমান, যোগাযোগ, সিএনজি, বিদ্যুৎ সেক্টর থেকেও প্রচুর টাকা কমিশন নিয়েছে সে। ঢাকার ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এক ব্যবসায়ীর মুখোমুখি করা হলে তার কাছ থেকে এক কোটি টাকা নেওয়ার তথ্যও স্বীকার করে তারেক রহমান। সে আরো জানায়- ২০০৭ সালের জানুয়ারিতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল, সেটাকে কেন্দ্র করে মনোনয়ন বাবদও অনেক টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল। হাওয়া ভবনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ৩০ জন মন্ত্রী-এমপি ও নেতার মাধ্যমে সারাদেশের কমিটি বাণিজ্য থেকেও কোটি কোটি টাকা পেয়েছে তারেক।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত