১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার শহীদদের স্মরণে নাটোরে বিশাল শোক সমাবেশ

718

Published on আগস্ট 26, 2022
  • Details Image

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার শহীদদের স্মরণে নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিশাল শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে নাটোরের কানাইখালী পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে এই বিশাল শোক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শোক সমাবেশের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও ১৫ আগস্টের সকল শহীদ এবং ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শোক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার এদেশীয় এজেন্টদের মধ্যে এক নম্বরে ছিলেন জিয়াউর রহমান, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা। আজ সেই কারণে বাংলাদেশের মানুষ বলে একটা কমিশন গঠন করা হোক। শুধু জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া, তারেক জিয়া-এরাই শুধু নয়, আর কারা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সুফলভোগী, আর কারা কারা বেনিফিশিয়ারি এটা জানবার অধিকার জাতির সবার আছে, প্রত্যেকের আছে।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ১৯৭৫ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয় সপরিবারে। একথা আমরা সবাই জানি, ১৯৭১ সালে যারা পরাজিত হয়েছিল, মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয় যারা মেনে নিতে পারেনি, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশ সামনের দিকে এগিয়ে যাবে, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর একটি সুখী-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ হবে-এটি যারা মানতে পারেনি, সেই একাত্তরের পরাজিত শক্তি, তাদের মূল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং পাকিস্তান এবং এদেশের পরাজিত যারা তৎকালীন মুসলিম লীগসহ জামায়াত-শিবির যারা ছিল, তারা মিলেই এই চক্রান্ত করেছে। এ কথা ভুললে চলবে না। ওই ঘটনার সঙ্গে এদেশের স্বাধীনতার পরে আমাদের মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ছাত্র সংগঠন থেকে যারা গিয়েছিলেন, তাদেরও একটা অংশের মদদ ছিল। দেশ স্বাধীন হবার মাত্র এক বছরও হয়নি, এদেশে একটি উগ্র স্লোগান দিয়ে বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র কায়েম করার নাম করে তারা আলাদা প্লাটফরমে চলে গেলেন এবং তারা বলতে লাগলেন, আওয়ামী লীগের হাতে উন্নয়ন হবে না, আওয়ামী লীগ ভারতঘেষা দল। তৎকালীন জাসদের যে নেতারা ছিলেন, যাদের মধ্যে অনেকে গত হয়েছেন, দুই-একজন এখনো বেঁচে আছেন। মূল যিনি পেছনে ছিলেন সেই সিরাজুল আলম খান, যিনি পচাত্তর পরবর্তীতে সব সময় সুখে ছিলেন, এখনো সুখে আছেন। বৃদ্ধ হয়েছেন, মার্কিন একটা ইউনির্ভাসিটির ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে বছরে কয়েকবার যাওয়া আসা করেন। এই সিরাজুল আলম খান এবং তাদের বুদ্ধিতে পাকিস্তানপন্থী মেজর অবসরপ্রাপ্ত জলিল তিনারা মিলে যে জাসদ সৃষ্টি করলেন, সেই জাসদই তো বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করে দিয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর সহযোগী জাতীয় চার নেতার একজন ক্যাপ্টেন মনসুর আলী, তাঁর সরকারি বাসভবনের সামনে দিয়ে জাসদের মিছিল যাচ্ছিল, সেই মিছিল থেকে গুলি হলো, এতো বড় সাহস স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশে জাসদ পেল কোথা থেকে? কারা দিল এই সাহস? আজকে শুধু আবেগে বললে হবে না, ইতিহাস প্রমাণ করে একাত্তরের পরাজিত শক্তি অস্ত্র সমর্পণ করেনি। মুক্তিযোদ্ধারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতার পরে লক্ষ লক্ষ অস্ত্র ঢাকা স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় সমর্পণ করেছিল। রাজাকার, আলবদর, মুসলিম লীগ, শান্তিবাহিনীর কাছে যে অস্ত্রগুলো ছিল, সেগুলো থেকেই গেল। সেই অস্ত্র চলে গেল তৎকালীন জাসদের হাতে। মিলিয়ে ফেলবেন না, আমি তৎকালীন জাসদ বলছি। সেই জাসদ সেই অস্ত্র নিয়ে গোপনে তাদের হত্যাযজ্ঞ মিশন চালিয়ে গেল। বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি হয়ে গেল।
খায়রুজ্জামান লিটন আরো বলেন, প্রতিক্রিয়াশীল চক্র সুযোগের অপেক্ষায় ছিল কখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে এই দেশটাকে পাকিস্তানি ভাবধারায় রাষ্ট্রকে পরিচালিত করা যায় এবং একটা সময়ে এসে ১২০০ মাইলের যে ব্যবধান সেই ব্যবধানের দুই পাকিস্তানকে আবার এক করা যায় কিনা। এই ছিল একটা চক্রান্ত। আরেকটা চক্রান্ত ছিল-এই বাংলাদেশে থেকে ভারতবর্ষের বিরুদ্ধে যত রকম চক্রান্ত করা সম্ভব, সবই করতে হবে। এগুলো ছিল প্রেসক্রিপশন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসক্রিপশন, পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশন, আরো কোন পরাশক্তির। এবং সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ক্ষেত্র তৈরি করা হলো। তারপরেও বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা সম্ভব হতো না, যদি তিনি সাবধান বানী গ্রহণ করতেন। বঙ্গবন্ধুকে শেষবারের মতো বলা হলেও তিনি সাবধানবাণী বিশ্বাস করেননি। তাকে প্রাণ দিতো হলো। তাঁর প্রাণের সাথে চলে গেল বাংলাদেশের উন্নয়ন সমৃদ্ধি,বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন বিষয়।

আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রাসিক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ভারত, ইংল্যান্ড সহ বিশে^র উন্নত দেশগুলোতে যেভাবে ক্ষমতাশীন সরকার বহাল থেকে নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হয়, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সেভাবেই শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকেই নির্বাচন হবে। নির্বাচন কারো জন্য থেমে থাকবে না। আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিজয়ী হবে ইনশাল্লাহ।

সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য দেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। নাটোর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও নাটোর-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক আব্দুল কুদ্দুসের সভাপতিত্বে ও নাটোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম রমজানের সঞ্চালনায় শোক সমাবেশে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য রত্না আহমেদ বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন। বিশাল শোক সমাবেশে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত