বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রদ্ধা

422

Published on জুন 23, 2021
  • Details Image

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে আজ ২৩ জুন ২০২১ ইং তারিখ সকাল ৯ টায় বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু’র নেতৃত্বে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। 

সংগঠনের সভাপতি জননেতা নির্মল রঞ্জন গুহ বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে ৩০ লক্ষ শহীদ ২ লক্ষ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জন করে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুন, আওয়ামী লীগ প্রতিষ্ঠার পর থেকে কখনোই থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তিচক্র! সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু’র হাত ধরে আওয়ামী লীগ সু সংগঠিত হয় গ্রাম বাংলার প্রতিটি জনপদে। গণমানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয় আওয়ামী লীগ।

১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে দেশভাগের পর মাতৃভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষার অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন তরুণ জননেতা শেখ মুজিবুর রহমান। একই সঙ্গে মানুষের ঘরে ঘরে অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দেয় আওয়ামী লীগ। ফলে ধর্মের নামে মুসলিম লীগের ভণ্ডামির মুখোশ খুলে যায়। ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের কাছে নির্মম পরাজয় ঘটে স্বৈরাচরী মুসলিম লীগের। বাংলার মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার সংগঠনে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ। পাকিস্তানি প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের কারণে দুই বছরের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারলো না যুক্তফ্রন্ট সরকার। অগণতান্ত্রিকভাবে ক্ষমতায় চেপে বসে সামরিক স্বৈরাচার। তার পরের ইতিহাস শুধুই আন্দোলন সংগ্রামের, যার নেতৃত্বে ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬’র ৬ দফা,৬৯’র গণঅভ্যুত্থান প্রতিটি কালজয়ী লড়াই বাঙালিকে মুক্তির সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করেছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তাক্ত সংগ্রাম, ৩০ লাখ শহীদ ২ লাখ মা বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা পেলাম স্বাধীনতা। কিন্তু স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা সদ্যস্বাধীন দেশে ঘটায় ইতিহাসের নির্মম, ন্যক্কারজনক হত্যাকান্ড।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বপরিবারে হত্যা করে পাপিষ্ঠ রাজাকার আর যুদ্ধাপরাধীদের সাথে নিয়ে খুনি জিয়ার নেতৃত্বে সামরিক জান্তা বসে সিংহাসনে! ১৯৮১ সালে ১৭ মে স্বদেশে ফিরে বাঙালির ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের আন্দোলন শুরু করেন বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকার জননেত্রী শেখ হাসিনা। ২১ বছরের ধারাবাহিক লড়াই সংগ্রামের পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় ফিরে আসে আওয়ামী লীগ। ২০০১ সালের ভোট ডাকাতির নির্বাচনে ৭১’র পরাজিত শত্রু ও ৭৫ এর খুনিচক্রের হাত ধরে ক্ষমতায় আসে বিএনপি জামাত জোট সরকার! সারাদেশ পরিণত হয় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক অপশক্তি জঙ্গি সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে! তারেক জিয়ার নেতৃত্বে হাওয়া ভবনে বসে সীমাহীন দূর্নীতি, দুঃশাসন, অন্যদিকে সংখ্যালঘু নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে বিপর্যস্থ বাংলাদেশ! ২০০৩ সালে দেশের ৬৩ জায়গায় বোমা হামলা ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বর্বোরচিত গ্রেনেড হামলা করে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা কুদ্দুস পাটোয়ারী নারী নেত্রী আইভি রহমান সহ ২৪ জন নেতাকর্মীকে হত্যা করে! গ্রেনেডের স্প্রিন্টারে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত হয় জননেতা ওবায়দুল কাদের, স্বেচ্ছাসেবক লীগে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি জননেতা আ ফ ম বাহাউদ্দীন নাছিম সহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ! মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে শ্রবনশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রাণপ্রিয় নেত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার। স্বাধীনতা বিরোধী সাম্প্রদায়িক ষড়যন্ত্রকারী অপশক্তি চক্র ২১ বার হত্যার চেষ্টা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে! মহান সৃষ্টিকর্তার অশেষ কৃপায় তিনি রক্ষা পেয়েছিলেন বলেই বাংলাদেশ আজ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আফজালুর রহমান বাবু বলেন বাঙালি জাতির জাগরণ, জাতীয় চেতনার বিকাশ, হাজার বছরের দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তির গণজোয়ার, অকুতোভয় সংগ্রাম, জয় বাংলা স্লোগান, নৌকা প্রতীকে ভোটদান ও মহান স্বাধীনতা; এই সবকিছুর মূলেই রয়েছে একটি নাম- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। যার নেতৃত্বে ছিলেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আওয়ামী লীগের হাত ধরেই প্রতিবন্ধকতার পাহাড় ডিঙিয়েছে বাঙালি। ঘোর অমানিশায় নিমজ্জিত কোটি কোটি মানুষকে গণ সূর্যের মতো করে জাগিয়ে তুলেছে আওয়ামী লীগ। বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংগ্রাম সাফল্যের গর্বিত উত্তরাধিকার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। বাঙালি জাতির প্রবাদ পুরুষ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশজুড়ে গণমানুষের দলে পরিণত হয় আওয়ামী লীগ। বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেন আওয়ামী লীগের মধ্যমণি। আওয়ামী লীগ, স্বাধীনতা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ এক ও অভিন্ন। কাউকে ছাড়া কারো ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়।স্বাধীনতার পর বিপর্যয়ের মুখে পড়া বাংলাদেশকে নতুন করে প্রাণ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা। আধুনিক বাংলাদেশ, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা- একই সূত্রে গাঁথা। ৭২ বছর বয়সের পরিণত এই দলটির হাত ধরে আজ বিশ্বের বুকে বিস্ময় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে বাঙালি জাতি। জননেত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব মোড়লদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ৭১’র পরাজিত শত্রু ও ৭৫ ‘র খুনিচক্রের বিচার কাজ সম্পন্ন করে বাঙালি জাতিকে পাপমুক্ত করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা পেয়েছি মধ্যম আয়ের দেশ। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা তথা এসডিজি অর্জন,২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশের মর্যাদা লাভ ও সর্বোপরি ব-দ্বীপ পরিকল্পনা তথা ডেল্টা প্ল্যান -২১০০ বাস্তবায়নের আলোকোজ্জ্বল ভবিষ্যতের পথে সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। যতকাল রবে পদ্মা মেঘনা গৌরী যমুনা বহমান, ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান।

সংগঠনের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ ও সাধারন সম্পাদক জননেতা আফজালুর রহমান বাবু’র নেতৃত্বে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণে অংশ নেন সহ-সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, ম.আব্দুর রাজ্জাক, নির্মল চ্যাটার্জী, আব্দুল আলীম বেপারী, কাজী মোয়াজ্জেম হোসেন, অ্যাড. মাহফুজা বেগম সাঈদা, কৃষিবিদ মোঃ আব্দুস সালাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল সায়েম, কৃ্ষিবিদ মাহবুূবুল হাসান মাহবুব, আরিফুর রহমান টিটু, শাহ্ জালাল মুকুল, সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য কে এম মনোয়ারুল ইসলাম বিপুল, আহম্মদ উল্লাহ জুয়েল, ইঞ্জিনিয়ার কোবাদ হোসেন, সাইফুর রহমান সিন্টু, রফিকুল আলম গাফ্ফারী রাসেল, অ্যাডভোকেট শাহিন উল ইসলাম, আনোয়ার পারভেজ টিংকু, সাখাওয়াত হোসেন কবির, উপ-সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বিপ্লব, জসীম উদ্দীন মাদবর, দেলোয়ার হোসেন সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মীবৃন্দ।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত