রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

630

Published on ফেব্রুয়ারি 28, 2022
  • Details Image

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ, বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রীর ৫০ বছর পূর্তিতে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের উদ্যোগে রাজশাহীতে বাংলাদেশ-ভারত ৫ম সাংস্কৃতিক মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বর্ণিল আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই সাংস্কৃতিক উৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক আত্মিক। এটি অটুট আছে, আগামীতে থাকবে। কোন অপশক্তি এই সম্পর্ককে ম্লান করতে পারবে না। সাংস্কৃতিক মিলনমেলা আয়োজনের মাধ্যমে সম্পর্ক আরো দৃঢ় ও মজবুত হবে।

২৫ ফেব্রুয়ারি সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় অংশ নিতে ৩৬ জনের একটি দল গতকাল রাজশাহীতে এসেছেন। তারা হলেন, ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল ও তাঁর সহধর্মিণী মঞ্জু পাল, খ্যাতিমান কবি ও শিল্পী মৌসুমি রায় চৌধুরী, খ্যাতিমান অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা চক্রবর্তী সেনগুপ্ত, সুভপ্রসন্ন ভাট্টাচার্য প্রমুখ।

২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে সিএন্ডবি মোড়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে শ্রদ্ধা জানান ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল সহ ভারতীয় অতিথিবৃন্দ এবং রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন। এরপর কাদিরগঞ্জে জাতীয় চার নেতার অন্যতম শহীদ এ.এইচ.এম কামারুজ্জামানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তাঁরা। বিকেল সাড়ে ৪টায় রাজশাহী কলেজ মাঠে আলোচনা সভা ও সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ ও ভারতের খ্যাতিমান শিল্পীবৃন্দের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া এদিন রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনকে একটি অত্যাধুনিক অ্যাম্বুলেন্স উপহার দিয়েছে ভারত সরকার।নগর ভবনে আনুষ্ঠানিকভাবে রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের হাতে এ্যাম্বুলেন্সের চাবি তুলে দেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

সাংস্কৃতিক মিলনমেলার মূল অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয় ২৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে। রাজশাহী কলেজ মাঠে অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনের পর আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক রাসিক মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন বক্তব্যে ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন ফ্রেন্ডস অব বাংলাদেশের (কো-অর্ডিনেটিং চ্যাপ্টার) প্রধান সমন্বয়ক এসএম সামছুল আরেফীন।

এরআগে সকালে ভারত থেকে আগত একজন মন্ত্রী, অভিনেতা, কবি, শিল্পী, সাংবাদিক সহ মোট ৩৬জন অতিথিকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। রাসিকের মেয়রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক। অনুষ্ঠানে অতিথিদের উত্তরীয়, ক্রেস্ট ও প্রীতি উপহার প্রদানের মাধ্যমে সংবর্ধিত করেন রাসিক মেয়র। এরআগে নগর ভবনের প্রধান ফটক থেকে শিশুদের নৃত্য আর গানের তালে তালে অতিথিদের মঞ্চে নিয়ে এসে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেওয়া হয়। দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা সহ মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

২৭ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী অঞ্চলের ঐতিহাসিক ও গুরুত্বর্পূণ স্থাপনা পুঠিয়া রাজবাড়ি, নাটোর রাজবাড়ি ও উত্তরা গণভবন পরিদর্শন করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল সহ রাজনৈতিক, সমাজিক, সংস্কৃতিকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ। রোববার তাদের দিনব্যাপী বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন করেন সাংস্কৃতিক আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন মাননীয় মেয়র এ.এইচ.এম খায়রুজ্জামান লিটন ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক এমপি। এদিন দুপুর ১২টায় পুঠিয়া রাজবাড়িতে ভারতের অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছায় স্বাগত জানানো হয়। এরপর বিকেলে নাটোর রাজবাড়ি ও উত্তরা গণভবনে ভারতের অতিথিবৃন্দকে বর্ণিল আয়োজনে ফুলেল সিক্ত করা হয়। সন্ধ্যায় রাজশাহী কলেজ মাঠে দ্বিতীয় দিনের মতো অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, তাহেরপুরে দুর্গামন্দির, , বাঘা শাহী মসজিদ পরিদর্শন করবেন অতিথিরা।

এদিকে রাজশাহীকে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়। ব্যানার-ফেস্টুন, রঙিন পতাকা স্থাপন, রাজশাহী কলেজের সামনে থেকে জাদুঘর মোড় পর্যন্ত সড়ক আলোকায়ন, নগর ভবন, রাজশাহী কলেজ সহ, নগর বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভবন ও নগরীর সকল গুরুত্বপূর্ণ মোড় আলোকায়ন, আলপনা, রাস্তার ডিভাইভারগুলোতে রঙের কাজ সহ রাজশাহীকে নতুনভাবে সাজানো হয়। উৎসব চলাকালে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় রাজশাহী কলেজ মাঠে পণ্যমেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় ছিল বিভিন্ন পণ্যের ৩৫টি স্টল।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত