বিএনপির আমলে জ্বালানি তেলের জন্য মানুষ হাহাকার করতো

672

Published on নভেম্বর 10, 2021
  • Details Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটানা প্রায় তেরো বছর ধরে অত্যন্ত সুনিপুনভাবে এবং দক্ষতার সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময়ই দেশের দ্রব্যমূল্যের অবস্থা এবং সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বিষয়টি নিয়ে সহানুভূতিশীল। আওয়ামী লীগ ঐতিহাসিকভাবে অর্থনীতির নানা ঘাত-প্রতিঘাত ও ঝুঁকি থেকে সাধারণ মানুষকে সুরক্ষা দিয়ে আসছে। জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির বিশ বছরের খতিয়ান দেখলে বুঝা যায় আওয়ামী লীগ সরকারই জনগণের সুবিধা অসুবিধা বিবেচনায় নিয়ে সময়ে সময়ে জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্য কোনো সরকারের সময় এই ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মোট ৮ বার জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধিঃ

বিএনপি-জামায়াত ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে মাত্র পাঁচ বছরে মোট আটবার ডিজেল-কেরোসিনসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। বাংলাদেশের ইতিহাসে মাত্র পাঁচ বছরে মোট আটবার জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধির ঘটনা আর কোনো সরকারের সময় হয়নি। জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত রেকর্ড করেছিল। বিএনপি-জামায়াত জোট ২০০১ সালের অক্টোবরে কারচুপির নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার মাত্র আড়াই মাসের মাথায় ২৭ ডিসেম্বর ২০০১ তারিখে ডিজেল, কেরোসিনসহ প্রায় সকল জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। এর ফলে মানুষের জনজীবন বিপর্যয় হয়। চারদিকে হাহাকার লেগে যায় তেলের জন্য।

লক্ষণীয় যে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার দ্বিতীয় দফায় ২০০৩ সালের ৬ জানুয়ারি ডিজেলসহ প্রায় সব জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। তৃতীয় দফায় তারা ২০০৪ সালের ২৩ ডিসেম্বর ডিজেল-কেরোসিনসহ প্রায় সকল জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। চতুর্থ দফায় তারা ২০০৫ সালের ২৫ মে আবার ডিজেল-কেরোসিনসহ প্রায় সকল জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছিল। পঞ্চম দফায় তারা ২০০৫ সালের ২০ জুলাই জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেছিল। ষষ্ঠ দফায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর ডিজেল-কেরোসিনসহ সকল জ্বালানি পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি করে। সপ্তম দফায় তারা ২০০৬ সালের ৯ জুন ডিজেল-কেরোসিনসহ প্রায় সকল জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করে। অষ্টম দফায় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার ২০০৬ সালের ২৬ জুন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করে। অর্থাৎ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার তাদের ক্ষমতার মেয়াদ শেষ হওয়ার অব্যবহিত পূর্বেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়ে গিয়েছিলো।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ২০০৯ সাল থেকে এ যাবৎ মোট পাঁচবার জ্বালানি মূল্য কমানো হয়েছেঃ

বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে সরকার গঠনের মাত্র সাত দিনের মাথায় ২০০৯ সালের ১৩ জানুয়ারি সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে ডিজেল এবং কেরোসিনের মূল্য কমিয়েছিলেন। এর প্রায় দুই মাসেরও কম সময়ে শেখ হাসিনার সরকার ২০০৯ সালের ১ মার্চ জ্বালানি মূল্য কমিয়েছিলেন। এর তিন মাসের মাথায় ২০০৯ সালের ১ জুন বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে আবার জ্বালানির মূল্য কমানো হয়। এরপর ২০১৬ সালের ১ এপ্রিল এবং একই বছরের ২৫ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জ্বালানি মূল্য কমানো হয়। অর্থাৎ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ২০০৯ সাল থেকে এ যাবৎ মোট পাঁচবার জ্বালানি মূল্য কমানো হয়েছে।

এদিকে বিএনপির আমলে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি নৈমিত্তিক ঘটনা ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুর কাদের। তিনি বলেন, সেদিনের কথা বিএনপি ভুলে গেলেও জনগণ ভোলেনি। বিএনপির আমলে ৫ বছরে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছিল ৮ বার। তারা মূল্য কমাতে পারেনি।’

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) সচিবালয়ে তার দফতরে ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কম থাকলেও দেশে তারা দাম বাড়িয়েছিল। আওয়ামী লীগ গত ১৩ বছরে ৫ বার মূল্য বৃদ্ধি করলেও ৫ বার মূল্য হ্রাসও করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৯ সালে সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের ৭ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য হ্রাস করেছিলেন।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয় দেশ যেন যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কিংবা দুর্ভিক্ষ চলছে এবং জনগণের পিঠ নাকি দেয়ালে ঠেকে গেছে। বিএনপি নেতাদের এমন বক্তব্য দায়িত্বহীন রাজনৈতিক দলের হতাশার বহিঃপ্রকাশ ছাড়া আর কিছু নয়।’

মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে বিএনপির।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপির অন্ধ বিষোদগার আর মিথ্যাচারের রাজনীতি তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে করেছে চরম অনিশ্চিত ও বর্তমানকে করেছে ধোঁয়াশাচ্ছন্ন। এ জন্যই বিএনপি আজ হতাশার সাগরে নিমজ্জিত বলে খড়-কুটো ধরে বাঁচার নিষ্ফল চেষ্টা করছে।’

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত