‘সারপ্রাইজ ভিজিটে’ বঙ্গবন্ধু, বিস্মিত গ্রামবাসী শোনালেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা

108

Published on মে 2, 2020
  • Details Image

খুব হঠাৎ করে ঢাকার পাশের একটি গ্রামে হাজির হন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যাওয়ার আগে কাউকে জানাননি বলেই তিনি সেখানকার সঠিক চিত্র দেখতে পেয়েছিলেন। ১৯৭২ সালের ২৪ এপ্রিল ডেইলি অবজারভারের প্রথম পাতায় এই খবরটি প্রকাশিত হয়।

গ্রামবাসী নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। তারা কী স্বপ্ন দেখছে! সবার চোখে মুখে বিস্ময়। অন্য কেউ না, তাদের সামনে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। ঢাকা থেকে কিছুটা উত্তরে, টঙ্গী থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে কুড়িয়া নামে একটি গ্রামের জনগণ হঠাৎই খেয়াল করলো— তাদের সামনে স্বয়ং বঙ্গবন্ধু। এটি ছিল ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’। যখন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় তিনি বঙ্গভবন ছেড়ে বের হন, তখন কেউই জানতেন না তিনি কোথায় যাওয়ার উদ্দেশে বের হয়েছেন। কুড়িয়া গ্রামবাসী আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন তাদের মাঝে বঙ্গবন্ধুকে পেয়ে। তারা বঙ্গবন্ধুকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকালীন অত্যাচার ও নির্যাতনের বর্ণনা করে শোনান। এটা ছিল ঢাকার বাইরে বঙ্গবন্ধুর প্রথম কোনও ‘সারপ্রাইজ ভিজিট’। যোগাযোগমন্ত্রী মনসুর আলী ও রাজনৈতিক সচিব তোফায়েল আহমেদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং গ্রামবাসীর কাছে যুদ্ধকালীন বর্ণনা শুনে বঙ্গবন্ধু আবেগে আন্দোলিত হয়ে ওঠেন। গ্রামবাসী জানায়, বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়া এবং বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে ফিরে আসায়, গত ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের যে ভোগান্তি, তারা সেটা ভুলে গেছেন।

আটকে পড়া বাঙালিদের চরম দুর্দশা

পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে ১৩ জন বাঙালি বঙ্গভবনে বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে দেখা করেন। তারা পাকিস্তানে তখনও যেসব বাঙালি রয়েছে, তাদের দুর্দশার কথা বঙ্গবন্ধুকে জানান। পাকিস্তানে আটক অবস্থায় তাদের যে পরিমাণ নির্যাতন করা হয়েছে, সেগুলো উল্লেখ করেন। তারা জানান, তাদের ওপর সব ধরনের হয়রানি ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়েছে।

 

এই ১৩ জন বাঙালি দুদলে ভাগ হয়ে করাচি ত্যাগ করেন। মরুভূমি পার হয়ে তারা ভারতে প্রবেশ করেন। করাচি থেকে পাক-ভারত সীমান্ত পর্যন্ত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে তাদের প্রায় সপ্তাহখানেক সময় লাগে বলে জানা যায়। ভারতে প্রবেশের পর তাদের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তারা বলেন, সীমান্তের কাছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর শিবিরে তাদের সঙ্গে আন্তরিক ব্যবহার করা হয়েছে। পাকিস্তান থেকে পালিয়ে আসার জন্য তাদের স্থলে পথ বেছে নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে এই পথ নিরাপদ বলে তারা মনে করেন। সমুদ্র পথ বিপজ্জনক। সেখানে পাকিস্তানি সৈন্য বাহিনী নিয়মিত টহল দিচ্ছে। তারা জানান যে, ১৯৭ জন বাঙালির একটি দল নৌকায় করে সম্প্রতি পাকিস্তান থেকে ভারতে পালিয়ে আসার চেষ্টা করলে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তাদের ধরে ফেলে। এখন এই বাঙালিরা আটক রয়েছেন।

পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী এম এ হক। তিনি করাচিতে থাকতেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে তিনি বেকার হয়েছেন বলে পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ২ এপ্রিল থেকে তাদের অফিসের সব বাঙালি কর্মচারীকে মৌখিকভাবে বলে দেওয়া হয় যে অফিসে আর আসতে হবে না। পাকিস্তানে কোনও বাঙালি এখন আর নিরাপদ বোধ করছেন না। আর তাই তারা স্বদেশে ফেরার জন্য উদগ্রীব হয়ে রয়েছেন।

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত