স্মৃতির পাতায় বঙ্গবন্ধু

- মেজর জেনারেল (অব.) সুবিদ আলী ভূইয়া উনিশ’শ’ একাত্তর সালের ১৬ ডিসেম্বর দেশ স্বাধীন হলেও দেশের কয়েকটি বিহারী অধ্যুষিত এলাকা তখনও উত্তপ্ত ছিল। ওই সব স্থানে বাঙালী-বিহারী সংঘর্ষ বেঁধে যেত প্রায়ই। মুক্তিযুদ্ধের সময় বিহারীদের অমানুষিক ও বর্বর আচরণের কারণে বাঙালীরা ছিল তাদের প্রতি ক্ষুব্ধ। যতদূর মনে পড়ে সময়টা ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ দিকে হবে। আমি...

বাঙালির একক জাতিরাষ্ট্রের নির্মাতা

- অসীম সাহা পৃথিবীতে কোনো কোনো মানুষের জন্ম হয় ইতিহাস সৃষ্টি করার জন্য। ইতিহাস যাকে সৃষ্টি করে না, ইতিহাস যার করতলগত হয়, তেমন একজন মানুষ, প্রকৃত অর্থে যিনি মহামানব, তিনি বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ইতিহাসে কখনও বাঙালির একক জাতিরাষ্ট্র ছিল না। একাদশ শতকে যাদের হাতে ভারতের শাসনভার ছিল, তারা কেউ বাঙালি ছিলেন না। সেন ও পালবংশের রাজারাও বা...

২১ জানুয়ারি ১৯৭২: বিশ্ব শান্তির কথা শোনালেন বঙ্গবন্ধু

২১ জানুয়ারি ১৯৭২। এই দিনটি ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে বিশ্ব শান্তির বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকারের নীতি ও অবস্থান ঘোষণার কারণে। এছাড়াও এই দিনে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে গঠিত সব আঞ্চলিক পরিষদ বিলোপের ঘোষণাও আসে।  এই দিনটিতে বিশ্ব শান্তি পরিষদের সদস্যরা সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। এসময় বঙ্গবন্ধু তাদের জানান, তার সরকার বিশ্ব শান্তিতে ব...

মুক্তির মহাযাত্রায়

দিল্লিতে ৮ জানুয়ারি ১৯৭২-এর সূর্যোদয় হলো প্রাত্যহিক স্বাভাবিকতায়। সময়ের ব্যবধানে লন্ডনে তখন গভীর রাত। দুই মহাদেশ ভরা অন্ধকার চিরে পিআইএর বিশেষ বিমানটি তখন লন্ডনের পথে। দিল্লির চাণক্যপুরীর ছককাটা সুপ্রশস্ত জনপথ, তাদের সদিচ্ছাবাহী নামফলকের সারি আর সুবিন্যস্ত উদ্যানরাজি কুয়াশার আবরণ থেকে ধীরে ধীরে চোখ মেলল। জনবিরল জনপথে নির্ধারিত ক্রমিকতায় অবতীর্ণ হলো সাইকেল, স্কুটার, ...

বন্দিজীবন, মুক্তির আলো

- সোহরাব হাসান ‘শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন এমন ব্যক্তি, যাঁকে ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাস লেখা যায় না, এমনকি কল্পনাও করা যায় না। ’ এ রকম মন্তব্যই করেছিলেন ১৯৭২ সালে তাঁর সাক্ষাৎকার নেওয়া বিদেশি সাংবাদিকেরা। ১৯৭২ সালে পাকিস্তানের জেলখানা থেকে স্বাধীন বাংলাদেশে আসার অব্যবহিত পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কয়েকজন বিদেশি সাংবাদিককে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। এর...

মুক্ত দেশে স্বাধীন নেতা

- জেএন দীক্ষিত নিরাপত্তা পরিষদের মিটিং থেকে ২৪ ডিসেম্বর আমি ফিরে এলাম। ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি সকালবেলা আমাদের গোয়েন্দা সূত্র থেকে খবর পেলাম, শেখ মুজিবুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি আপাতত জানা যাচ্ছে না এমন এক জায়গায় চলে গেছেন এবং সেখান থেকে ঢাকায় ফেরার বন্দোবস্ত করছেন। পাকিস্তানি ইন্টারন্যাশনাল কলের ওপর নজরদারি করে এবং অন্যান্য সূত্রের বরাতে ওই দিনই বিকেল ...

ক্ষণ গণনার দিন ও উপমহাদেশকে বঙ্গবন্ধুর উপহার

- স্বদেশ রায় আজ ( ১০ জানুয়ারি) বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিন থেকে শুরু হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর জম্ম শতবার্ষিকীর ক্ষণগণনা। ১৯৭২ সালে এইদিন বাংলাদেশের আকাশ ছিল মেঘলা, শীতের জড়তা একটু বেশি করেই এদিন ঢাকাসহ সারা দেশের মানুষকে আটকে ধরতে পারতো। কিন্তু ১৯৭২ সালে ঘটনা হয়েছিল তার ঠিক উল্টো। বিদেশি প্রতিটি পত্রিকার রিপোর্ট, বাংলাদেশের পত্রিকার রিপোর্ট, বিদেশি সিনিয়র সাংবাদিকদ...

জনকের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন: বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন

- তোফায়েল আহমেদ বাঙালি জাতির জীবনে দশই জানুয়ারি চিরস্মরণীয় অনন্য ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭২- এর এই দিনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষ বিজয়ের পরিপূর্ণতা অর্জন করে। যদিও ১৯৭১-এর ষোলোই ডিসেম্বর বাংলাদেশ হানাদার মুক্ত হয়। কিন্তু বাংলার মানুষ স্বাধীনতার স্বাদ পায়নি। কারণ, যার নেতৃত্বে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ, তিনি তখনো ...

১২ জানুয়ারি ১৯৭২ঃ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহন করেন বঙ্গবন্ধু

১২ জানুয়ারি বঙ্গভবনে বিপুল করতালি, জয় বাংলা ও বঙ্গবন্ধু জিন্দাবাদ ধ্বনির মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। শপথ নেওয়ার পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে ১১ সদস্যের মন্ত্রিসভার নাম দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আগে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরী তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধু জাতির জনক ও অবিসংবাদিত নেতা, যার ওপর জনসাধারণের পূর্ণ আস্থা রয়েছে...

ইতিহাসের মোড় ফেরা

- সোহরাব হাসান বাঙালির ইতিহাসে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি উজ্জ্বল একটি তারিখ। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে বাঙালির বিজয় ঘটে। সেদিন এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘এ বিজয় সেদিন পূর্ণতা পাবে, যেদিন আমাদের প্রাণপ্রিয় নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমা...

তাঁর জন্মশতবর্ষে

- আনিসুজ্জামান এ আমাদের অশেষ সৌভাগ্য—আমরা বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদ্‌যাপন করতে পারছি। তাঁকে আমরা প্রতি বছরেই স্মরণ করব, কিন্তু সব জন্মবর্ষ তো জন্মশতবর্ষ হবে না। এবারে তাঁর জয়ন্তি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে আসছে। আমরা বঙ্গবন্ধুর অর্জন স্মরণ করব, তিনি যখন বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠেননি, তখনকার কথাও মনে রাখতে চাইব। মহিরুহ তো মাটি ভেদ করেই মাথা তুলে দাঁড়ায়।শেখ মুজিবুর রহমান ...

কৃষকবান্ধব বঙ্গবন্ধু

- অজয় দাশগুপ্ত তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই মুসলিম লীগকে জমিদার-নবাব-খান বাহাদুরদের কব্জা মুক্ত করে জনগণের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার জন্য সচেষ্ট থাকেন। শিক্ষা জীবনের শুরুতে তিনি গোপালগঞ্জে এবং কলেজ জীবনে কলকাতায় ছাত্র সংগঠন ও আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর ঢাকায় এসে ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি ছাত্রলীগ পুনর্গঠন করেন। একই সঙ্গে তি...

মুজিববর্ষের ক্ষণগণনার উদ্বোধন করলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবাষির্কী উপলক্ষে বছরব্যাপী মুজিব বর্ষ উদযাপনের জন্য আজ ক্ষণগণনার উদ্বোধন করেছেন। পাকিস্তানের বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের এই দিনে দেশে ফিরে আসেন। প্রধানমন্ত্রী নগরীর পুরাতন বিমান বন্দরে আয়োজিত এক বণার্ঢ্য অনুষ্ঠানে মুহূর্তটিকে বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস হিসাবে উৎ...

বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস: অন্ধকার থেকে আলোর পথে

বইছিল স্বাধীনতার সুবাতাস। শ্লোগানে মুখরিত চারদিক, আকাশ-বাতাস, জোর গলায় উচ্চারিত হচ্ছে, “জয় বাংলা”, তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দর জুড়ে যেন অনুরণিত হয়ে চলেছে, প্রতিধ্বনিতে একাকার হালকা শীতের আমেজময় সেই ঐতিহাসিক ১০ই জানুয়ারী, ১৯৭২ সাল। বেলা দ্বিপ্রহরের পরপরই হাজার দশেকেরও বেশি সদ্য মুক্তির স্বাদ পাওয়া আবেগে উদ্বেলিত বাঙালি সেখানে জড়ো হয়েছিলেন, যদিও তার...

১০ই জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস

আগামী ১০ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। ১৯৭২ সালের এই দিনে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি পাকিস্তানের কারাগারের নির্জন প্রকোষ্ঠ থেকে মুক্তি লাভ করে তাঁর স্বপ্নের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশে ফিরে আসেন। বাঙালি জাতি বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী...

আগামীকাল জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী

আগামীকাল ২৩ ডিসেম্বর জননেতা আব্দুর রাজ্জাকের ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১১ সালের এই দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্নেহধন্য, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জননেতা আব্দুর রাজ্জাক লন্ডনে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। সংগ্রামমুখর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী আব্দুর রাজ্জাক তাঁর সমগ্র জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালির স্বাধিকার, স্বাধীনতা, শান্তি ও সামাজি...

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কর্মসূচি

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস, বাঙালি জাতির আত্মগৌরবের দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ও আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে পরিচালিত দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বিশ্ব-মানচিত্রে অভ্যুদ্বয় ঘটে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ রাষ্ট্রের। ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান আর দুই লক্ষ ম...

বঙ্গবন্ধুর রাষ্ট্র গঠন ও দুর্নীতি নিধন দর্শন

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীঃবাঙালী জাতিরাষ্ট্রের মহান স্থপতি বাঙালীর বঙ্গবন্ধু বিশ্ববন্ধু শেখ মুজিব। মহাকালের মহানায়ক ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী। রাজনীতির সূচনালগ্ন থেকেই দেশপ্রেমের আদর্শিক চেতনায় পরিপুষ্ট স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জীবনের সকল সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য পরিহার করে নিরলস ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর হয়েছেন। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রামের কঠিন কালপরিক্রমায় যে সত্যাগ্রহ, নি...

শেখ রাসেল: একটি স্বপ্নের মৃত্যু - প্রফেসর ড. মোঃ সাজ্জাদ হোসেন

সময়টা ছিল লড়াই আর যুদ্ধের উত্তেজনায় মুখর। ১৯৬৪ সাল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে চলেছে ঐতিসাহিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ঐ সময় সমগ্র পাকিস্তান জুড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল। একদিকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, অন্যদিকে সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রার্থী কায়দে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নার বোন ফাতেমা জিন্নাহ। অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের মাঝেও এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে। ...

আজ সব ফুল ফুটেছে শুধু তার জন্য - এম নজরুল ইসলাম

রূপকথার গল্প নয়, মায়াবি মুখের এক দেবশিশুর গল্প শোনাই। তার দুই চোখজুড়ে ছিল অপার বিস্ময়। ছিল অন্যকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা। সহজাত সারল্য ছিল তার। মা-বাবার মমতা, ভাই-বোনের ভালবাসার ভেলায় ভেসে দিন যাচ্ছিল তার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘বয়স তখন ছিল কাঁচা, হাল্কা দেহখানা/ ছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।’ কাঁচা বয়সই ছিল তার। ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর সড়কের ...

  • «
  • »