বাঙালির মুক্তির সনদ ‘৬-দফা’

বাঙালি জাতি চির দুর্বার, চির দুর্মর। যুগে যুগে তারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। শক্তিবলে অসম হলেও তারা ব্রিটিশদের সামনেও কভু মাথা নত করেনি। পাকিস্তানী শোষকগোষ্ঠীর দুঃশাসন,অত্যাচারে জর্জরিত বাঙালি দৃঢ়কন্ঠে অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। ৫২’র হার না মানা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা করেছে নিজেদের মাতৃভাষার অধিকার । ধীরে ধীরে দৃপ্ত পদক্ষেপে এগিয়ে গেছে স্বাধিক...

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ছয় দফার তাৎপর্য

ড. এম এ মাননানঃ বঙ্গবন্ধুর পদচারণা এ দেশের অনেক কিছুতেই। সমতলের মেঠোপথ, হাওর-বাঁওড়ের কূলঘেঁষা সবুজ গ্রাম, সাগরপাড়ের মৎস্যজীবী অঞ্চল, পাহাড়ের অরণ্যভূমি, নদী সিকস্তির নিম্নভূমি, শহরের অলিগলি, কোথায় ছিল না তার পদচারণা। সদর্প পদচারণা ছিল রাজনীতির সুবিশাল ময়দানে, অর্থনীতির পরতে পরতে, শিল্পাঞ্চলের মেহনতি মানুষের আঙিনায়। অনেক পদচারণার অন্যতম ছিল পাকিস্তানি সামরিক শ...

মুজিবনগরঃ বাংলাদেশের প্রথম সরকার

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। আমাদের স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের আগামীদিনের প্রত্যাশিত দিক-নির্দেশনা, সাংবিধানিক এবং যৌক্তিক অধিকার রক্ষার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা তৎকালীন সময়ে অপরিহার্য ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধ...

১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির ভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে ষোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীন...

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসঃ ভয়াল কালরাত্রির গণহত্যা

মানব ইতিহাসের অন্যতম বর্বর নিষ্ঠুরতম গণহত্যার একটি রাত। একাত্তরের ২৫শে মার্চের সেই রাত। গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎই ট্যাংকের গর্জন শুনতে পায় শহরবাসী। পাখির ডাক নয়, বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লাখ লাখ জনসাধারণ জেগে ওঠে অনবরত গোলাগুলির শব্দে। বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম এবং বৃহত্তম এক গণহত্যার সূচনা হয় এভাবেই, যা পরিচালনা করেছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সাম...

বঙ্গবন্ধু বললেন, ‘জনগণের জন্যই আমার জীবন ও মৃত্যু’

১৭ মার্চ ১৯৭১। দিনটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫২তম জন্মদিন ছিল। এদিন ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মিছিল করে বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর রোডের বাসভবনে গিয়ে তাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে শুভেচ্ছা জানায়। বঙ্গবন্ধু ঘোষিত বাংলার অহিংস-অসহযোগ আন্দোলনের ষোড়শ দিনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সকাল ১০টায় প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে দ্বিতীয় দফা বৈঠকে...

শেখ মুজিব আমার পিতাঃ শেখ হাসিনা

বাইগার নদীর তীর ঘেঁষে ছবির মতো সাজানো সুন্দর একটা গ্রাম। সে গ্রামটির নাম টুঙ্গিপাড়া। বাইগার নদী এঁকে-বেঁকে গিয়ে মিশেছে মধুমতী নদীতে। এই মধুমতী নদীর অসংখ্য শাখা নদীর একটা হলো বাইগার নদী। নদীর দু’পাশে তাল, তমাল ও হিজল গাছের সবুজ সমারোহ। ভাটিয়ালী গানের সুর ভেসে আসে হালধরা মাঝির কণ্ঠ থেকে, পাখির গান আর নদীর কলকল ধ্বনি এক অপূর্ব মনোরম পরিবেশ গড়ে তোলে। ...

৭ই মার্চঃ বাঙালি জাতির চিরন্তন অনুপ্রেরণা

সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা এই বাংলাদেশের মানুষের সকল আশা আকাংক্ষার মূলে ছিল একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পৃথিবীর মানচিত্রে মাথা তুলে দাঁড়ানোর বাসনা। কন্ঠস্বরে প্রকাশ হওয়ার আগে এই আকাঙ্ক্ষা বুকে নিয়েই কাটিয়েছে প্রায় আড়াইশো বছর। অবশেষে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এর তপ্ত দুপুরে আসে সেই পরম আরাধ্য স্বাধীনতার ঘোষণা। বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা, আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পাকিস্তান ...

বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ

ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। আপনারা সকলে জানেন এবং বোঝেন আমরা আমাদের জীবন দিয়ে চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, রাজশাহী, রংপুরে আমার ভাইয়ের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে। আজ বাংলার মানুষ মুক্তি চায়, বাংলার মানুষ বাঁচতে চায়, বাংলার মানুষ অধিকার চায়। কি অন্যায় করেছিলাম? নির্বাচনের পরে বাংলাদেশের ম...

৭ মার্চের ভাষণ : পটভূমি ও তাৎপর্য

৪৮ বছর আগে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণটি দিয়েছিলেন। ১০ লক্ষাধিক লোকের সামনে পাকিস্তানি দস্যুদের কামান-বন্দুক-মেশিনগানের হুমকির মুখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ওই দিন বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন- ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।’ কী পরিস্থিতিতে বঙ্গবন্ধু সেই ইতিহাস বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন? ১৯৭০-এর...

বঙ্গবন্ধু এবং বাংলাদেশের উত্তরসূরি শেখ হাসিনা

বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময় বাংলার নির্যাতিত নিপীড়িত শোষিত বঞ্চিত মানুষের সুখ-শান্তির জন্য নিজের চাওয়া-পাওয়া, আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে, জেলজুলুম হাজতবাস ইত্যাদিতে নিজেকে বিলীন করে দিতে কার্পণ্য করেননি। অন্যায় অবিচার অত্যাচারের বিরুদ্ধে সব সময় সোচ্চার রয়েছেন। কোন অন্যায় অবিচার মিথ্যার কাছে নতি স্বীকার বা মাথানত করেননি এবং আপোসও করেননি।

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড এবং পরবর্তী বাংলাদেশ

ড. মোহাম্মদ হাসান খানঃ হাজার বছরের পরাধীন জাতিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এনে দিয়েছিলেন স্বাধীনতা। তিনি এ দেশের মানুষের জন্য আজীবন সংগ্রাম করেছেন, রক্ত ঝরিয়েছেন। তার বিনিময়ে স্বাধীন দেশে কেউ তার রক্ত ঝরাবে, এটি ছিল তার কাছে সম্পূর্ণ অকল্পনীয় বিষয়। যার কারণে তিনি রাষ্ট্রপতি হয়েও অবাধে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশেছেন, সর্বত্র যাতায়াত করেছেন নির্দ্বিধায়। তার পরিবারে...

বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ড ও জঙ্গিবাদের উত্থান প্রসঙ্গে

হাসান-উজ-জামানঃ যতকাল রবে পদ্মা-মেঘনা-গৌর-যমুনা বহমান, ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকা- ইতিহাসের বেদনাদায়ক ও কলঙ্কজনক অধ্যায়। এই ঘৃণ্য, পৈশাচিক ও নারকীয় হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে আমাদের কষ্টার্জিত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ রাতারাতি ধ্বংস করে ’৭১-এর পরাজিত পাকিস্তান...

অসংখ্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে বাংলাদেশ পুনর্গঠন শুরু করেন বঙ্গবন্ধু

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের কারাগার থেকে দেশে ফিরেই দ্রুত যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ পুনর্গঠন শুরু করেন এবং সফলভাবে সদ্য স্বাধীন দেশের অর্থনৈতিক এবং অর্থনীতির বাইরের উভয় খাতের গভীরে প্রথিত বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করেন। বঙ্গবন্ধুর ওপর প্রকাশিত সংবাদপত্রের রিপোর্ট এবং প্রকাশিত গ্রন্থে বলা হয়, অভ্যন্তরীণ এবং বৈদেশিক সম্পদের পর্যাপ্ত সহবরাহ, অবকাঠামো পূনন...

বাংলাদেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব আসবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে আর কোনদিন খুনীদের রাজত্ব ফিরে না আসার ব্যাপারে দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করে বলেছেন, বাংলাদেশের জনগণ আর কোনদিন খুনীদের ক্ষমতায় আসতে দেবে না। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খুনীদের রাজত্ব এ দেশে আর আসবে না, আসতে দেওয়া হবে না। মুজিব আদর্শের প্রতিটি সৈনিককেই এই প্রতিজ্ঞা নিয়ে চলতে হবে, কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।’ প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী...

জিয়াই ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যার মূল হোতা

এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকঃ সম্প্রতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আক্ষেপ করে বলেছেন, তার দুঃখ রয়ে গেল তিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার অপরাধে জিয়ার বিচার করতে পারলেন না। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার সঙ্গে যারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন, এমনকি যারা এ মামলার বিবরণী অনুসরণ করেছেন তারা এক বাক্যেই বলতে পারবেন যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য কষ্টি পাথরে প্রমাণিত সত্য। পূর্বে আইনমন্ত্রী এ্য...

পিতা ও কন্যা : ভিন্ন প্রেক্ষিত একই ধারা

শেখর দত্তঃ জাতীয় শোক দিবস সামনে রেখে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্মের বহুমুখী অবদান এবং জাতীয় জীবনে সেই সব অবদানের প্রভাব নিয়ে যত ভাবছি, ততই বিস্মিত হচ্ছি। জাতীয় চেতনার ভ্রুণ সৃষ্টিতে, সেই চেতনার ভিত্তিতে জাতিকে একটি স্বাধীন মানচিত্র উপহার দিতে, হানাদার পাকিস্তানি বাহিনী বিধ্বস্ত নবজাত দেশে রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠান গড়তে, জনজীবনকে স্বাভাবিক ও ব...

বঙ্গবন্ধু বাংলার, বঙ্গবন্ধু মানুষের

শাব্বীর রহমানঃ 'যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, তার তদন্ত করতে হবে। আর জনগণের প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। তারপর বিবেচনা করে দেখব, আমরা অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব কি, পারব না। এর আগে আমি অ্যাসেম্বলিতে বসতে পারব না। জনগণ আমাকে সে অধিকার দেয় নাই।' এই কথা শেষ হতে না হতেই, তুমুল করতালি আর হর্ষধ্বনিতে ফেটে পড়ছিল বাঁশের লাঠির হাতে ধরে রাখা সংগ্রামী বাঙালি জন...

১৫ই আগস্ট, ব্যক্তি নয় রাষ্ট্রকেই হত্যার চেষ্টা

আবদুল মান্নানঃ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাতবার্ষিকীতে তাঁর ও তাঁর পরিবারের যে ১৭ জন সদস্যকে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যা করা হয়েছিল, তাঁদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা। অনেকে মনে করে, ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত শত্রুরা তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেছিল। আসলে সেদিন ঘাতকরা শুধু একজন শেখ মুজিবকেই হত্যা করেনি, তাদের লক্ষ্য ছিল একটি রাষ্ট্র...

তিনিই বাংলাদেশ

মেজর জেনারেল এ কে মোহাম্মদ আলী শিকদার (অব.) - ১৫ই আগস্ট জাতীয় শোক দিবস। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও বাঙালি জাতির কালো অধ্যায়ের সূচনা হয় ১৯৭৫ সালের এই দিনে। বাঙালি পরিচয় দিতে গর্ববোধ করে এমন সব মানুষের জন্য ১৫ই আগস্ট অত্যন্ত মর্মান্তিক, বেদনাদায়ক ও গ্লানিকর দিবস। গত ৪৩ বছরে যে বিষয়টি বাংলাদেশে প্রমাণিত হয়েছে তা হ...

  • «
  • »