বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ

ড. মো. আনিসুজ্জামানঃ যুদ্ধকালীন ও যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও অর্থমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন বাঙালি জাতির এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধকালীন সরকার গঠন, সেই সরকারকে সঠিক পরিকল্পনা এবং নির্দেশনা দিয়েছেন তাজউদ্দীন আহমদ। বঙ্গবন্ধুর নামে পরিচালিত সরকারে তাঁর নেতৃত্বে ৯ মাসে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে। তিনি ছিলেন সশস্ত্র মুক্তিযো...

তাজউদ্দীন আহমদ : মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম রূপকার

জি এম তারিকুল ইসলামঃ আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের ক্ষেত্রে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পর যে নামটি অনিবার্যভাবে এসে যায়; সেই নামটি হলো বঙ্গতাজ তাজউদ্দীন আহমদ। স্বাধীন বাংলাদেশ সৃষ্টির পূর্বে ও উত্তরকালের রাজনীতিতে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র ছিলেন এই তাজউদ্দীন আহমেদ। ঢাকা শহর থেকে মাত্র ৮২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বর্তমান গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপ...

১ জুলাই, ১৯৭১- 'বিচ্ছিন্নতার পথে বাংলাদেশ'

শাহাব উদ্দিন মাহমুদঃ ১৯৭১ সালের ১ জুলাই দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার। এই দিন চট্টগ্রামে ক্যাপ্টেন শামসুল হুদার নেতৃত্বে এক প্লাটুন মুক্তিযোদ্ধা পাকবাহিনীর দেবীপুর অবস্থানের ওপর আক্রমণ চালায়। উভয়পক্ষের সংঘর্ষে পাকবাহিনীর ১২ জন সৈন্য নিহত হয় ও ৫ জন আহত হয়। অপরদিকে মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান শহীদ হন। হাবিলদার গিয়াসের নেতৃত্বে এক প্লাটুন যোদ্ধা মিয়া বাজার থেকে ফুলতলীতে টহলরত অ...

পাকিস্তান সামরিক আদালতের নির্দেশ

তোফায়েল আহমেদঃ ১৯৭১-এর ২০ এপ্রিল আমার জীবনের এক বিশেষ দিন। এই দিনে পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক সরকার সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বাধীন বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ, বেতারের উপদেষ্টা আবদুল মান্নান এমসিএ, দ্য পিপল পত্রিকার সম্পাদক আবিদুর রহমান এবং আমাকে ২৬ এপ্রিল সকাল ৮টায় সামরিক আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দে...

১৭ এপ্রিল, ১৯৭১ঃ বাংলাদেশ সরকারের শপথ গ্রহণ

শাহাব উদ্দিন মাহমুদঃ ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল দিনটি ছিল শনিবার। কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুরের অখ্যাত ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথতলায় সাদামাটা পরিবেশে একটি আমবাগানে শপথ নিয়েছিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার। আমবাগানের চারদিকে রাইফেল হাতে কড়া প্রহরায় ছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা। প্রায় দশ হাজার মানুষের বিপুল হর্ষধ্বনির মধ্যে বেলা এগারোটায় আওয়ামী লীগ চীফ হুইপ অধ্যাপক ইউসুফ আলীর স্বাধ...

১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক যাত্রা

আবদুল মান্নানঃ  বাঙালি আর বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের কয়েকটি তারিখ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু ঢাকার রমনা রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়ে প্রচ্ছন্নভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। ২৫ ও ২৬শে মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের বাঙালি নিধনপর্ব অপারেশন সার্চলাইট শুরু হওয়ার আগমুহূর্তে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর ধানমণ্ডির ৩২ ন...

জীবন দিয়ে তাঁরা বঙ্গবন্ধুর বিশ্বাস রেখেছেন

মোহাম্মদ নাসিমঃ বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তখন পাকিস্তানের অন্ধকার কারাগারে। সেই অবস্থায় আজ থেকে ৪৯ বছর আগের আজকের দিনে তাকেই রাষ্ট্রপতি করে ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল। মেহেরপুরের ভবেরপাড়া গ্রামের বৈদ্যনাথ তলায় সাদামাটা পরিবেশে একটি আমবাগানে সেদিন বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে জাতীয় চার নেতা...

মুজিবনগর দিবসের স্মৃতিকথা

তোফায়েল আহমেদঃ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১-এর ১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগরে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ অনুষ্ঠানের স্মৃতিকথা লিখতে বসে আজ কত কথা আমার মানসপটে ভেসে উঠছে। ৭১-এর ২৫ মার্চ দিনটির কথা বিশেষভাবে মনে পড়ে। এদিন মণি ভাই এবং আমি জাতির জনকের কাছ থেকে বিদায় নেই। বিদায়ের প্রাক্কালে তিনি আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে বুকে টেনে আদর করে বলেছিলেন...

মুজিবনগরঃ বাংলাদেশের প্রথম সরকার

১৭ এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস। এই দিনটি বাঙালি জাতির জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন। আমাদের স্বপ্নের স্বাধীন বাংলাদেশ বিনির্মানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশের আগামীদিনের প্রত্যাশিত দিক-নির্দেশনা, সাংবিধানিক এবং যৌক্তিক অধিকার রক্ষার জন্য মুজিবনগর সরকার গঠন করা তৎকালীন সময়ে অপরিহার্য ছিল। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকচক্র নির্বাচিত জনপ্রতিনিধ...

১৭ই এপ্রিল, ১৯৭১ ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস

১৭ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর দিবস, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সুদীর্ঘ ইতিহাসের এক চির ভাস্বর অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে কুষ্টিয়া জেলার তদানীন্তন মেহেরপুর মহকুমার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননে স্বাধীন-সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করে। এ অনুষ্ঠানে ষোষিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিলে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্বাধীন...

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রঃ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১

স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রঃ ১০ এপ্রিল, ১৯৭১

প্রতিরোধযুদ্ধ ‘ঝিনাইদহের বিষয়খালী’

শাহাব উদ্দিন মাহমুদঃ একাত্তর পূর্ববর্তী প্রজন্ম বাঙালীর মুক্তি-সংগ্রামের দিনগুলোর জীবন্ত সাক্ষী। যারা মুক্তি-সংগ্রামের চূড়ান্ত পরিণতি বিজয়ের দিনটিতে বাংলাদেশের জন্ম হতে দেখেছে, সেই সময়ের তীব্র আনন্দটুকু পৃথিবীর খুব কম মানুষ অনুভব করেছে। তারা খুবই সৌভাগ্যবান একটি প্রজন্ম- যারা সেই অবিশ্বাস্য আনন্দটুকু অনুভব করার সুযোগ পেয়েছিল! বিস্ময়ের ব্যাপার হচ্ছে, সেই দিনটিতে যখন একজ...

স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে ৭ মার্চ

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানঃ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ নিয়ে অনেক আলোচনা পর্যালোচনা, বিশ্লেষণ হয়েছে। এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করা হয়েছে। কিন্তু এই ভাষণের পর তৎকালীন বাঙালি জাতির ওপর কী প্রভাব পড়েছে বা মানুষ কীভাবে দ্রুত স্বাধীনতা কিংবা মুক্তিযুদ্ধের দিকে এগিয়ে গেছে, সেটি খুব আলোচনা হয়নি। তা নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানো জরুরি। ১৯৭১...

১৯৭১, ভোলার ওয়াপদা কলোনি-খেয়াঘাট গণহত্যা

মোহাম্মদ আরিফুল হকঃ একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা ছিল বিংশ শতাব্দীর নৃশংসতম গণহত্যা। পাকবাহিনীর পরিকল্পিত এ গণহত্যায় প্রাণ দিয়েছিল ৩০ লাখের অধিক মানুষ। সম্ভ্রম হারিয়েছিল ৫ লক্ষাধিক মা-বোন। ২৫ মার্চের গভীর রাতে ঘুমন্ত বাঙালীদের নিধনের মাধ্যমে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, দ্বীপাঞ্চল ভোলাতেও এর ব্যত্য...

বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরীঃ ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া নামক এক অজপাড়াগাঁয়ে যে শিশুটি জন্মগ্রহণ করেছিলেন, কালের পরিক্রমায় তিনি হয়ে উঠেছেন বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা; হাজার বছরের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ বাঙালি; স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের স্থপতি; বাঙালির একমাত্র মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেই মহান ব্যক্তি এখন শুধু বাঙালির বঙ্গবন্ধু নন, বি...

১৯৭১, রাজশাহীর যোগীশো ও পালশা গণহত্যা

সাব্বির মাহমুদ রাবাতঃ ১৬ মে, ১৯৭১। ভোর বেলা। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৬টি ভ্যান রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যোগীশো গ্রামে পৌঁছায়। গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করেছে খবর পেয়ে পুরো জনপদ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশেষত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সকলেই পরিবারসহ পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আত্মগোপন করে। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আগত রাজাকার ও তাদের সহযোগীগণও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ...

যাঁর নেতৃত্বে নিপীড়িত মানুষের মুক্তি

মোঃ রুহুল আমীনঃ আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব আজ বিশ্ব স্বীকৃত। তাঁরই নেতৃত্বে বাঙালী জাতি অর্জন করেছিল বহুল কাক্সিক্ষত স্বাধীনতা। এ মহান নেতার চিন্তা-চেতনায় সবসময় কাজ করত বাঙালীর মুক্তি ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা। তিনি ছিলেন বাঙালী জাতির স্বপ্নদ্রষ্টা এবং বাঙালী জাতীয়তা বাদের প্রবক্তা। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ৬-দফা, &rsqu...

উত্তাল মার্চ, ১৯৭১- মিছিলকারীদের উদ্দেশে সারাদিন প্রায় বিরামহীন ভাষণ দেন বঙ্গবন্ধু

২৪ মার্চ, ১৯৭১। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর বাসভবনে সমাগত বিভিন্ন মিছিলকারীর উদ্দেশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রায় বিরামহীনভাবে ভাষণ দেন। তিনি বলেন, আর আলোচনা নয়, এবার ঘোষণা চাই। তিনি বলেন, আগামীকালের মধ্যে সমস্যার কোনো সমাধান না হলে বাঙালিরা নিজেদের পথ বেছে নেবে। আমরা সাড়ে সাত কোটি মানুষ আজ ঐক্যবদ্ধ। কোনো ষড়যন্ত্রই আমাদের দাবিয়ে রাখতে পারবে না। সরকা...

শরণার্থী ১৯৭১ঃ সীমান্তজুড়ে একেকটি বাংলাদেশ

'ভারত ও পাকিস্তান সীমান্তের একটি কর্দমাক্ত শহর বারাসাত। এর স্বাভাবিক জনসংখ্যা ২১ হাজার। এশীয় মানদণ্ডে বিচার করলে এখানকার হাসপাতালটি কোনোরকমে এই অধিবাসীদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যের ব্যবস্থা করতে পারে। গত সপ্তাহে দেড়-দুই লাখ লোক বানের জলের মতো বারাসাত শহরে ঢুকে পড়েছে। তারা শহরের চারদিকে ধানি জমিতে গিজগিজ করছে। স্কুল, কলেজ, সিনেমা হল এবং পতিত জমিতে তাদের আশ্রয়ের ব্যব...

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসঃ ভয়াল কালরাত্রির গণহত্যা

মানব ইতিহাসের অন্যতম বর্বর নিষ্ঠুরতম গণহত্যার একটি রাত। একাত্তরের ২৫শে মার্চের সেই রাত। গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎই ট্যাংকের গর্জন শুনতে পায় শহরবাসী। পাখির ডাক নয়, বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লাখ লাখ জনসাধারণ জেগে ওঠে অনবরত গোলাগুলির শব্দে। বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম এবং বৃহত্তম এক গণহত্যার সূচনা হয় এভাবেই, যা পরিচালনা করেছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সাম...

  • «
  • »