১৯৭১, ভোলার ওয়াপদা কলোনি-খেয়াঘাট গণহত্যা

মোহাম্মদ আরিফুল হকঃ একাত্তরে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী বাংলার মাটিতে যে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল, তা ছিল বিংশ শতাব্দীর নৃশংসতম গণহত্যা। পাকবাহিনীর পরিকল্পিত এ গণহত্যায় প্রাণ দিয়েছিল ৩০ লাখের অধিক মানুষ। সম্ভ্রম হারিয়েছিল ৫ লক্ষাধিক মা-বোন। ২৫ মার্চের গভীর রাতে ঘুমন্ত বাঙালীদের নিধনের মাধ্যমে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী এ হত্যাযজ্ঞ শুরু করে, দ্বীপাঞ্চল ভোলাতেও এর ব্যত্য...

১৯৭১, রাজশাহীর যোগীশো ও পালশা গণহত্যা

সাব্বির মাহমুদ রাবাতঃ ১৬ মে, ১৯৭১। ভোর বেলা। পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর ৬টি ভ্যান রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার যোগীশো গ্রামে পৌঁছায়। গ্রামে মিলিটারি প্রবেশ করেছে খবর পেয়ে পুরো জনপদ আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। বিশেষত হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা সকলেই পরিবারসহ পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে আত্মগোপন করে। পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে আগত রাজাকার ও তাদের সহযোগীগণও ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ...

গণহত্যার দিকে এগিয়ে গেল শ্বাপদরাঃ শান্তা মারিয়া

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ বাংলার বুকে যে গণহত্যা হয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন। তখনো তো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষিত হয়নি। তার আগে পর্যন্ত বলা চলে পশ্চিম ও পূর্ব পাকিস্তান একই দেশ ছিল। সেই হিসেবে নিজ দেশের বেসামরিক ঘুমন্ত নগরবাসীর ওপর সেনাবাহিনীর এভাবে নির্বিচারে এত ব্যাপক গণহত্যা চালানোর নজির আর কোনো দেশে নেই। ইয়াহিয়া ও পশ্চিম পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এবং জুলফিক...

২৫শে মার্চ, ‘গণহত্যা দিবস’, ইতিহাসের দায় মুক্তিঃ শিরীন আখতার

মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব। এই একটি শব্দে জাতি খুঁজে পায় তার শেকড়ের সন্ধান। বাংলাদেশের ইতিহাস স্মরণ করতে গেলে হাজার বছরের স্বাধীনতার সংগ্রামের বিভিন্ন খণ্ডিত ইতিহাস আমাদের কাছে স্মরণযোগ্য। এই সব কিছু ছাপিয়ে ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধ মূর্ত করেছে আমাদের প্রকৃত স্বাধীনতা। আর এই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস গড়ে উঠেছে আমাদের ভাষার অধিকার ও স্বাধীন স্বায়ত্বশাসনের আন্দোলন থেকে...

২৫ মার্চ জাতীয় গণহত্যা দিবসঃ ভয়াল কালরাত্রির গণহত্যা

মানব ইতিহাসের অন্যতম বর্বর নিষ্ঠুরতম গণহত্যার একটি রাত। একাত্তরের ২৫শে মার্চের সেই রাত। গভীর রাতের নিস্তব্ধতার মধ্যে হঠাৎই ট্যাংকের গর্জন শুনতে পায় শহরবাসী। পাখির ডাক নয়, বাংলাদেশ তথা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের লাখ লাখ জনসাধারণ জেগে ওঠে অনবরত গোলাগুলির শব্দে। বিশ্ব ইতিহাসের নৃশংসতম এবং বৃহত্তম এক গণহত্যার সূচনা হয় এভাবেই, যা পরিচালনা করেছিল তৎকালীন পাকিস্তানের সাম...

গণহত্যার নীলনকশা চূড়ান্ত

তোফায়েল আহমেদঃ লাগাতার চলা অসহযোগ আন্দোলনের ২০তম দিবস আজ অতিবাহিত হয়। ১৯৭১-এর ২১ মার্চের এ দিনটি ছিল রোববার। যেসব অফিস খোলা রাখার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেগুলো ছাড়া আর সব সরকারি-আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অসহযোগ কর্মসূচি নিয়মতান্ত্রিকভাবেই পালিত হয়। যথারীতি আজও রাজধানীর সব সরকারি-বেসরকারি বাসভবন এবং যানবাহনগুলোয় ক...

১৯৭১, রাজশাহীর হরিপুর গণহত্যা

মোহাম্মদ আরিফুল হকঃ একাত্তরে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর নারকীয় গণহত্যা শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ^ মানবতার ইতিহাসেও একটি কালো অধ্যায়। পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর পরিকল্পিত গণহত্যায় প্রাণ দিতে হয়েছিল ৩০ লাখের অধিক মানুষকে। ধর্ষণ আর নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল ৫ লাখেরও বেশি মা-বোনকে। ২৫ মার্চ মধ্যরাত থেকেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনী দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মতো রাজশাহীতেও নিরীহ জন...

১৯৭১, খুলনার দেয়ারা গণহত্যা

মো. রোকনুজ্জামান বাবুলঃ ১৯৭১ এর আগস্ট মাস। সারাদেশের ন্যায় দালাল রাজাকাররা মুক্তিযোদ্ধাদের খুঁজছে। এমনই একটি দিন আগস্ট মাসের ২৭ তারিখ। মাত্রই দিনের আলো ফুটতে শুরু করেছে। এমনই সময় খুলনা জেলার দেয়ারা গ্রামে রাজাকার বাহিনীর সদস্যরা পাকিস্তানী সেনাদের নিয়ে হামলা করে। পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকাররা খালিশপুরের পিপলস্ জুট মিলের খেয়াঘাট পার হয়ে...

গণহত্যা ১৯৭১: হরিণাগোপাল-বাগবাটী

আরিফ রহমানঃ দিনটি ছিল মঙ্গলবার। হানাদার বাহিনী তাদের স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় আনুমানিক ভোর পাঁচটায় বাগবাটী গ্রাম ঘেরাও করে। গাড়ির শব্দে পাহারারত যুবকরা গ্রামবাসীদের সতর্ক করার আগেই এক শ’ পাকসেনা গ্রামে ঢুকে পড়ে তিন ভাগে অভিযান চালায়। একটি গ্রুপ হত্যা চালায়, একটি গ্রুপ ধর্ষণ করে, আরেকটি গ্রুপ পুরো গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। স্থানীয় রাজাকারর...

১৯৭১, রংপুরের হাতিয়া গণহত্যা

মোহাম্মদ আরিফুল হকঃ ‘সবুজ পূর্ব পাকিস্তানকে লাল রঙে রাঙাতে হবে’ রাও ফরমান আলীর এই আদেশই হয়তো বাংলা ভাষাভাষীকে সভ্যতার ইতিহাসের সবচেয়ে নিকৃষ্টতম অপরাধের বলিতে পরিণত করেছিল। উত্তাল একাত্তরের ১৩ নবেম্বর পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর হাতে এক নারকীয় গণহত্যার শিকার হয়েছিল বর্তমান রংপুর বিভাগের কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার অন্তর্গত হাতিয়া ইউনিয়নের সাধারণ জনগণ।...

১৯৭১, সাতক্ষীরার ঝাউডাঙ্গা গণহত্যা

মাসুদ রানাঃ একাত্তরের ২০ মে পাকিস্তানী বাহিনী খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে গণহত্যা চালিয়ে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা করে। ২০ মে চুকনগর গণহত্যা চালানোর পূর্বে চুকনগর থেকে কিছু শরণার্থী পরিবার ভারতে যাওয়ার জন্য খুব ভোরে বের হয়ে যশোরের কেশবপুরের প্রায় ১২-১৩ কি:মি: পশ্চিম দিকে ত্রিমোহিনী নামক জায়গায় রাত যাপন করে। ২১ মে ভোরবেলা আবার যা...

১৯৭১, নীলফামারীর গোলাহাট গণহত্যা

সাব্বির মাহমুদ রাবাতঃ ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে পাকিস্তান সরকার সৈয়দপুর বিমানবন্দর নির্মাণের কাজ শুরু করে। ২৫ মার্চ থেকে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পাকিস্তানী সেনা ও তাদের সহযোগী জামায়াত, মুসলিম লীগ, বিহারীরা মিলে বাঙালী হিন্দু-মুসলিমদের জোর করে ধরে নিয়ে বিনা পারিশ্রমিকে বিমানবন্দরের কাজ করিয়ে নিতে থাকে। এ অবস্থা চলতে থাকে জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। ১ জুন বিহারী সম্...

গণহত্যা ১৯৭১- মৌলভীবাজারের পাঁচগাঁও

২৭ মার্চ বিকাল ৩টায় পাকিস্তানী বাহিনী মৌলভীবাজার জেলার উত্তরের রাজনগর উপজেলায় প্রবেশ করে। পাকিস্তানী বাহিনীর প্রথম শিকারে পরিণত হয় রাজনগর উপজেলার পাঁচগাঁও ইউনিয়নের ভূমিউড়া গ্রামের পণ্ডিত শ্যামাপদ কাব্যতীর্থ। একাত্তরে রাজনগরে পাকিস্তানী বাহিনীর অবস্থানের কারণে স্থানীয় কিছু রাজাকার সুবিধা লাভ করতে শুরু করে। তারা শান্তি কমিটিতে নাম লেখিয়ে গ্রামে প্রভাব খাটাতে থাকে।...

১৯৭১, বরিশালের কাঠিরা গণহত্যা

বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের ছোট একটি গ্রাম কাঠিরা। স্বাধীনতার পূর্বে একটি সাধারণ হাটবাজার ছাড়া আগৈলঝাড়ার পরিচয় দেয়ার মতো বিশেষ কিছু ছিল না। কাঠিরা ছিল খুব সাধারণ একটি গ্রাম, যা চারদিক থেকে বিল দিয়ে ঘেরা। তাই কাঠিরাকে প্রত্যন্ত বিলাঞ্চলই বলা যায়, যেখানে বর্ষাকালে নৌকা ছাড়া চলাচলের আর কোন পথ ছিল না। যদিও পাকিস্তানী বাহিনীর আক্রমণের সময় কাঠিরা...

১৯৭১, খুলনার আজগড়া গণহত্যা

আরিফ রহমানঃ অপারেশন সার্চলাইট নাম দিয়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশে গণহত্যা শুরু করে। বাঙালীর স্বাধিকারের দাবিকে চিরতরে নির্মূল করতে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী ও তাদের এ দেশীয় দোসররা এ কার্যক্রম চালায়। দীর্ঘ নয় মাস বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী ও তাদের সহায়তাকারী দালালরা ৩০ লাখ মানুষ হত্যা করে। ৬ লাখ না...

কাতোলমারী গণহত্যাঃ মো. হেলাল উদ্দিন

দিনটি ছিল ১৯৭১ সালের ৬ মে এবং ২২ বৈশাখ ১৩৭৮। ওই দিনটি খোষলামপুর গ্রামবাসীর জন্য ছিল এক ঘন তমসাচ্ছন্ন বিভীষিকাময় দিন। গ্রামবাসী কখনো বুঝতেই পারেনি এটি হবে তাদের জীবনের শেষ দিন। ইয়াহিয়া খানের দস্যুবাহিনী ১৯৭১ সালের ওই দিনে খোষলামপুর গ্রামে যে গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ ও লুণ্ঠন চালিয়েছে, তা অবর্ণনীয়। খোষলামপুর গ্রামের কয়েকজন ভুক্তভোগী, নির্যাতিত ও প্রত্যক্ষদর্শীর বিবর...

সাগরদাঁড়ি ইউনিয়নে গণহত্যাঃ লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা অঙ্কুরে বিনাশ করতে চেয়েছে নজিরবিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে। গণহত্যা ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পরবর্তী নয় মাসে সমগ্র বাংলাদেশে অব্যাহত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ কিংবা আরো বেশি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক হাজার বধ্যভূমি চিহ্নিত। আফ...

পেরুয়া গ্রামে গণহত্যাঃ লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা অঙ্কুরে বিনাশ করতে চেয়েছে নজিরবিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে। গণহত্যা ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পরবর্তী নয় মাসে সমগ্র বাংলাদেশে অব্যাহত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ কিংবা আরো বেশি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক হাজার বধ্যভূমি চিহ্নিত। আফ...

গোড়ান ও সাটিয়াচড়া গ্রামে গণহত্যাঃ লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির

১৯৭১-এর ২৫ মার্চ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালির স্বাধীনতার আকাক্সক্ষা অঙ্কুরে বিনাশ করতে চেয়েছে নজিরবিহীন গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে। গণহত্যা ঢাকা থেকে ছড়িয়ে পরবর্তী নয় মাসে সমগ্র বাংলাদেশে অব্যাহত ছিল। মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহতের সংখ্যা ৩০ লাখ কিংবা আরো বেশি। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এ পর্যন্ত পাঁচ হাজারের অধিক বধ্যভূমির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে এক হাজার বধ্যভূমি চিহ্নিত। আফ...

পাকিস্তানিদের খুশি করাই ছিলো জিয়া, খালেদা জিয়ার এজেন্ডাঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ’৭৫-পরবর্তী সরকারগুলো পাকিস্তানী জান্তার এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী ছিলো বলে অভিযোগ করে বলেছেন, তারা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর যে এজেন্ডা ছিলো ভিন্নভাবে সেটাই বাস্তবায়ন করে যাচ্ছিল। তিনি বলেন, ‘এ দেশ দরিদ্র থাকুক, এ দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক। আর বাংলাদেশ যদি ব্যর্থ রাষ্ট্র হয় তাহলে পাকিস্তান খুশী হবে।’ তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর ...

  • «
  • »