ছয় দফা থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা- মুক্তির পথে বাঙ্গালী জাতি

জানুয়ারি ১৯৬৬তাশখন্দে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী লাল বাহাদুর শাস্ত্রী সেপ্টেম্বর ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের জন্য নিজেদের মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। এর কিছুদিনের মধ্যেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে লাল বাহাদুর শাস্ত্রী মারা যান। ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান লাহোরে পাকিস্তানের বিরোধীদলীয় রাজনীতিকদের একটি সম্মেলনে ছয়...

১০ এপ্রিল ১৯৭১ঃ স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র

মুজিবনগর, বাংলাদেশ তারিখ: ১০ এপ্রিল ১৯৭১ যেহেতু ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭১ সালের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশে অবাধ নির্বাচনের মাধ্যমে শাসনতন্ত্র রচনার উদ্দেশ্যে প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হয়েছিল; এবং যেহেতু এই নির্বাচনে বাংলাদেশের জনগণ ১৬৯টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ দলীয় ১৬৭ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল; এবং যেহেতু জেনারেল ইয়াহিয়া খান ১৯৭১ সনের ৩রা মার্চ ...

সংবিধান রচিত হবে চার স্তম্ভের ওপর: গণপরিষদ অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু

স্বাধীন বাংলাদেশে গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল। ওই দিনই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। স্বাধীনতা ঘোষণার প্রস্তাব নিয়ে কথা বলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি মুক্তি সংগ্রামের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রত্যেকের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেন এবং জানান, সবার আগে সংবিধান (সেসময় পত্রিকাগুলোতে শাসনতন্ত্র হিসেবে লেখা হতো) তৈরির কাজ শেষ করাটাই বড় কর্...

বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করি

জয়ন্তী রায়ঃআমি নরসিংদীর রায়পুরায় জন্মগ্রহণ করলেও আমার জীবনের বিরাট এক অংশ অতিবাহিত হয় ময়মনসিংহ শহরে। এখানে শুরু হয় লেখাপড়া এবং রাজনীতি ও কর্মজীবন। আমি ময়মনসিংহ মহাকালী উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে সেখান থেকে এসএসসি পাশ করি। এরপর মমিনুন্নেছা কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হই এবং সেখান থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করি। পরবর্তী সময়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ভর্তি হই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ...

স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা

তোফায়েল আহমেদঃ আগামী বছর পালিত হবে মহান স্বাধীনতা দিবসের সুবর্ণজয়ন্তী। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ তথা ‘মুজিববর্ষ’ দেশব্যাপী সগৌরবে পালিত হচ্ছে। এরই মধ্যে দেখা দিয়েছে ‘করোনা ভাইরাস’-এর প্রাদুর্ভাব! ফলত, ‘মুজিববর্ষ’ ও ‘স্বাধীনতা দিবস’-এর বহু অনুষ্ঠান স্থগিত করা হয়েছে। ‘করোনা ভাইরা...

জয়তু বাংলাদেশ জয়তু স্বাধীনতা

অজয় দাশগুপ্তঃ এতগুলো বছর যেমন কম সময় নয় তেমনি একটি দেশ বা জাতির বিচারে বেশি কিছুও না। বাংলাদেশ আজ সে বয়সে পা দিয়েছে। একাত্তর ছিল অবিতর্কিত এক গৌরবময় অধ্যায়। আমি তখন বালক বেলায়।  সে বালকের মুগ্ধ বিস্ময় শুদ্ধ ভাবনা পঁচাত্তর পর্যন্ত টাল খেলেও ভেঙে পড়েনি। কিন্তু বাংলা মায়ের দুর্ভাগ্য পঁচাত্তরের আগস্ট আর নভেম্বরে একে একে হারিয়ে গেলেন জাতির জনকসহ জাতির  যত...

বঙ্গবন্ধু বাঙালি সংস্কৃতির ভবিষ্যতও নির্মাণ করে দিয়েছেন

ভারত উপমহাদেশে বঙ্গবন্ধুর আগে এবং বঙ্গবন্ধুর সমকালে অনেক বড় বড় নেতা ছিলেন, কিন্তু বাঙালি জাতির স্বার্থ এবং বাঙালি জাতির স্বাধীন ভূখণ্ডের জন্য বঙ্গবন্ধুই একমাত্র সফল নেতা হিসেবে আবির্ভূত হলেন। এই সাফল্যের পেছনে অনেক কিছুই রয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তি চরিত্রের বৈশিষ্ট্য, তার ইতিহাস পাঠ, একটি জাতিকে স্বাধীন করার জন্য তার যে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দরকার ছিল তার সবই ছিল। বঙ্গবন্ধু একজন অ...

বাঙালীর গৌরব আর অহঙ্কারের দিন আজ

এম. নজরুল ইসলামঃবাঙালী জাতির ইতিহাসে সবচেয়ে গৌরবময় দিন আজ। বাঙালীর চিরকালের গৌরব আর অযুত অহঙ্কারের দিন ২৬ মার্চ; বাঙালীর জাতীয় জীবনের ইতিহাসে উজ্জ্বল, ভাস্বর এই দিন। দীর্ঘকালের পরাধীনতার গ্লানি আর বিজাতীয় শাসন-শোষণের যাঁতাকল থেকে মুক্তি ছিনিয়ে এনে বাঙালীর আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৭১ সালের এই দিনে।দীর্ঘ পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করে ১৯৭১ সাল...

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। বাঙালি জাতির ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন-সার্বভৌম ‘বাংলাদেশ’ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের স্ফুলিঙ্গে উজ্জীবিত সশস্ত্র জনযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত হয়েছে আমাদের মুক্তির ইতিহাস, স্বাধীনতার ইতিহাস। স্ব...

দুঃখী মানুষের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান

বিবিসির জরিপে যখন শেখ মুজিবুর রহমানকে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি হিসেবে নির্বাচিত করা হয়, তখন কারো কারো মধ্যে যে বিস্ময় দেখা দেয়নি, তা নয়। রাজনীতি-সাহিত্য-শিল্প-অর্থনীতি-বিজ্ঞান-সমাজ-সংস্কৃতি-শিক্ষা-সংস্কারের শত শত বছরের ইতিহাসে সব বাঙালিকে ছাড়িয়ে শেখ মুজিব কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে সক্ষম হলেন তার উত্তর অত্যন্ত সহজ – তিনি বাঙালির ইতিহাসে প্রথম স্বাধীন জা...

মার্চে বাঙালি জাতির হৃদয়ে জমাট বেঁধেছে স্বাধীনতার চেতনা

অগ্নিঝরা মার্চ ছিল একটি জাতির অধিকার আদায়ের জন্মসূত্র। ১৯৭১ সালের পর প্রতিটি মার্চ মাস আমাদের কাছে একটি বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে হাজির হয়। বিশেষ করে ভাষা আন্দোলনের মাসের পর এ মার্চের আন্দোলন আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। এ গুরুত্ব আজও সমানভাবে আমাদের জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জাতি হিসেবে যে আকাঙ্ক্ষা ছিল সেটা এ মার্চ আমাদের দিয়েছে। মার্চ হচ্ছে বাঙ...

৭ মার্চের ভাষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত দিকনির্দেশনা

- বিভুরঞ্জন সরকার ৭ মার্চে বাঙালি জাতির জীবনে একটি ঐতিহাসিক দিন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এক বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয়ের পথ রচনা করেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণটিকে ইউনেস্কো বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ভাষণটিকে ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ই...

সবকিছু চলতে থাকে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে

অগ্নিঝরা মার্চের নবম দিন আজ। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঢাকা শহর যেন মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। যেখানে-সেখানে জটলা, মিছিল, মিটিং চলতেই থাকে। লাগাতার আন্দোলনে দেশ পুরোপুরি অচল হয়ে পড়ে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষক, শ্রমিক, চাকরিজীবী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, লেখক, শিক্ষকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বাধীনতার লাল সূর্য ছিনিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ হতে থাকে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী বাংলা...

শ্রেষ্ঠ এক বিকেলের গল্প

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ। সেই একটি দিন, একটি অপরাহ্ন। জনসমুদ্রে গণজোয়ার তোলা এক ইতিহাস। তিনি এলেন। মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চারণ করলেন মানুষেরই মনের কথা। ‘ঘরে ঘরে দুর্গ’ গড়ে তোলার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা নিয়ে ঘরে ফিরে গেল মানুষ। কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় সেদিনের চমৎকার এক বর্ণনা আছে। একটি কবিতা লেখা হবে তার জন্য অপেক্ষার উত্তেজনা নিয়ে/ লক্ষ লক্ষ উন্মত্ত অধ...

বঙ্গবন্ধু, ৭ মার্চ ও রেসকোর্সের মহাকাব্য

জিয়া আহমেদঃ বঙ্গবন্ধু, ৭ই মার্চ ও স্বাধীনতা এই তিনটি শব্দের সমার্থক রূপ হচ্ছে বাংলাদেশ। অথচ এই ৭ই মার্চের ভাষণ একটা সময়ে এই স্বাধীন দেশে প্রচার ও বাজানো নিষিদ্ধ ছিল। একটা ধর্মভিত্তিক গোষ্ঠী ভয় পেত পূর্ব পাকিস্তানের সাময়িক জান্তাদের মতো, যেমন ভয় পেয়ে ১৯৪৭ এর পর থেকে বঙ্গবন্ধুকে ১২ বার জেলে আটকে রেখেছিল জিন্নাহ, আইয়ুব ও ইয়াহিয়ার মতো শাসকরা, যার উপর নজরবন্দী রেখেছিল ১...

বঙ্গবন্ধুর ডাকে সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয় সারা বাংলায়

৪ মার্চ, ১৯৭১। জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত এবং আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা থেকে দূরে রাখতে পাকিস্তান সরকারের চক্রান্তের প্রতিবাদে গোটা পূর্ব বাংলার মানুষ ফুঁসে ওঠে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে বাংলার মানুষ একবিন্দুতে মিলিত হয়েছিল। যোগ দিয়েছিল অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী, রেডিও-টেলিভিশনের শিল্পী-কলাকুশলী, সমস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ...

খতম করেছিলাম মুক্তিযুদ্ধবিরোধী আইনজীবীকে - বীর মুক্তিযোদ্ধা অভিনয়শিল্পী মজিবুর রহমান দিলু

একাত্তরের অদম্য মুক্তিযোদ্ধা অভিনয়শিল্পী মজিবুর রহমান দিলু। ১৯৭০ সালে মেট্রিক পরীক্ষায় মানবিক বিভাগে প্রথম বিভাগে পাস করে একাত্তরে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন একাদশ শ্রেণিতে। স্কুলে পড়ার সময়ই স্বাধিকার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছিলেন তিনি। ঊনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানে যে মিছিলে গুলিতে আসাদ শহীদ হয়েছিলেন সেই মিছিলে ছিলেন দিলুও। স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ‘মিছিলে গুল...

চক্রান্তকারীরা ভস্মীভূত হয়ে যাবে, বঙ্গবন্ধুর হুঁশিয়ারি

১৯৭১ সালের ২ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘বাংলাদেশে যদি একবার আগুন জ্বলে ওঠে, তাহলে সে আগুনে চক্রান্তকারীরা ভস্মীভূত হয়ে যাবে।’ একাত্তরের মার্চের প্রথম দিন থেকেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। এদিন বঙ্গবন্ধু বিবৃতি দিয়ে কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এর ঠিক একবছর পর ১৯৭২ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসে...

এই দিনে উড়েছিল মানচিত্র খচিত বাংলাদেশের পতাকা

২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্র সমাবেশে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। সবুজ, লাল, সোনালি—এই তিন রঙের পতাকাটি সেই যে বাংলার আকাশে উড়েছিল তা আর নামাতে পারেনি পাকিস্তানের সুসজ্জিত সেনাবাহিনী ও সরকার। ‘জয় বাংলা’, ‘পিন্ডি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর...

একাত্তরের পহেলা মার্চের স্মৃতি

বিভুরঞ্জন সরকারঃ ১৯৭১ সালে আমি দিনাজপুর সরকারি কলেজের ছাত্র ছিলাম। ২৮ ফেব্রুয়ারি আমাদের কলেজ ছাত্র সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ছাত্র ইউনিয়ন মনোনীত প্যানেল হেরে যায়। স্বভাবতই মন খারাপ। পরের দিন সকালে হোস্টেল থেকে বের হয়ে কলেজে না গিয়ে আমরা কয়েক বন্ধু ঢুকলাম চৌরঙ্গী সিনেমা হলে, মর্নিং শো দেখতে। ‘রোড টু সোয়াত’ নামের একটি উর্দু সিনেমা চলছিল...

  • «
  • »