গণঅভ্যুত্থান ৯০ এবং চিকিৎসক সমাজ - অধ্যাপক (ডাঃ) কামরুল হাসান খান

485

Published on নভেম্বর 27, 2019
  • Details Image

২৭ নবেম্বর ১৯৯০। শীতের আগমনী বার্তা নিয়ে ঝকঝকে রোদেলা সকাল। এদিন ছিল বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিল ও চিকিৎসকদের ২৩ দফা বাস্তবায়ন আন্দোলনের এক পর্যায়ের কর্মসূচী- সারাদেশের চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ২৪ ঘণ্টা কর্মবিরতি এবং পিজি হাসপাতালের বটতলায় সকাল ১১টায় কেন্দ্রীয় চিকিৎসক সমাবেশ। গত কয়েকদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় চত্বর উত্তপ্ত এবং সমাবেশ মিছিল স্লোগানমুখর। গতকাল থেকে এরশাদের সশস্ত্র পেটোয়া বাহিনী শহীদ মিনার থেকে চানখারপুল, দোয়েল চত্বর দখল নিয়েছে। গতরাতে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য বেশ কয়েক দফা তাড়া করে সরিয়ে দিয়েছে। বিক্ষিপ্ত গোলাগুলি, বোমাবাজি চলছে থেকে থেকে।

ডাকসুসহ সকল ছাত্র রাজনৈতিক সংগঠন তখন শহীদ জেহাদের লাশ ছুঁয়ে ঐক্যবদ্ধ ঘোষণা দিয়েছে ‘স্বৈরাচারের পতন না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরবে না।’

বাতাসে জোর গুজব স্বৈরাচার সরকার লাশ ফেলার চেষ্টা করছে- তা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ এবং জরুরী আইন ঘোষণা করতে পারে। ২১ নবেম্বর সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে বিরোধী রাজনৈতিক জোটগুলো তাদের হরতালের কর্মসূচী প্রত্যাহার করে নিয়েছিল। এদিন সকল জোট জনসভার মাধ্যমে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচী ঘোষণা করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল ১০, ১১ এবং ১২ ডিসেম্বর দেশব্যাপী অবরোধ কর্মসূচী। স্বৈরাচার সরকারবিরোধী আন্দোলন তখন অনেকটাই চূড়ান্ত পর্যায়ে। ২৫ নবেম্বর ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির সরকারী ষড়যন্ত্রের আভাস পাওয়া গেল। ডাঃ মিলন তখন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক আর আমি প্যাথলজি বিভাগের। প্রতিদিন সকালে ওর তিন তলার বিভাগে এসে কাজ সেরে আমাদের দ্বিতীয় তলার প্যাথলজি বিভাগে চলে আসত এবং কলেজ-হাসপাতাল ঘুরে আমরা আন্দোলন করতাম অন্যদের সঙ্গে নিয়ে। ২৬ নবেম্বর ডাঃ মিলন যথারীতি সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে ওর বিভাগ হয়ে আমার বিভাগে এলো। দু’জনে মিলে কলেজ ও হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে আগামীকালের বিএমএ-এর কর্মসূচী বাস্তবায়নের জন্য জনসংযোগ করলাম। হাসপাতালের ডক্টরস ক্যাফেটারিয়া বন্ধু ডাঃ রঞ্জুসহ দুপুরের খাবার খেয়ে ওদের বিদায় দিতে গিয়ে দেখলাম শহীদ মিনার থেকে চানখারপুল এবং দোয়েল চত্বর সশস্ত্র যুবকদের দখলে। প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে সরকারের লেলিয়ে দেয়া বাহিনী। সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের সঙ্গে চলছে তাদের দফায় দফায় সংঘর্ষ।

২৭ তারিখ সকালে মিলনের অপেক্ষায় থেকে না পেয়ে আমি আর সাইদ পিজি হাসপাতালের দিকে যেই পা বাড়িয়েছি ঠিক তখনি খবর পেলাম টিএসসির সামনে একজন ডাক্তার আহত হয়েছে, তাকে ইমার্জেন্সিতে আনা হচ্ছে। আমরা দৌড়ে ইমার্জেন্সিতে গিয়ে দেখলাম ডাঃ আমজাদ ভাইয়ের নেতৃত্বে মিলনকে জরুরী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। চিকিৎসকদের আর কোন সুযোগ না দিয়ে এদেশের প্রিয় চিকিৎসক নেতা ডাঃ মিলন হারিয়ে গেলেন সকলের মাঝ থেকে। থ্রি নট থ্রির একটি বুলেট তার ফুসফুস এবং হৃৎপিণ্ড ভেদ করে জায়গা করে নিয়েছিল পাঁজরের ভেতর।

সঙ্গে সঙ্গে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ল উপস্থিত শত শত চিকিৎসক, নার্স, কর্মচারী, জনতা। মুহূর্তেই বিদ্যুতের মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এই মর্মান্তিক সংবাদ। গর্জে ওঠে কলেজ, বিশ^বিদ্যালয়, রাজপথ, জনপথের সর্বত্র। জনগণের কণ্ঠ- ‘মিলন ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেব না।’ আন্দোলন ঝড়ের গতি পায়, যে ঝড়ে কোন স্বৈরাচার কখনও টিকে থাকতে পারে না। ডাঃ মিলন হত্যার সঙ্গে সঙ্গে দেশের চিকিৎসক সমাজ, মেডিক্যাল ছাত্র রাস্তায় বেরিয়ে পড়ে এবং এরশাদ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। অন্যদিকে চারদিক থেকে চিকিৎসক ছাত্র জনতা বিশাল বিশাল মিছিল নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এক মহাসমুদ্র পরিণত হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসাপাতালের এসজিএম স্যারের রুমে বিএমএ-এর এক জরুরী সভার আয়োজন করি। এ সভায় কয়েকটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত হয় : (১) ২৮ নবেম্বর বিএমএ-এর পক্ষ থেকে সারাদেশে অর্ধদিবস হরতাল আহবান (২) অবিলম্বে এরশাদ সরকারের পদত্যাগ দাবি (৩) এরশাদ সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত অবিরাম চিকিৎসক কর্মবিরতি। তৎকালীন সকল রাজনৈতিক জোট বিএমএ-এর সিদ্ধান্ত ও কর্মসূচীকে সমর্থন করে। মিলনের পোস্ট মর্টেমে বুকের পাঁজরে পাওয়া গেল লুকিয়ে থাকা থ্রি নট থ্রির হত্যাকারী বুলেট। পোস্ট মর্টেম এবং বহির্বিভাগের সামনে অনুষ্ঠিত জানাজা শেষে মিলনের শেষ শয্যা রচিত হলো তাঁরই প্রিয় শিক্ষাঙ্গন ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সেদিনের সকল আয়োজনের দায়িত্ব বর্তেছিল আমার ওপর। পরিস্থিতি এমনই হতবিহ্বল ছিল মিলনের মৃত্যু সনদটিও আমাকে লিখতে হয়েছিল। মিলনকে শায়িত করার সঙ্গে সঙ্গে খবর পেলাম এরশাদ সরকার ইতোমধ্যে কার্ফ্যু জারি করেছে, ঘোষণা করেছে জরুরী আইন, ব্যবহার করল ক্ষমতা আঁকড়ে ধরে রাখার শেষ অস্ত্র। জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করল সেই ঘোষণা। ঘোষণার রাতেই কার্ফ্যু ও জরুরী আইন অমান্য করে লাখো মানুষের ঢল নামল ঢাকার রাজপথে এবং সারাদেশে। অবলীলায় আবার আত্মাহুতি দিল বাংলার মানুষ, প্রতিরোধ গড়ে তুলল সারাদেশে। ২৮ নবেম্বর থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের সকল মেডিক্যাল শিক্ষক ও সরকারী চিকিৎসক পদত্যাগ করে এরশাদ সরকারের প্রতি অনাস্থা জানায়। এই পদত্যাগ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রভাব ফেলে । ২৮ নবেম্বর সকালে আমরা ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সভাকক্ষে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করি, যেখান থেকে বিএমএ-এর কর্মসূচী সারাদেশে পরিচালিত হয়। পাশাপাশি রাজনৈতিক জোটসমূহের কর্মসূচী- সংবাদ দেশে-বিদেশে প্রেরণ করা হতো।

৪ ডিসেম্বর রাতে এরশাদ পদত্যাগের ঘোষণা দিতে বাধ্য হন এবং সেই ঘোষণার মধ্য দিয়ে সুদীর্ঘ নয় বছরের স্বৈরাচারী দুঃশাসনের পতন ঘটে। রাতে ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট ভরে যায় আনন্দ মিছিলে। আমরাও ঢাকা মেডিক্যাল থেকে মিলনের সহকর্মীরা আনন্দ-বেদনার মধ্য দিয়ে শামিল হই সেই মিছিলে। ডাঃ মিলন, নূর হোসেন, জেহাদসহ আরও অসংখ্য শহীদের রক্তে এ ভূখণ্ডের ইতিহাসে আরেকটি ঐতিহাসিক সংযোজন ‘গণঅভ্যুত্থান ’৯০' এর দেশবাসীর কাছে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার এক নবতর আশার সঞ্চার করেছিল।

ডাঃ শামসুল আলম খান মিলন তৎকালীন বিএমএ-এর যুগ্ম সম্পাদক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ শিক্ষক সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। ১৯৮৩ সালে ডাক্তার হওয়ার পর থেকে চিকিৎসক ও পেশাজীবীদের সকল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখে নেতৃত্ব প্রদান করেন। প্রতিটি আন্দোলনে তাকে সরকারের রোষানলে পড়তে হয়েছে, এমনকি চাকরিচ্যুত পর্যন্ত হতে হয়েছে। যদিও চিকিৎসক, পেশাজীবীদের চাপের মুখে সরকার বারবারই তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়েছে। মিলন তার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ দেশের চিকিৎসক, পেশাজীবী ও রাজনীতিবিদদের হৃদয়ে এক মর্যাদাকর আসন অর্জন করেছিল। মিলনের সঙ্গে আমার ৮৩ সাল থেকে ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হলেও ওর জীবনের শেষ দুটি বছর অহর্নিশি আমরা একত্রে থাকতাম। অমায়িক ব্যক্তিত্বের মানুষ মিলনের সঙ্গে ঢামেক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করেছিলাম। আমি জয়ী হলে ওকে কোষাধ্যক্ষ পদের প্রস্তাব দিলে প্রত্যাখ্যান করেনি। দিনরাত এক সঙ্গে বিএমএ, শিক্ষক সমিতি, পেশাজীবী আন্দোলনে কাজ করেছি, সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। আন্দোলন সংগঠিত করার জন্য গোটা দেশ ঘুরে বেড়িয়েছি। এমনকি হুলিয়া মাথায় নিয়ে রাতে হাসপাতালের বিভিন্ন কক্ষে দু’জনে এক সঙ্গে ঘুমিয়েছি।

’৯০-এর প্রথম দিকে সরকার কর্তৃক একটি স্বাস্থ্যনীতি ঘোষণার কথা শোনা যায়। অবশেষে সে বছর ২৫ জুলাই জেনারেল এরশাদ জাতীয় প্রচার মাধ্যমে একটি ‘জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি’ ঘোষণা করেন। বিএমএ এবং জনগণ প্রস্তাবিত এই স্বাস্থ্যনীতিকে গণবিরোধী এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বেসরকারীকরণের মাধ্যমে এনজিও নির্ভর করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করে। ২৭ জুলাই বিএমএ পর্যায়ক্রমে আন্দোলনের শেষে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জাতীয় চিকিৎসক মহাসমাবেশ থেকে গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিল ও চিকিৎসকদের প্রাণের ২৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য চূড়ান্ত কর্মসূচী ঘোষণা করে। চিকিৎসকদের এ আন্দোলনকে দেশের তৎকালীন তিন জোট, সর্বদলীয় ছাত্রঐক্য, অন্যান্য পেশাজীবী সংগঠন সমর্থন করে। তুমুল আন্দোলনের মুখে এরশাদ সরকার ১৪ আগস্ট স্বাস্থ্যনীতি প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। চাপের মুখে স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখলেও সরকারের ষড়যন্ত্র অব্যাহত থাকে। সরকারের সঙ্গে চুক্তি ছিল বিএমএ, পেশাজীবী প্রতিনিধি ও সরকারের সমন্বয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে সকলের গ্রহণযোগ্য জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি প্রণীত হবে। কিন্তু মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেখা গেল সরকার একতরফাভাবে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে আবারও একটি কমিটি ঘোষণা করে। বিএমএ সেই কমিটি প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচী গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। ইতোমধ্যে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন সুসংগঠিত হতে থাকে, তিন জোট ঐক্যবদ্ধভাবে কর্মসূচী ঘোষণা করে। এর মধ্যে ২৭ নবেম্বর মিলন শহীদ হওয়ার মধ্য দিয়ে দ্রুত স্বৈরাচারী সরকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে এবং তার পতন ঘটে। সেদিন যদি দেশের চিকিৎসক সমাজ গণবিরোধী স্বাস্থ্যনীতি বাতিলের আন্দোলন না করত তাহলে আজকে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং মেডিক্যাল শিক্ষার এক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো। এরশাদ সরকারের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রস্তাবিত জাতীয় স্বাস্থ্যনীতি চূড়ান্তভাবে বাতিল করে। ডাঃ মিলনের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে এদেশের চিকিৎসক সমাজ তথা বিএমএ, পেশাজীবী সমাজ জনগণের কাছে এক মর্যাদার আসন পেয়েছে।

ইতোমধ্যে দেশের মেডিক্যাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থার লক্ষণীয় অগ্রগতি হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা তার চার দফায় দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্যনীতিসহ চিকিৎসকদের সকল দাবি পূরণ করেছেন। নবীন চিকিৎসদেরও সরকার সাধ্যমতো নিয়োগ দিচ্ছে। বাংলাদেশের মেডিক্যাল শিক্ষা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এখন বিশ্বের দরবারে সমাদৃত, অনেক ক্ষেত্রেই ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে এগিয়ে। এখন চিকিৎসদের গভীরভাবে বিবেচনা করতে হবে কেমন আছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। চিকিৎসক ও চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক সমালোচনা-পর্যালোচনা রয়েছে। সবই সঠিক তা নয়। বাংলাদেশের মতো একটি উন্নয়নশীল দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা জনগণের পূর্ণ সন্তুষ্টি পাওয়া সহজ নয়। কারণ স্বাস্থ্য বাজেটের অপ্রতুলতা, রোগীর অকল্পনীয় চাপ, দুর্বল ব্যবস্থাপনাসহ রয়েছে নানা সীমাবদ্ধতা। তারপরেও আমাদের দায়বদ্ধ থাকতে হবে সর্বস্তরে। নীতিনির্ধারণ থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু প্রধানত চিকিৎসকদের হাতে।

বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) এদেশের চিকিৎসকদের একমাত্র জাতীয় সংগঠন। বিএমএ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, মেডিক্যাল শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ১৯৯০ সালে ড্যাব সৃষ্টির মাধ্যমে চিকিৎসক সমাজ নানা রাজনৈতিক গোষ্ঠীতে বিভক্ত। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বিএমএ, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। রাজনৈতিক মতাদর্শ ভিন্ন ভিন্ন হতেই পারে; কিন্তু মিলনের রক্তস্থাত বিএমএতে দল-মত নির্বিশেষে গণমুখী স্বাস্থ্য ব্যবস্থার স্বার্থে, চিকিৎসকদের উন্নয়ন ও অধিকারের স্বার্থে সকল চিকিৎসককে ঐক্যবদ্ধ থাকা জরুরী। উন্নত বিশ্বে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণে মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনের ভূমিকা অপরিসীম, কখনও কখনও প্রধান। আমরা আমাদের এইদিনে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এ্যাসোসিয়েশনকে সেই উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করতে চাই।

আজকে শহীদ ডাঃ মিলনের ২৯তম শাহাদাতবার্ষিকীতে লক্ষ শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে আমরা এদেশের চিকিৎসক সমাজ চিকিৎসাক্ষেত্রে ভেদাভেদ ভুলে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য আমাদের সর্বোচ্চ মেধা, শক্তি, সুযোগ ব্যয় করব, এটিই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।

লেখক : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়

সৌজন্যেঃ জনকণ্ঠ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত