মরার আগে কেউ মারতে পারবে না: তাজউদ্দীন

1450

Published on জুলাই 23, 2019
  • Details Image

হাকিম মাহি:

‘আমি দেশের জন্য এমনভাবে কাজ করবো, যেনো দেশের ইতিহাস লেখার সময় সবাই এ দেশটাকেই খুঁজে পায়, কিন্তু আমাকে হারিয়ে ফেলে।’

উক্তিটি বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা তাজউদ্দীন আহমদের।

সত্যি আজ তিনি নেই, কিন্তু বাংলাদেশ আছে। তাকে হারিয়ে ফেলেছি সেই ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর। এই সৎ ও মেধাবী রাজনীতিবিদ ন্যায়-নিষ্ঠতার জন্য চিরদিন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন।

তিনি ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া থানার দরদরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মৌলবী মুহাম্মদ ইয়াসিন খান এবং মা মেহেরুন্নেসা খানম।

রাজনীতি ও জীবনকে কখনো তিনি আলাদাভাবে দেখেননি। তিনি মনে করতেন জীবন মানুষের জন্য। আর মানুষের জন্য কিছু করাটাই চরম স্বার্থকতা। মাত্র ৫০ বছর বেঁচে থাকা ক্ষণজন্মা এই মানুষটির রাজনৈতিক জীবন ছিলো খুবই বর্ণাঢ্য।

ছাত্রজীবন থেকেই তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি বঙ্গীয় মুসলিম লীগের কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন। পাকিস্তান আন্দোলন, বাংলা ভাষার অধিকার, বাঙালির অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সাম্প্রদায়িকতা বিরোধী সকল আন্দোলনে তার ছিলো অসামান্য অবদান। ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠনের অন্যতম উদ্যোক্তা, পূর্ববাংলা ছাত্রলীগ এবং পূর্ব পাকিস্তান যুবলীগের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তিনি।

১৯৬৬ সালে তিনি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ভাষা আন্দোলন ও ছয়দফা আন্দোলনেও তিনি গ্রেপ্তার হন এবং কারাবরণ করেন। ১৯৬৯ সালের গণআন্দোলনে তিনি দলের পক্ষ থেকে নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়ে জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

পাকিস্তানের সেনারা রাজাকারদের নিয়ে ১৯৭১সালের ২৫ মার্চ রাতে গণহত্যা শুরু করলে তিনি কয়েকজন নেতৃবৃন্দ নিয়ে কলকাতায় চলে যান। এরপর সেখান থেকেই মুজিব নগর সরকারের রূপরেখা তৈরি করেন। ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল মুজিব নগর সরকারের তিনি প্রথম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। ১৯৭৩ সালে নির্বাচনের পর তিনি অর্থমন্ত্রী হন এবং ৭৪ সালে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে তিনি মন্ত্রীত্ব ত্যাগ করেন।

১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে হত্যার পর তাজউদ্দীনসহ জাতীয় তিন নেতা গ্রেপ্তার হন। সেখানে চার জাতীয় নেতাকেই নির্মমভাবে হত্যা করা হয়।

তিনি ১৯৭২ সালে সংবিধান রচনার পর একটি কথা বলেছিলেন, ‘যতো সুন্দর ভাষা ও শব্দ দিয়ে সংবিধান লেখা হোক না কেন, জাতির জীবনে তা প্রয়োগ না হলে সেটা অর্থহীন হয়ে পড়বে।’

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত