আওয়ামী লীগের ক্লান্তিহীন পথচলা

867

Published on জুন 23, 2019
  • Details Image

আবদুল মান্নানঃ

আজ (২৩ জুন) বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। ১৯৪৯ সালের এই দিনে ঢাকার রোজ গার্ডেনে অবিভক্ত পাকিস্তানে প্রথম যে রাজনৈতিক দলটি আত্মপ্রকাশ করেছিল, সেটি বর্তমানে শুধু বাংলাদেশেই নয়, এই উপমহাদেশের অন্যতম বৃহত্তর রাজনৈতিক দল। শুরুতেই এই দলের জন্মের সঙ্গে যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের সবাইকে আমার বিনম্র শ্রদ্ধা, বিশেষ করে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজুলল হক, আবুল হাশিম, মওলানা ভাসানী, শামসুল হক, তরুণ ছাত্র নেতা শেখ মুজিবকে (পরবর্তী সময় বঙ্গবন্ধু ও জাতির জনক)। যাঁরা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠার সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাঁরা প্রায় সবাই বিভাগপূর্ব সময়ে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। কলকাতার ইসলামিয়া কলেজে অধ্যয়নরত তরুণ ছাত্র শেখ মুজিব এই আন্দোলনের সঙ্গে রাজপথের একজন কর্মী হিসেবে কাজ করেছেন। বস্তুতপক্ষে অবিভক্ত বাংলার বেশির ভাগ মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত বাঙালি জিন্নাহ মুসলিম লীগের (প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ঢাকার নবাব আর ঢাকার উচ্চবিত্ত মুসলমানদের স্বার্থ রক্ষা করার জন্য) প্রচারণায় বিভ্রান্ত হয়ে পাকিস্তানের আন্দোলনও সমর্থন করেছিল। মুসলিম লীগের প্রতি তাদের সমর্থনের কারণ ছিল অবিভক্ত বাংলার বেশির ভাগ মুসলমান শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে ছিল। বেশির ভাগ কৃষিজমির মালিক ছিলেন হিন্দু জমিদার আর জোতদাররা। দিন আনে দিন খায় অবস্থা ছিল মুসলমানদের, নিম্ন বর্গের হিন্দুদের অবস্থাও তেমন ভালো ছিল না। তাদের বোঝানো হয়েছিল, মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন আবাসভূমি হলে তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হবে। ১৯৪৬ সালের নির্বাচনে, যাকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আখ্যায়িত করেন পাকিস্তানের জন্য গণভোট, সেই নির্বাচনে একমাত্র অবিভক্ত বাংলায় মুসলিম লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়ে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে সরকার গঠন করেছিল। বর্তমান পাকিস্তানের কোনো প্রদেশেই মুসলিম লীগ বিজয়লাভ করতে পারেনি। পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জোনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ অথবা প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী খান কোনো নির্বাচনেই অংশগ্রহণ করেননি। পাকিস্তান সৃষ্টি হলে ১৯৪৬ সালে নির্বাচিত আইন পরিষদের সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয় পাকিস্তানের প্রথম গণপরিষদ, যার অন্যতম দায়িত্ব ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি সংবিধান প্রণয়ন করা। যাঁরা এই কাজ করবেন তাঁদের তো নির্বাচিত হতে হবে। লিয়াকত আলী খানকে নিয়ে সমস্যা দেখা দিল। একটি উপনির্বাচনে তাঁকে নির্বাচিত করে আনার উদ্যোগ নিলে তৎকালীন পাকিস্তানের নির্বাচিত আইনসভার কোনো সদস্য তাঁর জন্য আসন ছাড়তে রাজি হননি। শেষ পর্যন্ত লিয়াকত আলী খানকে পূর্ব বাংলার ময়মনসিংহের একটি আসন থেকে উপনির্বাচনে নির্বাচিত হয়ে আসতে হয়। অবিভক্ত বাংলায় যাঁরা ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাঁদের স্বপ্ন ছিল বাংলা নামে একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা। অনেকে প্রত্যাশা করেছিলেন, সেই বাংলার সঙ্গে আসামও যুক্ত হবে। এই চিন্তাধারার সঙ্গে জড়িত ছিলেন শরত্চন্দ্র বসু, কিরণ শঙ্কর রায়, সত্যরঞ্জন বকসি, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, এ কে ফজলুল হক, আবুল হাশিমের মতো নেতারা। তরুণ শেখ মুজিব ও তাঁর মতো অনেক রাজনৈতিক কর্মীও একই ধারণা পোষণ করতেন।

যাঁরা অবিভক্ত বাংলার প্রবক্তা ছিলেন বা স্বপ্ন দেখতেন তাঁরা জানতেন ভারতবর্ষে বাংলা ছিল সম্পদের দিক দিয়ে অন্যতম শক্তিশালী প্রদেশ। বাংলা যদি রাজনীতিবিদদের কূটচালের কারণে ভাগ না হতো, তাহলে বাংলা নামের দেশটি অনেক আগেই বিশ্বদরবারে অর্থনৈতিকভাবে একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করত। কিন্তু জিন্নাহ দ্বিজাতিতত্ত্ব আর মুসলমানদের পৃথক আবাসভূমি ধারণার কারণে সেটি তখন আর বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান যখন সৃষ্টি হলো তখন দেখা গেল পূর্ব আর পশ্চিম পাকিস্তানের মাঝখানে হাজার মাইলের ভারতবর্ষ। তার চেয়েও বড় সত্য হলো বিভাগপূর্ব সময়ে বাঙালি মুসলমানরা হিন্দু জমিদার, জোতদার আর মহাজনদের দ্বারা শোষিত হতো আর দেশ বিভাগ পরবর্তীকালে তাদের স্থান দখল করেছে পশ্চিম পাকিস্তানের ধনিক শ্রেণি। বাঙালিদের এটি বুঝতে খুব বেশিদিন লাগেনি যে আসলে মুসলমানদের জন্য জিন্নাহর পৃথক আবাসভূমির নামে যা হয়েছে, তা হচ্ছে আগে পূর্ব বাংলার মুসলমানরা হিন্দু জমিদার আর জোতদারদের দ্বারা শোষিত হচ্ছিল, এখন তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়েছে পশ্চিম পাকিস্তানের ভূস্বামী আর বড় বিত্তশালীরা, যাদের মূল উদ্দেশ্যই ছিল ইংরেজদের মতো তাদের শাসন ও শোষণ করা। পূর্ব বাংলা অচিরেই হয়ে উঠল পশ্চিম পাকিস্তানের নতুন উপনিবেশ। বাঙালি রাজনীতিবিদদের এই সত্য বুঝতে দেরি হয়নি যে দেশভাগ আর বাংলাভাগের ফলে তাঁরা কেমনভাবে প্রতারিত হয়েছেন।

পাকিস্তানের প্রথম বড়লাট মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ১৯৪৮ সালের মার্চ মাসে ঢাকায় ঘোষণা দিলেন উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা; যদিও সে সময় উর্দু পুরো পাকিস্তানের মাত্র ৬ শতাংশ মানুষের মাতৃভাষা ছিল। তখনই এটি পরিষ্কার হয়ে যায়, ভাষার আগ্রাসন দিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব বাংলাকে তাদের কলোনি বানানোর যাত্রা শুরু করতে চায়। এটি যদি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়, তাহলে রাতারাতি সরকারি সব চাকরি অবাঙালিদের হাতে চলে যাবে। জিন্নাহর এই অন্যায় ঘোষণার প্রথম প্রতিবাদ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসমাজ, যার মধ্যে তরুণ শেখ মুজিব অন্যতম। পরবর্তী সময় তাঁকে সমর্থন করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলী আর জিন্নাহর মৃত্যু-পরবর্তীকালে গভর্নর জেনারেলের দায়িত্ব নেওয়া খাজা নাজিমুদ্দীন; যদিও খাজা নাজিমুদ্দীন ঢাকার নবাব পরিবারের সন্তান ছিলেন। তিনি ও ঢাকা-কলকাতার বেশির ভাগ উচ্চবিত্তের ভাষা ছিল উর্দু। স্বাভাবিক কারণেই উর্দুর প্রতিই তাঁদের সমর্থন ছিল।

তরুণ শেখ মুজিব বুঝেছিলেন প্রতিষ্ঠিত পাকিস্তান দিয়ে তাঁদের কোনো লাভ হবে না। পাকিস্তানি শাসকরা বৈষম্যমূলক আচরণ টিকিয়ে রাখার অপকৌশল বজায় রাখবে এবং তা প্রতিহত করতে হলে চাই তরুণদের একটি সংগঠন এবং ১৯৪৮ সালের ৪ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠা করলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ (পরবর্তীকালে পূর্ব বাংলা ছাত্রলীগ)। শেখ মুজিব জানতেন তারুণ্যের অদম্য শক্তি কাজে লাগাতে পারলে অসম্ভবকে সম্ভব করা যায়। বস্তুতপক্ষে ছাত্রলীগই ছিল নবপ্রতিষ্ঠিত পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দল। এই ছাত্রলীগই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রথম কোনো একটি সংগঠিত আন্দোলনের সূত্রপাত করে আর তা হচ্ছে ভাষা আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে অন্য ছাত্রনেতাদের সঙ্গে গ্রেপ্তার হন শেখ মুজিব। পরের বছর ২৩ জুলাই ঢাকার রোজ গার্ডেনে প্রতিষ্ঠিত হয় পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী রাজনৈতিক দল আওয়ামী মুসলিম লীগ, যা পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। মুসলিম শব্দটি বাদ দেওয়ার কারণ ছিল এই দলের চরিত্র যে ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, তা প্রমাণ করা। মুসলিম লীগ ছিল উচ্চবিত্ত, নবাব আর চৌধুরীদের দল। সেখানে নিম্নবিত্তের কোনো ঠাঁই ছিল না। ‘আওয়াম’ অর্থ জনগণ। আওয়ামী লীগের অর্থ জনগণের লীগ। জাতি-ধর্ম-নির্বিশেষে সব মানুষের লীগ। শুরুতে দলের নেতৃত্বে ছিলেন মওলানা ভাসানী। তরুণ ছাত্রনেতা শামসুল হককে করা হয় সাধারণ সম্পাদক। আর কারাগারে থাকা অবস্থায় শেখ মুজিবকে বানানো হয় যুগ্ম সম্পাদক।

১৯৪৯ সালের ২৩ জুলাই যাত্রা শুরু যেই দলের, সেই দল এ বছর তার ৭০তম জন্মবার্ষিকী পালন করছে আর ঠিক এই সময় মুজিবকন্যা শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। তিনি এখন আর শুধু একটি দেশের প্রধানমন্ত্রী নন, সারা বিশ্বের একজন নন্দিত রাষ্ট্রনায়ক। বঙ্গবন্ধু যে সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখতেন তাঁর কন্যার হাত ধরে সেই শোষিত-বঞ্চিত বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়নের রোল মডেল। উপমহাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য হচ্ছে, এই দলের মতো অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক দল সরকারের নির্দেশে নিষিদ্ধ হয়নি। পাকিস্তানের শাসনামলে আওয়ামী লীগ সামরিক ফরমানবলে একাধিকবার নিষিদ্ধ হয়েছে। দলের নেতারা অসংখ্যবার কারাগারে গেছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব অখণ্ড পাকিস্তানের ২৩ বছরে কারাগারে কাটিয়েছেন ১৩ বছর। মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছেন দুইবার। একবার ১৯৬৯ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার সময়, আর অন্যবার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে। উপমহাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল একাধিকবার ভাঙনের মুখে পড়ে টিকে থাকেনি, একমাত্র ব্যতিক্রম ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। সামরিক জান্তা কর্তৃক কোনো রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতাচ্যুত করার ২১ বছর পর আর কোনো দল আবার জনগণের সমর্থনে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসেনি। আওয়ামী লীগ তা পেরেছে। অনেকে মনে করেছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতের পর বুঝি আওয়ামী লীগ বাংলার রাজনীতি থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে, তা হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব এই দেশের কোটি মানুষের অন্তরে। আর তার শক্তি তৃণমূল কর্মীরা। পাকিস্তান আমলে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রে একবার (১৯৫৬-৫৭, কোয়ালিশন সরকার) আর অন্যান্য দলের সঙ্গে যুক্তফ্রন্ট করে ১৯৫৪ সালে পূর্ব বাংলার প্রাদেশিক সরকার গঠন করে। কিন্তু পাকিস্তানের কেন্দ্র সরকারের ষড়যন্ত্রের ফলে সেই সরকারগুলো বেশিদিন টিকে থাকতে পারেনি।

বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করার দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসা ছিল অনেকের মতো অনেকটা নজিরবিহীন। এটি সম্ভব হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্ব আর দূরদর্শিতার কারণে, যা তিনি তাঁর পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন। এই দলের সবচেয়ে বড় কীর্তি হচ্ছে হাজার বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাঙালিদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র উপহার দেওয়া। আর এই দলের নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একটি রিলিফ আর খয়রাতি সাহায্যনির্ভর দেশ থেকে বর্তমানে একটি উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরের অপেক্ষা করছে। তবে এই ৭০ বছরের আওয়ামী লীগের সামনে এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় শত্রু হচ্ছে দলে হাইব্রিডদের দৌরাত্ম্য আর দুর্নীতিসর্বস্ব কিছু রাজনৈতিক নামধারী দুর্বৃত্ত। বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালে বাকশাল গঠন করার পর সংসদে দাঁড়িয়ে একটি ভাষণ দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি মাল্টি ক্লাস পার্টি। আমি তার নামের আগে কৃষক শ্রমিক লাগিয়েছি বৈকি; কিন্তু দলটির চরিত্র এখনো বদলাতে পারিনি, রাতারাতি তা সম্ভবও নয়। আমার দলে নব্য ধনীরা আছে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ায় তাদের লুটপাটের সুযোগ বহুগুণ বেড়ে গেছে। আমি তাদের সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বাকশাল করেছি। যদি এই ব্যবস্থা সফল করতে ব্যর্থ হই এবং আমার মৃত্যু ঘটে, তাহলে দলকে কবজা করে ওরা আরো লুটপাটে উন্মত্ত হয়ে উঠতে পারে। এমনকি স্বাধীন বাংলাদেশের মূলমন্ত্রে শত্রুপক্ষের নীতি ও চরিত্র অনুসরণ করে আওয়ামী লীগেরও চরিত্র ও নীতি পাল্টে ফেলতে পারে। যদি তা হয়, সেটাই হবে আমার দ্বিতীয় মৃত্যু। সে জন্য আগেই বলেছি, আমার দল, আমার অনুসারীদের হাতেই যদি আমার এই দ্বিতীয় মৃত্যু ঘটে, তাহলে দীর্ঘকালের জন্য বিস্মৃতির অন্ধকারে চলে যেতে হবে। কবে ফিরব, তা জানি না।’ অত্যন্ত বাস্তবসম্মত আর আবেগঘন বক্তৃতা। বঙ্গবন্ধুকন্যা আমার এই লেখা পড়বেন কি না, জানি না। যদি পড়েন, তাহলে অনুরোধ করব, পিতার গড়া দলের ৭০তম বার্ষিকীতে দাঁড়িয়ে একটু ভেবে দেখুন আপনি যাঁদের বিশ্বাস করেন, তাঁরা কি সব সময় সেই বিশ্বাসের মর্যাদা রাখেন? আপনার পিতা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ১৯৭৫ সালে যা বলেছিলেন, তার চেয়ে বর্তমান অবস্থা কি ভালো হয়েছে? সম্ভবত তাই দেশের উচ্চ আদালত প্রশ্ন করেন, সব কাজই যদি দেশের প্রধানমন্ত্রীকে করতে হয়, তাহলে সচিবরা (সভা পারিষদরাসহ) কী করেন? বঙ্গবন্ধুর সময় দলে এত উইপোকার মেলা ছিল না, যেমনটি বর্তমানে হয়েছে। ৭০ বছরে দাঁড়িয়ে আপনাকে আরো একটু সচেতন হতে হবে। কারণ বর্তমানে বাঙালির একমাত্র ভরসা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। দলটির জন্ম অপরিহার্য ছিল, যেমন বাঙালির স্বাধীনতা অনিবার্য ছিল। আজকের এই দিনে এই দলটি গড়া, তাকে রক্ষা করার জন্য যেসব নেতা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার প্রতি আবারও বিনম্র শ্রদ্ধা।

লেখক : বিশ্লেষক ও গবেষক

সৌজন্যেঃ দৈনিক কালের কণ্ঠ

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত