স্কুল জীবন থেকেই ট্রাফিক আইন প্রশিক্ষণ দরকারঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

2759

Published on মে 26, 2019
  • Details Image

সড়কে চলাচলের বিষয়েয় সকলের মাঝে গণসচেতনতা সৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্কুলজীবন থেকেই ট্রাফিক আইন প্রশিক্ষণে গুরুত্বারোপ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার মনে হয় ট্রাফিক রুলের ওপর স্কুল জীবন থেকেই প্রশিক্ষণ প্রদান করা দরকার। তাহলে সকলের মাঝে সচেতনতাটা গড়ে উঠবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে-ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়ক নির্মিত ২য় মেঘনা ও ২য় গোমতী সেতুর উদ্বোধনকালে একথা বলেন। এছাড়াও তিনি ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে সাসেক সড়ক সংযোগ প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর-চন্দ্রা-টাঙ্গাইল-এলেঙ্গা মহাসড়কে কোনাবাড়ি ও চন্দ্রা ফ্লাইওভার, কালিয়াকৈর, দেওহাটা, মির্জাপুর ও ঘারিন্দা আন্ডারপাস এবং কড্ডা-১ সেতু ও বাইমাইল সেতু উদ্বোধন করেন।

তাঁর সরকার নিরাপদ সড়ক আইন ২০১৮ প্রণয়ন করেছে এবং চালকদের বিশ্রামের জন্য মহাসড়কগুলোতে বিশ্রামাগার নির্মাণ করে দিচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী এ সময় যানবাহনের চালকসহ সাধারণ জনগণকে ট্রাফিক আইন মেনে চলার আহবান জানান। তাঁর সরকার উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত গাড়ি চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে বলেও উল্লেখ করেন সরকার প্রধান।

তিনি এ সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির সময় শিক্ষার্থীদেও নিরাপত্তা বিধানে সচেষ্ট হবার জন্য সংশ্লিষ্ট কলেজ বা বিদ্যালয় কতৃর্পক্ষকে উদ্যোগ গ্রহণের আহবান জানান, যাতে করে কোন কোমলমতি শিক্ষার্থী দুর্ঘটনার শিকার না হন।
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে আসন্ন ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়ে দেশের উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় তাঁকে দোয়া করার জন্য দেশবাসীর কৃতজ্ঞতা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি এ সময় তাঁর দল আওয়ামী লীগকে একটি পরিবার বলে উল্লেখ করেন। আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে শুধু রাজনীতিই নয়, আমরা একটা পরিবার। ছোট বেলা থেকে দেখেছি- আমার মা,বাবাকে এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে আমরা একটা পরিবারের মতই বড় হয়েছি। যথনই কোন সমস্যা হয় সুখে, দু:খে আমরা সবসময় সাথী হয়েই চলি। এভাবেই যেন এই সংগঠনটা এগিয়ে যেতে পারে সে বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী একেএম মোজাম্মেল হক এবং কৃষিমন্ত্রী আবদুর রাজ্জাক মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোয়াসু ইজুমি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব প্রকল্পসমূহের ভিডিও উপস্থাপনার মাধ্যমে বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি বছরের ১৬ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীর উপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতুর উদ্বোধন করেন। যেটি ইতোমধ্যেই যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।

জাপানী ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওবায়সি করপোরেশন, শিমঝু করপোরেশন, জেএফএফ করপোরেশন ও আইএইচআই ইনফ্রা সিস্টেম্স কোম্পানী লি. ২০১৬ সালের জানুয়ারীতে দ্বিতীয় মেঘনা ও গোমতীর সঙ্গে দ্বিতীয় কাঁচপুর ব্রীজের কাজ শুরু করে।

এই তিনটি সেতু নির্মাণে মোট ব্যয় হয়েছে, ৮ হাজার ৪শ’ ৮৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপানের জাইকা ৬ হাজার ৪শ’ ৩০ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে। ৯ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রায় ৪০০ মিটার দীর্ঘ নতুন কাঁচপুর সেতু, ১ হাজার ৭৫০ কোটি ও ১ হাজার ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৯৩০ মিটার মেঘনা ও ১,৪১০ মিটার গোমতি সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিন প্রধানমন্ত্রী পৃথক ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন “পঞ্চগড় এক্সপ্রেস” উদ্বোধন করেন।

তিনি দ্বিতীয় মেঘনা সেতু, দ্বিতীয় গোমতী সেতু এবং শীতলক্ষা উপর দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু নির্মাণে সহযোগিতার জন্য জাপান সরকার এবং এশিয় ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক সহ সংশ্লিষ্ট সকল দাতাগোষ্ঠীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘আমি মনে করি আজকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থানটা এমন একটা জায়গায় আছে যে- সকল দেশের সঙ্গে আমরা একটা বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রেখে যার কাছ থেকে উন্নয়নের সহযোগিতা পাচ্ছি সেটা গ্রহণ করে দেশের মানুষের কল্যাণে কাজে লাগাতে সক্ষম হচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী এ সময় প্রথমবার ’৯৬ সালে ক্ষমতায় আসার পর জাপানের সহযোগিতায় রুপসা সেতু, পাকশী সেতু, তিস্তা সেতুর কাজ শুরু করি, ভৈরব সেতুর রেল সেতুর পাশাপাশি সড়ক সেতু করি, ধরলা সেতু, গাবখান, শিকারপুর, দোয়ারিকা সেতু নির্মাণ সহ প্রায় সারা বাংলাদেশের একটা যোগাযোগের নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পিত কর্মসূচি গ্রহণ ও বস্তবায়ন শুরু করেন বলে উল্লেখ করেন।

তিনি এ সময় রেলের জন্য আলাদা মন্ত্রণালয় গঠন থেকে শুরু করে নতুন নতুন রেলপথ সৃষ্টি, নদী ডেজিং করে জলপথ সম্প্রাসারণ, নতুন রাস্তা-ঘাট, ব্রীজ- কালভার্ট নির্মাণ করে সড়ক পথের সম্প্রসারণ এবং বিভিন্ন বিমান বন্দও নির্মাণ, উন্নয়ন ও সম্প্রসারন সহবন্দরের বিমান বহরে নতুন বিমান সংযোজনের মাধ্যমে আকাশ পথে যোগাযোগের উন্নয়নে তাঁর সরকারের পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, গত ১০ বছরে তাঁর সরকার ৪৩৭১ কি.মি. সড়ক মজবুতকরণ করেছে, ৫১৭১কি.মি. সড়ক প্রশস্ত করেছে, ৪৮৬৯ কি.মি. মহাসড়ক কার্পেটিং, ও সিলকোড করা হয়েছে, ৪১৭ কি.মি. জাতীয় সড়ক চারলেনে উন্নীত করা হয়েছে। যাত্রাবাড়ি থেকে কাঁচপুর পর্যন্ত ৮ লেনে উন্নীত করা হয়েছে, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ৮০ কি.মি মেরিন ড্রাইভ, ৯১৪টি সেতু ৩৯৭৭চি কালভার্ট নির্মাণ পুণ:নির্মাণ করেছি, ঢাকা-টঙ্গী, কুমিল্লা,চট্টগ্রাম ও ফেনীতে ৭টি ফ্লাইওভার এবং বেশকিছু আন্ডারপাস নির্মাণ করা হয়েছে।

মেট্রোরেলের নির্মাণকাজ চলার কারনে ঢাকাবাসীর যানজট কবলিত হওয়ার প্রসংগ টেনে প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন,‘ভালভাবে চলাচলের জন্য আমি বলবো এই কষ্টটা একটু আপনাদের সহ্য করতেই হবে। আশাকরি কাজটা হয়ে গেলে আর কষ্ট থাকবে না।’ এছাড়া তাঁর সরকার পিপিপি’র মাধ্যমে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, গাজীপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এমআরটির বাস্তবায়ন করছে এবং স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে গত ১০ বছরে ৫২ হাজার ২শ’৮০ কি.মি. রাস্তা-নির্মাণ, বিপুল পরিমান সড়ক ও কালভার্ট পুণ:নির্মাণ করেছে, বলেন প্রধানমন্ত্রী।

’৭৫ এর বিয়োগান্তক অধ্যায় স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতাকে হত্যার ফলে স্বাধীন জাতি হিসেবে বাঙালি জাতির যে মর্যাদা লাভের কথা ছিল এবং দেশটার যে উন্নতি হবার কথা ছিল, যে উন্নতির ভীত জাতির পিতাই রচনা করের গিয়েছিলেন, সেই উন্নতিটা আর হতে পারেনি। সেটাই হলো আমাদের দুর্ভাগ্য। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের প্রসংগ স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরেই বাংলাদেশের মানুষের জীবনে উন্নয়নের ছোঁয়া আমরা পৌঁছে দিতে পেরেছি। যারা শুভফল পাচ্ছে দেশের জনগণ।’

তিনি নৌকার প্রার্থীদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করায় দেশের জনগণের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ব্যাক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা জানাই যে, তারা আমাদের প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন এবং আমাদেরকে ভোট দিয়েছেন, সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’ নিজেদের কাজের মধ্যদিয়ে দেশবাসীর জীবন-মানের উন্নয়ন তাঁর নিজের এবং দলের প্রধানতম রাজনৈতিক লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘দারিদ্রের হাত থেকে মানুষকে মুক্ত করা, তাঁদের আর্থসামাজিক উন্নতি এবং অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশকে স্বাবলম্বী করাই আমাদের লক্ষ্য।’

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারো সঙ্গে বৈরিতা নয়’-এর উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, সকলের সঙ্গেই বাংলাদেশ বন্ধুত্ব বজায় রেখেছে এবং এরফলে আমাদের বন্ধুপ্রতীম দেশগুলো এবং উন্নয়ন সংস্থগুলো দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। দেশের বাইরে আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের যোগাযোগ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন,‘ সকলের সর্বপরি দেশবাসীর সহযোগিতাতেই বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি। কারণ বর্তমান বিশ্বটা একটা গ্লোবাল ভিলেজ এবং সকলের সঙ্গেই একসঙ্গে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা চালাতে হবে।’

Live TV

আপনার জন্য প্রস্তাবিত