বিএনপি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দুর্নীতিগ্রস্থ, জালিয়াত ও সন্ত্রাসী সংগঠনঃ ড. হাছান মাহমুদ এমপি

বিএনপিকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সন্ত্রাসী ও জালিয়াত সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ এমপি। তিনি আজ দুপুরে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভাপতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

ড. হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল তখন বাংলাদেশ দুর্নীতিতে পর পর ৫ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। বিএনপি নেত্রী এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেছেন, এখন মামলায় হাজিরা দেন না। দেশে উপস্থিত থেকে, সুস্থ থেকেও মামলায় একের পর এক হাজিরা না দেওয়ার রেকর্ড বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া করেছেন। তিনি এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেন আর মামলায় হাজিরা দেন নাÑ অসুস্থতার ভান করেন আর অন্যদিকে মানুষ পুড়িয়ে মারেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কালো টাকা সাদা করেছেন। হাওয়া ভবন থেকে দুই লাখ কোটি টাকা লুটপাট করেছিল। শুধু বিদ্যুৎখাতের ২১ হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছিল বিএনপি যখন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল। শুধু বেগম খালেদা জিয়াই কালো টাকা সাদা করেছেন তা নয়, বিএনপি’র তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত সাইফুর রহমানও কালো টাকা সাদা করেছেন। যে সরকারের অর্থমন্ত্রী কালো টাকা সাদা করেন, যে দলের চেয়ারপার্সন কালো টাকা সাদা করেন, যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য কালো টাকা সাদা করেন, যে দলের চেয়ারপার্সন এতিমের টাকা আত্মসাৎ করেন সেই দলের নেতারা যখন দুর্নীতির বিষয়ে কথা বলেন তখন মানুষের মুখে হাসি পায়।

আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলেন, বিএনপি শুধু যে দুর্নীতিগ্রস্ত তা নয়, বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন তা আজ বিশ্ব স্বীকৃতি পেয়েছে। কানাডার একটি আদালত বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন অভিহিত করে রায় দেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে বিএনপির এক নেতা ফেডারেল কোর্টে আপিল করেন, সেই ফেডারেল কোর্টেও বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করে নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে। বিএনপি যে একটি সন্ত্রাসী সংগঠন তা আজকে কেনাডার আদালত কর্তৃক প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়াও বিএনপি চেয়ারপার্সনের একজন উপদেষ্টা যে কংগ্রেসম্যানদের স্বাক্ষর জাল করে বিএনপির পক্ষে একটি বিবৃতি বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল যা পরবর্তীতে সেই জালিয়াতি ধরা পড়ে। বিএনপির সেই উপদেষ্টাকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত ৪ মাসের কারাদ- প্রদান করেছে। কাজেই বিএনপি একটি সন্ত্রাসী সংগঠন, একটি জালিয়াত সংগঠন হিসেবে আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।

তিনি বলেন, বিএনপি’র রাজনীতি হচ্ছে মিথ্যার উপর প্রতিষ্ঠিত রাজনীতি। ক্রমাগতভাবে মিথ্যাচার করা এবং ক্রমাগতভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে অভিযুক্ত করাই হচ্ছে বিএনপি’র রাজনীতির মূল প্রতিপাদ্য বিষয়। কারণে/অকারণে তারা সরকারকে অভিযুক্ত করা, আওয়ামী লীগকে অভিযুক্ত করা হলো বিএনপি’র দীর্ঘ দিনের লালয়িত অভ্যাস। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ের তাদের মিথ্যাচার, তাদের নিজেদেরই মিথ্যাচারের রেকর্ডকে তারা ভঙ্গ করেছে।

বিএনপি’র রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে আওয়ামী লীগ প্রচার সম্পাদক বলেন, বর্তমানে বিএনপি’র রাজনীতিতে তারা কোন কর্মসূচি করেন না; তাদের রাজনীতি এখন শুধু সংবাদ সম্মেলনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সকাল বেলা একটি সংবাদ সম্মেলন, বিকাল বেলা আরেকটি সংবাদ সম্মেলন, আবার দুপুর বেলায়ও সংবাদ সম্মেলন তাদের রাজনীতি এখন সংবাদ সম্মেলন নির্ভর। গত কয়েকদিন যাবৎ বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদসহ বিএনপি নেতারা যে বক্তব্য রেখেছেন সেগুলোর জবাব দেওয়ার প্রয়োজন আমরা মনে করি না। শুধু বিএনপি’কে অনুরোধ জানাবো আয়নায় তাদের চেহারা দেখার জন্য। বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদ জুন মাস ক্লোজিং ও ফরহাদ মাযহার নিখোঁজ নিয়ে যে বক্তব্য রেখেছেন প্রকৃতপক্ষে তা উ™£ান্তের প্রলাপ ছাড়া কিছুই নয়। তার বক্তব্য খিটখিটে মেজামে উ™£ান্তের প্রলাপের মতোই। সম্ভবত, বিএনপি নেতা রিজভী আহমেদের মেজাজ আরও খিটখিটে হয়েছে এ কারণে যে, তিনি হয়তো বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিদেশে যাওয়ার পর আশা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বানাবেন। ফলে তিনি আশাহত হয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ছাড়িয়ে যেতে মিথ্যাচারকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানকে যুক্তরাষ্ট্রে ঢুকতে না দিতে ওয়াশিংটনে গোপন তারবার্তা পাঠিয়েছিল ঢাকার মার্কিন দূতাবাস। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান ব্যাপক মাত্রায় দুর্নীতিতে জড়িত থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষুন্ন হয়েছে উল্লেখ করে ২০০৮ সালের ৩ নভেম্বর ওই তারবার্তা পাঠানো হয়েছিল। বিশ্বে সাড়া-জাগানো ওয়েবসাইট উইকিলিকস তারবার্তাটি প্রকাশ করেছে। মার্কিন দূতাবাস তখন বলেছিল- বাংলাদেশে যা কিছু খারাপ, তার বেশিরভাগের জন্যই তারেক ও তার সহযোগীদের দায়ী করা যায়।
মার্কিন দূতাবাস তার বার্তায় বলেছে, তারেকের দুর্নীতি শুধু স্থানীয় কোম্পানির কাছে চাঁদাবাজির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। দুদকের অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে দেশি-বিদেশি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অনেক ঘটনায় জড়িত থাকার তথ্য বেরিয়ে এসেছে।
সিমেন্সের কাছ থেকে ঘুষ নিয়েছেন তারেক ও তার প্রয়াত ভাই কোকো। ঘুষ দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত একজনের সাক্ষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে সিমেন্সের সব চুক্তির ক্ষেত্রে তারেক প্রায় ২ শতাংশ ঘুষ নিয়েছে। বর্তমানে এ মামলা যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ শাখা ও এফবিআই খতিয়ে দেখছে।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরে হাছান মাহমুদ বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে তথ্য রয়েছে, একটি হত্যা মামলার আসামীকে 'রক্ষায়' ২১ কোটি টাকা ঘুষ নেয় তারেক। বিএনপি নেত্রীর ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর বিদেশে পাচারকৃত ২১ কোটি ৫৫ হাজার ৩৯৪ টাকা দেশে ফেরত আনা হয়। এই টাকা বহুজাতিক কোম্পানি সিমেন্স থেকে ঘুষ হিসেবে নিয়েছিল কোকো।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষযয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং বিশ্বব্যাংকের সমন্বিত উদ্যোগ: স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ইনিশিয়েটিভ এর প্রস্তুত করা একটি পুস্তিকায় সিমেন্স কোম্পানির কাছ থেকে কোকোর ঘুষ নেওয়ার অভিযোগকে “জাতীয় মুদ্রা সরানোর” উদাহরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পুস্তিকাটি ২০১০ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভিয়েনায় প্রকাশ করা হয়। এই বইয়ের ১৭৯ পৃষ্ঠায় বলা হয়, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলেকে ঘুষ হিসেবে বিদেশি একটি কোম্পানির দেওয়া অর্থ ২০০৯ সালে বাজেয়াপ্ত করার পদক্ষেপ নেয় যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ। ২০০৯ সালের ৮ জানুয়ারি মার্কিন কর্তৃপক্ষ ৩০ লাখ মার্কিন ডলারের অর্থ পুনরুদ্ধারে ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার একটি আদালতে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণে উদ্যোগী হয়। কোকো এই অর্থ সিমেন্স থেকে গ্রহণ করে এবং সিঙ্গাপুরের একটি ব্যাংকে জমা রাখে। এসব ছাড়াও বহুজাতিক কোম্পানি ওয়ারিদ, সিমেন্স এবং চায়না হারবারসহ আরও কয়েকটি উৎস থেকে কোকো কোটি কোটি টাকা ঘুষ নেয়। ২০১৬ এর ২১ জুলাই বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের মামলায় উচ্চ আদালতে দুর্নীতির বরপুত্র তারেক রহমানকে সাত বছরের কারাদন্ড ও একই সাথে ২০ কোটি টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এমপি, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপা, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন, যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী আব্দুস সবুর, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম, উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, মারুফা আক্তার পপি, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ।

তারিখ : ৩ জুলাই ২০১৭
প্রেস বিজ্ঞপ্তি

TOP