
সমৃদ্ধির খেরোখাতা
আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর
সমৃদ্ধির খেরোখাতা
আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর (১৯৯৬-২০০০)-এর সঙ্গে
বিএনপি-র পাঁচ বছরের (১৯৯১-১৯৯৫) তুলনামূলক বিশে-ষণ
তথ্য ও গবেষণা বিভাগের প্রকাশনা
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
প্রকাশকাল : অক্টোবর ২০০৪
প্রকাশক : নূহ-উল-আলম লেনিন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, ২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউ, ঢাকা-১০০০
প্রচ্ছদ : শাহরীয়ার রাসেল
গ্রন্থস্বত্ব : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ
মূল্য :২০.০০ টাকা
Five years of Awami League Government
Shammriddher Kherokhata,
A publication of Information & Research Department,
Bangladesh Awami League
First Published : October 2004
Published by : Nooh-Ul-Alam Lenin
Secretary, Information & Research, Bangladesh Awami League,
23 Bangabandhu Avenue, Dhaka-1000
Price : Tk.20.00
বঙ্গবন্ধুসহ আজকের বাংলাদেশের চেহারা কেমন হতো?/১১
আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর (১৯৯৬-২০০০)
তুলনামূলক বিশে-ষণ/১৪
১. মাথাপিছু জাতীয় আয়/১৫
২. রপ্তানি/১৬
৩. আমদানি/১৭
৪. বৈদেশিক বিনিয়োগ/১৯
৫. ধান উৎপাদন-কৃষি/২০
৬. গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন/২২
৭. দারিদ্র্য দূরীকরণ/২৩
৮. মানব সম্পদ উনড়বয়ন-শিক্ষা/২৫
৯. মানব সম্পদ উনড়বয়ন-স্বাস্থ্য/২৮
১০. অবকাঠামো: সড়ক, রেল ও টেলিফোন/৩৪
১১. তথ্য প্রযুক্তি/৩৯
অন্যান্য অবদান : সংক্ষিপ্ত বর্ণনা/৪১
১. ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গার পানিচুক্তি/৪১
২. পার্বত্য শান্তিচুক্তি/৪১
৩. বঙ্গবন্ধু সেতু/৪১
সমৃদ্ধির খেরোখাতা ৫
৪. ভূমিহীনদের পুনর্বাসন/৪২
৫. নারীর ক্ষমতায়ন/৪২
৬. স্থানীয় সরকার/৪২
৭. বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল চালুকরণ/৪৩
৮. গ্রামীণ সমাজসেবা/৪৩
৯. আইন শৃংখলা ও জননিরাপত্তা/৪৩
১০. প্রতিরক্ষা/৪৪
১১. পর্যটন শিল্পের বিকাশ/৪৪
১২. ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ধর্ম পালনে সহায়তা/৪৫
১৩. আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস/৪৫
১৪. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি সমুনড়বত করা/৪৫
লেখচিত্র তালিকা
১. মোট জাতীয় আয় (এঘচ : কোটি ডলার) : ১৯৭২-২০০১/১১
২. মাথাপিছু জাতীয় আয় (ডলার) : ১৯৭৩-২০০০/১২
৩. মাথাপিছু জাতীয় আয় ($ চচচ) : ১৯৭২-২০০১/১৩
৪. মাথাপিছু জাতীয় আয় (ডলার) : ১৯৭৩-২০০০/১৫
৫. রপ্তানি (কোটি ডলার) : ১৯৮৮-২০০০/১৬
৬. ভারত থেকে আমদানি (কোটি ডলার) : ১৯৮২-২০০০/১৭
৭. ভারত থেকে আমদানি (মোট আমদানির শতকরা ভাগ) : ১৯৮২-
১৯৯৯/১৮
৮. বৈদেশিক বিনিয়োগ (কোটি ডলার) : ১৯৭২-১৯৯৮/১৯
৯. ধান উৎপাদন (কোটি মেট্রিক টন) : ১৯৭১-২০০০/২০
১০. কৃষি ঋণ বিতরণ (কোটি টাকা) : ১৯৯১-১৯৯৯/২১
১১. বিদ্যুৎ উৎপাদন (গিগা ওয়াট/ঘণ্টা) : ১৯৭১-২০০০/২২
১২. অনপেক্ষ দারিদ্র্য : ১৯৯১-২০০০/২৩
১৩. চরম দারিদ্র্য : ১৯৯১-২০০০/২৪
১৪. প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি (লাখ) : ১৯৯১-২০০০/২৫
১৫. প্রাথমিক পর্যায়ে ছাত্রী ভর্তি (লাখ) : ১৯৯১-২০০০/২৬
১৬. শিক্ষাখাতে মাথাপিছু সরকারি বরাদ্দ (টাকা) : ১৯৯১-২০০০/২৬
১৭. শিক্ষাখাতে সরকারি বরাদ্দ (কোটি টাকা) : ১৯৯১-২০০১/২৭
১৮. স্থূল জন্মহার (প্রতি হাজার জনসংখ্যায়) : ১৯৯১-২০০০/২৮
১৯. স্থূল মৃত্যুহার (প্রতি হাজার জনসংখ্যায়) : ১৯৯১-২০০০/২৯
২০. শিশু মৃত্যুর হার (প্রতি হাজার জীবিত জন্মে) : ১৯৯১-২০০০/৩০
২১. জীবনের আয়ুষ্কাল : ১৯৯১-২০০০/৩০
২২. কতজন মানুষের জন্য একজন ডাক্তার : ১৯৯১-২০০০/৩১
২৩. স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু সরকারি বরাদ্দ (টাকা): ১৯৯১-২০০০/৩২
২৪. স্বাস্থ্য খাতে সরকারি বরাদ্দ (কোটি টাকা) : ১৯৯১-২০০০/৩২
২৫. মোট সড়কপথ (কিলোমিটার) : ১৯৯১-২০০০/৩৪
২৬. মোট রেলপথ (কিলোমিটার) : ১৯৯১-২০০০/৩৫
২৭. বিটিটিবি-র টেলিফোন সংখ্যা : ১৯৯১-২০০০/৩৬
২৮. এনডবি-উডি সার্কিটের সংখ্যা : ১৯৯১-২০০০/৩৭
২৯. বৈদেশিক সার্কিটের সংখ্যা : ১৯৯১-২০০০/৩৭
৩০. মোবাইল ফোনের দাম ও সংখ্যা : বিএনপি-র শেষ বছর ও আওয়ামী লীগের শেষ বছর/৩৮
প্রারম্ভ কথা
এ দেশের মানুষের প্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ইতিহাস—লড়াইসংগ্রােমর ইতিহাস। আওয়ামী লীগের ইতিহাস—হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি,জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বাধিকার-স্বাধীনতাসহ সুস্থ-সবল-চেতনা সমৃদ্ধ মানুষ সৃষ্টির ইতিহাস। যদিও আওয়ামী লীগের বয়স ৫৫ বছরকিন্তু রাষ্ট্র পরিচালনায় সময় পেয়েছিল মাত্র ৯ বছর। প্রথমে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশপুনর্গঠনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পরে মাত্র ৪ বছর (১৯৭২-৭৫); আর তারপরে জাতিরপিতা বঙ্গবন্ধু হত্যা-পরবর্তী স্বৈরাচারী শাসকদের কু-শাসনে জর্জরিত দুর্বৃত্তায়িতএকটি অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় ৫ বছর (১৯৯৬-২০০০)। উভয় ক্ষেত্রেইআওয়ামী লীগকে দেশগড়ার কাজ—বলতে গেলে—শুরু করতে হয়েছে প্রথমথেকেই। আওয়ামী লীগ—উভয় ক্ষেত্রেই, এ দেশের মানুষের আস্থা-নির্ভরসর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল হিসেবে সুদূর প্রসারী চিন্তা ও বিচক্ষণতার সম্মিলন ঘটিয়েদেশ পরিচালনার মাধ্যমে জনকল্যাণকামী একটি রাষ্ট্র গঠনে একক ভূমিকারেখেছে।মুক্তিযুদ্ধের তিন যুগ পরে এখন দেশে চলছে বিএনপি-জামায়াত জোট-দস্যুসরকারের কুশাসন। মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধ শক্তি এখন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ শক্তির বিরুদ্ধেপ্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। তা না হলে আওয়ামী লীগসহ গণতন্ত্রকামীমুক্তিযুদ্ধের সপক্ষ শক্তির নেতা-কর্মীদের ওপর এত অত্যাচার-নির্যাতন কেন,সাধারণ মানুষের সন্তান-সন্ততিসহ পরিবার পরিচালনা এত কষ্ট কেন, কেনই বাসাধারণ মানুষসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও আদিবাসী জাতিসত্তার ওপর এত অত্যাচার,কেনই বা পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা প্রকাশ্যে মাস্তানী-রাজনীতিতে লিপ্ত? কালোটাকা আর পেশীশক্তির প্রতিযোগিতার মাতম এখন চরমে পৌঁছেছে। সেই সাথেপ্রচার মাধ্যমকে কুক্ষিগত করার মাধ্যমে হিটলারের ‘গোয়েবলসীয়’ কায়দায় মিথ্যাপ্রচারের বেশারতি চলছে অবিশ্রান্ত।এ সবই প্রেক্ষিত যে কারণে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে যেহেতু সত্যজানার অধিকার মানুষের জন্মগত অধিকার (যা আমাদের পবিত্র সংবিধানে স্বীকৃত)সেহেতু তথ্য-ভিত্তিক কিছু নির্মোহ সত্য কথা এ দেশের বৃহত্তর জনগোষ্ঠিকেজানানো এ মুহূর্তে আশু প্রয়োজন। এ দেশের মানুষ জানতে চায় (যেটা তাদেরজন্মগত অধিকার) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বেঁচে থাকলে আজএ দেশের অবস্থা কেমন হতে পারতো, সেই সাথে জানতে চায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখহাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরে (১৯৯৬-২০০০)বিএনপি’র পাঁচ বছরের (১৯৯১-১৯৯৫) তুলনায় দেশের অর্থনৈতিক-সামাজিকরাজৈনতিক উনড়বয়নে মৌলিক পরিবর্তন কতটুকু হয়েছিল?বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে আজকের বাংলাদেশের চেহারা কেমন হতে পারতো?ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এ প্রশেড়বর উত্তর সহজ নয়। তবে প্রশেড়বর সম্ভাব্য উত্তরের দিকনির্দেশনা পাবার ক্ষেত্রে সংশি-ষ্ট গবেষকদের পরামর্শ অনুযায়ী আজকেরসমৃদ্ধির খেরোখাতা ৯মালয়েশিয়াকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—প্রধানত দু’টো কারণে:(১) মালয়েশিয়া জাতিয়তাবাদী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিকাশের একটি প্রকৃষ্ট মডেল;(২) স্বাধীনতা-অব্যবহিত ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় (এঘচ)আর একই সময়ে মালয়েশিয়ার মোট জাতীয় আয় ছিল সমান।বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে অপেক্ষাকরতে হয়েছে প্রায় ২১ বছর (১৯৭৫-১৯৯৬ অবধি)। এর মাঝে পরিপুষ্ট হয়েছেস্বৈরাচার, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিনষ্ট হয়েছে পরিকল্পিতভাবে; ধর্মীয় উগ্রসাম্প্রদায়িকতার সাথে উগ্র জাতীয়তাবাদ একাকার হয়ে গণতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায়। এধারাবাহিকতায় লড়াই-সংগ্রামের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের জনগণ এক অবাধ সুষ্ঠুনির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯৬-এর মধ্য জুন থেকে ২০০১ সালের মধ্য জুলাই পর্যন্তসরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব প্রদান করে। ওই দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থনীতি ও সমাজেরসার্বিক উনড়বয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার কি করতে পেরেছে,এবং যা করতে পেরেছে তার সাথে শেখ হাসিনার অব্যবহিত আগের, খালেদাজিয়ার সরকার (১৯৯১-১৯৯৫)-এর একটি তুলনামূলক বিশে-ষণ এ দেশেরমানুষের বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি।এই পুস্তিকায় বর্ণনার বাহুল্য এড়িয়ে যাচাইকৃত তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেলেখচিত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক বিশে-ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সর্বস্তরেরপাঠকদের কাছে এটি সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে। গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেনকয়েকজন বিশিষ্ট অর্থনীবিদ ও গবেষক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসভানেত্রী শেখ হাসিনার মূল্যবান পরামর্শ এবং তাঁর গাইড লাইন পুস্তিকাটি সমৃদ্ধকরেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এ ধরনের একটিজনবোধ্য কিন্তু সৃজনশীল প্রকাশনায় সহায়তার জন্য সংশি-ষ্ট সকলের কাছেকৃতজ্ঞ।প্রসঙ্গত উলে-খ্য যে, তথ্য ও গবেষণা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর : গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ও সম্ভাবনানতুন দিগন্ত” গ্রন্থটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিতবিবরণ রয়েছে। আগ্রহী পাঠক সমৃদ্ধির খেরোখাতার সঙ্গে পরিপূরক গ্রন্থ হিসেবেএটি পাঠ করলে নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।বলা বাহুল্য, এ পুস্তিকায় ব্যবহৃত সকল পরিসংখ্যান হয় বাংলাদেশ সরকার অথবাআন্তর্জাতিক বিভিনড়ব সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত উৎস থেকে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশসরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থমন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদি। আর আন্তর্জাতিকসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বিশ্ব ব্যাংক, ইউএনডিপি, এশীয়উনড়বয়ন ব্যাংক ইত্যাদি। সরকারের আর্থিক ব্যয় বরাদ্দের তথ্য দেয়া হয় অর্থ-বছরে, যেমন ১৯৯১-১৯৯২ (অর্থাৎ ১৯৯১-এর ১ জুলাই থেকে ১৯৯২-এর ৩০জুন)। সচিত্র তুলনার সুবিধার্থে আমরা অর্থ-বছর নির্দেশ করেছি একটি বছর দিয়ে,যেমন এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সাল। অন্যান্য সব অর্থবছরের ক্ষেত্রে এ-পদ্ধতি অবলম্বনকরা হয়েছে।সমৃদ্ধির খেরোখাতা ১০মালয়েশিয়াকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—প্রধানত দু’টো কারণে:(১) মালয়েশিয়া জাতিয়তাবাদী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিকাশের একটি প্রকৃষ্ট মডেল;(২) স্বাধীনতা-অব্যবহিত ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় (এঘচ)আর একই সময়ে মালয়েশিয়ার মোট জাতীয় আয় ছিল সমান।বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে অপেক্ষাকরতে হয়েছে প্রায় ২১ বছর (১৯৭৫-১৯৯৬ অবধি)। এর মাঝে পরিপুষ্ট হয়েছেস্বৈরাচার, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিনষ্ট হয়েছে পরিকল্পিতভাবে; ধর্মীয় উগ্রসাম্প্রদায়িকতার সাথে উগ্র জাতীয়তাবাদ একাকার হয়ে গণতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায়। এধারাবাহিকতায় লড়াই-সংগ্রামের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের জনগণ এক অবাধ সুষ্ঠুনির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯৬-এর মধ্য জুন থেকে ২০০১ সালের মধ্য জুলাই পর্যন্তসরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব প্রদান করে। ওই দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থনীতি ও সমাজেরসার্বিক উনড়বয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার কি করতে পেরেছে,এবং যা করতে পেরেছে তার সাথে শেখ হাসিনার অব্যবহিত আগের, খালেদাজিয়ার সরকার (১৯৯১-১৯৯৫)-এর একটি তুলনামূলক বিশে-ষণ এ দেশেরমানুষের বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি।এই পুস্তিকায় বর্ণনার বাহুল্য এড়িয়ে যাচাইকৃত তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেলেখচিত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক বিশে-ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সর্বস্তরেরপাঠকদের কাছে এটি সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে। গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেনকয়েকজন বিশিষ্ট অর্থনীবিদ ও গবেষক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসভানেত্রী শেখ হাসিনার মূল্যবান পরামর্শ এবং তাঁর গাইড লাইন পুস্তিকাটি সমৃদ্ধকরেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এ ধরনের একটিজনবোধ্য কিন্তু সৃজনশীল প্রকাশনায় সহায়তার জন্য সংশি-ষ্ট সকলের কাছেকৃতজ্ঞ।প্রসঙ্গত উলে-খ্য যে, তথ্য ও গবেষণা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর : গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ও সম্ভাবনানতুন দিগন্ত” গ্রন্থটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিতবিবরণ রয়েছে। আগ্রহী পাঠক সমৃদ্ধির খেরোখাতার সঙ্গে পরিপূরক গ্রন্থ হিসেবেএটি পাঠ করলে নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।বলা বাহুল্য, এ পুস্তিকায় ব্যবহৃত সকল পরিসংখ্যান হয় বাংলাদেশ সরকার অথবাআন্তর্জাতিক বিভিনড়ব সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত উৎস থেকে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশসরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থমন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদি। আর আন্তর্জাতিকসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বিশ্ব ব্যাংক, ইউএনডিপি, এশীয়উনড়বয়ন ব্যাংক ইত্যাদি। সরকারের আর্থিক ব্যয় বরাদ্দের তথ্য দেয়া হয় অর্থ-বছরে, যেমন ১৯৯১-১৯৯২ (অর্থাৎ ১৯৯১-এর ১ জুলাই থেকে ১৯৯২-এর ৩০জুন)। সচিত্র তুলনার সুবিধার্থে আমরা অর্থ-বছর নির্দেশ করেছি একটি বছর দিয়ে,যেমন এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সাল। অন্যান্য সব অর্থবছরের ক্ষেত্রে এ-পদ্ধতি অবলম্বনকরা হয়েছে।সমৃদ্ধির খেরোখাতা ১০মালয়েশিয়াকে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে—প্রধানত দু’টো কারণে:(১) মালয়েশিয়া জাতিয়তাবাদী নেতৃত্বে অর্থনৈতিক বিকাশের একটি প্রকৃষ্ট মডেল;(২) স্বাধীনতা-অব্যবহিত ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের মোট জাতীয় আয় (এঘচ)আর একই সময়ে মালয়েশিয়ার মোট জাতীয় আয় ছিল সমান।বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে আওয়ামী লীগকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেতে অপেক্ষাকরতে হয়েছে প্রায় ২১ বছর (১৯৭৫-১৯৯৬ অবধি)। এর মাঝে পরিপুষ্ট হয়েছেস্বৈরাচার, মুক্তিযুদ্ধের অর্জন বিনষ্ট হয়েছে পরিকল্পিতভাবে; ধর্মীয় উগ্রসাম্প্রদায়িকতার সাথে উগ্র জাতীয়তাবাদ একাকার হয়ে গণতন্ত্র বিলুপ্তপ্রায়। এধারাবাহিকতায় লড়াই-সংগ্রামের ফলস্বরূপ বাংলাদেশের জনগণ এক অবাধ সুষ্ঠুনির্বাচনের মাধ্যমে ১৯৯৬-এর মধ্য জুন থেকে ২০০১ সালের মধ্য জুলাই পর্যন্তসরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগকে দায়িত্ব প্রদান করে। ওই দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে অর্থনীতি ও সমাজেরসার্বিক উনড়বয়নে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার কি করতে পেরেছে,এবং যা করতে পেরেছে তার সাথে শেখ হাসিনার অব্যবহিত আগের, খালেদাজিয়ার সরকার (১৯৯১-১৯৯৫)-এর একটি তুলনামূলক বিশে-ষণ এ দেশেরমানুষের বস্তুনিষ্ঠ বিবেচনার জন্য উত্থাপন করছি।এই পুস্তিকায় বর্ণনার বাহুল্য এড়িয়ে যাচাইকৃত তথ্য-পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেলেখচিত্রের মাধ্যমে তুলনামূলক বিশে-ষণ তুলে ধরা হয়েছে। আশা করি সর্বস্তরেরপাঠকদের কাছে এটি সহজবোধ্য ও গ্রহণযোগ্য হবে। গ্রন্থনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেনকয়েকজন বিশিষ্ট অর্থনীবিদ ও গবেষক। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগসভানেত্রী শেখ হাসিনার মূল্যবান পরামর্শ এবং তাঁর গাইড লাইন পুস্তিকাটি সমৃদ্ধকরেছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথ্য ও গবেষণা বিভাগ এ ধরনের একটিজনবোধ্য কিন্তু সৃজনশীল প্রকাশনায় সহায়তার জন্য সংশি-ষ্ট সকলের কাছেকৃতজ্ঞ।প্রসঙ্গত উলে-খ্য যে, তথ্য ও গবেষণা বিভাগ কর্তৃক প্রকাশিত ‘জননেত্রী শেখ হাসিনারনেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর : গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য ও সম্ভাবনানতুন দিগন্ত” গ্রন্থটিতে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছরের কর্মকাণ্ডের বিস্তারিতবিবরণ রয়েছে। আগ্রহী পাঠক সমৃদ্ধির খেরোখাতার সঙ্গে পরিপূরক গ্রন্থ হিসেবেএটি পাঠ করলে নিঃসন্দেহে লাভবান হবেন।বলা বাহুল্য, এ পুস্তিকায় ব্যবহৃত সকল পরিসংখ্যান হয় বাংলাদেশ সরকার অথবাআন্তর্জাতিক বিভিনড়ব সংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত উৎস থেকে নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশসরকার কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, অর্থমন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক ইত্যাদি। আর আন্তর্জাতিকসংস্থা কর্তৃক প্রকাশিত তথ্য উৎসসমূহ হলো বিশ্ব ব্যাংক, ইউএনডিপি, এশীয়উনড়বয়ন ব্যাংক ইত্যাদি। সরকারের আর্থিক ব্যয় বরাদ্দের তথ্য দেয়া হয় অর্থ-বছরে, যেমন ১৯৯১-১৯৯২ (অর্থাৎ ১৯৯১-এর ১ জুলাই থেকে ১৯৯২-এর ৩০জুন)। সচিত্র তুলনার সুবিধার্থে আমরা অর্থ-বছর নির্দেশ করেছি একটি বছর দিয়ে,যেমন এ ক্ষেত্রে ১৯৯১ সাল। অন্যান্য সব অর্থবছরের ক্ষেত্রে এ-পদ্ধতি অবলম্বনকরা হয়েছে।
